Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

থিমের যুদ্ধে পুরাণ-মন্দির-ইতিহাস, বারুইপুরে একে অপরকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত পুজো কমিটিগুলি

দুর্গাপুজো মানেই থিমের চমক। এবার বারুইপুরে সেই থিমের লড়াই আরও জমজমাট। কোথাও উঠে আসছে অক্ষরধামের আদলে মন্দির, কোথাও রামের অকালবোধনের পৌরাণিক কাহিনি। আবার কোথাও কপালকুণ্ডলা, মহালয়া, পাহাড়ি লোকসংস্কৃতি কিংবা মাদুর-পাখার মতো দেশজ উপকরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। সব মিলিয়ে পুজোর আগে থেকেই বারুইপুরে শুরু হয়েছে নজরকাড়া থিমের প্রতিযোগিতা।

দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসে, ততই বদলে যায় বাংলার শহর ও শহরতলির চেহারা। কোথাও মণ্ডপ তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, কোথাও প্রতিমার সাজসজ্জা, আবার কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। তবে পুজোর আকর্ষণের অন্যতম বড় জায়গা এখন থিম। আর সেই থিমের বৈচিত্র্যেই প্রতি বছর একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেন পুজো উদ্যোক্তারা।

এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। বারুইপুরে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে থিমের লড়াই। পুরাণ, মন্দির, ইতিহাস, সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি—বিভিন্ন ভাবনাকে সামনে রেখে তৈরি হচ্ছে একের পর এক মণ্ডপ। কোথাও অক্ষরধামের অনুকরণে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ, কোথাও উঠে আসছে রামের অকালবোধনের পৌরাণিক কাহিনি। আবার কোনও পুজোয় মণ্ডপসজ্জার মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মাদুর ও পাখার মতো দেশজ সামগ্রী।

সব মিলিয়ে বারুইপুরের পুজোপ্রেমীদের জন্য এবারও অপেক্ষা করছে একাধিক চমক।

থিমের লড়াইয়ে পুরাণ থেকে ইতিহাস

দুর্গাপুজোর থিম নিয়ে বাঙালির আগ্রহ নতুন নয়। তবে সময়ের সঙ্গে থিমের ধরনও বদলেছে। একসময় মূলত মন্দির বা প্রাসাদের আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হলেও এখন শিল্পী ও উদ্যোক্তারা আরও গভীর কোনও গল্পকে মণ্ডপের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

কোনও মণ্ডপে ইতিহাসের কোনও অধ্যায়, কোথাও পুরাণের কোনও কাহিনি, আবার কোথাও বাংলার সাহিত্য বা লোকসংস্কৃতির কোনও অজানা দিককে তুলে ধরা হয়। দর্শককে শুধু প্রতিমা দেখানো নয়, মণ্ডপের ভিতর দিয়ে একটি গল্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই হয়ে উঠেছে অনেক পুজোর লক্ষ্য।

বারুইপুরের পুজোগুলিতেও এবার সেই প্রবণতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

অক্ষরধামের স্থাপত্য থেকে রামের অকালবোধন, কপালকুণ্ডলা থেকে মহালয়া—একাধিক পরিচিত বিষয়কে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। এর পাশাপাশি পাহাড়ি লোকসংস্কৃতি এবং বাংলার ঘরোয়া ব্যবহারের সামগ্রীকেও মণ্ডপসজ্জার অংশ করা হচ্ছে।

অক্ষরধামের আদলে মণ্ডপ

বারুইপুরের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে অক্ষরধামের আদলে তৈরি মণ্ডপ। মন্দির স্থাপত্যের সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ধরনের থিম দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

অক্ষরধামের স্থাপত্যে সূক্ষ্ম কারুকাজ, স্তম্ভ, গম্বুজ, অলংকরণ এবং বিশাল কাঠামো বিশেষভাবে নজর কাড়ে। সেই স্থাপত্যশৈলীকে পুজোর মণ্ডপে তুলে ধরার অর্থ শুধু একটি বড় মণ্ডপ তৈরি করা নয়, বরং স্থাপত্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা।

পুজোর সময়ে আলো-আঁধারির সঙ্গে মণ্ডপের কারুকাজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলে দর্শকদের অভিজ্ঞতা আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।

থিমের সঙ্গে প্রতিমার সাজ, আলোকসজ্জা এবং মণ্ডপের পরিবেশকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার চেষ্টা থাকলে পুরো আয়োজনটি একটি পূর্ণাঙ্গ দৃশ্যপটের রূপ নিতে পারে।

রামের অকালবোধনের কাহিনি

পুরাণের গল্পের মধ্যে রামের অকালবোধনের কাহিনি বাঙালির কাছে অত্যন্ত পরিচিত। রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আগে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন রাম—এই পৌরাণিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে বহু জায়গায় পুজোর থিম তৈরি হয়েছে।

বারুইপুরের কোনও পুজোয় যদি এই কাহিনিকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ তৈরি করা হয়, তাহলে সেখানে যুদ্ধের প্রস্তুতি, দেবীর আরাধনা এবং রামের ভক্তির বিভিন্ন মুহূর্ত শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।

একটি গল্পকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ তৈরি হলে দর্শক শুধু স্থাপত্য দেখেন না, গল্পের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও পান। ফলে শিশু থেকে প্রবীণ—বিভিন্ন বয়সের মানুষের কাছে এই ধরনের থিম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

কপালকুণ্ডলায় সাহিত্যের ছোঁয়া

পুরাণের পাশাপাশি বাংলার সাহিত্যও এবার থিমের অংশ হয়ে উঠছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’-কে কেন্দ্র করে মণ্ডপ তৈরির ভাবনা বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করতে পারে।

কপালকুণ্ডলার গল্পে রয়েছে রহস্য, প্রকৃতি, সম্পর্ক, ধর্মীয় আবহ এবং নাটকীয়তা। ফলে মণ্ডপসজ্জার ক্ষেত্রে এই উপন্যাসের পরিবেশকে নানা শিল্পরীতির মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

জঙ্গল, নদী, মন্দির, চরিত্র এবং উপন্যাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যকে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে ফুটিয়ে তোলা হলে দর্শক যেন একটি সাহিত্যকাহিনির ভিতর দিয়ে হাঁটতে পারেন—এমন অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব।

দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবের সঙ্গে সাহিত্যকে যুক্ত করার এই ধরনের প্রয়াস বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও সামনে নিয়ে আসে।

মহালয়ার আবহ

মহালয়া বাঙালির কাছে দুর্গাপুজোর সূচনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ভোরবেলা রেডিয়ো বা অন্য মাধ্যমে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার ঐতিহ্য বহু বছরের।

মহালয়ার সেই আবহকে যদি মণ্ডপের থিমে তুলে ধরা হয়, তাহলে দর্শকদের কাছে তৈরি হতে পারে এক বিশেষ নস্টালজিয়া।

দেবীর আবাহন, চণ্ডীপাঠের আবহ, দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন এবং মহিষাসুরমর্দিনীর বিভিন্ন রূপকে শিল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলে মণ্ডপের পরিবেশ আরও আবেগঘন হয়ে উঠতে পারে।

পুরনো দিনের মহালয়ার স্মৃতি এবং আধুনিক মণ্ডপশিল্পকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

পাহাড়ি লোকসংস্কৃতিও থিমে

বারুইপুরের পুজোয় শুধু বাংলা বা ভারতীয় পুরাণ নয়, পাহাড়ি লোকসংস্কৃতিও এবার জায়গা করে নিচ্ছে।

পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, পোশাক, লোকশিল্প, বাদ্যযন্ত্র, ঘরবাড়ির ধরন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশকে কেন্দ্র করে মণ্ডপসজ্জা করা হলে দর্শকরা অন্য একটি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

লোকসংস্কৃতিকে থিমের অংশ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর মধ্যে কৃত্রিমতার বদলে বাস্তব জীবনকে তুলে ধরা যায়। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী মণ্ডপের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

এই ধরনের থিম একই সঙ্গে বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষার মাধ্যমও হয়ে উঠতে পারে।

মাদুর-পাখায় মণ্ডপসজ্জা

থিমের দৌড়ে সবসময় বড় বা দামি উপকরণই যে নজর কাড়বে, এমন নয়। সাধারণ ও পরিচিত উপকরণ দিয়েও অসাধারণ শিল্পকর্ম তৈরি করা সম্ভব।

মাদুর ও পাখার মতো ঘরোয়া এবং দেশজ উপকরণকে মণ্ডপসজ্জার অংশ করার ভাবনা তারই উদাহরণ।

গ্রামবাংলার বাড়িতে মাদুর ও হাতপাখার ব্যবহার বহু পুরনো। একসময় এগুলি ছিল দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। আধুনিক সময়ে বৈদ্যুতিক পাখা এবং নানা ধরনের নতুন সামগ্রী আসায় হাতপাখার ব্যবহার অনেকটাই কমেছে।

তাই মাদুর-পাখাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপসজ্জা হলে তার মধ্যে নস্টালজিয়ার একটি দিকও থাকতে পারে।

একই সঙ্গে স্থানীয় কারিগরদের কাজকে তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

দেশজ শিল্পের পুনরুজ্জীবন

পুজোর থিমে দেশজ সামগ্রী ব্যবহারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প ও কারুশিল্পকে মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।

মাদুর, বাঁশ, পাট, কাপড়, মাটির সামগ্রী কিংবা হাতের তৈরি বিভিন্ন জিনিস দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করলে স্থানীয় কারিগরদের কাজের চাহিদা বাড়তে পারে।

অনেক কারিগরি শিল্পই বর্তমানে আধুনিক বাজারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। উৎসবের মণ্ডপে সেই শিল্পকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা গেলে তা সাধারণ মানুষের কাছে আবার জনপ্রিয় হতে পারে।

দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতিরও অন্যতম বড় মঞ্চ। তাই মণ্ডপে দেশজ শিল্পের ব্যবহার সেই সাংস্কৃতিক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করে।

news image
আরও খবর

দর্শকদের জন্য একাধিক অভিজ্ঞতা

একই এলাকায় একাধিক বৈচিত্র্যময় থিম থাকলে দর্শকদের আগ্রহও বাড়ে। একটি মণ্ডপে পুরাণ, অন্যটিতে ইতিহাস, কোথাও সাহিত্য, আবার কোথাও লোকসংস্কৃতি—এই বৈচিত্র্য পুজো পরিক্রমাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে যাঁরা পুজোর সময় একাধিক মণ্ডপ ঘুরে দেখতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য বারুইপুরের এই থিমের বৈচিত্র্য বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে।

একটি মণ্ডপে অক্ষরধামের স্থাপত্য দেখার পর অন্য মণ্ডপে রামের অকালবোধনের গল্প, তার পর কপালকুণ্ডলার সাহিত্যজগৎ—এই অভিজ্ঞতা পুজো পরিক্রমাকে অনেকটাই বৈচিত্র্যময় করে তুলতে পারে।

থিমের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে

পুজো কমিটিগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন শুধু মণ্ডপের আকার নিয়ে নয়। কোন পুজোর থিম বেশি অভিনব, কোন মণ্ডপে শিল্পের কাজ বেশি নিখুঁত, কোন পুজো দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারছে—এসবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই প্রতিযোগিতা অনেক সময় শিল্পীদের নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। একটি কমিটি কোনও নতুন ধারণা সামনে আনলে অন্য কমিটিও তার চেয়ে আরও অভিনব কিছু করার চেষ্টা করে।

ফলে দর্শকদের জন্য তৈরি হয় একের পর এক নতুন অভিজ্ঞতা।

বারুইপুরের এবারের পুজোগুলিতেও সেই প্রতিযোগিতার ছাপ স্পষ্ট। পুরাণ, ইতিহাস, সাহিত্য এবং লোকসংস্কৃতির মতো বিভিন্ন বিষয় বেছে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে পুজো কমিটিগুলি নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে চাইছে।

থিমের পাশাপাশি প্রতিমাতেও চমক

মণ্ডপের থিম যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, দুর্গাপুজোর মূল আকর্ষণ অবশ্যই প্রতিমা। তাই মণ্ডপের সঙ্গে প্রতিমার সামঞ্জস্য রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অক্ষরধামের মতো মন্দিরভিত্তিক থিম হলে প্রতিমার সাজে ঐতিহ্যবাহী ভাব রাখা হতে পারে। আবার লোকসংস্কৃতিভিত্তিক থিমে প্রতিমার অলংকার বা সাজেও দেশজ উপাদানের ব্যবহার দেখা যেতে পারে।

থিম, প্রতিমা এবং আলোকসজ্জা—এই তিনটি বিষয় যদি একই ভাবনার মধ্যে রাখা যায়, তাহলে পুরো পুজোর আয়োজন আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।

আলোয় আরও আকর্ষণীয় হবে মণ্ডপ

দিনের আলোয় একটি মণ্ডপ যেমন দেখা যায়, রাতের আলোয় তার চেহারা অনেকটাই বদলে যায়। দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে তাই আলোকসজ্জা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মণ্ডপের স্থাপত্য, ভাস্কর্য এবং শিল্পকর্মকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে আলো ব্যবহার করা হয়। কোথাও নরম আলো, কোথাও উজ্জ্বল আলো, আবার কোথাও নির্দিষ্ট অংশে আলো ফেলে বিশেষ দৃশ্য তৈরি করা হয়।

বারুইপুরের বিভিন্ন থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলোকসজ্জা করা হলে প্রতিটি মণ্ডপের আলাদা পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারের সম্ভাবনা

বর্তমানে পুজোর থিম শুধু স্থানীয় দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে কোনও মণ্ডপের ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

একটি অভিনব থিম দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেলে দূরের দর্শকরাও সেই পুজো দেখতে আসতে পারেন। ফলে বারুইপুরের বিভিন্ন পুজোর ক্ষেত্রেও এই সম্ভাবনা রয়েছে।

অক্ষরধাম, রামের অকালবোধন, কপালকুণ্ডলা কিংবা মাদুর-পাখার মতো আলাদা আলাদা থিম যদি সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেগুলি নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

পুজোর অর্থনীতিতেও প্রভাব

বড় পুজো মানেই শুধু পুজো কমিটির খরচ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে বহু মানুষের কর্মসংস্থান। মণ্ডপ নির্মাণ, আলো, প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, খাবার, পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বাড়ে।

থিম যত বড় এবং জটিল হয়, তত বেশি শিল্পী ও কর্মীর প্রয়োজন হয়। ফলে পুজোর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

স্থানীয় দোকানদার, খাবারের ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীরাও পুজোর সময় বাড়তি ব্যবসার সুযোগ পান।

এই দিক থেকে দেখলে থিমের লড়াই স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বারুইপুরে পুজো দেখতে ভিড়ের সম্ভাবনা

বৈচিত্র্যময় থিমের কারণে বারুইপুরে পুজোর সময় দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। একাধিক আকর্ষণীয় পুজো থাকলে মানুষ দূরদূরান্ত থেকে সেখানে মণ্ডপ দেখতে আসতে পারেন।

তবে দর্শকের ভিড় বাড়লে নিরাপত্তা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পুজোর সময়ে রাস্তার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে।

তাই পুজো কমিটি এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। দর্শকদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলে পুজো পরিক্রমার অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতে পারে।

শিল্প ও সংস্কৃতির মিলনমঞ্চ

বারুইপুরের এবারের থিমগুলির বৈচিত্র্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—দুর্গাপুজো এখন শুধু ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস এবং লোকসংস্কৃতিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি বড় মঞ্চ।

অক্ষরধামের স্থাপত্য থেকে কপালকুণ্ডলার সাহিত্য, রামের পৌরাণিক কাহিনি থেকে পাহাড়ি লোকসংস্কৃতি, আবার মাদুর-পাখার মতো সাধারণ দেশজ সামগ্রী—সবকিছুকেই দুর্গাপুজোর মণ্ডপে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এই বৈচিত্র্যই বাংলার পুজোকে অন্য অনেক উৎসবের থেকে আলাদা করে।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

পুজোর দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই মণ্ডপগুলির কাজের গতি বাড়বে। কোথাও কাঠামো তৈরি হচ্ছে, কোথাও চলছে রং ও কারুকাজ, কোথাও প্রতিমার শেষ মুহূর্তের কাজ।

শিল্পীদের ব্যস্ততা যেমন বাড়বে, তেমনই পুজো কমিটির সদস্যদেরও রাতদিন কাজ করতে হবে। কারণ দর্শকদের সামনে শেষ পর্যন্ত যে রূপটি তুলে ধরা হবে, তার প্রতিটি অংশেই থাকবে বহু মানুষের পরিশ্রম।

থিম যত জটিল, কাজের পরিমাণও তত বেশি। তাই পুজোর আগে মণ্ডপ তৈরির জায়গাগুলিতে ব্যস্ততার ছবি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

শেষ পর্যন্ত কে টেক্কা দেবে?

বারুইপুরের পুজোয় এবার একাধিক আকর্ষণীয় থিমের সমাবেশ। ফলে কোন মণ্ডপ দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

অক্ষরধামের স্থাপত্য কি দর্শকদের নজর কাড়বে? নাকি রামের অকালবোধনের পৌরাণিক কাহিনি হবে বড় আকর্ষণ? সাহিত্যপ্রেমীদের মন জিতবে কি কপালকুণ্ডলা? নাকি মহালয়া ও পাহাড়ি লোকসংস্কৃতির মতো বিষয় নতুন অভিজ্ঞতা দেবে?

আবার মাদুর-পাখার মতো সাধারণ উপকরণ দিয়ে তৈরি মণ্ডপ হয়তো অন্য সব বড় আয়োজনের মধ্যেও আলাদা করে নজর কাড়তে পারে।

শেষ পর্যন্ত দর্শকেরাই ঠিক করবেন কোন থিম সবচেয়ে বেশি মনে দাগ কাটল।

সব মিলিয়ে এবারের দুর্গাপুজোয় বারুইপুরে থিমের লড়াই যে বেশ জমজমাট হতে চলেছে, তা বলাই যায়। পুরাণ থেকে ইতিহাস, মন্দির থেকে সাহিত্য, মহালয়া থেকে লোকসংস্কৃতি—বিভিন্ন ভাবনার মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে একের পর এক মণ্ডপ।

Preview image