Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কলকাতায় পারদ নেমে ১৪ ডিগ্রি দক্ষিণের সব জেলায় কুয়াশার সতর্কতা বড়দিনে কি আসবে কনকনে ঠান্ডা

হাওয়া অফিস জানিয়ে দিয়েছে, রবিবার সকালে উত্তর ও দক্ষিণের সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৯৯৯ থেকে ২০০ মিটারে নেমে যেতে পারে। তবে সোমবার থেকে কুয়াশা কমে যাবে।

শীতের আসল অনুভূতি অনেক দিন পরে কলকাতার বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়ালো। বিশেষত, শনিবারের পর থেকে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে, যা বছরের এই সময়ের জন্য একেবারে কম তাপমাত্রা। এর সাথে সকালবেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। বিশেষত, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের অনেক জেলা কুয়াশার কবলে পড়ে।

আবহাওয়া দফতর জানায়, রবিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটারে নেমে যেতে পারে, যা চলাচলরত মানুষের জন্য কিছুটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে, সোমবার থেকে কুয়াশা কমে যাবে এবং তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে।

তাপমাত্রার হেরফের

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রবিবার সকালে এই তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১৫-১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। কিন্তু শনিবারের পর থেকে শহরবাসীরা শীতের প্রকৃত অনুভূতি পেতে শুরু করেছেন। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, যদিও এখনও কনকনে ঠান্ডা পড়বে না, তবুও তাপমাত্রায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যাবে।

শীতের আশার কথা

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বড়দিনে তাপমাত্রা আবার কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে পরবর্তী তিন দিন তাপমাত্রায় বড়সড় পরিবর্তন হবে না। বড়দিনের পর ধীরে ধীরে তাপমাত্রার পতন শুরু হবে। তবে, বছরের শেষ দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকতে পারে, যা শহরের বাসিন্দাদের জন্য শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি করবে।

কুয়াশা এবং তার প্রভাব

কুয়াশার প্রভাব শুধু কলকাতা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ জেলাতেও দেখা গেছে। রবিবার সকালে এই কুয়াশা একটি বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে, কারণ এতে দৃশ্যমানতা প্রায় ২০০ মিটারে নেমে যায়। বিশেষ করে গাড়ি চালানো এবং অন্যান্য বাহন চলাচলের জন্য কুয়াশা বিপজ্জনক হতে পারে। তবে, আবহাওয়া দফতর জানায়, সোমবার থেকে কুয়াশা কমবে এবং তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে।

কনকনে ঠান্ডা কখন আসবে?

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, এখনই কলকাতায় কনকনে ঠান্ডা পড়বে না। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে, তবে বড়দিনের সময় আবার তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বড়দিনের পর থেকে শীতের প্রকৃত অনুভূতি মিলতে শুরু করবে।

এই বছর কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অঞ্চলের আবহাওয়ার কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে, যা শীতপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। কলকাতার তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার পর, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতিও কিছুটা বদলেছে। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হুগলি, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শীতের প্রকৃত অনুভূতি বেশি পাওয়া গেছে। তবে, কুয়াশার কারণে চরম সতর্কতার প্রয়োজন, কারণ এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আবহাওয়া দফতর কিছু পরামর্শ দিয়েছে। আসুন, বিস্তারিতভাবে জানি শীতের এই পরিবর্তন এবং তার প্রভাব সম্পর্কে।

অন্যান্য জেলা: তাপমাত্রা কমে, শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি

কলকাতার পাশাপাশি, রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জেলার আবহাওয়াও কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হুগলি, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা কমে গেছে। এই জেলার মানুষ বিশেষ করে বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে শীতের প্রকৃত অনুভূতি বেশি পেয়েছেন। এর প্রধান কারণ, তাপমাত্রার কমে যাওয়া এবং কুয়াশার প্রভাব। এই জেলার অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ১৫-১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে, যা শীতের প্রকৃত অনুভূতি বাড়িয়েছে।

বীরভূম, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুরে শীত বেশি অনুভূত হওয়ার কারণ হলো এখানকার উচ্চতর অঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং কুয়াশাও সেখানে বেশি থাকে। এই অঞ্চলের পরিবেশে কুয়াশার প্রভাব বেশি পড়ে, যা রাতে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র করে তোলে।

পরবর্তী দিনের পূর্বাভাস: তাপমাত্রায় ছোট পরিবর্তন

আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী তিন দিনে তাপমাত্রায় বড় কোন পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রবিবার থেকেই কুয়াশার পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে, তবে শীতের প্রকৃত অনুভূতি আরো বাড়বে। তাপমাত্রার পতন সোমবার থেকে আরও কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে ২৫ ডিসেম্বরের পর, অর্থাৎ বড়দিনের পর তাপমাত্রার পতন শুরু হবে এবং ৩১ ডিসেম্বরের কাছাকাছি কিছুটা শীতলতা বাড়তে পারে।

যেহেতু শীতের প্রকৃত অনুভূতি এখনো কলকাতায় সম্পূর্ণ আসেনি, তাই বড়দিনের পর এটি বাড়তে পারে। তবে, তাপমাত্রার কমে যাওয়া আর কুয়াশা দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা জানান যে, জানুয়ারির প্রথম দিকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে, কিন্তু শীতের প্রকৃত অনুভূতি আরও তীব্র হতে থাকবে।

news image
আরও খবর

কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা সতর্কতা প্রয়োজন

কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এক বড় বিপদ হতে পারে, বিশেষ করে শহরের রাস্তায় যানবাহন চলাচলের সময়। গত কয়েকদিনে কলকাতা এবং অন্য জেলা, বিশেষত বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদে কুয়াশা বেড়েছে এবং এতে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়েছে। কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে, কারণ রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনগুলোর সিগন্যাল দেখা যায় না এবং ব্রেকিং ডিস্ট্যান্সও কম হয়ে যায়।

তাই, বিশেষ করে গাড়ি চালকদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। কুয়াশা থাকলে গতি কমানো, গাড়ির হেডলাইট ব্যবহার করা এবং সঠিকভাবে রাস্তা দেখতে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আকাশে কুয়াশার পরিমাণ বেশি হলে সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে ভোর ও সন্ধ্যার সময়।

এছাড়াও, অন্যান্য যানবাহন যেমন বাস, ট্যাক্সি, অটো, সাইকেল, মোটরবাইক এবং অন্যান্য পণ্য পরিবহনকারী গাড়ির চালকরা যেন কুয়াশার কারণে সাবধানে চলাচল করেন। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ

আবহাওয়া দফতর, কুয়াশার পরিস্থিতি এবং শীতের কারণেও যাত্রীদের এবং গাড়ি চালকদের আরও সতর্ক থাকতে বলেছে। দফতরের মতে, সন্ধ্যার পর থেকে কুয়াশার মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, আর সকালে তা শীর্ষে পৌঁছাবে। এজন্য, এই সময়টাতে রাস্তায় চলাচল করার সময় সতর্ক থাকা উচিত। দিনের প্রথমভাগে রাস্তার পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হতে পারে, যা যাত্রীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে, গতি কমিয়ে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গাড়ি চালানো উচিত। এমনকি পাবলিক ট্রান্সপোর্টেও, কুয়াশার কারণে কিছুটা ঝুঁকি হতে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার শীতের পরিবর্তন নতুন বছর এবং বড়দিনের পর

কলকাতার শীতের চিত্র এই বছর অন্যরকম। প্রতি বছরই শীতের আগমন একটু দেরিতে হলেও, এই বছর জানুয়ারি পর্যন্ত তাপমাত্রার ওঠানামা বেশি হতে পারে। এখন শীতের প্রকৃত অনুভূতি এসেছে, তবে এটি বড়দিনের পর আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে বড়দিনের পর তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এটি আরও তীব্র হবে।

বর্তমানে কলকাতায় কনকনে শীত না আসলেও, আগামী সপ্তাহগুলিতে এটি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ৩১ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি থেকে শীতের প্রকৃত অনুভূতি আরও বেশি হবে, যা শহরের বাসিন্দাদের জন্য শীতের অনুভূতি বাড়াবে।

এখন, যদিও শীতের প্রকৃত অনুভূতি পৌঁছায়নি, তবে জানুয়ারির দিকে কলকাতায় শীত আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে জানুয়ারির মধ্যভাগে শীতের প্রকৃত অনুভূতি পৌঁছাবে, এবং কলকাতাবাসী এই বছরের শীতে আরও সুখবর পেতে পারেন।

শীতের আগমন এবং কলকাতার ভবিষ্যৎ

কলকাতার শীতের আগমন বছরের নির্দিষ্ট সময়েই হয়ে থাকে, তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত প্রভাবের কারণে এই বছরের শীত আগের তুলনায় একটু আলাদা হতে পারে। আশা করা যাচ্ছে, বড়দিনের পর থেকে শীতের প্রকৃত অনুভূতি সবার মধ্যে ছড়াবে এবং জানুয়ারির শুরুতে শীত আরও তীব্র হবে।

এটি কলকাতাবাসীদের জন্য আনন্দের খবর, কারণ শীতের সময়টা সবসময়ই বিশেষ আনন্দের।

Preview image