Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আফগানিস্থান শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন, আতঙ্কে এলাকাবাসী

সাতসকালেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৩। কম্পন অনুভূত হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসীর মধ্যে।

আফগানিস্থান   শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন, আতঙ্কে এলাকাবাসী
বিপর্যয়

সাতসকালেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। আচমকা ভূমিকম্পের কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হিন্দুকুশ ও সংলগ্ন এলাকায়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি বা NCS-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৩। ভারতীয় সময় অনুযায়ী সকাল প্রায় ৬টা ৫৯ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। সকালের সময় আচমকা মাটিতে কম্পন শুরু হওয়ায় অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়।

জানা গিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২৬ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের অক্ষাংশ ছিল ৩৫.৯৮১ ডিগ্রি উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ছিল ৬৮.৭০০ ডিগ্রি পূর্ব। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে ছিল ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র। ফলে কাবুলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এই কম্পনের প্রভাব অনুভূত হয়ে থাকতে পারে।

ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৩ হওয়ায় এটিকে একটি উল্লেখযোগ্য কম্পন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের জেরে কোনও প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কোথাও বড় ধরনের পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়েও এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। ভূমিকম্পের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

আফগানিস্তানে ভূমিকম্প নতুন কোনও ঘটনা নয়। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান এমন একটি অঞ্চলে, যেখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে হিন্দুকুশ-পামির অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। এই অঞ্চলে নিয়মিত বিভিন্ন মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। অনেক সময় এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের অনেক গভীরে হয়। এবারের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও উৎসস্থল ছিল প্রায় ১২৬ কিলোমিটার গভীরে।

ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আফগানিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে অবস্থিত। ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট উত্তর দিকে এগিয়ে গিয়ে ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। কোটি কোটি বছর ধরে চলা এই ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফলেই হিমালয় ও হিন্দুকুশের মতো বিশাল পর্বতমালা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে এই প্লেটগুলির পারস্পরিক গতিবিধির কারণে ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ চাপ তৈরি হয়।

ভূগর্ভে জমে থাকা সেই চাপ কোনও দুর্বল অংশ বরাবর হঠাৎ মুক্তি পেলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে। হিন্দুকুশ অঞ্চল এমনই একটি সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক এলাকায় অবস্থিত। ফলে এই অঞ্চলে বারবার ভূমিকম্প হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে টেকটোনিক প্লেটের চলাচলকে ধরা হয়। আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে গভীর ভূমিকম্পের ঘটনাও তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

এবারের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ১২৬ কিলোমিটার গভীরতায় উৎসস্থল থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে শুধু রিখটার স্কেলে মাত্রা কত ছিল, সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। ভূমিকম্পের গভীরতা, উপকেন্দ্রের অবস্থান, জনবসতি থেকে দূরত্ব, স্থানীয় মাটির প্রকৃতি এবং ভবনগুলির নির্মাণশৈলী—সবকিছুর উপর নির্ভর করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা।

একই মাত্রার ভূমিকম্প একেক জায়গায় একেক রকম প্রভাব ফেলতে পারে। কোনও এলাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হলেও সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি নাও হতে পারে। আবার তুলনামূলক কম মাত্রার ভূমিকম্পও যদি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগভীর গভীরতায় আঘাত হানে, তাহলে তার প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে। তাই এবারের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও মাত্রা ৫.৩ হওয়ার পাশাপাশি এর গভীরতা এবং উপকেন্দ্রের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সকালের এই ভূমিকম্পের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ভূমিকম্পের সময় অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যেতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনও নিশ্চিত খবর সামনে আসেনি। পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। মূল ভূমিকম্পের পর ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরে চাপের পুনর্বিন্যাসের কারণে ছোট বা মাঝারি মাত্রার আরও কম্পন অনুভূত হতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় কখন বা কত মাত্রার আফটারশক হবে, তা আগে থেকে নির্ভুলভাবে বলা সম্ভব নয়। সেই কারণে ভূমিকম্পের পর স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সতর্কতার সঙ্গে প্রবেশ করা গুরুত্বপূর্ণ।

আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলির মধ্যে পড়ে। এই এলাকায় শুধু মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প নয়, অনেক সময় গভীর উৎসের শক্তিশালী ভূমিকম্পও রেকর্ড করা হয়। ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, ভারতীয় প্লেটের উত্তরমুখী গতি এবং ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হিমালয় থেকে হিন্দুকুশ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

news image
আরও খবর

ভারতীয় প্লেটের গতিবিধি শুধু আফগানিস্তান নয়, গোটা হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক পরিবেশকেও প্রভাবিত করে। ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাংশ থেকে শুরু করে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং হিমালয় সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় টেকটোনিক সক্রিয়তা রয়েছে। এর ফলে এই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় সময় সময় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

হিন্দুকুশের ক্ষেত্রে ভূমিকম্পের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল অনেক কম্পনের উৎপত্তি তুলনামূলকভাবে গভীরে হওয়া। ভূপৃষ্ঠের নীচে বহু কিলোমিটার গভীরে শিলাস্তরের মধ্যে চাপ ও ভাঙনের ফলে এসব ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। তাই হিন্দুকুশ অঞ্চলের ভূমিকম্প নিয়ে ভূতাত্ত্বিক এবং সিসমোলজিস্টদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে।

এবারের কম্পনের কেন্দ্র কাবুল থেকে আনুমানিক ১৬৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে হওয়ায় রাজধানী সংলগ্ন এলাকাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট শহরে কম্পনের তীব্রতা ঠিক কতটা ছিল, তা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী রিপোর্ট প্রয়োজন। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত কম্পনের অনুভূতি পরিবর্তিত হতে পারে।

এই ভূমিকম্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল এর সময়। ভারতীয় সময় সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটের কাছাকাছি কম্পন অনুভূত হওয়ায় দিনের শুরুতেই সাধারণ মানুষ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কম্পনও ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় মানুষের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অতীতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের মধ্যে এই ধরনের কম্পন স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ায়।

তবে ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভিতরে থাকলে জানালা, কাচ এবং ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকা, মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং লিফট ব্যবহার না করার মতো সাধারণ নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলা প্রয়োজন। বাইরে থাকলে ভবন, বিদ্যুতের খুঁটি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো থেকে দূরে থাকা নিরাপদ।

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণব্যবস্থা, জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নির্দিষ্টভাবে দেওয়া সম্ভব না হলেও ঝুঁকি কমানোর জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় ভবন নির্মাণের সময় স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি ও নির্মাণবিধি বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, সকালের এই ৫.৩ মাত্রার আফগানিস্তান ভূমিকম্প নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও নজর রয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাত্রা, অবস্থান এবং গভীরতা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সিসমোলজিক্যাল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই তথ্যের আরও বিস্তারিত আপডেট পাওয়া যেতে পারে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভূমিকম্পের জেরে কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে কি না। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর নেই। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় কোনও কোনও জায়গা থেকে তথ্য পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। তাই পরবর্তী সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের আপডেটের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

সাতসকালের এই ভূমিকম্প ফের একবার মনে করিয়ে দিল, হিন্দুকুশ ও আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা কতটা ভূমিকম্পপ্রবণ। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সেই কারণেই আফগানিস্তান, হিন্দুকুশ এবং সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল ভবিষ্যতেও বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

আফগানিস্তানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, হিন্দুকুশে ভূমিকম্প, কাবুলের কাছে ভূমিকম্প, Afghanistan Earthquake Today, Afghanistan Earthquake News, Hindukush Earthquake, Kabul Earthquake, Earthquake Today, Earthquake News, ভূমিকম্পের খবর এবং আফগানিস্তানের সর্বশেষ ভূমিকম্প আপডেট জানতে নজর রাখুন পরবর্তী খবরের দিকে।

Preview image