ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ান ডেতে ২৯৬ রান তাড়া করে দুর্দান্ত জয় ভারতের। শুভমন গিলের ১১০ ও বিরাট কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রানের দাপটে মাত্র ৪১.৪ ওভারে ম্যাচ জেতে ভারত। কোহলির ইনিংসকে ‘ফায়ারি’ বলে প্রশংসা করলেন শুভমন।
ভারতের ক্রিকেটে বিরাট কোহলির নামের সঙ্গে ‘বড় ম্যাচের খেলোয়াড়’ শব্দবন্ধটি বহু বছর ধরেই জড়িয়ে রয়েছে। বয়স বাড়লেও তাঁর ব্যাটের ধার যে একটুও কমেনি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচে ফের তারই প্রমাণ মিলল। তিরুঅনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দেওয়া ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন বিরাট কোহলি এবং শুভমন গিল। দুই তারকার দুরন্ত ব্যাটিংয়ে মাত্র ৪১.৪ ওভারে ম্যাচ জিতে নিল ভারত।
এই জয়ের অন্যতম বড় কারণ ছিল দ্বিতীয় উইকেটে বিরাট কোহলি এবং শুভমন গিলের দুর্দান্ত ১৫১ রানের জুটি। মাত্র ১৩২ বলে এই রান যোগ করে দুই ব্যাটার ভারতকে জয়ের ভিত গড়ে দেন। শুভমন গিল ১১০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। অন্য দিকে বিরাট কোহলি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১৩৯ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চার এবং ছক্কার বন্যা।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সতীর্থ বিরাট কোহলিকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুভমন গিলের করা মন্তব্যও ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ম্যাচের কয়েকটি ছবি এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন ভারত অধিনায়ক। সেই ছবিগুলির মধ্যে ছিল তাঁর সঙ্গে বিরাট কোহলির একটি ছবিও। পোস্টের ক্যাপশনে শুভমন লেখেন, “ফায়ারি ইনিংস হি কহদে।”
বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘আগুনে ইনিংস অন্তত বলে দিন।’ অর্থাৎ, কোহলির ব্যাটিংকে আগুনের সঙ্গে তুলনা করেছেন শুভমন। অধিনায়কের এই ছোট্ট মন্তব্যের মধ্যেই সতীর্থ কোহলির ব্যাটিংয়ের প্রতি তাঁর প্রশংসা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
২৯৬ রান তাড়া করতে নেমে ভারতের দুর্দান্ত শুরু
ওয়েস্ট ইন্ডিজ় প্রথমে ব্যাট করে ভারতের সামনে ২৯৬ রানের লক্ষ্য রাখে। এক দিনের ক্রিকেটে ২৯৬ রান কোনওভাবেই সহজ লক্ষ্য নয়। বিশেষ করে রান তাড়া করার সময় শুরুতেই উইকেট হারালে চাপ দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু ভারতের ইনিংসে সেই চাপ তৈরি হতে দেননি শুভমন গিল এবং বিরাট কোহলি।
ভারতীয় ইনিংসের শুরুতেই ব্যাটাররা পরিস্থিতি বুঝে খেলতে থাকেন। এরপর ক্রমশ রান তোলার গতি বাড়াতে শুরু করেন শুভমন। তাঁর ব্যাটিংয়ে যেমন ছিল নিয়ন্ত্রণ, তেমনই ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতা। অন্য প্রান্তে কোহলি নিজের পরিচিত ছন্দে ব্যাট করতে থাকেন।
দুই ব্যাটারের মধ্যে বোঝাপড়াও ছিল চোখে পড়ার মতো। সিঙ্গল-ডাবল নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি মেরেছেন তাঁরা। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের উপর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।
১১০ রানে শুভমন গিলের দুর্দান্ত ইনিংস
ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিল এই ম্যাচে ব্যাট হাতে নেতৃত্বের সামনে থেকে উদাহরণ তৈরি করেন। তিনি করেন ১১০ রান। তাঁর ইনিংস ভারতীয় রান তাড়াকে অনেকটাই সহজ করে দেয়।
অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভমনের ব্যাটিং নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, এই ইনিংস সেই প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিল। বড় রান তাড়া করার সময় নিজের উইকেট ধরে রেখে দ্রুত রান তোলার যে ভারসাম্য প্রয়োজন, শুভমনের ব্যাটিংয়ে সেটিই দেখা যায়।
শুভমন আউট হওয়ার পরও ভারতের জয় নিয়ে কোনও সংশয় তৈরি হয়নি। কারণ তখনও ক্রিজে ছিলেন বিরাট কোহলি। আর কোহলি যে ছন্দে ব্যাট করছিলেন, তাতে ভারতীয় সমর্থকদের কাছে জয় তখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
১৫১ রানের জুটি বদলে দিল ম্যাচের ছবি
ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলির একটি হল কোহলি ও শুভমনের ১৫১ রানের জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে এই জুটি আসে মাত্র ১৩২ বলে।
এই জুটি শুধু রানসংখ্যার দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, ম্যাচের গতিপথের দিক থেকেও এর গুরুত্ব ছিল বিশাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলাররা যতই পরিকল্পনা বদলানোর চেষ্টা করেছেন, দুই ভারতীয় ব্যাটার ততই পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের ব্যাটিং সাজিয়েছেন।
শুভমন নিজের শতরান পূর্ণ করেন। অন্য দিকে কোহলি ক্রমশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এতটাই ভালো ছিল যে রান তাড়ার গতি কোনও সময়ই কমে যায়নি।
১৫১ রানের এই জুটি ভাঙার পরও কোহলি নিজের ব্যাটিংয়ের গতি ধরে রাখেন। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ কার্যত তৈরি হয়নি।
বিরাট কোহলির ১৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস
ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ অবশ্যই বিরাট কোহলির ১৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। ৮৮ বলে এই রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি।
কোহলির ইনিংসে ছিল ১০টি চার এবং ৯টি ছক্কা। অর্থাৎ শুধু রান সংগ্রহ করেননি, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলিং আক্রমণকে কার্যত চাপে ফেলে দিয়েছিলেন।
বিশেষ করে তাঁর ছক্কাগুলি ছিল ইনিংসের অন্যতম আকর্ষণ। অর্ধশতরান এসেছে ছক্কা মেরে। শতরানও পূর্ণ করেছেন ছক্কা মেরে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচও জিতিয়েছেন ছক্কা মেরে।
এই তিনটি মুহূর্ত কোহলির ইনিংসের আক্রমণাত্মক চরিত্রকে স্পষ্ট করে। সাধারণত কোহলির ব্যাটিংয়ের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত শট, দৌড়ে রান এবং গ্যাপ খুঁজে নেওয়ার বিষয়গুলি বেশি আলোচিত হয়। কিন্তু এই ম্যাচে তিনি সেই পরিচিত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বড় শটের প্রদর্শনও করেছেন।
ছক্কায় ছক্কায় ম্যাচ শেষ করলেন কোহলি
কোহলির ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তাঁর ছক্কার সংখ্যা। ৯টি ছক্কা মেরে ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলাররা যখন তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেছেন, তখন কোহলি আক্রমণাত্মক শট বেছে নিয়েছেন। ফলে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে একের পর এক বল পাঠাতে দেখা যায় তাঁকে।
এই ইনিংসের ফলে রান তাড়ার শেষ দিকটায় ভারতের সামনে কোনও চাপ ছিল না। কোহলি নিজের শট খেলার স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাট করেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই ম্যাচ শেষ করেন।
শুভমনের চার শব্দের প্রশংসা
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কোহলিকে নিয়ে শুভমন গিলের পোস্টও আলোচনায় এসেছে। নিজের এক্স হ্যান্ডলে ম্যাচের ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, “ফায়ারি ইনিংস হি কহদে।”
শুভমনের এই মন্তব্য খুবই সংক্ষিপ্ত। কিন্তু এর অর্থ পরিষ্কার—তিনি কোহলির ব্যাটিংকে ‘আগুনে’ বলে প্রশংসা করেছেন।
ক্রিকেটে সতীর্থদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশংসা নতুন কিছু নয়। তবে একই দলের অধিনায়ক যখন ম্যাচের অন্যতম প্রধান পারফর্মারের ইনিংসকে এভাবে তুলে ধরেন, তখন সেই মন্তব্য আলাদা করে নজর কাড়ে।
শুভমনের পোস্টে কোহলির সঙ্গে তাঁর ছবিও ছিল। ফলে পোস্টটি শুধু একটি ম্যাচ-পরবর্তী মন্তব্য ছিল না; বরং দুই প্রজন্মের ভারতীয় ব্যাটিং তারকার একসঙ্গে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ছবিও তুলে ধরেছে।
কোহলি-শুভমন জুটি ভারতীয় ক্রিকেটে কেন গুরুত্বপূর্ণ
ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে বিরাট কোহলি দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম প্রধান নাম। অন্য দিকে শুভমন গিলকে ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হিসেবে দেখা হয়।
একই ম্যাচে যখন দুজন বড় রান করেন এবং দ্বিতীয় উইকেটে ১৫১ রানের জুটি গড়েন, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হয়।
এই ম্যাচে কোহলির অভিজ্ঞতা এবং শুভমনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং একসঙ্গে দেখা গেছে। একজন নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে ইনিংসকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, অন্য জন অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
দুজনের ব্যাটিংয়ের ধরন এক নয়। কিন্তু এই ম্যাচে তাঁদের ভূমিকা একে অপরকে পরিপূরক হয়েছে। শুভমন দ্রুত রান তুলেছেন, কোহলি পরিস্থিতি বুঝে নিজের ইনিংসকে আরও বড় করেছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে কোহলির দাপট
রান তাড়া করার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের উপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেছিলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। তবে ইনিংস যত এগিয়েছে, কোহলির আক্রমণাত্মক ব্যাটিং সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে।
১০টি চার এবং ৯টি ছক্কা—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় তাঁর ইনিংস কতটা আক্রমণাত্মক ছিল। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে কোহলির ব্যাটিংয়ের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলিং কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারায়।
কোহলির ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল পরিস্থিতি অনুযায়ী গতি পরিবর্তন করতে পারা। এই ম্যাচেও প্রথমে ইনিংস তৈরি করার পর তিনি বড় শটের দিকে যান। ফলে ব্যক্তিগত রান যেমন দ্রুত বেড়েছে, তেমনই ভারতের রান তাড়াও দ্রুত শেষ হয়েছে।
মাত্র ৪১.৪ ওভারে ভারতের জয়
ভারত ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে মাত্র ৪১. দেখায়, ভারতীয় ব্যাটিং কতটা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে রান তাড়া করেছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রানরেট ধরে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাউন্ডারি মেরে চাপ কম১১০ এবং বিরাট কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রান এই জয়ের মূল ভিত্তি। তাঁদের ১৫১ রানের জুটি ম্যাচ রান করার কারণে আলোচনায় আসেনি। তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরনও ছিল দর্শকদের জন্য আক এবং ৯টি ছক্কা দেখিয়ে দেয় যে কোহলি প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে কতটা সক্ষম। তাঁর ১০টি চারও স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান যোগ করেছেিনায়কত্বে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাট হাতেও তিনি দলের জন্য বড় অবদান রেখ কোহলির প্রশংসা করে তাঁর পোস্টও ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ‘ফায়ারি ইনিংস হি কহদে’—এই ছোট্ট মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সতিলের শতরান এবং বিরাট কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রান দেখিয়েছে যে দলের উপরের সারির ব্যাটাররা একসঙ্গে ছন্দে থাকলে রান তাড়া অনেক সহজন্ত্রণ এনে দেয়। শুভমন আউট হওয়ার পরও কোহলি শেষ পর্যন্ত থেকে যান এবং দল বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম এক দিনের ম্যাচে ব্যাট হাতে ম্যাচের মূল গল্প লিখেছেন বিরাট কোহলি এবং শুভমন গিল। ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুভমনের ১১০ এবং কোহলির অপর জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শুভমন আউট হওয়ার পরও কোহলি নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। ৮৮ বলে ১৩৯ রান করার পথে ১০সের প্রশংসায় শুভমনের চার শব্দ—“ফায়ারি ইনিংস হি কহদে”—দ্রুতই নজর কেড়েছে। ভারতীয় অধিনায়কের এই মন্তব্য যেন ম্যাচে কোহলির ব্যীক বিরাট কোহলি, অন্য দিকে ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান প্রজন্মের অধিনায়ক শুভমন গিল—দুজনের ব্যাটে তিরুঅনন্তপুরমে যে জুটি দেখা গেল, সেটিই ভারতের সহজ জয়ের ভিত তৈরি করে দিল। আর কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংস ম্যাচের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে রইল।৪ ওভারে জয় তুলে নেয়। অর্থাৎ হাতে যথেষ্ট ওভার রেখেই ম্যাচ শেষ করে ভারত।
এটি দেখায়, ভারতীয় ব্যাটিং কতটা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে রান তাড়া করেছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রানরেট ধরে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাউন্ডারি মেরে চাপ কমিয়ে দেওয়া ছিল ভারতের ইনিংসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
শুভমন গিলের ১১০ এবং বিরাট কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রান এই জয়ের মূল ভিত্তি। তাঁদের ১৫১ রানের জুটি ম্যাচের গতিপথ অনেকটাই ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
কোহলির ইনিংসে পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ছিল বিনোদনও
কোহলির এই ইনিংস শুধু বড় রান করার কারণে আলোচনায় আসেনি। তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরনও ছিল দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয়।
অর্ধশতরান ছক্কায়, শতরান ছক্কায় এবং ম্যাচ শেষও ছক্কায়—এই ধারাবাহিকতা তাঁর ইনিংসকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
৮৮ বলে ১৩৯ রান এবং ৯টি ছক্কা দেখিয়ে দেয় যে কোহলি প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে কতটা সক্ষম। তাঁর ১০টি চারও স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান যোগ করেছে।
অধিনায়ক হিসেবে শুভমনের অবদান
এই ম্যাচে শুভমনের গুরুত্ব শুধু অধিনায়কত্বে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাট হাতেও তিনি দলের জন্য বড় অবদান রেখেছেন।
১১০ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলকে শক্ত ভিত দেন। কোহলির সঙ্গে ১৫১ রানের জুটি ভারতের রান তাড়াকে অনেকটাই সহজ করে দেয়।
একই সঙ্গে ম্যাচ শেষে কোহলির প্রশংসা করে তাঁর পোস্টও ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ‘ফায়ারি ইনিংস হি কহদে’—এই ছোট্ট মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সতীর্থের দুর্দান্ত ব্যাটিংকে তুলে ধরেছেন।
ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য বড় বার্তা
এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল একাধিক ব্যাটারের বড় রান করা। শুভমন গিলের শতরান এবং বিরাট কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রান দেখিয়েছে যে দলের উপরের সারির ব্যাটাররা একসঙ্গে ছন্দে থাকলে রান তাড়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
বিশেষ করে কোহলি এবং শুভমনের মধ্যে ১৫১ রানের জুটি ভারতকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়। শুভমন আউট হওয়ার পরও কোহলি শেষ পর্যন্ত থেকে যান এবং দলকে জয় এনে দেন।
ভারতের জন্য এটি তাই শুধু একটি জয় নয়; বরং বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ব্যাটিং ইউনিটের কার্যকর পারফরম্যান্সেরও উদাহরণ।
ম্যাচের মূল পরিসংখ্যান এক নজরে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের লক্ষ্য: ২৯৬ রান
ভারতের রান তাড়া: ৪১.৪ ওভারে জয়
শুভমন গিল: ১১০ রান
বিরাট কোহলি: অপরাজিত ১৩৯ রান
কোহলির বল: ৮৮
কোহলির চার: ১০টি
কোহলির ছক্কা: ৯টি
কোহলি ও শুভমনের দ্বিতীয় উইকেটের জুটি: ১৫১ রান
জুটির বল: ১৩২
শেষ কথা
তিরুঅনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম এক দিনের ম্যাচে ব্যাট হাতে ম্যাচের মূল গল্প লিখেছেন বিরাট কোহলি এবং শুভমন গিল। ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুভমনের ১১০ এবং কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রান ভারতকে মাত্র ৪১.৪ ওভারেই জয় এনে দেয়।
দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের ১৫১ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শুভমন আউট হওয়ার পরও কোহলি নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। ৮৮ বলে ১৩৯ রান করার পথে ১০টি চার এবং ৯টি ছক্কা মারেন তিনি।
আর ম্যাচ শেষে সেই ইনিংসের প্রশংসায় শুভমনের চার শব্দ—“ফায়ারি ইনিংস হি কহদে”—দ্রুতই নজর কেড়েছে। ভারতীয় অধিনায়কের এই মন্তব্য যেন ম্যাচে কোহলির ব্যাটিংয়ের ছবিটাই সংক্ষেপে তুলে ধরে।
এক দিকে অভিজ্ঞতার প্রতীক বিরাট কোহলি, অন্য দিকে ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান প্রজন্মের অধিনায়ক শুভমন গিল—দুজনের ব্যাটে তিরুঅনন্তপুরমে যে জুটি দেখা গেল, সেটিই ভারতের সহজ জয়ের ভিত তৈরি করে দিল। আর কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংস ম্যাচের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে রইল।