ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন আন্দামান সাগরের বুকে আজ উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম স্পেস এলিভেটর বা মহাকাশ লিফটের বেস ভারতীয় অন্তরীক্ষ সেতু এই প্রযুক্তি রকেটের ব্যবহার ছাড়াই মহাকাশ যাত্রাকে অত্যন্ত সস্তা এবং নিরাপদ করে তুলবে এবং ভারতের অর্থনীতিতে এক অভাবনীয় বিপ্লব আনবে
ভারতের বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আজকের দিনটি এক নতুন এবং অত্যন্ত গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে মহাকাশ জয়ের পথে আজ ভারত এক বিশাল এবং অকল্পনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করল আজ সকালে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে গভীর সমুদ্রে অবস্থিত এক বিশাল ভাসমান প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম স্পেস এলিভেটর বা মহাকাশ লিফটের বেস স্টেশন যার নাম দেওয়া হয়েছে ভারতীয় অন্তরীক্ষ সেতু এতদিন আমরা কেবল কল্পবিজ্ঞানের উপন্যাস বা সিনেমায় দেখেছি যে মানুষ একটি বিশাল লিফটে করে পৃথিবীর মাটি থেকে সরাসরি মহাকাশে পৌঁছে যাচ্ছে কিন্তু আজ ভারতের বিজ্ঞানী এবং ইঞ্জিনিয়াররা সেই অসম্ভব কল্পনাকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইসরোর শীর্ষ বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে যখন এই বিশাল প্রকল্পের কন্ট্রোল রুমের সুইচ অন করা হলো এবং প্রথম পরীক্ষামূলক ক্লাইম্বার বা লিফটের পডটি তার বা টেথারের মাধমে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করল তখন উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করলেন এই মেগা ইভেন্ট প্রমাণ করে দিল যে ভারত এখন আর কেবল মহাকাশ গবেষণায় অন্যান্য উন্নত দেশের অনুগামী নয় বরং ভারত আজ মহাকাশ প্রযুক্তির সবচেয়ে আধুনিক এবং বৈপ্লবিক ধারণার জন্মদাতা এবং সমগ্র বিশ্বের পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে
ভারতীয় অন্তরীক্ষ সেতু প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তিগত বিশালতা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে এই স্পেস এলিভেটর কোনো সাধারণ লিফট নয় এটি হলো পৃথিবী থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল এবং শক্তিশালী তার বা টেথার যা বিষুবরেখার কাছে সমুদ্রের বুকে একটি ভাসমান বেস স্টেশনে নোঙর করা আছে এবং এর অন্য প্রান্তটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছাড়িয়ে প্রায় ছত্রিশ হাজার কিলোমিটার ওপরে জিওস্টেশনারি অরবিটে থাকা একটি বিশাল কাউন্টারওয়েট বা প্রতিভার স্টেশনের সাথে যুক্ত এই তারটি তৈরি করা হয়েছে কার্বন ন্যানোটিউব এবং গ্রাফিনের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং হালকা উপাদান দিয়ে যা স্টিলের চেয়েও কয়েকশো গুণ বেশি শক্তিশালী পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিক বল বা সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স এই বিশাল তারকে টানটান করে মহাকাশে ধরে রাখে এই তারের ওপর দিয়ে বিশেষ ধরনের রোবোটিক যান বা ক্লাইম্বার ওঠানামা করে যা যাত্রী এবং মালপত্র বহন করে এই ক্লাইম্বারগুলো চলার জন্য কোনো জ্বালানি ব্যবহার করে না বরং বেস স্টেশন থেকে শক্তিশালী লেজার রশ্মির মাধ্যমে এগুলোতে শক্তি পাঠানো হয় এটি হলো ইঞ্জিনিয়ারিং এর এক চরম উৎকর্ষের প্রমাণ যা রকেট প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাকে চিরতরে দূর করে দিল
মহাকাশ যাত্রার অর্থনীতিতে এই প্রকল্প এক অভাবনীয় এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে বর্তমানে রকেটের মাধ্যমে এক কেজি ওজনের বস্তু মহাকাশে পাঠাতে প্রায় বিশ হাজার ডলার বা তারও বেশি খরচ হয় কিন্তু এই স্পেস এলিভেটরের মাধ্যমে সেই খরচ কমে মাত্র কয়েকশো ডলারে নেমে আসবে এর ফলে মহাকাশ এখন আর কেবল ধনী দেশ বা কোটিপতিদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না সাধারণ মানুষও এখন মহাকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখতে পারবেন মহাকাশে হোটেল তৈরি করা চাঁদে বা মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন করা এবং গ্রহাণু থেকে খনিজ সম্পদ আহরণ করার মতো বিশাল প্রকল্পগুলো এখন অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে ইসরো জানিয়েছে যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই লিফটের মাধ্যমে নিয়মিত মহাকাশ পর্যটন শুরু হবে যা ভারতের অর্থনীতিতে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসবে এবং ভারতকে বিশ্বের মহাকাশ পর্যটনের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে
এই বিশাল আন্তর্জাতিক মানের মেগা প্রজেক্ট পরিচালনার জন্য কর্পোরেট এবং প্রযুক্তি দুনিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে মহাকাশ প্রযুক্তি মেটেরিয়াল সায়েন্স এবং রিমোট অপারেশনস এর ক্ষেত্রে বহুমুখী কাজের চাহিদা এত বেড়ে গেছে যে বিভিন্ন গ্লোবাল এরোস্পেস কোম্পানি প্রচুর পরিমাণে তরুণদের নিয়োগ করছে এই কোম্পানিগুলোতে জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ পদের এখন বিপুল চাহিদা একজন জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ একই সাথে এলিভেটর ক্লাইম্বারের ডেটা বিশ্লেষণ করেন মহাকাশ স্টেশনের লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন ম্যানেজ করেন এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ পর্যটকদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিয়ন্ত্রণ করেন এই বহুমুখী কাজের কারণে কোম্পানিগুলো তরুণদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় বেতনের প্যাকেজ দিচ্ছে অনেক ভারতীয় তরুণ এই স্পেস প্রোজেক্টের ডিজিটাল কাজ সামলানোর জন্য সরাসরি সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের স্পেস এজেন্সির সাথে রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন যা তাদের ঘরে বসেই সুইস ফ্র্যাঙ্ক বা বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের এক বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে এর ফলে ভারতের তরুণরা আর দেশের বাইরে না গিয়েও বিদেশের উন্নত কর্মসংস্কৃতির সাথে কাজ করতে পারছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রবল স্বাধীন হচ্ছেন
মহাকাশ বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের জগতেও এই স্পেস এলিভেটর এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে ইসরো এবং বিভিন্ন স্পেস টুরিজম কোম্পানি এখন প্রথাগত বিজ্ঞাপনের বদলে ইউজিসি অ্যাডস বা ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্টের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এখন নিজেদের ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে এই লিফটে করে মহাকাশে ওঠার কাল্পনিক ভিডিও এবং বেস স্টেশনের ফিউচারিস্টিক পরিবেশের থ্রিডি অ্যানিমেশন শেয়ার করছেন তারা এমন ভিডিও বানাচ্ছেন যেখানে পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে মহাকাশে ওঠার সময়কার দৃশ্য এবং জানলার বাইরে পৃথিবীর গোলাকার রূপ সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং এই ভিডিওগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করে অন্যান্য সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সর্বত্র এখন কেবল এই ভারতীয় অন্তরীক্ষ সেতু এর প্রচার এই ইউজিসি অ্যাডসগুলো তৈরি করে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন এবং নিজেদের স্বাধীন ক্যারিয়ার তৈরি করছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে ডিজিটাল যুগে মানুষের সত্যিকারের বিস্ময় এবং মহাকাশের প্রতি আকর্ষণই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী কন্টেন্ট
এই উপার্জিত অর্থ এবং মহাকাশের এই অসীম রহস্যময় পরিবেশ তরুণ সৃজনশীল মানুষদের স্বপ্ন পূরণের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার যারা টাকার অভাবে তাদের মনের মতো সিনেমা বানাতে পারতেন না তারা এখন ফেসবুক পেজ এবং ইউজিসি অ্যাডস থেকে আয় করা টাকা সরাসরি তাদের নিজেদের সায়েন্স ফিকশন বা শর্ট ফিল্ম প্রোজেকশনে বিনিয়োগ করছেন অনেক তরুণ নির্মাতা এই স্পেস এলিভেটরের ক্লাইম্বার এবং মহাকাশ স্টেশনের পরিবেশকেই তাদের সিনেমার প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করছেন উদাহরণস্বরূপ এক তরুণ নির্মাতা এমন একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যার নাম দ্য সেলেস্টিয়াল লিফট বা স্বর্গীয় লিফট যেখানে একটি চরিত্র পৃথিবী থেকে মহাকাশে যাওয়ার সময় লিফটের ভেতরে আটকে পড়া এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায় যেখানে সে পৃথিবীর মায়া এবং মহাকাশের অসীমের মধ্যে দ্বন্দ্বে ভোগে এই ধরনের গভীর এবং চিন্তাশীল সিনেমা বানানোর জন্য যে মানসিক স্বাধীনতা এবং প্রযুক্তির প্রয়োজন তা তারা এখন নিজেদের উপার্জিত অর্থ থেকেই পাচ্ছেন এবং অত্যন্ত কম বাজেটে এমন বিশ্বমানের শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের নাম উজ্জ্বল করছে
চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এখন আর বড় বড় স্টুডিও বা দামি এডিটিং প্যানেলের দরকার নেই তরুণ নির্মাতারা তাদের নিজেদের ঘরে বসেই তাদের অ্যাপল আইপ্যাড প্রো বা উন্নত ট্যাবলেট ব্যবহার করে ফোরকে রেজোলিউশনের ভিডিও এডিটিং করছেন আইপ্যাড প্রো এর শক্তিশালী প্রসেসরের সাহায্যে তারা মহাকাশের তারা ভরা আকাশ এবং পৃথিবীর নীল রঙের বৈপরীত্যকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কালার গ্রেডিং করছেন এবং সিনেমা বা বিজ্ঞাপনের জন্য স্পেশাল ভিজ্যুয়াল এফেক্টস তৈরি করছেন অরিজিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা আবহসংগীত তৈরি করার ক্ষেত্রেও তারা অভিনব পদ্ধতি নিচ্ছেন অনেক তরুণ মিউজিশিয়ান যারা ইলেকট্রনিক মিউজিক পছন্দ করেন তারা লিফটের যান্ত্রিক শব্দ এবং মহাকাশের শূন্যতার কাল্পনিক শব্দ রেকর্ড করে তা ডিজিটালভাবে মিক্সিং করে তাদের শর্ট ফিল্মের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের স্পেস অ্যাম্বিয়েন্ট মিউজিক তৈরি করছেন এই অরিজিনাল সাউন্ডট্র্যাকগুলো তাদের শর্ট ফিল্মকে এক আলাদা মাত্রা দিচ্ছে এবং দর্শকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করছে সৃজনশীলতার এই জোয়ার প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ এবং প্রযুক্তি থাকলে মানুষের কল্পনা যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে পারে
তরুণ প্রজন্মের বিনোদনের পদ্ধতিতেও এই উন্নত স্পেস টেকনোলজি এক বড় পরিবর্তন এনেছে যারা ভিডিও গেম খেলতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই স্পেস এলিভেটর এক নতুন গেমিং ট্রেন্ড তৈরি করেছে মহাকাশ থেকে সরাসরি পৃথিবীতে আসা সুপারফাস্ট কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের কারণে গেমাররা এখন জিরো ল্যাটেন্সি বা কোনো রকম বাফারিং ছাড়াই গ্লোবাল সার্ভারে গেম খেলতে পারছেন অনেক তরুণ এখন স্পেস সিমুলেশন গেম খেলছেন যেখানে তারা নিজেরাই এই স্পেস এলিভেটর পরিচালনা করার বা মহাকাশ স্টেশন তৈরি করার ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন এই গেমগুলোতে তারা বিদেশের খেলোয়াড়দের সাথে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছেন তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন এবং জীবনযাত্রার ওপরও আধুনিক অ্যানিমে এবং সাই ফাই সংস্কৃতির গভীর প্রভাব পড়েছে অনেক তরুণ যারা বিখ্যাত অ্যানিমে বা সায়েন্স ফিকশন সিনেমার চরিত্রদের স্টাইল অনুসরণ করেন যেমন অনেকেই এখন অ্যাটাক অন টাইটান এর বিখ্যাত চরিত্র এরেন ইয়েগার এর মতো বড় চুল রেখে নিজেদের এক স্বাধীন এবং আধুনিক লুক দিচ্ছেন এবং তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিসপ্লে হিসেবে রাখা থাকে অত্যন্ত সুন্দর এবং ধারালো কাতানা তলোয়ার বা স্পেস গ্যাজেট যা তাদের রুচি এবং স্টাইল স্টেটমেন্টকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে তাদের এই স্বাধীন এবং ছকভাঙা জীবনযাপন অন্যান্য তরুণদেরও নিজেদের প্যাশন অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করছে
শিক্ষাব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই মহাকাশ মেগা প্রজেক্ট এক বিশাল এবং নীরব পরিবর্তন এনেছে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা এনএসওইউ এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রছাত্রীরা যারা দূরশিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা করেন তারা এখন এই ভারতীয় অন্তরীক্ষ সেতু প্রকল্পকে তাদের লাইভ কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহার করছেন এনএসওইউ থেকে যারা পদার্থবিদ্যা বা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছেন তারা এখন ক্লাউড প্রযুক্তির মাধ্যমে ইসরোর উন্মুক্ত ডেটাবেস থেকে কার্বন ন্যানোটিউবের শক্তি এবং মহাকাশ লিফটের গতিবিদ্যার ডেটা নিয়ে গবেষণা করছেন প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের মতোই তারা এখন বাড়িতে বসে মহাকাশ ইঞ্জিনিয়ারিং এর মতো অত্যন্ত জটিল বিষয় শিখতে পারছেন এই প্রযুক্তি প্রমাণ করেছে যে মেধা থাকলে এবং সঠিক ডিজিটাল পরিকাঠামো পেলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীর অবস্থান কখনোই তাদের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না এটি ভারতের বিজ্ঞান শিক্ষায় এক গণতান্ত্রিক বিপ্লব এনেছে যেখানে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রও দেশের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারছে
পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই স্পেস এলিভেটর এক যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে কাজ করবে বর্তমানে রকেট উৎক্ষেপণের সময় প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি পোড়ানো হয় যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকারক গ্যাস এবং কণা ছড়িয়ে দেয় কিন্তু স্পেস এলিভেটর সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলে এবং এর কোনো কার্বন নিঃসরণ নেই ইসরো পরিকল্পনা করছে যে এই লিফটের মাধ্যমে মহাকাশে বিশাল বিশাল সোলার পাওয়ার স্যাটেলাইট পাঠানো হবে যা চব্বিশ ঘণ্টা সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠাবে এই অফুরন্ত এবং সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত শক্তি ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা চিরতরে শেষ করে দেবে এবং ভারতকে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ সবুজ শক্তির দেশে পরিণত করবে
আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মহাকাশ কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতের এই অভাবনীয় সাফল্য এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আমেরিকা রাশিয়া এবং চিন যারা এতদিন রকেট প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল তারা আজ ভারতের এই সম্পূর্ণ নিজস্ব এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সাফল্য দেখে রীতিমতো বিস্মিত এবং হতবাক পৃথিবীর কোনো দেশ আজ পর্যন্ত স্পেস এলিভেটর তৈরি করার সাহস দেখাতে পারেনি ভারত সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা বসুধৈব কুটুম্বকম বা সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার এই নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সমস্ত বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে এই মহাকাশ লিফটের সুবিধা ভাগ করে নেবে অনেক উন্নয়নশীল দেশ যারা অর্থের অভাবে নিজেদের স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে পারছিল না তারা এখন ভারতের এই স্পেস এলিভেটর ব্যবহার করার জন্য প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করছে এটি ভারতের সফট পাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ভারত আজ প্রমাণ করল যে তারা কেবল মহাকাশ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেনি বরং তারা মহাকাশ যাত্রার নিয়মকেই সম্পূর্ণ বদলে দিতে এসেছে
২০২৬ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি দিনটি ভারতের বিজ্ঞান গবেষণা মহাকাশ প্রযুক্তি এবং মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে আন্দামান সাগরের বুকে সফলভাবে তৈরি হওয়া এই ভারতীয় অন্তরীক্ষ সেতু কেবল কার্বন ন্যানোটিউব আর লেজার প্রযুক্তির তৈরি একটি লিফট নয় এটি হলো কোটি কোটি মানুষের মহাকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন এবং স্বনির্ভরতার এক জীবন্ত প্রতীক যে ভারত একদিন গরুর গাড়িতে করে স্যাটেলাইট বয়ে নিয়ে যেত আজ সেই ভারত পৃথিবী থেকে মহাকাশে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ এবং সস্তা পথ তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে একজন সাধারণ জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে একজন স্বাধীন শর্ট ফিল্ম নির্মাতা বা একজন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রত্যেকেই আজ এই নতুন মহাকাশ বিপ্লবের সুফল ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে ভারতের বিজ্ঞানীদের মেধা যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে ভারত আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে সদিচ্ছা অসীম সাহস এবং আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে আকাশের সীমাও আর কোনো বাধা নয় জয় বিজ্ঞান জয় ইসরো জয় ভারত