Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আজ কলকাতায় কখন জোয়ার, কখন ভাটা? দেখে নিন ২৭ সেপ্টেম্বরের সময়সূচি

২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার কলকাতায় গঙ্গার জোয়ার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এবং রাত ১০টা ১৯ মিনিটে। ভাটা দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ও পরদিন, ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৩৮ মিনিটে। কলকাতা রিভার ট্রাফিক পুলিশের সময়সূচিতে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। নদীপথে যাতায়াত বা ঘাটে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সময়গুলি দেখে নিন। নির্দিষ্ট ঘাটে পৌঁছনোর আগে স্থানীয় পরিস্থিতিও জেনে নেওয়া ভালো।

আজ কলকাতায় কখন জোয়ার, কখন ভাটা? দেখে নিন ২৭ সেপ্টেম্বরের সময়সূচি

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, কলকাতায় গঙ্গার জোয়ার ও ভাটার সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, জোয়ার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ও রাত ১০টা ১৯ মিনিটে। ভাটা দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এবং রাত পেরিয়ে সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর ১টা ৩৮ মিনিটে। সময়সূচিটির সূত্র হিসেবে কলকাতা রিভার ট্রাফিক পুলিশের নাম উল্লেখ রয়েছে। নদীর ধারে যাওয়া বা নদীপথে চলাচলের পরিকল্পনা থাকলে সময়ের সঙ্গে স্থানীয় পরিস্থিতিও দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় কলকাতার গঙ্গার ঘাটে অনেকেই বেড়াতে, ছবি তুলতে কিংবা নৌকায় ঘুরতে যান। কারও কাজ আবার নদীপথের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাঁদের কাছে জোয়ার ও ভাটার সময় জানা প্রয়োজন হতে পারে। তবে একটি সময়সূচিতে দেওয়া সময় নদীর প্রতিটি ঘাটে একই রকম জলস্তর বা স্রোত বোঝায় না। কোথায় যাচ্ছেন এবং সেই জায়গার পরিস্থিতি কেমন, সেটিও বিবেচনায় রাখা দরকার।

ছবিতে প্রকাশিত রবিবারের সূচিতে দিনের ও রাতের দু’টি জোয়ারের সময় দেওয়া আছে। ভাটার ক্ষেত্রেও একটি সময় রবিবার দুপুরের, অন্যটি মধ্যরাত পেরিয়ে সোমবার ভোরের। শেষ সময়টির তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর—এটি না দেখলে কেউ ভুল করে রবিবার ভোর ১টা ৩৮ মিনিট বলে ধরে নিতে পারেন। তাই সময়গুলি পড়ার সময়ে দিন ও তারিখ একসঙ্গে দেখা জরুরি।

২৭ সেপ্টেম্বরের জোয়ার ভাটার সময়

প্রকাশিত ছবিতে দেওয়া সময়সূচি নিচে সাজিয়ে দেওয়া হল:

অবস্থা দিন ও তারিখ সময়
জোয়ার রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিট
ভাটা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ১৫ মিনিট
জোয়ার রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ১৯ মিনিট
ভাটা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর ১টা ৩৮ মিনিট

এখানে রাত ১০টা ১৯ মিনিটের জোয়ারটি রবিবারের। তার পরের ভাটার সময় রাত ১টা ৩৮ মিনিট হলেও ক্যালেন্ডারের হিসাবে তখন সোমবার শুরু হয়ে গিয়েছে। দিনের শেষ ভাগ ও পরদিনের শুরুর সময় পাশাপাশি লেখা থাকলে এমন বিভ্রান্তি প্রায়ই হয়। যাঁরা সময় লিখে রাখবেন বা অন্যকে জানাবেন, তাঁদের ২৮ সেপ্টেম্বরের তারিখটিও উল্লেখ করা উচিত।

এই সময়গুলি ব্যবহার করার আগে আর একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। প্রকাশিত ছবিটি একটি নির্দিষ্ট দিনের জন্য। আগামীকাল বা পরের সপ্তাহের পরিকল্পনায় একই সময় ব্যবহার করা যাবে না। জোয়ার ভাটার সময় প্রতিদিন বদলায়। তাই যেদিন নদীতে নামবেন বা ঘাটে যাবেন, সেই দিনের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নেওয়াই ভালো। জোয়ার ভাটার চক্র চাঁদের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত; অনেক উপকূলীয় এলাকায় একটি চান্দ্র দিনে প্রায় দু’টি করে জোয়ার ও ভাটা দেখা যায়। 

জোয়ার ও ভাটা বলতে কী বোঝায়

নদীর ধারে দাঁড়িয়ে জল কিছু সময় অন্তর বাড়তে ও কমতে দেখা যায়। জোয়ারের সময়ে জলস্তর তুলনামূলক উঁচু হয়; ভাটার সময়ে জলস্তর নিচে নামে। এই নিয়মিত ওঠানামার পেছনে প্রধানত চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় প্রভাব রয়েছে। সমুদ্রের এই জোয়ার ভাটার প্রভাব মোহনা এবং সংযুক্ত নদীপথেও পৌঁছতে পারে। কলকাতার গঙ্গা বা হুগলি নদীতে জলস্তরের ওঠানামা বোঝার ক্ষেত্রে তাই জোয়ার ভাটার সময়সূচি ব্যবহৃত হয়।

তবে কেবল ঘড়ির সময় দেখে নদীর জল কতটা উঁচু হবে, তা জানা যায় না। জোয়ারের সময় এবং জোয়ারের উচ্চতা আলাদা তথ্য। একই ভাবে ভাটার সময় জানা মানেই ঠিক কতটা জল কমবে, সেটি জানা নয়। প্রকাশিত ছবিতে চারটি সময় দেওয়া আছে, কিন্তু প্রতিটি সময়ের সম্ভাব্য জলস্তর বা স্রোতের গতির কোনও পরিমাপ নেই। ফলে সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়া যাচ্ছে না।

নদীতে জল বাড়া ও কমার সময়ও হঠাৎ একটি মুহূর্তে সব পরিবর্তন ঘটে না। ঘড়িতে উল্লেখ করা সময়টি জোয়ার বা ভাটার একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের নির্দেশ করে; তার আগে ও পরে জলস্তর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। তাই সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে জোয়ার লেখা আছে বলে ঠিক ওই এক মিনিটেই নদীর পুরো আচরণ বদলে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনও কাজে নদীর পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হলে সময়ের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের বাস্তব অবস্থা দেখা প্রয়োজন।

আবার নদীর এক জায়গার অভিজ্ঞতা অন্য জায়গার মতো নাও হতে পারে। ঘাটের গঠন, নদীর বাঁক, পাড়ের ঢাল এবং স্থানীয় প্রবাহের কারণে জল বাড়া বা কমার দৃশ্যমান প্রভাব আলাদা লাগতে পারে। তাই কলকাতার একটি প্রকাশিত সূচিকে হুগলি নদীর প্রতিটি দূরবর্তী ঘাটের নির্ভুল স্থানীয় পরিমাপ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

রবিবারের পরিকল্পনায় সময়সূচি কী ভাবে কাজে লাগবে

যাঁরা গঙ্গার ধারে হাঁটতে বা বসতে চান, তাঁদের কাছে সূচিটি মূলত পরিকল্পনার তথ্য। সকালে গেলে জোয়ারের সময় কখন, দুপুরে গেলে ভাটার সময় কখন—সেটি আগে জানা থাকলে নদীর দৃশ্য বদলের বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হয়। তবে ঘাটে পৌঁছে সিঁড়ির কোন অংশ শুকনো, কোথায় জল উঠেছে বা পাড় পিচ্ছিল কি না, তা নিজের চোখে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ঘাটে ছবি তুলতে গেলে অনেকেই জলের খুব কাছে চলে যান। স্থির ছবিতে নদী শান্ত দেখালেও সেখানে স্রোত থাকতে পারে। নৌকা ওঠানামার জায়গায় দাঁড়ালে অন্যদের চলাচলেও অসুবিধা হয়। তাই সময়সূচি দেখে নদী দেখতে গেলেও ঘাটের চলাচলের পথ খোলা রাখা এবং স্থানীয় নির্দেশ মেনে চলা প্রয়োজন।

নৌকাভ্রমণ বা নদীপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রকাশিত জোয়ার ভাটার সময় একটি তথ্য মাত্র। নৌকা কখন চলবে, কোন ঘাট ব্যবহার করা যাবে, আবহাওয়া কেমন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনও বিধিনিষেধ দিয়েছে কি না—এসবও জানতে হবে। জোয়ারের সময় জানা মানেই যে কোনও সময়ে নদীতে নামার অনুমতি বা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া নয়।

যাঁরা ঘাট থেকে ফেরি ধরবেন, তাঁদের ফেরির নিজস্ব সময়সূচিও আলাদা করে দেখা উচিত। জোয়ার ভাটার তালিকা ফেরি ছাড়ার সময় জানায় না। একই কারণে নদীপথে কোনও কাজের সময় নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির দেওয়া তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।

মধ্যরাতের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি এড়ান

রবিবারের ছবিতে শেষ ভাটার সময়ের পাশে ছোট করে ‘২৮ সেপ্টেম্বর’ লেখা রয়েছে। সংবাদ বা সমাজমাধ্যমে ছবিটি ভাগ করে নেওয়ার সময় সেই ছোট লেখাটি চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষত ছবির নিচের অংশ কেটে গেলে রাত ১টা ৩৮ মিনিটকে ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রথম ভাগের সময় বলে ভুল বোঝার আশঙ্কা থাকে।

সহজ ভাবে বললে, রবিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রথম জোয়ার, দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ভাটা এবং একই দিন রাত ১০টা ১৯ মিনিটে আর এক বার জোয়ারের সময় দেওয়া হয়েছে। তার পরে ঘড়িতে মধ্যরাত ১২টা পার হলে নতুন দিন শুরু হয়। ফলে পরের ভাটাটি সোমবার ভোর ১টা ৩৮ মিনিটে।

এ ধরনের সময়সূচি লেখার সময়ে ‘রাত ১টা ৩৮ মিনিট’ কথাটির সঙ্গে তারিখ বসানো সবচেয়ে পরিষ্কার উপায়। শুধু ‘আজ রাত’ বললে পাঠক নিজস্বভাবে দিনটির ব্যাখ্যা করতে পারেন। বিশেষ করে কেউ যদি রবিবার বিকেলে খবরটি পড়েন, তাঁর কাছে ‘আজ রাত ১টা’ অতীত সময়, না আসন্ন মধ্যরাতের পরের সময়—এ নিয়ে দ্বিধা তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিবেদনে সোমবারের তারিখটি আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।

news image
আরও খবর

সময়সূচির ছবিতে রবিবার ও সোমবারের সংযোগটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ এটি কখন প্রকাশিত হয়েছে। পুরনো দিনের ছবি নতুন দিনে আবার শেয়ার হলে তাতে লেখা ‘আজ’ শব্দটি বিভ্রান্তিকর হয়ে যায়। এই প্রতিবেদনের সব নির্দিষ্ট সময় ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী লেখা। অন্য কোনও তারিখে ব্যবহার করার আগে নতুন সূচি দেখা প্রয়োজন।

কেন প্রতিদিন একই সময়ে জোয়ার আসে না

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, রবিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে জোয়ার হলে সোমবারও কি একই সময়ে হবে? উত্তর হল, সেই অনুমান করা যাবে না। জোয়ার ভাটার স্বাভাবিক চক্র চান্দ্র দিনের সঙ্গে যুক্ত; একটি চান্দ্র দিন সাধারণ ২৪ ঘণ্টার দিনের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ। ফলে একটি দিনের সময় পরের দিনের সঙ্গে হুবহু মেলে না।

তবে শুধু আগের দিনের সময়ের সঙ্গে কিছু মিনিট যোগ করে পরদিনের স্থানীয় সময় বের করাও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়। বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট নদী বা ঘাটে জোয়ার ভাটার সময়ের উপর স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও জলপ্রবাহের প্রভাব থাকে। তাই সোমবারের সময় জানতে রবিবারের সূচি থেকে নিজে হিসাব করার বদলে সোমবারের প্রকাশিত সূচি ব্যবহার করা উচিত।

জোয়ারের সময় আর জোয়ারের উচ্চতাও প্রতিদিন এক রকম থাকে না। চাঁদ ও সূর্যের অবস্থানের সঙ্গে জোয়ার ভাটার তারতম্য সম্পর্কিত। তবে কোনও নির্দিষ্ট দিনে কলকাতার নদীতে কতটা উঁচু জোয়ার হবে, তা জানতে সেই জায়গার প্রাসঙ্গিক পরিমাপ বা পূর্বাভাস প্রয়োজন। রবিবারের ছবিতে উচ্চতার তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই আজকের জোয়ারকে ‘অস্বাভাবিক’, ‘ভয়াবহ’ বা ‘বিশেষ উচ্চতার’ বলে চিহ্নিত করার ভিত্তি নেই।

সময় জানা আর নদীর অবস্থা জানা এক নয়

জোয়ার ভাটার সময়সূচি নদী সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়, কিন্তু পূর্ণ পরিস্থিতি জানায় না। নদীর উপর দিয়ে হাওয়া বইছে কি না, বৃষ্টি হচ্ছে কি না, দৃশ্যমানতা কেমন, কোথায় নৌকা চলাচল করছে—এসব জানতে আলাদা তথ্য প্রয়োজন। যাঁদের পেশাগত কাজ নদীপথে, তাঁরা একটি ছবির সময়সূচিকে তাঁদের প্রয়োজনীয় সব তথ্যের বিকল্প হিসেবে ধরবেন না।

ঘাটে যাওয়া সাধারণ দর্শনার্থীর জন্যও একই কথা প্রযোজ্য। প্রকাশিত সময় অনুযায়ী ভাটা থাকলেও পাড়ের কোনও অংশে জল বা কাদা থাকতে পারে। জোয়ারের সময় ঘাটের সিঁড়ির কতটা অংশ ঢেকে যাবে, তা জায়গাভেদে আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে শিশু বা প্রবীণদের সঙ্গে গেলে ঘাটে পৌঁছে পরিস্থিতি দেখে বসার জায়গা বেছে নেওয়া ভালো।

নদীর ধারে আলোও একটি বিষয়। রবিবারের দ্বিতীয় জোয়ারের সময় রাত ১০টা ১৯ মিনিট। ওই সময়ে কোনও ঘাটে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সেখানে আলো, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং ঘাট খোলা রয়েছে কি না, তা আগে জেনে নিতে হবে। কেবল নদীতে জোয়ার দেখার জন্য অপরিচিত বা নির্জন জায়গায় যাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।

সোমবার ভোর ১টা ৩৮ মিনিটের ভাটার ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। সময়সূচিতে নাম থাকা মানেই ওই সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য ঘাটে যাওয়ার প্রয়োজন আছে, তা নয়। খবরটির উদ্দেশ্য নদীর সময়সূচি জানানো; ব্যক্তিগত যাতায়াতের সিদ্ধান্ত স্থানীয় পরিস্থিতি বুঝেই নেওয়া উচিত।

গঙ্গার ঘাটে গেলে কী দেখবেন

কলকাতার গঙ্গার ঘাটে গেলে প্রথমেই লক্ষ করুন, জল কোন সিঁড়ি পর্যন্ত এসেছে। কিছুক্ষণ ব্যবধানে অবস্থার পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। ঘাটে স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ নির্দেশ দিলে তা মেনে চলুন। নৌকা বা ফেরির ওঠানামার জায়গায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলবেন না, যাতে যাত্রীদের চলাচল বাধা না পায়।

সিঁড়ি ভেজা বা পিচ্ছিল থাকলে জলের একেবারে কাছে নামার প্রয়োজন নেই। নদীর পাড়ের সব অংশ সমান মজবুত বা ব্যবহারের উপযোগী হয় না। কোনও জায়গা বাঁধা থাকলে বা প্রবেশ নিষেধের চিহ্ন থাকলে সেটি এড়িয়ে চলুন। নদী দেখতে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়েও সময় কাটানো যায়।

যাঁরা নদীতে নৌকা ভাড়া করেন, তাঁরা যাত্রার আগে চালকের সঙ্গে পথ, সময় এবং ফেরার জায়গা পরিষ্কার করে নিন। সময়সূচির সঙ্গে স্থানীয়ভাবে নৌকা চলার সিদ্ধান্ত মিলছে কি না, সেটিও জিজ্ঞাসা করুন। সংবাদে প্রকাশিত জোয়ারের সময়কে নৌকাচালকের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

অনেকে জোয়ারের আগে ও পরে নদীর দৃশ্যের পার্থক্য দেখতে পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ঘাটে নিরাপদ জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করলে পরিবর্তন বোঝা সহজ হতে পারে। তবে কোনও ছবিতে জল কম বা বেশি দেখালেই সেটি প্রকাশিত সময়সূচির নির্ভুল পরিমাপ হয়ে যায় না। ছবিটি কোন ঘাটে, কোন সময়ে তোলা হয়েছে, সেই তথ্যও প্রয়োজন।

সমাজমাধ্যমে সময়সূচি শেয়ার করার সময়

আজকের সময়সূচির ছবিটি অন্যকে পাঠালে তার সঙ্গে ‘২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার’ লিখে দিন। শেষ ভাটার জন্য ‘২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার ভোর ১টা ৩৮ মিনিট’ কথাটিও স্পষ্ট করে লিখুন। এতে ছবির ছোট অক্ষর পড়তে না পারলেও সময় বুঝতে সুবিধা হবে।

ছবিটি কেটে শুধু মূল চারটি সময় রেখে দিলে তারিখ ও সূত্র বাদ পড়ে যেতে পারে। তখন পরের দিন কেউ সেটিকে নতুন সূচি ভেবে ব্যবহার করতে পারেন। তাই মূল ছবি অক্ষত রাখা বা লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ তারিখ দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে ‘আজ’ লেখা কোনও গ্রাফিক পরের দিন শেয়ার হলে পুরনো তথ্যকে নতুন বলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যদি অন্য কোনও ওয়েবসাইট বা অ্যাপে আলাদা সময় দেখা যায়, প্রথমে দেখুন সেটি কোন স্থান বা ঘাটের জন্য। কলকাতা, গার্ডেনরিচ, ডায়মন্ড হারবার কিংবা আরও দূরের নদীপথের সময়কে এক করে দেখা ঠিক নয়। একই সঙ্গে তথ্যটি কোন তারিখের, কোন সময় অঞ্চলের এবং কোন ধরনের পূর্বাভাসের উপর ভিত্তি করে, তাও মিলিয়ে নেওয়া দরকার। প্রকাশিত ছবিটি কলকাতা রিভার ট্রাফিক পুলিশকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে; নির্দিষ্ট কাজে প্রয়োজনে স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সময় যাচাই করা ভালো।

এক নজরে দিনের মূল তথ্য

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বরের জন্য ছবিতে দেওয়া প্রথম জোয়ার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে। দিনের ভাটা দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে। দ্বিতীয় জোয়ার রাত ১০টা ১৯ মিনিটে। এর পরের ভাটাটি রবিবার নয়, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর ১টা ৩৮ মিনিটে।

এই চারটি সময় পাঠকের দিনের পরিকল্পনায় সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রকাশিত ছবিতে নদীর জলস্তরের উচ্চতা, আবহাওয়া কিংবা পৃথক ঘাটের অবস্থা দেওয়া নেই। তাই কোথাও যাওয়ার আগে নির্দিষ্ট জায়গার পরিস্থিতি জেনে নিন। জোয়ার ভাটার সময়কে দিনের একটি তথ্য হিসেবে ব্যবহার করলেই সেটি সবচেয়ে কাজে লাগবে।

Preview image