১৬ই মে ২০২৬ কলকাতার অন্যতম হাই প্রোফাইল এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা ভবানীপুরে আজ এক নজিরবিহীন এবং থমথমে নিরাপত্তার ছবি ধরা পড়ল কলকাতা পুলিশের দাপুটে আইপিএস আধিকারিক ডি পি সিং স্বয়ং রাস্তায় নেমে জয় হিন্দ ভবনের সোজাসুজি রাস্তা ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তার কারণে ঘরের ভেতরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন সম্ভাব্য রাজনৈতিক অশান্তি এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে পুলিশের এই সরাসরি জনসংযোগ সমগ্র শহরে এক বিশাল আলোচনার জন্ম দিয়েছে
কলকাতা ১৬ই মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহর কলকাতার বুকে আজ এক অত্যন্ত থমথমে এবং নজিরবিহীন নিরাপত্তার ছবি ধরা পড়ল যা শহরের সাধারণ মানুষকে রীতিমতো অবাক এবং চিন্তিত করে তুলেছে দক্ষিণ কলকাতার প্রাণকেন্দ্র এবং রাজনৈতিকভাবে রাজ্যের অন্যতম হাই প্রোফাইল এলাকা হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর আজ যেন এক অলিখিত কার্ফু বা হাই অ্যালার্টের চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে এই ভবানীপুর এলাকা চিরকালই বাংলার রাজনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এপিসেন্টার বা ভরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় গত কয়েক দশক ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল কিন্তু সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে যে বিশাল এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে এবং বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তারপর থেকেই এই এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল সেই উত্তেজনারই এক চরম এবং প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ আজ দেখা গেল ভবানীপুরের রাস্তায় আজ সকাল থেকেই ভবানীপুর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফ এবং কমব্যাট ফোর্সের জওয়ানরা রুট মার্চ করতে শুরু করেন কিন্তু সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন কলকাতা পুলিশের অত্যন্ত দাপুটে এবং দক্ষ আইপিএস আধিকারিক ডি পি সিং যিনি নিজে রাস্তায় নেমে এই বিশাল নিরাপত্তা বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিজের হাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন
ভবানীপুরের জয় হিন্দ ভবন চিরকালই এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিচিত ল্যান্ডমার্ক হিসেবে শহরের মানুষের কাছে পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই জয় হিন্দ ভবন আজ এই জয় হিন্দ ভবনের সোজাসুজি যে রাস্তাটি চলে গেছে সেই রাস্তার দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আইপিএস আধিকারিক ডি পি সিং তার নিজস্ব ইউনিফর্মে এবং অত্যন্ত কড়া মেজাজে এই রাস্তা ধরে পায়ে হেঁটে টহল দিচ্ছেন তার চারপাশে ঘিরে রয়েছেন প্রচুর সশস্ত্র পুলিশ কর্মী এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা কিন্তু ডি পি সিংয়ের কাজের পদ্ধতিটি আজ সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে তিনি কেবল রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাইকিং করে বা পুলিশ কর্মীদের দিয়ে নির্দেশ দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেননি তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এবং এক অভিনব জনসংযোগের মাধ্যম হিসেবে জয় হিন্দ ভবনের সামনের রাস্তার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কড়া নাড়ছেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলছেন তিনি অত্যন্ত বিনীত অথচ দৃঢ় গলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করছেন যে তারা যেন আগামী কয়েক ঘণ্টা কোনোভাবেই নিজেদের বাড়ির বাইরে না বেরোন এবং অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন রাস্তায় ঘোরাঘুরি না করেন পুলিশের এই ধরনের সরাসরি এবং ব্যক্তিগত আবেদন এর আগে কলকাতার রাস্তায় খুব কমই দেখা গেছে যা প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি কতটা সংবেদনশীল এবং প্রশাসন কতটা সতর্ক
আইপিএস ডি পি সিং যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলছেন তখন তার বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট এবং পরিষ্কার তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলছেন যে ভয়ের কোনো কারণ নেই প্রশাসন এবং কলকাতা পুলিশ সমগ্র এলাকার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং বদ্ধপরিকর কিন্তু যেহেতু এলাকায় এক বিশেষ রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং রটনার সৃষ্টি হয়েছে তাই যেকোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি তিনি বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের জানলার ধারে বা ব্যালকনিতে দাঁড়াতেও নিষেধ করছেন এবং সবাইকে বাড়ির ভেতরের দিকে সুরক্ষিত অবস্থায় থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা যখন আতঙ্কিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করছেন যে এলাকায় কোনো বড় হামলার আশঙ্কা রয়েছে কিনা তখন তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে তাদের বোঝাচ্ছেন যে এটি কেবল একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা প্রিভেন্টিভ মেজার যাতে কোনো সমাজবিরোধী বা দুষ্কৃতী এলাকার শান্ত পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে না পারে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন যে তারা যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কোনো রকম উসকানিমূলক পোস্ট বা ফেক নিউজে কান না দেন এবং গুজবে বিশ্বাস করে আতঙ্কিত না হন পুলিশের এই মানবিক এবং দায়িত্বশীল আচরণ সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল ভরসা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করছে
এই হাই অ্যালার্ট এবং কড়া নিরাপত্তার পেছনের আসল কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা বারবার অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছে যে রাজ্যে কোনো ধরনের নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা বা অশান্তি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না গত পনেরো বছর ধরে রাজ্যে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর হামলা বা পার্টি অফিস দখলের মতো ঘটনা ঘটত নতুন সরকার সেই কলঙ্কিত ইতিহাস চিরতরে মুছে ফেলতে চাইছে ভবানীপুর যেহেতু পূর্ববর্তী শাসক দলের এক অত্যন্ত শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল তাই নতুন সরকার মনে করছে যে এই এলাকায় যদি সামান্যতম কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় তবে তা সমগ্র রাজ্যের জন্য এক অত্যন্ত খারাপ বার্তা বয়ে আনবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাবে এই কারণেই কলকাতা পুলিশকে সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ভবানীপুর কালীঘাট এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যেন নিরাপত্তার কোনো রকম ফাঁকফোকর না থাকে গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে হয়তো এমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে জয় হিন্দ ভবনের আশেপাশে দুই রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে কোনো রকম বাদানুবাদ বা সংঘর্ষ হতে পারে আর সেই আশঙ্কাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার জন্য আইপিএস ডি পি সিংয়ের মতো একজন পোড়খাওয়া এবং অভিজ্ঞ আধিকারিককে এই অপারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে
ভবানীপুরের মতো একটি চিরব্যস্ত এবং প্রাণবন্ত এলাকার আজকের এই নিস্তব্ধতা এবং থমথমে পরিবেশ সত্যিই এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের সৃষ্টি করেছে যে রাস্তাগুলোতে প্রতিদিন সকালে মানুষের কোলাহল চায়ের দোকানের আড্ডা এবং স্কুলগামী শিশুদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় আজ সেই রাস্তাগুলো সম্পূর্ণ জনমানবশূন্য রাস্তার ধারের সমস্ত দোকানপাট বাজার এবং শপিং মলগুলো প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং কেবল অ্যাম্বুলেন্স বা পুলিশের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়িকে এই এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না মোড়ে মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং প্রতিটি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অত্যন্ত কড়াভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে ভবানীপুরের বিখ্যাত খাবারের দোকানগুলো যেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় আজ সেগুলোর ঝাঁপও বন্ধ এই অর্থনৈতিক স্থবিরতা হয়তো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এক দিনের ক্ষতি কিন্তু বৃহত্তর শান্তির স্বার্থে তারা হাসিমুখে এই ক্ষতি মেনে নিচ্ছেন তারা বুঝতে পারছেন যে এলাকায় যদি কোনো রকম বোমাবাজি বা অশান্তি হয় তবে তার ফল হবে আরও অনেক বেশি মারাত্মক এবং দীর্ঘস্থায়ী তাই তারা পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন এবং প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহযোগিতা করছেন
আধুনিক পুলিশি ব্যবস্থার এক অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং আদর্শ উদাহরণ আজ স্থাপন করলেন আইপিএস ডি পি সিং আগেকার দিনে পুলিশের কাজ মানেই ছিল লাঠিচার্জ করা কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা কিন্তু আজকের দিনে কমিউনিটি পুলিশিং বা সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করাটাই হলো যেকোনো সফল প্রশাসনিক অপারেশনের মূল চাবিকাঠি ডি পি সিং বুঝতে পেরেছেন যে মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয় বরং তাদের বুঝিয়ে এবং তাদের বিশ্বাস অর্জন করেই একটি সংবেদনশীল এলাকার শান্তি বজায় রাখা সম্ভব তিনি যখন কোনো বাড়ির দরজায় কড়া নেড়ে অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে বাড়ির কর্তার সাথে কথা বলছেন তখন সেই বাড়ির সদস্যরা পুলিশের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা এবং আপনত্ব অনুভব করছেন এই জনসংযোগের ফলে সাধারণ মানুষ নিজেরাই পুলিশের চোখ এবং কান হয়ে উঠছেন তারা যদি এলাকার কোথাও কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন তবে তারা নিজেরাই সাথে সাথে পুলিশকে খবর দিচ্ছেন এটি প্রমাণ করে যে একজন যোগ্য নেতৃত্ব কীভাবে সমগ্র এলাকার মানসিকতাকে ইতিবাচক দিকে পরিচালিত করতে পারে
এই হাই অ্যালার্ট পরিস্থিতির মাঝেই আধুনিক ডিজিটাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভবানীপুরের তরুণ সমাজ যারা স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় তারা ঘরে বসেই নিজেদের জানলা দিয়ে বা ব্যালকনি থেকে এই বিশাল পুলিশি প্রহরার ভিডিও করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করছেন লেন্সপিডিয়া এর মতো আধুনিক ডিজিটাল নিউজ পোর্টালগুলো এই খবরটিকে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কভার করছে এবং প্রতি মুহূর্তের গ্রাউন্ড জিরো আপডেট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে তরুণরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আইপিএস ডি পি সিংয়ের এই ডোর টু ডোর বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলার পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করছেন অনেকেই লিখছেন যে রিয়েল লাইফ সিংঘম আজ কলকাতার রাস্তায় নেমেছেন আবার অনেকেই হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখছেন যে শান্ত ভবানীপুর এবং বেঙ্গল পুলিশ এই ডিজিটাল প্রচারের ফলে কোনো রকম গুজব বা ফেক নিউজ ছড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে না মানুষ সঠিক খবর পাচ্ছেন এবং তারা বুঝতে পারছেন যে পুলিশ কেবল তাদের সুরক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এই তরুণ প্রজন্ম যারা আধুনিক এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলার স্বপ্ন দেখে তারা প্রশাসনের এই কড়া এবং পক্ষপাতহীন পদক্ষেপকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন
ভবানীপুরের এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব সমগ্র রাজ্যের রাজনীতির ওপর পড়তে বাধ্য নতুন সরকার এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং দুষ্কৃতীদের কাছে এক অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিল যে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপোষ করা হবে না যে কেউ যদি শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে তবে তাকে আইনের অত্যন্ত কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে যে সিন্ডিকেট রাজ বা বাহুবলী নেতাদের দাপট ছিল তা এখন যে সম্পূর্ণ অতীত হয়ে গেছে এই ঘটনা তারই এক অন্যতম প্রমাণ সাধারণ মানুষ যারা এতদিন রাজনৈতিক হিংসার ভয়ে কুঁকড়ে থাকতেন তারা আজ পুলিশের এই সক্রিয়তা দেখে নিজেদের অনেক বেশি সুরক্ষিত এবং স্বাধীন মনে করছেন তারা বুঝতে পারছেন যে প্রশাসন এখন আর কোনো রাজনৈতিক দলের হাতের পুতুল নয় বরং তারা স্বাধীনভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত এই মানসিক পরিবর্তনটাই হলো একটি সুস্থ এবং পরিণত গণতান্ত্রিক সমাজের সবচেয়ে বড় লক্ষণ
তবে এই ধরনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় কারণ এতে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এই সাময়িক উত্তেজনার কারণগুলো খুঁজে বের করে তার একটি স্থায়ী রাজনৈতিক এবং সামাজিক সমাধান করা রাজনৈতিক দলগুলোকেও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং তাদের কর্মী সমর্থকদের নির্দেশ দিতে হবে যাতে তারা কোনো রকম উসকানিমূলক বা হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত না হন গণতন্ত্রে ক্ষমতার রদবদল অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া এবং জয় পরাজয় মেনে নিয়েই সমস্ত দলকে একসাথে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে ভবানীপুরের মতো একটি মিশ্র সংস্কৃতির এলাকায় যেখানে বিভিন্ন ভাষাভাষী এবং ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে অত্যন্ত সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছেন সেখানে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন যেন এই সম্প্রীতির বাতাবরণকে নষ্ট করতে না পারে তার দিকে সকলকেই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে আইপিএস ডি পি সিং আজ যে শান্তির বার্তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিলেন তা যেন আগামী দিনেও এই এলাকার আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হয়
আজকের এই থমথমে শনিবারের দিনটি কলকাতার মানুষের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে সাধারণ মানুষ যারা ছুটির দিনে বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা করেছিলেন তারা বাধ্য হয়ে ঘরে বসে আছেন কিন্তু এই ঘরবন্দি থাকার মধ্যে কোনো ক্ষোভ বা বিরক্তি নেই বরং রয়েছে এক ধরনের স্বস্তি কারণ তারা জানেন যে বাইরে যে পুলিশ বাহিনী পাহারায় দাঁড়িয়ে আছে তারা তাদেরই ভাই এবং সন্তান যারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের ঘুম সুরক্ষিত করছে জয় হিন্দ ভবনের সামনের রাস্তাটি আজ হয়তো জনমানবশূন্য কিন্তু এই শূন্যতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের এক শান্ত এবং উন্নত বাংলার স্বপ্ন আমরা আশা করব বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং প্রশাসন সাধারণ মানুষকে আবার তাদের দৈনন্দিন কাজে ফেরার অনুমতি দেবে পুলিশ আধিকারিকদের এই নিরলস পরিশ্রম এবং সাধারণ মানুষের এই অভূতপূর্ব সহযোগিতা প্রমাণ করে যে আমরা সবাই মিলে চাইলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পার করতে পারি
পরিশেষে এটা বলাই যায় যে ভবানীপুরের আজকের এই চিত্র বাংলার পুলিশ প্রশাসনের এক নতুন এবং উজ্জ্বল মুখচ্ছবি তুলে ধরেছে আইপিএস ডি পি সিং তার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে সঠিক নেতৃত্ব এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে যেকোনো জটিল অপারেশন অত্যন্ত সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করা যায় তার এই বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুরোধ করার পদ্ধতি আগামী দিনে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলগুলোতেও এক কেস স্টাডি বা দৃষ্টান্ত হিসেবে পড়ানো হতে পারে ভবানীপুরের মানুষ আজ পুলিশের যে মানবিক এবং একই সাথে অত্যন্ত কঠোর রূপটি দেখলেন তা তাদের মনে দীর্ঘ দিন ধরে গেঁথে থাকবে আমরা লেন্সপিডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতা পুলিশের এই অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং ভবানীপুর সহ সমগ্র রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে শান্তি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার বিনীত আবেদন জানাচ্ছি আসুন আমরা সবাই মিলে এক নতুন এবং হিংসামুক্ত বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাই বিস্তারিত খবরের জন্য এবং জয় হিন্দ ভবনের সামনের রাস্তার লেটেস্ট লাইভ ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং চোখ রাখুন লেন্সপিডিয়া এর পর্দায়