Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘বেঞ্চে বসিয়ে প্লেয়ার তৈরি হয় না’, গম্ভীরকে তোপ বৈভবের কোচের

বৈভব সূর্যবংশীকে বসিয়ে সঞ্জু স্যামসনকে সুযোগ দেওয়ায় গম্ভীরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বৈভবের কোচ।

বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ না দেওয়ায় গৌতম গম্ভীরকে তোপ ছোটবেলার কোচের, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন

ভারতীয় ক্রিকেটে তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়া এবং তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করে তোলার বিষয়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন ক্রিকেটারদের জায়গা করে দেওয়া, তাঁদের প্রতিভা যাচাই করা এবং ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার সুযোগ দেওয়া নিয়ে ক্রিকেট মহলে প্রায়ই আলোচনা হয়। এবার সেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর নাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে টানা তিন ম্যাচে ভারতের প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তাঁর ছোটবেলার কোচ মণীষ ওঝা। ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং টিম ম্যানেজমেন্টের দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মণীষ ওঝার অভিযোগ, একজন ক্রিকেটারকে শুধু বেঞ্চে বসিয়ে রেখে তাঁর উন্নতি ঘটানো সম্ভব নয়। প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার জন্য মাঠে নামার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং তাঁদের উন্নতির বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বৈভবের মতো তরুণ ক্রিকেটারকে যদি নিয়মিতভাবে প্রথম একাদশের বাইরে রাখা হয়, তা হলে তাঁর প্রতিভা যাচাই করার সুযোগই বা কোথায়—এই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর ছোটবেলার কোচ।

বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে কেন ক্ষুব্ধ তাঁর কোচ?

বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ তাঁর অল্প বয়সে ক্রিকেটের প্রতি দক্ষতা এবং সম্ভাবনা। তরুণ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে প্রতিটি ম্যাচই নিজেদের উন্নতি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্তরে জায়গা পাওয়ার পর প্রথম একাদশে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে টানা তিন ম্যাচে বৈভবকে ভারতের প্রথম একাদশে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি তুলেছেন মণীষ ওঝা। তাঁর বক্তব্য, একজন ক্রিকেটারের দক্ষতা বিচার করতে হলে তাঁকে মাঠে নেমে খেলার সুযোগ দিতে হবে। বাইরে বসিয়ে রেখে তাঁর প্রকৃত সামর্থ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।

তবে প্রথম একাদশে জায়গা না পাওয়া মানেই কোনও ক্রিকেটারের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে দলের কৌশল, প্রতিপক্ষের পরিস্থিতি, পিচের চরিত্র এবং টিম কম্বিনেশনের মতো বিষয়গুলিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। ক্রিকেটে দল নির্বাচন একটি জটিল প্রক্রিয়া। তা সত্ত্বেও তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি যে গুরুত্বপূর্ণ, মণীষের বক্তব্যে সেই উদ্বেগই স্পষ্ট।

গৌতম গম্ভীরের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

বৈভবকে প্রথম একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধু হতাশা প্রকাশ করেই থামেননি তাঁর ছোটবেলার কোচ। ভারতীয় দলের বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

Sports Now-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মণীষ ওঝা অভিযোগ করেন, তাঁর মতে, বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্ট অনেক সময় নিজেদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল, বেঞ্চে বসিয়ে রেখে কোনও ক্রিকেটারকে তৈরি করা যায় না। একজন তরুণ খেলোয়াড়ের উন্নতির জন্য নিয়মিত ম্যাচ খেলা, চাপের মধ্যে পারফর্ম করা এবং নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মণীষের এই মন্তব্য ভারতীয় দলের নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ, জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া যে কোনও ক্রিকেটারের কাছে বড় প্রাপ্তি। কিন্তু দলে জায়গা পাওয়ার পরেও যদি মাঠে নামার সুযোগ না মেলে, তা হলে সেই ক্রিকেটার কীভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করবেন, সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।

তবে মণীষের অভিযোগ তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। বৈভবকে কেন প্রথম একাদশে রাখা হয়নি, সে বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না জেনে সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দল নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও ক্রিকেটের কৌশলগত দিক এবং নির্বাচকদের পরিকল্পনা বিবেচনায় রাখা জরুরি।

বেঞ্চে বসে থেকে কি তৈরি হওয়া যায় ক্রিকেটার?

মণীষ ওঝার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ক্রিকেটার তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর মতামত। তাঁর মতে, প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের শুধু অনুশীলন করিয়ে বা দলের সঙ্গে রেখে দিলেই হয় না। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগও দিতে হয়।

ক্রিকেটে অনুশীলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেট প্র্যাকটিস, ফিটনেস ট্রেনিং, দলের কৌশল বোঝা এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে শেখা—সবই একজন খেলোয়াড়ের উন্নতিতে সাহায্য করে। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি অনুশীলনের থেকে অনেকটাই আলাদা। মাঠে দর্শকের চাপ, প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন এবং খারাপ পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা একজন ক্রিকেটারকে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখতে হয়।

বিশেষ করে ব্যাটারদের ক্ষেত্রে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী রান তোলা, বোলারদের পরিকল্পনা বুঝে শট নির্বাচন করা এবং চাপের মধ্যে উইকেট ধরে রাখার দক্ষতা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়মিত সুযোগ দেওয়া হলে তাঁরা নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা বুঝতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও ভালো পারফর্ম করতে সাহায্য করে।

এই কারণেই বৈভবকে প্রথম একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর কোচ। তাঁর মতে, বৈভব যদি সুযোগ পাওয়ার মতো যোগ্য হন, তা হলে তাঁকে মাঠে নামিয়ে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে সব ম্যাচে খেলানো সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচের জন্য আলাদা পরিকল্পনা থাকতে পারে। কখনও প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ, কখনও উইকেটের পরিস্থিতি, আবার কখনও দলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রথম একাদশে পরিবর্তন করা হয়। ফলে কোনও ক্রিকেটারকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত সব সময় তাঁর দক্ষতা নিয়ে সন্দেহের ইঙ্গিত দেয় না।

তবুও তরুণ খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির পরিকল্পনা থাকলে তাঁদের কখন এবং কীভাবে সুযোগ দেওয়া হবে, সেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। বৈভবকে নিয়ে বিতর্কের মূল প্রশ্নও সেটাই।

বৈভবকে কি সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই ভারতীয় দলের?

বৈভব সূর্যবংশীকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তের পিছনে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মণীষ ওঝা। তাঁর বক্তব্যে এমন আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে যে, হয়তো বৈভবকে খেলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে দল আগেই কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।

সাক্ষাৎকারে মণীষের মন্তব্য ছিল, তাঁকে বাইরে বসিয়ে রেখে এতটাই হতাশ করে দেওয়া হতে পারে যে, একসময় তাঁর ভূমিকা শুধু ড্রিঙ্কস ব্রেকে জল নিয়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। এটি তাঁর ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, একজন ক্রিকেটারকে দলে রেখে খেলতে না দিলে তাঁর প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

তবে বৈভবকে ইচ্ছাকৃতভাবে হতাশ করা হচ্ছে বা তাঁকে ভবিষ্যতে খেলানোর পরিকল্পনা নেই—এমন কোনও বিষয়কে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এই অভিযোগ মণীষ ওঝার বক্তব্যের অংশ। ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে এমন কোনও উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

একজন ক্রিকেটারকে প্রথম একাদশে না রাখার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। দলের কোচ এবং অধিনায়ককে প্রতিটি ম্যাচের জন্য এমন একটি দল বেছে নিতে হয়, যারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ।

বৈভবের ক্ষেত্রে সেই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়েই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ। তাঁকে ভবিষ্যতে সুযোগ দেওয়া হলে তিনি কীভাবে পারফর্ম করেন, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সঞ্জু স্যামসনকে সুযোগ দেওয়া নিয়েও বিতর্ক

বৈভব সূর্যবংশীকে প্রথম একাদশে না রাখার প্রসঙ্গে সঞ্জু স্যামসনের নামও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈভবকে বাইরে রেখে সঞ্জুকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মণীষ ওঝার ক্ষোভের অন্যতম কারণ।

সঞ্জু স্যামসন ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত উইকেটকিপার-ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে, বৈভবের মতো তরুণ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ প্রয়োজন। ফলে একই দলের মধ্যে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া এবং নতুন প্রতিভাকে খেলানোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তবে সঞ্জুকে খেলানোর সিদ্ধান্তকে সরাসরি বৈভবের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। একজনকে খেলানো এবং অন্যজনকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্তের পিছনে দলের আলাদা কৌশল থাকতে পারে। এই সিদ্ধান্তের যথার্থতা বিচার করতে হলে ম্যাচের পরিস্থিতি, খেলোয়াড়দের ভূমিকা এবং টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য প্রয়োজন।

মণীষের আপত্তি মূলত এই যে, বৈভবকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না কেন। তাঁর মতে, তরুণ ক্রিকেটারের দক্ষতা যাচাই করার জন্য মাঠে নামার সুযোগ প্রয়োজন। তাই সঞ্জুর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলেও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বৈভবের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি।

news image
আরও খবর

তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে সুযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

একজন তরুণ ক্রিকেটারের উন্নতিতে আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করার পর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া যে কোনও খেলোয়াড়ের কাছে বড় সাফল্য। কিন্তু জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া এবং প্রথম একাদশে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়া এক বিষয় নয়।

দলে থাকার সময় একজন ক্রিকেটার সিনিয়রদের কাছ থেকে শিখতে পারেন, কোচিং স্টাফের সঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারেন। এই অভিজ্ঞতাও তাঁর উন্নতির অংশ। কিন্তু ম্যাচে খেলার সুযোগ না পেলে নিজের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা সরাসরি যাচাই করা কঠিন হতে পারে।

বিশেষ করে ব্যাটারদের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ খেলার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং অর্ডারে দায়িত্ব পালন করা, দ্রুত রান তোলা, ইনিংস গড়ে তোলা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেট ধরে রাখা—এসব দক্ষতা বাস্তব ম্যাচের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে একজন ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাস শুধু প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার উপর নির্ভর করে না। তাঁর প্রস্তুতি, মানসিক দৃঢ়তা, কোচের সঙ্গে যোগাযোগ, দলের পরিবেশ এবং নিজের পারফরম্যান্সের উপরও তা নির্ভর করে। বেঞ্চে থাকার সময়েও অনুশীলন এবং মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্রিকেটার নিজের উন্নতি চালিয়ে যেতে পারেন।

এই জায়গাতেই কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনও তরুণ ক্রিকেটারকে প্রথম একাদশে রাখা না হলে তাঁকে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সুযোগ পাওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া সহায়ক হতে পারে।

বৈভবকে নিয়ে মণীষ ওঝার উদ্বেগও এই বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত—জাতীয় দলের পরিবেশে তরুণ ক্রিকেটারদের কীভাবে তৈরি করা হবে এবং তাঁদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

ভারতীয় দলের নির্বাচন নিয়ে কেন এত আলোচনা?

ভারতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচন বরাবরই ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার বিষয়। জাতীয় দলের প্রতিটি সিদ্ধান্তের উপর সমর্থকদের নজর থাকে। কোন ক্রিকেটার খেলবেন, কে বাদ পড়বেন, কাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং কোন খেলোয়াড়কে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় রাখা হচ্ছে—এই সব বিষয় নিয়ে নানা মত তৈরি হয়।

যখন কোনও তরুণ ক্রিকেটারকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়, তখন তাঁর প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়ে। সমর্থকদের একাংশ তাঁকে নিয়মিত খেলতে দেখতে চান, অন্যদিকে অনেকে মনে করেন, দলের ভারসাম্য এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়া উচিত।

বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কেও সেই দুই দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এসেছে। একদিকে তাঁর ছোটবেলার কোচ মনে করছেন, সুযোগ না পেলে তাঁর দক্ষতা প্রমাণের পথ সীমিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে, টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা বুঝতে হলে দলের কৌশলগত প্রয়োজনও বিবেচনা করা দরকার।

কোনও ক্রিকেটারকে প্রথম একাদশে রাখা বা বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একটি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পুরো টিম ম্যানেজমেন্টের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। নির্বাচনের পিছনে থাকা কারণগুলি জানা গেলে বিতর্কের বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

বৈভব সূর্যবংশীর সামনে এখন কী চ্যালেঞ্জ?

বৈভবের মতো তরুণ ক্রিকেটারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল নিজের প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং সুযোগ এলে তা কাজে লাগানো। প্রথম একাদশে জায়গা না পাওয়া হতাশাজনক হতে পারে, কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা এবং অপেক্ষা—দুটিই খেলোয়াড়দের জীবনের অংশ।

জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার পর প্রত্যেক ক্রিকেটারকে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের ভূমিকা বুঝতে হয়। কখনও নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়া যায়, আবার কখনও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে অনুশীলনের মান বজায় রাখা, ফিটনেস ধরে রাখা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈভব যদি ভবিষ্যতে সুযোগ পান, তা হলে তাঁর পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে সুযোগ পাওয়ার আগে তাঁকে কীভাবে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে, সেটিও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। একজন তরুণ ক্রিকেটারের বিকাশের জন্য শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিকতা এবং উপযুক্ত পরিবেশও প্রয়োজন।

মণীষ ওঝার বক্তব্যে এই বিষয়টির উপরই জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, বৈভবের মতো ক্রিকেটারকে বাইরে বসিয়ে না রেখে তাঁর দক্ষতা দেখানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর এই মন্তব্য ক্রিকেটারদের সুযোগ, নির্বাচন এবং উন্নতির প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে।

গৌতম গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে প্রশ্ন

ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করা, দলের কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা নেওয়া এবং প্রতিটি ম্যাচের জন্য উপযুক্ত দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই দায়িত্ব সহজ নয়। একদিকে দলের তাৎক্ষণিক ফলাফল, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জন্য খেলোয়াড় তৈরি করা—দুই দিকই গুরুত্বপূর্ণ।

বৈভব সূর্যবংশীকে প্রথম একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এই দুই দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্ন সামনে এনেছে। তরুণ ক্রিকেটারকে সুযোগ দিলে তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। আবার দলের নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কারণে তাঁকে বাইরে রাখার প্রয়োজনও হতে পারে।

তাই এই বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নির্বাচনের যুক্তি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বোঝা। বৈভবকে নিয়ে মণীষ ওঝার অভিযোগ তাঁর উদ্বেগের প্রতিফলন। কিন্তু এই অভিযোগের ভিত্তিতে গৌতম গম্ভীর বা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর থাকবে বৈভব ভবিষ্যতে সুযোগ পান কি না এবং সেই সুযোগ পেলে কীভাবে নিজের প্রতিভা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে, সেই বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে।

উপসংহার: বৈভবকে কি এবার সুযোগ দেবে টিম ইন্ডিয়া?

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে টানা তিন ম্যাচে ভারতের প্রথম একাদশে জায়গা না পাওয়ায় বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর ছোটবেলার কোচ মণীষ ওঝা। গৌতম গম্ভীর এবং ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের দল নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, বেঞ্চে বসিয়ে রেখে কোনও ক্রিকেটারকে তৈরি করা যায় না।

তাঁর মতে, বৈভবের মতো তরুণ প্রতিভাকে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের জন্য মাঠে নামার সুযোগ দেওয়া উচিত। সঞ্জু স্যামসনকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বৈভবকে বাইরে রাখার বিষয়টিও তাঁর আপত্তির কারণ। এমনকি বৈভবকে আদৌ খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

তবে বৈভবকে সুযোগ না দেওয়ার পিছনে টিম ম্যানেজমেন্টের নির্দিষ্ট কারণ কী, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। দল নির্বাচন, খেলোয়াড়দের উন্নতি এবং তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়ার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই এখানে মূল বিষয়।

এখন দেখার, ভবিষ্যতে বৈভব সূর্যবংশী ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে জায়গা পান কি না এবং সুযোগ পেলে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রত্যাশার জবাব দিতে পারেন কি না। তাঁর ছোটবেলার কোচের মন্তব্য ইতিমধ্যেই তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া এবং ভারতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

মূল বিষয়: বৈভব সূর্যবংশীকে প্রথম একাদশে সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তাঁর ছোটবেলার কোচ মণীষ ওঝা। গৌতম গম্ভীর ও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের দল নির্বাচন নিয়ে তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে তরুণ ক্রিকেটারদের মাঠে নেমে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ।

 

Preview image