Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ডিম ছাড়াই অমলেটের স্বাদ! নিরামিষে সয়াবিন-পাঁপড়ের দারুণ নতুন রেসিপি

ডিমের অমলেটের মতোই দেখতে, কিন্তু তা নিরামিষ। কী ভাবে বানাবেন নিরামিষ অমলেটের ঝোল, জেনে নিন পন্থা।

নিরামিষ খাওয়ার দিন মানেই অনেক পরিবারের গৃহিণীদের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনের একই রকম সবজি, ডাল বা তরকারি খেতে খেতে ছোটদের তো বটেই, বড়দেরও একঘেয়েমি এসে যায়। বিশেষ করে যখন মাছ, মাংস বা ডিমের মতো প্রিয় খাবার থাকে না, তখন খাওয়ার টেবিলে আগ্রহ কমে যায় অনেকটাই। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটিয়ে, একটু নতুনত্ব আনলেই নিরামিষ রান্নাকেও করা যায় সুস্বাদু, আকর্ষণীয় এবং পুষ্টিকর। ঠিক তেমনই একটি অভিনব এবং চমৎকার রেসিপি হল সয়াবিনের নিরামিষ অমলেট কারি।

এই রান্নাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যা দেখতে এবং খেতে অনেকটাই ডিমের অমলেট কারির মতো লাগে। ফলে যারা নিরামিষ খেতে অনীহা দেখায়, তারাও বুঝতেই পারবে না এটি ডিম ছাড়া তৈরি। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি দারুণ একটি ট্রিক বলা যায়। এতে যেমন স্বাদ রয়েছে, তেমনই রয়েছে পুষ্টিগুণও, কারণ সয়াবিন প্রোটিনে ভরপুর।

এই রেসিপির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল এর টেক্সচার এবং স্বাদ। সয়াবিনকে সঠিকভাবে প্রসেস করে, আলু এবং মশলার সঙ্গে মিশিয়ে এমন একটি ব্যাটার তৈরি করা হয় যা দেখতে একেবারে অমলেটের মতো লাগে। এরপর সেটিকে ভেজে টুকরো করে ঝোলের মধ্যে দেওয়া হয়। ফলে একেবারে ডিমের অমলেট কারির মতোই ফিল পাওয়া যায়।

প্রথমে সয়াবিন ভালো করে গরম জলে ভিজিয়ে নরম করে নিতে হবে। তারপর জল ঝরিয়ে সেটিকে ভালোভাবে বেটে নিতে হবে বা গ্রাইন্ডারে দিয়ে পেস্ট করে নিতে হবে। এর সঙ্গে সেদ্ধ আলু, আদা কুচি, কাঁচালঙ্কা এবং ধনেপাতা মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। স্বাদ অনুযায়ী নুন দিতে হবে। চাইলে একটু হলুদও দেওয়া যেতে পারে রঙের জন্য।

এই মিশ্রণটি অল্প তেলে প্যানের উপর ছড়িয়ে দিয়ে অমলেটের মতো করে ভেজে নিতে হবে। দুই দিক ভালো করে সোনালি করে ভেজে নিয়ে সেটিকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে রাখতে হবে।

এবার তৈরি করতে হবে কারি বা ঝোল। একটি কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে তাতে গোটা জিরে এবং তেজপাতা ফোড়ন দিতে হবে। তারপর কুচি করা টম্যাটো দিয়ে ভালো করে ভেজে নিতে হবে যতক্ষণ না তা নরম হয়ে যায় এবং তেল ছেড়ে দেয়। এরপর হলুদ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, নুন ও সামান্য চিনি দিয়ে মশলাটি কষিয়ে নিতে হবে।

মশলা ভালোভাবে কষা হয়ে গেলে তাতে প্রয়োজনমতো জল দিয়ে ফুটতে দিতে হবে। যখন ঝোল ফুটে উঠবে, তখন আগে থেকে কেটে রাখা সয়াবিনের অমলেটের টুকরোগুলি এতে দিয়ে দিতে হবে। ৫ থেকে ৭ মিনিট ঢেকে রেখে রান্না করতে হবে যাতে অমলেটগুলো ঝোলের স্বাদ ভালোভাবে টেনে নেয়।

শেষে ওপর থেকে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে। চাইলে সামান্য গরম মশলাও দেওয়া যেতে পারে অতিরিক্ত স্বাদের জন্য।

এই রান্নাটি ভাত, রুটি বা পরোটার সঙ্গে দারুণ লাগে। যারা নিরামিষ খেতে চান কিন্তু স্বাদের সঙ্গে আপস করতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি পারফেক্ট অপশন। পাশাপাশি এটি খুব বেশি খরচের নয় এবং ঘরোয়া উপকরণ দিয়েই সহজে তৈরি করা যায়।

সয়াবিনের এই নিরামিষ অমলেট কারি শুধু একটি রেসিপি নয়, বরং এটি একটি স্মার্ট কুকিং আইডিয়া। এটি প্রমাণ করে যে নিরামিষ খাবারও কতটা আকর্ষণীয় এবং সুস্বাদু হতে পারে। একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করলেই রান্নাঘরে তৈরি করা যায় এমন অসাধারণ পদ, যা সবাইকে চমকে দিতে পারে।

পরিবারের সদস্যদের খাওয়ানোর সময় যদি আপনি একটু নতুনত্ব আনতে চান, তাহলে এই রেসিপিটি অবশ্যই একবার ট্রাই করুন। এটি শুধু পেট ভরাবে না, মনও ভরাবে। বিশেষ করে যারা সবজি খেতে চায় না, তাদের জন্য এটি হবে একেবারে সারপ্রাইজ ডিশ।

নিরামিষ দিনগুলো আর একঘেয়ে নয়, বরং হয়ে উঠতে পারে রসনা তৃপ্তির দিন। আর সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সয়াবিনের নিরামিষ অমলেট কারি হতে পারে আপনার রান্নাঘরের নতুন তারকা। 

নিরামিষ খাওয়ার দিন মানেই অনেক বাড়িতে এক ধরনের চিন্তার পরিবেশ তৈরি হয়—আজ কী রান্না করা হবে যা একদিকে পুষ্টিকর আবার অন্যদিকে পরিবারের ছোট-বড় সবার মন জয় করবে? মাছ, মাংস বা ডিম থাকলে রান্না নিয়ে তেমন ভাবতে হয় না, কারণ এগুলি প্রায় সকলেরই পছন্দ। কিন্তু সব্জি বললেই অনেকেই নাক সিটকায়, বিশেষ করে ছোটরা। তাই এমন কিছু নিরামিষ পদ দরকার যা দেখতে, খেতে এবং গন্ধে এমন হবে যাতে কেউ বুঝতেই না পারে এটি পুরোপুরি নিরামিষ। ঠিক তেমনই একটি অভিনব ও সুস্বাদু পদ হল সয়াবিনের নিরামিষ অমলেট কারি।

এই রেসিপিটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে দেখতে এবং খেতে অনেকটাই ডিমের অমলেট কারির মতো লাগে। ফলে যারা নিরামিষ দিনেও একটু আলাদা স্বাদের খোঁজ করেন, তাদের জন্য এটি একেবারে পারফেক্ট। সয়াবিন এমনিতেই প্রোটিনে ভরপুর, তাই এই পদটি শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য।

news image
আরও খবর

প্রথমেই সয়াবিন ভালো করে গরম জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে যাতে তা নরম হয়ে যায়। এরপর জল ঝরিয়ে নিয়ে হালকা নুন ও হলুদ দিয়ে সামান্য সেদ্ধ করে নিতে হবে। এতে সয়াবিনের কাঁচা গন্ধ দূর হয়ে যাবে এবং রান্নার জন্য একদম প্রস্তুত হয়ে যাবে। এদিকে সেদ্ধ আলুগুলো ভালো করে চটকে নিতে হবে, যেন কোনও দানা না থাকে।

এরপর একটি বড় বাটিতে সেদ্ধ সয়াবিন, আলু, আদা কুচি, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা কুচি এবং নুন দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। চাইলে এখানে সামান্য ভাজা জিরে গুঁড়োও যোগ করা যেতে পারে, এতে স্বাদ আরও বাড়বে। এই মিশ্রণটি এমনভাবে মাখতে হবে যাতে তা দিয়ে অমলেটের মতো আকার দেওয়া যায়।

এবার একটি কড়াইয়ে সামান্য সর্ষের তেল গরম করে সেই মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট গোল বা ডিম্বাকৃতি অমলেটের মতো করে ভেজে নিতে হবে। এই ভাজা অংশগুলোই মূলত অমলেটের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। বাইরে থেকে হালকা মচমচে আর ভেতরে নরম এই অংশগুলো খেতেও খুবই সুস্বাদু হয়।

এবার আসা যাক কারির প্রস্তুতিতে। একটি কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে তাতে তেজপাতা ও গোটা জিরে ফোড়ন দিতে হবে। জিরে ফোড়নের সুবাস ছড়িয়ে পড়লে তাতে আদা কুচি ও টম্যাটো বাটা দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে। টম্যাটো থেকে তেল ছেড়ে এলে তাতে হলুদ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, নুন ও সামান্য চিনি দিয়ে আবার কষাতে হবে। এই মশলার কষানোই কারির আসল স্বাদ নির্ধারণ করে।

মশলা ভালো করে কষানো হলে তাতে প্রয়োজনমতো জল দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। ঝোল ফুটতে শুরু করলে আগে ভেজে রাখা সয়াবিনের অমলেটগুলো তাতে দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মাঝারি আঁচে কিছুক্ষণ রান্না হতে দিতে হবে যাতে অমলেটগুলো ঝোলের স্বাদ ভালো করে টেনে নিতে পারে।

এই রান্নার আরেকটি বিশেষ উপকরণ হল পাঁপড়। পাঁপড় হালকা ভেজে বা সেঁকে নিয়ে শেষে কারির মধ্যে ভেঙে দিয়ে দেওয়া যায়। এতে কারির মধ্যে একটি আলাদা ক্রাঞ্চি টেক্সচার আসে, যা এই পদটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

রান্না প্রায় শেষের দিকে এলে উপর থেকে কুচি করা ধনেপাতা ছড়িয়ে দিতে হবে। চাইলে সামান্য ঘি দিয়েও ফিনিশিং দেওয়া যেতে পারে, এতে গন্ধ আরও বাড়বে। তবে সম্পূর্ণ নিরামিষ রাখতে চাইলে ঘি না দিলেও চলে।

এই সয়াবিনের নিরামিষ অমলেট কারি গরম ভাত বা রুটি—দুটোর সঙ্গেই দারুণ লাগে। বিশেষ করে নিরামিষ দিনগুলিতে এটি একঘেয়েমি কাটিয়ে এনে দেয় নতুন স্বাদের ছোঁয়া। ছোটদের জন্য এটি একটি চমৎকার উপায় সব্জি ও সয়াবিন খাওয়ানোর, কারণ তারা বুঝতেই পারবে না এটি ডিম ছাড়া তৈরি।

 

 

 

 

 

 

Preview image