Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘কিং’-এর সঙ্গে 151, কোহলিকে নিয়ে শুভমনের চার শব্দের মন্তব্য

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলিংকে রীতিমতো ছেলেখেলা করে দাপুটে ব্যাটিং কোহলির। ছক্কায় অর্ধশতরান, ছক্কাতেই শতরান—শেষে সেই ছক্কাতেই দলকে এনে দিলেন দুর্দান্ত জয়।

১৫১ রানের জুটি, কোহলির ‘আগুনে’ ইনিংস! ম্যাচ শেষে সতীর্থকে নিয়ে কী বললেন শুভমন গিল

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচে আবারও ভারতীয় ক্রিকেটের দুই প্রজন্মের ব্যাটিংয়ের দুর্দান্ত সমন্বয় দেখা গেল। এক দিকে ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমন গিল, অন্য দিকে অভিজ্ঞ বিরাট কোহলি। দুই ব্যাটারের ব্যাটে ভর করে তিরুঅনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সহজ জয় তুলে নিল ভারত। দ্বিতীয় উইকেটে শুভমন গিল এবং বিরাট কোহলির ১৫১ রানের জুটি ম্যাচের রংটাই বদলে দেয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দেওয়া ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ওপেনিং জুটির পর শুভমন এবং কোহলি ক্রিজ়ে এসে ইনিংসের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। ধীরে ধীরে রান তোলার গতি বাড়াতে থাকেন দুই ব্যাটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের উপর চাপ তৈরি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সামলাতে পারেনি ক্যারিবিয়ান দল।

শুভমন গিল নিজে দুর্দান্ত শতরান করেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১১০ রান। তবে ভারতীয় ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ক্রিজ়ে ছিলেন বিরাট কোহলি। মাত্র ৮৮ বলে ১৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারতকে জয় এনে দেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার এবং ৯টি বিশাল ছক্কা। মাত্র ৪১.৪ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।

তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে শুভমন গিলের একটি বিশেষ মন্তব্য। খেলা শেষ হওয়ার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাচের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন ভারতীয় অধিনায়ক। সেই ছবির মধ্যে ছিল বিরাট কোহলির সঙ্গে তাঁর একটি ছবিও। ছবির সঙ্গে শুভমন যে ক্যাপশন দিয়েছেন, সেটিই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।

কোহলির জন্য শুভমনের চার শব্দ

ম্যাচের পরে এক্স হ্যান্ডলে নিজের এবং দলের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন শুভমন গিল। কোহলির সঙ্গে নিজের ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “ফায়ারি ইনিংস হি কহদে।”

শুভমনের এই মন্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়, কোহলির ইনিংসকে ‘আগুনে ইনিংস’ বললেও যেন কম বলা হয়। অর্থাৎ, ভারতীয় দলের অধিনায়ক তাঁর সতীর্থের ব্যাটিং নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথাই সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করেছেন।

কোহলির ১৩৯ রানের ইনিংস যে ম্যাচের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করেছেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্রাইক বদলেছেন, বাউন্ডারি মেরেছেন এবং রান তোলার গতি বাড়িয়েছেন। শেষ দিকে তাঁর ব্যাটিং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

শুভমনের চার শব্দের সেই মন্তব্য তাই শুধু একটি সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন নয়, বরং মাঠে দেখা কোহলির ব্যাটিংয়ের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিফলন হিসাবেও ধরা যায়।

১৫১ রানের জুটি বদলে দিল ম্যাচের ছবি

ওয়েস্ট ইন্ডিজ় প্রথমে ব্যাট করে ভারতকে ২৯৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল। এই রান তাড়া করতে গিয়ে ভারতকে শুরু থেকেই ভালো ব্যাটিং করতে হত। রান তাড়া করার সময় উইকেট ধরে রেখে প্রয়োজনীয় রানরেট বজায় রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য।

এই পরিস্থিতিতে শুভমন গিল এবং বিরাট কোহলির জুটি ভারতকে বড় সুবিধা দেয়। দ্বিতীয় উইকেটে ১৩২ বল খেলে তাঁরা যোগ করেন ১৫১ রান। এই জুটি তৈরি হওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে ভারতের হাতে চলে আসে।

শুভমন গিল নিজের ইনিংসে ১১০ রান করেন। অধিনায়ক হিসাবে দলের হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অন্য দিকে কোহলি নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইনিংসকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যান।

দুই ব্যাটারের ব্যাটিংয়ের ধরনেও ছিল পার্থক্য। শুভমন নিজের ছন্দে রান তুলছিলেন, আর কোহলি পরিস্থিতি বুঝে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দু’জনের এই সমন্বয়ই ভারতীয় ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়।

১৫১ রানের জুটি ভাঙার পরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ পায়নি। কারণ তখন কোহলি পুরোপুরি সেট। শেষ পর্যন্ত তিনিই ভারতকে জয় এনে দেন।

ছক্কায় অর্ধশতরান, ছক্কায় শতরান, ছক্কাতেই জয়

কোহলির ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। সাধারণত পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করার জন্য পরিচিত কোহলি এই ম্যাচে প্রয়োজনের সময়ে বড় শট খেলেছেন। বিশেষ করে ছক্কার মাধ্যমে দ্রুত রান সংগ্রহ করেছেন তিনি।

৮৮ বলে ১৩৯ রান করার পথে কোহলি ১০টি চার এবং ৯টি ছক্কা মারেন। অর্থাৎ তাঁর ইনিংসের বড় অংশই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের উপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেছিলেন তিনি।

অর্ধশতরানের গণ্ডি পার করার সময়ও ছক্কার সাহায্য নিয়েছেন কোহলি। শতরান পূর্ণ করার ক্ষেত্রেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ছক্কা। আর ম্যাচ শেষ করার সময়ও ছক্কা মেরে ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন তিনি।

ফলে কোহলির এই ইনিংসকে শুধু একটি শতরান বললে হয়তো পুরো ছবিটা পাওয়া যায় না। এটি ছিল এমন একটি ইনিংস যেখানে অভিজ্ঞ ব্যাটার পরিস্থিতি বুঝে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দিয়েছেন।

১৩৯ রানে অপরাজিত কোহলি

ভারতীয় ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন বিরাট কোহলি। ৮৮ বলে তাঁর ১৩৯ রান ভারতের রান তাড়াকে আরও সহজ করে দেয়। ১০টি চার এবং ৯টি ছক্কার সাহায্যে সাজানো তাঁর ইনিংস ছিল আক্রমণাত্মক এবং কার্যকর।

কোহলি যখন ক্রিজ়ে ছিলেন, তখন ভারতীয় দলের রান তোলার গতি ক্রমশ বাড়ছিল। উইকেট হাতে থাকায় তাঁর উপর বড় শট খেলার স্বাধীনতাও ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪১.৪ ওভারে ভারত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। অর্থাৎ হাতে যথেষ্ট ওভার রেখেই ম্যাচ শেষ করে ভারত। এর ফলে কোহলির ইনিংসের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুভমনের শতরানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ

এই ম্যাচে শুধু কোহলির ইনিংস নিয়েই আলোচনা করলে শুভমন গিলের অবদান কিছুটা আড়ালে চলে যেতে পারে। কারণ ভারতীয় অধিনায়ক নিজেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১১০ রান।

দলের অধিনায়ক হিসাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে শতরান করে শুভমন বুঝিয়ে দিয়েছেন, রান তাড়া করার সময় তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

শুভমন এবং কোহলির ১৫১ রানের জুটি ভারতের রান তাড়াকে অনেকটাই সহজ করে দেয়। একজন অধিনায়ক এবং অন্য জন অভিজ্ঞ সিনিয়র ব্যাটার—এই জুটির মধ্যে যে বোঝাপড়া দেখা গিয়েছে, সেটিও ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

শুভমন আউট হয়ে যাওয়ার পরও কোহলি নিজের জায়গায় স্থির ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনিই ইনিংস শেষ করেন।

কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠল

ম্যাচের পরে স্বাভাবিক ভাবেই কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতকে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। এই ম্যাচেও একই ছবি দেখা গেল।

তবে কোহলি নিজে কবে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের—এমনটাই জানিয়েছেন শুভমন গিল। ভারতীয় অধিনায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে চান না।

শুভমন বলেন, বিরাট ভাই দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন। তাঁর মতে, কোহলি বর্তমানে ক্রিকেট উপভোগ করছেন এবং স্বাধীনতা নিয়ে খেলছেন। নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাউন্ডারি মারছেন তিনি।

শুভমনের বক্তব্য অনুযায়ী, কোহলি ভারতের হয়ে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন। তাই তিনি যত দিন খেলতে চান, তত দিনই খেলবেন। তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করার জায়গায় নিজেকে না রাখার কথাই জানিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক।

এই মন্তব্যে কোহলির প্রতি শুভমনের সম্মান এবং আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

news image
আরও খবর

কোহলির ব্যাটিং নিয়ে শুভমনের প্রশংসা

ম্যাচ শেষে শুভমনের কথায় বার বার উঠে এসেছে কোহলির ব্যাটিংয়ের স্বাধীনতার বিষয়টি। একজন ব্যাটার যখন নিজের খেলাকে উপভোগ করেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শট খেলতে পারেন, তখন তাঁর ব্যাটিংয়ে তার প্রভাব পড়ে।

এই ম্যাচে কোহলির ইনিংসেও সেই ছবিই দেখা গিয়েছে। তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের ব্যাটিংয়ের গতি বদলেছেন। কখনও স্ট্রাইক ঘুরিয়েছেন, আবার কখনও সুযোগ পেয়ে বাউন্ডারি মেরেছেন।

বিশেষ করে ইনিংসের পরের দিকে তাঁর ব্যাটিং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের উপর চাপ বাড়তে থাকে। কোহলি সেই চাপকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তুলেছেন।

শেষ পর্যন্ত তাঁর অপরাজিত ১৩৯ রানই ভারতের জয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলিংয়ের উপর চাপ তৈরি করেছিলেন কোহলি

রান তাড়া করার সময় ভারতের সামনে ২৯৬ রানের লক্ষ্য ছিল। এই ধরনের রান তাড়া করতে গেলে ব্যাটারদের এক দিকে উইকেট বাঁচাতে হয়, অন্য দিকে রানরেটও ধরে রাখতে হয়।

কোহলি এবং শুভমন সেই ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন। তাঁদের ১৫১ রানের জুটির ফলে ভারতের রান তাড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

কোহলি বিশেষ করে বাউন্ডারির মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলিং আক্রমণের উপর চাপ তৈরি করেন। ১০টি চার এবং ৯টি ছক্কা তাঁর ইনিংসের আক্রমণাত্মক চরিত্রকে স্পষ্ট করে।

এক সময় মনে হচ্ছিল, ভারতীয় দল শুধু লক্ষ্য পূরণ করবে না, বরং অনেক আগেই ম্যাচ শেষ করে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়।

ভারতীয় ক্রিকেটে কোহলি-শুভমন জুটির তাৎপর্য

ভারতীয় ক্রিকেটে প্রজন্ম বদলের সময়ে সিনিয়র এবং জুনিয়র ক্রিকেটারের মধ্যে বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরাট কোহলি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার। অন্য দিকে শুভমন গিল বর্তমানে দলের নেতৃত্বের দায়িত্বে রয়েছেন।

এই ম্যাচে দুই প্রজন্মের ক্রিকেটারের ১৫১ রানের জুটি তাই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। মাঠে দু’জনের মধ্যে যে বোঝাপড়া দেখা গিয়েছে, তা ভারতের রান তাড়াকে অনেকটাই সহজ করেছে।

শুভমন নিজে শতরান করেছেন এবং কোহলিও অপরাজিত শতরান করেছেন। ফলে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারের কাছ থেকেই এসেছে বড় রান।

এই ধরনের পারফরম্যান্স ভারতীয় দলের ব্যাটিংয়ের গভীরতাকেও সামনে নিয়ে আসে।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও কোহলির আগ্রাসন

কোহলির ইনিংসের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ম্যাচের শেষ পর্যন্ত তাঁর আক্রমণাত্মক মনোভাব। অনেক সময় শতরান করার পরে ব্যাটাররা ঝুঁকি কমিয়ে খেলতে চান। কিন্তু এই ম্যাচে কোহলি সেই পথে হাঁটেননি।

তিনি নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে থাকেন। সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি মারেন। শেষ পর্যন্ত ছক্কা মেরে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।

ফলে তাঁর ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা ধারাবাহিকতা ছিল—রান করা, চাপ তৈরি করা এবং সুযোগ পেলেই বড় শট খেলা।

এই কারণেই ম্যাচ শেষে শুভমনের দেওয়া ‘ফায়ারি ইনিংস’ মন্তব্যটি ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।

অধিনায়ক হিসাবে শুভমনের নিজের পারফরম্যান্সও নজরকাড়া

শুভমন গিলের ১১০ রানের ইনিংসও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অধিনায়ক হিসাবে দলের হয়ে সামনে থেকে পারফর্ম করা যে কোনও দলের জন্যই ইতিবাচক বিষয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে রান তাড়া করতে গিয়ে শুভমন নিজের ইনিংসকে বড় রানে নিয়ে যান। কোহলির সঙ্গে তাঁর ১৫১ রানের জুটি ভারতকে শক্ত ভিত দেয়।

যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত ক্রিজ়ে থাকতে পারেননি, তাঁর ইনিংসের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই কোহলি বাকি কাজটা সম্পূর্ণ করেন।

ফলে ম্যাচের ফলাফলে কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রান সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এলেও শুভমনের ১১০ রান এবং দু’জনের ১৫১ রানের জুটির গুরুত্বও যথেষ্ট।

ম্যাচ শেষে ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় কোহলি

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এই ম্যাচের পর স্বাভাবিক ভাবেই সামাজিক মাধ্যমে বিরাট কোহলির ইনিংস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর ৯টি ছক্কা এবং ১০টি চার ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।

এক দিনের ক্রিকেটে কোহলির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এই ম্যাচে তাঁর ব্যাটিংয়ে যে আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখা গিয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।

শুভমন গিলের মন্তব্যও সেই আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মাত্র কয়েকটি শব্দে অধিনায়ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, সতীর্থের ব্যাটিং তাঁর কাছে কতটা বিশেষ মনে হয়েছে।

শেষ কথা

তিরুঅনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ভারতের এই জয় তাই একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুভমন গিলের ১১০ এবং বিরাট কোহলির অপরাজিত ১৩৯ রান ভারতকে ম্যাচে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়।

দ্বিতীয় উইকেটে দুই ব্যাটারের ১৫১ রানের জুটি ছিল ভারতীয় ইনিংসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। শুভমন আউট হয়ে গেলেও কোহলি শেষ পর্যন্ত ক্রিজ়ে থেকে ম্যাচ শেষ করেন।

৮৮ বলে ১৩৯ রান, ১০টি চার এবং ৯টি ছক্কা—পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, কতটা আক্রমণাত্মক ছিল কোহলির ইনিংস। অর্ধশতরান থেকে শতরান এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতানো—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই তাঁর ব্যাটে ছিল বড় শট।

আর ম্যাচ শেষে শুভমনের চার শব্দের মন্তব্য—“ফায়ারি ইনিংস হি কহদে”—সেই ইনিংসেরই সংক্ষিপ্ত প্রশংসা।

একই সঙ্গে কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শুভমন যে অবস্থান নিয়েছেন, তাতেও স্পষ্ট—কোহলির ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের। ভারতীয় অধিনায়কের কথায়, যত দিন কোহলি খেলতে চান, তত দিন তাঁকে নিজের মতো করেই খেলতে দেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, ১৫১ রানের জুটি, শুভমনের শতরান এবং কোহলির অপরাজিত ১৩৯—

Preview image