২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে (এপ্রিল–সেপ্টেম্বর) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করল আদানি গ্রিন এনার্জি। সংস্থার আয় ও আর্থিক কর্মক্ষমতার খতিয়ান ঘিরে নজর বিনিয়োগকারীদের।
ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বা Renewable Energy ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করছে আদানি গ্রিন এনার্জি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধের আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, সংস্থাটির বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে আয়, ইবিটডা এবং নগদ মুনাফা—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ এবং কার্যকরী পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে সংস্থাটির।
সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৮,২৯৯ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৩৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, সুদ, কর ও অবচয়ের আগের মুনাফা বা ইবিটডা বেড়েছে ৪১ শতাংশ। নগদ মুনাফার ক্ষেত্রেও ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।
এই আর্থিক ফলাফল থেকে স্পষ্ট, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি সংস্থাটির ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন প্রকল্প চালু করা, বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো উন্নত করা এবং শক্তি সঞ্চয়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে আদানি গ্রিন এনার্জির অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হল বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে আয়ের বৃদ্ধি। সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৮,২৯৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় তা ৩৬ শতাংশ বেশি।
বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে আয়ের এই বৃদ্ধি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের ব্যবসায় সংস্থাটির সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থার আয় নির্ভর করে তার কার্যকরী উৎপাদন ক্ষমতা, প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ, বিদ্যুৎ বিক্রির হার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতার মতো একাধিক বিষয়ের উপর।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, সূর্যালোকের প্রাপ্যতা, প্রকল্পের কার্যক্ষমতা এবং বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সেই ক্ষমতাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোও সংস্থার আর্থিক ফলাফলের জন্য জরুরি।
আদানি গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে প্রথমার্ধে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। এই দুই সূচকের একসঙ্গে বৃদ্ধি ব্যবসার সম্প্রসারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।
আয়ের পাশাপাশি সংস্থাটির পরিচালনাগত মুনাফার সূচকেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে আদানি গ্রিন এনার্জির ইবিটডা বেড়ে হয়েছে ৭,৯৫৭ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি ৪১ শতাংশ।
ইবিটডা বা Earnings Before Interest, Taxes, Depreciation and Amortisation হল সুদ, কর এবং অবচয়-সংক্রান্ত খরচ হিসাবের আগে আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কোনও সংস্থার মূল ব্যবসা কতটা আয় তৈরি করছে, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই পরিমাপ সহায়ক হতে পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো মূলধননির্ভর ব্যবসায় ইবিটডার গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করতে জমি, সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, বিদ্যুৎ সঞ্চালনের পরিকাঠামো এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। এই ধরনের প্রকল্প থেকে আয় ও পরিচালনাগত মুনাফার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে ব্যবসার কার্যক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
তবে ইবিটডা বৃদ্ধি মানেই নিট মুনাফাও একই হারে বেড়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। ঋণের সুদ, কর, অবচয় এবং অন্যান্য খরচের প্রভাব চূড়ান্ত মুনাফার উপর পড়ে। তাই সংস্থার সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নের জন্য ইবিটডার পাশাপাশি নিট মুনাফা, ঋণের পরিমাণ, নগদ প্রবাহ এবং মূলধনী ব্যয়ের তথ্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আদানি গ্রিন এনার্জির আর্থিক ফলাফলের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল নগদ মুনাফার বৃদ্ধি। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমার্ধে নগদ মুনাফা ৩৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪,১৭৬ কোটি টাকা।
নগদ মুনাফার বৃদ্ধি একটি সংস্থার আর্থিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে। কারণ, নতুন প্রকল্প নির্মাণ, ঋণ পরিশোধ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতের সম্প্রসারণের জন্য নগদের প্রয়োজন হয়।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবসায় প্রকল্প স্থাপনের প্রাথমিক খরচ অনেক বেশি হতে পারে। তবে প্রকল্প চালু হওয়ার পরে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে আয় তৈরি করা সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা থেকে নিয়মিত নগদ প্রবাহ তৈরি করতে পারা সংস্থার আর্থিক পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নগদ মুনাফা এবং প্রকৃত পরিচালন নগদ প্রবাহ এক বিষয় নয়। কোনও সংস্থার নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ করতে হলে তার আর্থিক বিবৃতিতে দেওয়া নির্দিষ্ট হিসাবপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
আদানি গ্রিন এনার্জির আর্থিক ফলাফলে আয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধিও নজর কেড়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে বিদ্যুৎ বিক্রি ৩২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২,৫৭৫ কোটি ইউনিট হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি সংস্থার প্রকল্পগুলির উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রমের সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প কার্যকর হওয়া এবং বিদ্যমান প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপর নির্ভরশীল। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা শক্তি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মোকাবিলায় ব্যাটারি স্টোরেজের মতো প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ বিক্রি ৩২ শতাংশ এবং বিক্রি থেকে আয় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য থেকে বোঝা যায়, দুটি সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির পেছনে বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য, প্রকল্পের ধরন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কারণের ভূমিকা কতটা, তা জানতে আরও বিস্তারিত আর্থিক তথ্য প্রয়োজন।
প্রথমার্ধের সামগ্রিক ফলাফলের পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকেও আদানি গ্রিন এনার্জির আর্থিক সূচকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।
সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে আয় ৪৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪,০১৯ কোটি টাকা। একই সময়ে ইবিটডা ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৮৩৫ কোটি টাকা।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, প্রথমার্ধের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইবিটডার বৃদ্ধির হার আয়ের বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি হওয়ায় পরিচালনাগত মুনাফার অনুপাতেও উন্নতির সম্ভাবনা দেখা যায়।
তবে কোনও নির্দিষ্ট ত্রৈমাসিকের ফলাফল বিচার করার সময় সংশ্লিষ্ট তুলনামূলক সময়কাল, প্রকল্পের কার্যক্রম এবং হিসাবের পদ্ধতি বিবেচনা করা জরুরি। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আয়ের বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের উৎপাদন, প্রকল্প চালু হওয়ার সময় এবং বিদ্যুৎ বিক্রির পরিস্থিতির উপর।
আদানি গ্রিন এনার্জির ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল কার্যকরী পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার বৃদ্ধি।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কার্যকরী পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ শতাংশ বেড়ে ২০.৮ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।
এক গিগাওয়াট সমান এক হাজার মেগাওয়াট। সেই হিসেবে ২০.৮ গিগাওয়াট হল ২০,৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সমান। এই পরিমাণ কার্যকরী ক্ষমতা একটি বড় পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন পরিকাঠামোর পরিচয় দেয়।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত বা কার্যকরী ক্ষমতা এবং বাস্তবে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ এক নয়। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, দিনের দৈর্ঘ্য, সৌর বিকিরণ, যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা এবং গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মতো বিষয় উৎপাদনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কার্যকরী ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ বাড়তে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ কতটা বাস্তব আয় ও নগদ প্রবাহে পরিণত হবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পগুলির কার্যকারিতা এবং বাণিজ্যিক পরিস্থিতির উপর।
গুজরাতের খাভদা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রকল্প আদানি গ্রিন এনার্জির সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাভদা প্রকল্পে ৪,০৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যোগ হয়েছে।
বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিপুল জমি, সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর প্রয়োজন হয়। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায় সম্পূর্ণ করে উৎপাদন ক্ষমতা কার্যকর করা গেলে সংস্থার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়ে।
খাভদার মতো বড় প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ধরনের প্রকল্প ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের পরিকাঠামো সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে প্রকল্পের ঘোষিত ক্ষমতা, নির্মাণাধীন ক্ষমতা এবং বাস্তবে কার্যকর ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই খাভদা প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কতটা ক্ষমতা ইতিমধ্যে চালু হয়েছে, কতটা নির্মাণাধীন রয়েছে এবং কতটা ভবিষ্যতে চালু হওয়ার কথা, তা আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা BESS-এর ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা জানিয়েছে আদানি গ্রিন এনার্জি।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, খাভদায় কার্যকরী ব্যাটারি স্টোরেজ ক্ষমতা এখন ৬.৬৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এটি দেশের মোট কার্যকরী ব্যাটারি স্টোরেজ ক্ষমতার ৫০ শতাংশেরও বেশি।
ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার আরও কার্যকর করতে সাহায্য করতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ দিনের বেলায় উৎপন্ন হলেও বিদ্যুতের চাহিদা অনেক ক্ষেত্রে সন্ধ্যা বা রাতের দিকে বেশি থাকে। ব্যাটারিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে পরে তা ব্যবহার করা গেলে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হয়।
ব্যাটারি স্টোরেজের আর একটি সুবিধা হল, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ সামলাতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের নমনীয়তা বাড়াতে এটি সাহায্য করতে পারে। তবে প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করে ব্যাটারির ক্ষমতা, চার্জ ও ডিসচার্জের হার, দক্ষতা, সঞ্চয়ের খরচ এবং ব্যবস্থাপনার উপর।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ৬.৬৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা হল শক্তি সঞ্চয়ের পরিমাণ বোঝানোর একটি একক। অন্যদিকে গিগাওয়াট দিয়ে সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদন বা সরবরাহের ক্ষমতা বোঝানো হয়। ব্যাটারি কতটা বিদ্যুৎ সঞ্চয় করতে পারে এবং নির্দিষ্ট সময়ে কত দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, তা দুটি আলাদা বিষয়।
খাভদায় ব্যাটারি স্টোরেজের এই সম্প্রসারণ সংস্থার পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে ব্যাটারি প্রকল্পের অর্থনৈতিক সাফল্য নির্ভর করবে ব্যবহারের হার, পরিচালন খরচ, প্রযুক্তির স্থায়িত্ব এবং সঞ্চিত বিদ্যুতের বাণিজ্যিক মূল্যায়নের উপর।
ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি এবং শক্তি সঞ্চয়ের প্রযুক্তি এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অংশ।
এই পরিস্থিতিতে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির কাছে নতুন প্রকল্প গড়ে তোলা, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আদানি গ্রিন এনার্জির আর্থিক ফলাফলে আয়, ইবিটডা, নগদ মুনাফা এবং বিদ্যুৎ বিক্রির বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকরী ক্ষমতা সম্প্রসারণের তথ্যও এই প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবসায় প্রতিযোগিতা, মূলধনের খরচ, ঋণের সুদ, প্রকল্প নির্মাণের সময়সীমা, বিদ্যুৎ সঞ্চালনের পরিকাঠামো এবং নীতিগত পরিবর্তনের মতো ঝুঁকিও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সংস্থার কার্যক্ষমতা বিচার করতে হলে এই বিষয়গুলিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আদানি গ্রিন এনার্জির আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেলেও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রথমত, আয়ের বৃদ্ধি কতটা নিয়মিত এবং তা ভবিষ্যতেও বজায় থাকার সম্ভাবনা কতটা, তা মূল্যায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইবিটডা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিট মুনাফা এবং পরিচালন নগদ প্রবাহের গতিপ্রকৃতি দেখা জরুরি।
তৃতীয়ত, সংস্থার মোট ঋণ, সুদের খরচ এবং নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যবসার আর্থিক ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। চতুর্থত, কার্যকরী ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও সেই ক্ষমতা থেকে কতটা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে এবং কতটা বিদ্যুৎ বিক্রি করা যাচ্ছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
পঞ্চমত, ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্পের সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই প্রযুক্তির খরচ, কার্যক্ষমতা এবং প্রকল্প থেকে সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলে তার আর্থিক প্রভাব নির্ভুলভাবে বিচার করা সম্ভব নয়।
এছাড়া সংস্থার শেয়ারদর শুধুমাত্র আর্থিক ফলাফলের উপর নির্ভর করে না। বাজারের প্রত্যাশা, মূল্যায়ন, সুদের হার, ঋণ পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক শেয়ারবাজারের প্রবণতাও শেয়ারদরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে আদানি গ্রিন এনার্জির আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে আয় ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৮,২৯৯ কোটি টাকা হয়েছে। ইবিটডা ৪১ শতাংশ বেড়ে ৭,৯৫৭ কোটি টাকা এবং নগদ মুনাফা ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৪,১৭৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
একই সময়ে বিদ্যুৎ বিক্রি ৩২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২,৫৭৫ কোটি ইউনিট হয়েছে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকেও আয় ও ইবিটডার বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, কার্যকরী পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে ২০.৮ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে এবং খাভদা প্রকল্পে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজের পরিকাঠামো সম্প্রসারিত হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানগুলি সংস্থার ব্যবসায়িক বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক ছবি তুলে ধরে। তবে ভবিষ্যতের সাফল্য নির্ভর করবে নতুন প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির ধারাবাহিকতা, নগদ প্রবাহ এবং আর্থিক ঝুঁকি পরিচালনার উপর। ফলে সংস্থার পরবর্তী ত্রৈমাসিকের ফলাফল এবং প্রকল্প সম্প্রসারণের অগ্রগতি বিনিয়োগকারী ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রের পর্যবেক্ষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।