ভিনের মতে প্রিয়ঙ্কার মধ্যে রয়েছে অদম্য আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণ যা তাঁকে মনে করিয়েছে ম্যান্ডেলার দৃঢ় মানসিকতার কথা।
‘Fast & Furious’ এবং ‘xXx: Return of Xander Cage’-এর মতো জনপ্রিয় হলিউড ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির মুখ্য অভিনেতা ভিন ডিজ়েল বরাবরই অ্যাকশন ঘরানার নির্ভরযোগ্য নাম। ২০১৭ সালে বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন-এর সঙ্গে ‘xXx: Return of Xander Cage’-এ জুটি বেঁধে ভারতীয় দর্শকের কাছেও আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। সেই ছবির প্রচারে ভারতে এসে দীপিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গিয়েছিল ভিনকে। প্রায় এক দশক পর ফের আর এক ভারতীয় তারকার সঙ্গে কাজ করলেন তিনি— প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। তাঁদের নতুন ছবি ‘The Bluff’ নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলসের ঐতিহ্যবাহী TCL Chinese Theatre-এ ছিল ছবির বিশেষ প্রদর্শনী। লাল গালিচায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ভিন ও প্রিয়ঙ্কা—দু’জনের রসায়ন নজর কাড়ে উপস্থিত অতিথি ও সংবাদমাধ্যমের। তবে ছবির চেয়েও বেশি চর্চায় আসে ভিন ডিজ়েলের বক্তব্য। প্রিয়ঙ্কা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি যে তুলনা টানলেন, তা অনেককেই বিস্মিত করেছে।
প্রদর্শনীর মঞ্চে ভিন বলেন, এই ছবিতে প্রিয়ঙ্কা অসাধারণ অভিনয় করেছেন। তাঁর কথায়, প্রিয়ঙ্কার মধ্যে রয়েছে দৃঢ়তা, সংবেদনশীলতা এবং নেতৃত্বের এক অদ্ভুত মিশেল। শুটিং চলাকালীন প্রিয়ঙ্কার পেশাদারিত্ব তাঁকে মুগ্ধ করেছে। সহ-অভিনেত্রী হিসেবে তিনি যেমন মনোযোগী, তেমনই সেটে সকলের সঙ্গে তাঁর আচরণ উষ্ণ ও আন্তরিক।
ভিন জানান, ইউরোপে তাঁর সন্তানদের নিয়ে একটি বিশেষ স্ক্রিনিংয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে প্রিয়ঙ্কার ব্যবহার তাঁকে গভীর ভাবে স্পর্শ করে। একজন আন্তর্জাতিক তারকা হয়েও প্রিয়ঙ্কা যে সহজ, বিনয়ী এবং মানবিক—সেই দিকটি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন ভিন। তাঁর মতে, বড় মাপের শিল্পী হওয়ার পাশাপাশি বড় মাপের মানুষ হওয়াটাই আসল, আর সেই গুণ প্রিয়ঙ্কার মধ্যে রয়েছে।
ভিন ডিজ়েল আরও জানান, তাঁর এবং প্রিয়ঙ্কার জন্মদিন একই—১৮ জুলাই। যদিও জন্মসাল আলাদা, তবু এই মিলকে তিনি ‘বিশেষ’ বলে মনে করেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি হালকা হাসির সঙ্গে বলেন, “আমাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত সংযোগ রয়েছে।”
তবে জন্মদিনের মিলের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে তাঁর পরবর্তী মন্তব্য। তিনি বলেন, প্রিয়ঙ্কার মধ্যে তিনি প্রয়াত দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা-র ছায়া দেখতে পান। এই মন্তব্যে উপস্থিত অনেকে বিস্মিত হলেও ভিন তাঁর বক্তব্য ব্যাখ্যা করেন।
নেলসন ম্যান্ডেলা ছিলেন বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক, সহিষ্ণুতা ও মানবতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। দীর্ঘ ২৭ বছরের কারাবাসের পরও তিনি প্রতিশোধ নয়, মিলনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন পথ দেখেছিল বিশ্বকে।
ভিনের মতে, প্রিয়ঙ্কাও নিজের কর্মক্ষেত্রে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি করছেন। বলিউড থেকে হলিউড—দু’টি ভিন্ন সংস্কৃতির শিল্পভুবনের মধ্যে তিনি এক সংযোগরেখা তৈরি করেছেন। ভাষা, দেশ, সংস্কৃতির সীমা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের অবস্থান তৈরি করা সহজ নয়। কিন্তু প্রিয়ঙ্কা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং সাফল্যের সঙ্গে এগিয়েছেন।
ভিন বলেন, “নেলসন ম্যান্ডেলা এবং আমি—আমরা সবাই এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গা করে তোলার চেষ্টা করছি।” তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল—শিল্পের মাধ্যমে, গল্প বলার মাধ্যমে, ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই তাঁরা সমাজে প্রভাব ফেলতে চান। প্রিয়ঙ্কার কাজেও তিনি সেই দায়বদ্ধতার ছাপ দেখেছেন।
দীপিকা পাড়ুকোনের পর প্রিয়ঙ্কা—দু’জন ভারতীয় অভিনেত্রীর সঙ্গেই কাজ করেছেন ভিন ডিজ়েল। এর ফলে হলিউডে ভারতীয় শিল্পীদের উপস্থিতি আরও দৃঢ় হয়েছে। ‘xXx: Return of Xander Cage’-এ দীপিকার উপস্থিতি যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে ছবির আগ্রহ বাড়িয়েছিল, তেমনই ‘The Bluff’-এ প্রিয়ঙ্কার ভূমিকা নিয়েও প্রত্যাশা তুঙ্গে।
প্রিয়ঙ্কা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক ভাবে আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে কাজ করছেন। আমেরিকান সিরিজ, হলিউড ছবি, প্রযোজনা—সব ক্ষেত্রেই নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে ভিন ডিজ়েলের মতো অভিনেতার কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
ভিনের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে প্রিয়ঙ্কার মানবিকতা। আন্তর্জাতিক তারকা হয়েও নিজের শিকড় ভুলে না যাওয়া, সামাজিক কাজকর্মে যুক্ত থাকা, নারীশক্তির পক্ষে সরব হওয়া—এসব বিষয়ও সম্ভবত তাঁর তুলনার পেছনে কাজ করেছে।
নেলসন ম্যান্ডেলার নাম উচ্চারণ করা নিছক আবেগপ্রসূত মন্তব্য নয়—এমনটাই মনে করছেন অনেকে। বরং এটি প্রিয়ঙ্কার ব্যক্তিত্বের একটি বৃহত্তর স্বীকৃতি। যদিও দু’জনের কাজের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা, তবু ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা—এই জায়গাতেই ভিন মিল খুঁজে পেয়েছেন।
স্বাভাবিক ভাবেই, এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে ভিনের আন্তরিক প্রশংসা বলে মনে করছেন, কেউ আবার তুলনাটিকে অত্যন্ত বড় বলে মনে করছেন। তবে একথা অনস্বীকার্য, প্রিয়ঙ্কার প্রতি ভিন ডিজ়েলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাঁর কথায় স্পষ্ট।
লাল গালিচায় তাঁদের সহজ রসায়ন, পারস্পরিক সম্মান এবং বন্ধুত্ব—সব মিলিয়ে ‘The Bluff’-এর প্রদর্শনী হয়ে উঠেছিল বিশেষ এক মুহূর্ত।
অ্যাকশন-হিরো ইমেজের আড়ালে ভিন ডিজ়েলের এই মানবিক দিক নতুন নয়। সহ-অভিনেতাদের প্রশংসা করতে তিনি বরাবরই উদার। তবে প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার ক্ষেত্রে তাঁর মন্তব্য অন্য মাত্রা পেয়েছে, কারণ সেখানে যুক্ত হয়েছে নেলসন ম্যান্ডেলার নাম।
এটি হয়তো এক শিল্পীর আর এক শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ। হয়তো একটি অনুপ্রেরণার স্বীকৃতি। কিন্তু যে ভাবেই দেখা হোক না কেন, লস অ্যাঞ্জেলসের সেই সন্ধ্যায় স্পষ্ট হয়েছিল—প্রিয়ঙ্কা চোপড়া আজ কেবল বলিউডের তারকা নন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ব্যক্তিত্ব ও প্রভাব দিয়ে আলাদা পরিচয় গড়ে তোলা এক বিশ্বনাগরিক শিল্পী। আর সেই কারণেই হয়তো ভিন ডিজ়েল তাঁর মধ্যে দেখেছেন এক বৃহত্তর মানবিক আদর্শের ছায়া।
লস অ্যাঞ্জেলসের ঐতিহ্যবাহী TCL Chinese Theatre-এ ‘The Bluff’-এর প্রদর্শনীর পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ভিন ডিজ়েল যখন প্রকাশ্যে বলেন যে তিনি প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার মধ্যে নেলসন ম্যান্ডেলা-র ছায়া দেখতে পান, তখন স্বাভাবিক ভাবেই মন্তব্যটি শুধু বিনোদন জগতেই নয়, বৃহত্তর সামাজিক পরিসরেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
একাংশের মতে, এটি নিছকই এক আন্তরিক সহ-অভিনেতার প্রশংসা। তাঁদের যুক্তি, ভিন ডিজ়েল বরাবরই সহকর্মীদের নিয়ে আবেগপ্রবণ এবং উদার মন্তব্য করেন। তিনি বহুবার তাঁর ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ পরিবারের সহ-অভিনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তাই প্রিয়ঙ্কাকে নিয়ে তাঁর বক্তব্যকেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। তাঁদের মতে, এখানে তুলনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল মানবিক গুণের স্বীকৃতি—দায়বদ্ধতা, নেতৃত্ব, ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করার আকাঙ্ক্ষা।
অন্যদিকে, আর একাংশ মনে করছেন, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বিশ্বনেতার সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত বড় মন্তব্য। ম্যান্ডেলা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বিশ্বপ্রতীক। ফলে এই তুলনা অনেকের কাছে আবেগপ্রবণ বা অতিরঞ্জিত বলে মনে হয়েছে। তবে সমালোচকরাও স্বীকার করেছেন, ভিনের বক্তব্যে কোনও অসম্মান বা হালকাভাবে বলা মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল না; বরং তিনি এক ধরনের অনুপ্রেরণার দিকটি তুলে ধরতে চেয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। প্রিয়ঙ্কার আন্তর্জাতিক সাফল্য, বলিউড থেকে হলিউডে তাঁর যাত্রা, এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে অনেকেই লিখেছেন—একজন শিল্পী হিসেবেই নয়, একজন প্রভাবশালী জনমানুষ হিসেবেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফলে ভিন ডিজ়েলের মন্তব্যকে তাঁরা দেখছেন এক বৃহত্তর স্বীকৃতি হিসেবে।
লাল গালিচায় ভিন ও প্রিয়ঙ্কার স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি, পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ক্যামেরার সামনে তাঁদের হাসি, আলাপচারিতা এবং একে অপরের প্রশংসা—সব মিলিয়ে ‘The Bluff’-এর প্রদর্শনী যেন শুধুই একটি ছবির প্রিমিয়ার ছিল না; বরং ছিল সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের এক প্রতীকী মুহূর্ত।
অ্যাকশন-হিরো ইমেজের আড়ালে ভিন ডিজ়েল-এর যে মানবিক দিক রয়েছে, তা নতুন নয়। তিনি বারবার বলেছেন, সিনেমা তাঁর কাছে শুধু বিনোদন নয়, সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম। সহ-অভিনেতাদের নিয়ে তাঁর আবেগপ্রবণ বক্তব্য প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার ক্ষেত্রে তাঁর মন্তব্য অন্য মাত্রা পেয়েছে, কারণ সেখানে যুক্ত হয়েছে নেলসন ম্যান্ডেলার নাম—এক এমন ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন সংগ্রাম, সহিষ্ণুতা ও নেতৃত্ব বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য।
এই তুলনাকে কেউ যদি কেবল আবেগঘন প্রশংসা বলে মনে করেন, তাতেও ভুল নেই। আবার কেউ যদি এটিকে অনুপ্রেরণার স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন, তাতেও যুক্তি আছে। ভিন নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন—তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্প ও গল্প বলার মাধ্যমে পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গা করে তোলা যায়। সেই জায়গা থেকেই হয়তো তিনি প্রিয়ঙ্কার মধ্যে এক বৃহত্তর মানবিক আদর্শের প্রতিফলন দেখেছেন।
লস অ্যাঞ্জেলসের সেই সন্ধ্যায় স্পষ্ট হয়েছিল—প্রিয়ঙ্কা চোপড়া আজ কেবল বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান, বহুমুখী কাজ এবং ব্যক্তিত্বের জোরে তিনি এক বিশ্বনাগরিক শিল্পীতে পরিণত হয়েছেন। আর সেই কারণেই হয়তো ভিন ডিজ়েলের মতো হলিউড তারকার চোখে তিনি শুধু সহ-অভিনেত্রী নন, বরং এমন এক মানুষ, যিনি প্রভাব, দায়িত্ব ও মানবিকতার সমন্বয়ে বড় পরিসরে ভাবতে ও কাজ করতে সক্ষম।
একটি প্রিমিয়ার মঞ্চে বলা কয়েকটি বাক্য তাই শুধুই প্রচারমূলক উক্তি হয়ে থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছে শিল্প, ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবের বহুমাত্রিক আলোচনার সূত্র।