পাকিস্তানের বিমানহামলায় ফের উত্তপ্ত আফগানিস্তান। ১১ শিশু-সহ ২৬ জনের মৃত্যুর দাবিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তালিবান। হামলার জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা বাড়ছে।
আফগানিস্তানের মাটিতে আবারও পাকিস্তানের বিমানহামলা ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অবিশ্বাস, জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই এবার আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশে পাকিস্তানের বিমানহামলার খবর সামনে এসেছে। তালিবান প্রশাসনের দাবি, এই হামলায় শিশু-সহ একাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে সক্রিয় জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই অভিযান চালিয়েছে এবং তাতে ২৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এই দুই বিপরীত দাবির মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের বিমানহামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১১ জনই শিশু। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তালিবান প্রশাসন এই হামলাকে আফগান সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত বলে ব্যাখ্যা করেছে এবং প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তান যদি বারবার আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে সামরিক অভিযান চালায়, তবে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।
পাকিস্তানের বক্তব্য অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। ইসলামাবাদের দাবি, আফগান সীমান্তের ভিতরে লুকিয়ে থাকা জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহত হওয়ার পর এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, বিমানহামলায় সাধারণ মানুষ নয়, জঙ্গিরাই মূল লক্ষ্য ছিল এবং তাতে ২৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক। আফগানিস্তান বলছে, হামলায় নিহতদের বড় অংশই শিশু ও সাধারণ মানুষ। পাকিস্তান বলছে, নিহতরা জঙ্গি। ফলে মৃতের সংখ্যা এবং নিহতদের পরিচয় নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে বড় অমিল দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিও এই অমিলের কথা তুলে ধরেছে। যুদ্ধ বা সীমান্ত সংঘর্ষের ক্ষেত্রে এমন বিরোধী দাবি নতুন নয়। কিন্তু শিশু মৃত্যুর অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
এই বিমানহামলা শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কের গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। ২০২১ সালে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তান প্রথমদিকে আশা করেছিল, কাবুলে তালিবান সরকার প্রতিষ্ঠা হলে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং টিটিপি সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি উল্টো দিকে গিয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তালিবান সরকার টিটিপি-কে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং আফগানিস্তানের কিছু অঞ্চল থেকে পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে। আফগান তালিবান অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় আফগানিস্তানের উপর চাপাচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা হল ডুরান্ড লাইন। পাকিস্তান এই সীমান্তরেখাকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে মানলেও আফগানিস্তানের বহু রাজনৈতিক শক্তি, এমনকি তালিবানের অনেক অংশও ঐতিহাসিকভাবে এই সীমান্তরেখা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সীমান্তের দুই পাশে পশতুন জনগোষ্ঠীর বসবাস থাকায় সমস্যা আরও জটিল। পাকিস্তান মনে করে, এই এলাকা জঙ্গি অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান মনে করে, পাকিস্তান সীমান্ত নিরাপত্তার অজুহাতে আফগান ভূখণ্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক বিমানহামলার পর আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের ভাষা বেশ কঠোর। তারা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, পাকিস্তানের হামলার জবাব দেওয়া হতে পারে। যদিও কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা পরিষ্কার করা হয়নি। তবে সীমান্ত এলাকায় সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক প্রতিবাদ অথবা পাল্টা হামলার মতো একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদি দুই পক্ষই অবস্থান কঠোর করে, তবে সীমান্তে সংঘর্ষ আরও বড় আকার নিতে পারে।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়েছে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তান অঞ্চলে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বারবার দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে থাকা জঙ্গিদের একটি অংশ আফগানিস্তানে আশ্রয় নিচ্ছে। পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর তাই চাপ তৈরি হয়েছে—সীমান্তের ওপার থেকে হামলা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। সেই চাপ থেকেই পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে বিমানহামলার পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
তবে প্রশ্ন হল, এমন হামলা কি সত্যিই সমস্যার সমাধান করবে? সামরিক দিক থেকে পাকিস্তান হয়তো জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি করতে পারে, কিন্তু যদি সেই হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটে, তবে তা নতুন ক্ষোভ তৈরি করবে। আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মধ্যে পাকিস্তানবিরোধী মনোভাব আরও বাড়তে পারে। তালিবান প্রশাসনও জনমতকে সামনে রেখে আরও কড়া অবস্থান নিতে বাধ্য হতে পারে। ফলে নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
শিশু মৃত্যুর অভিযোগ এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক। যুদ্ধ, জঙ্গি দমন বা সীমান্ত নিরাপত্তার নামে যখন নিরীহ শিশুদের প্রাণ যায়, তখন সেই ক্ষত শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের উপর প্রভাব ফেলে। আফগানিস্তান বহু দশক ধরে যুদ্ধ, বিদেশি আগ্রাসন, গৃহযুদ্ধ এবং দারিদ্র্যের মধ্যে দিয়ে গেছে। সেই দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখনও নিরাপত্তাহীনতা, খাদ্যসংকট এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবে ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিমানহামলা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে।
আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও এই ঘটনা উদ্বেগের। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান—দুই দেশই দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আলোচনায়। এই দুই দেশের সংঘাত যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তার প্রভাব শুধু সীমান্ত এলাকায় আটকে থাকবে না। মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
চীন, ইরান, রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলিও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। চীনের কাছে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত বাড়লে বেজিংও অস্বস্তিতে পড়বে। অতীতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা হলেও তা স্থায়ী ফল দেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও মধ্যস্থতার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
ভারতের দিক থেকেও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানে উন্নয়নমূলক কাজ করেছে এবং পাকিস্তান-আফগান সম্পর্কের টানাপড়েন ভারতের নিরাপত্তা ভাবনাতেও প্রভাব ফেলে। যদিও ভারত সরাসরি এই সংঘাতে পক্ষ নয়, তবুও আফগানিস্তানের অস্থিরতা এবং পাকিস্তানের সীমান্ত রাজনীতি ভারতের কূটনৈতিক হিসাবের বাইরে নয়। আফগানিস্তানে যদি অস্থিরতা বাড়ে, তবে জঙ্গি সংগঠনগুলির সক্রিয়তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
এই হামলার পর সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল নিরপেক্ষ তদন্ত। পাকিস্তান বলছে, নিহতরা জঙ্গি; আফগানিস্তান বলছে, নিহতরা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসা প্রয়োজন। যুদ্ধের সময়ে প্রচারযুদ্ধও সমান শক্তিশালী হয়। তাই শুধুমাত্র এক পক্ষের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। তবে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, এবং তা উপেক্ষা করা যায় না।
তালিবান প্রশাসনের জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। একদিকে তারা আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের হামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখাতে চায়। অন্যদিকে সরাসরি সংঘাতে জড়ালে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবে তালিবান সরকার এখনও কূটনৈতিকভাবে দুর্বল। এমন অবস্থায় পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাত তাদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই তারা হুঁশিয়ারি দিলেও বাস্তবে কতটা সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা সময়ই বলবে।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। জঙ্গি হামলার জবাব দিতে গিয়ে যদি পাকিস্তান বারবার আফগানিস্তানের ভিতরে বিমানহামলা চালায়, তবে তা আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলবে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত বাড়লে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্ত আরও অস্থির হবে। এমনিতেই পাকিস্তান অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা চাপে রয়েছে। তার মধ্যে নতুন সীমান্ত সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্ত বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচল। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে বহু মানুষ ব্যবসা, চিকিৎসা, কাজ এবং পারিবারিক কারণে যাতায়াত করেন। সংঘাত বাড়লে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়, পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়। ফলে সামরিক উত্তেজনার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের সামনে দুটি পথ খোলা। প্রথম পথ, পাল্টা হামলা ও সামরিক উত্তেজনার পথে এগিয়ে যাওয়া। এতে হয়তো সাময়িক রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি বাড়ে। দ্বিতীয় পথ, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ। কিন্তু এর জন্য দরকার পারস্পরিক আস্থা, যা এই মুহূর্তে প্রায় অনুপস্থিত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমানহামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সামরিক ঘটনা নয়। এটি দুই দেশের সম্পর্কের গভীর অবিশ্বাস, সীমান্ত নিরাপত্তা সংকট এবং আঞ্চলিক রাজনীতির জটিলতার প্রতিফলন। শিশু-সহ সাধারণ মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ এই ঘটনাকে আরও মানবিক ও সংবেদনশীল করে তুলেছে। পাকিস্তান জঙ্গি দমনের যুক্তি দিচ্ছে, তালিবান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও বেসামরিক হত্যার অভিযোগ তুলছে। এই দুই অবস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
আগামী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তালিবান সত্যিই পাল্টা পদক্ষেপ নেয় কি না, পাকিস্তান আরও অভিযান চালায় কি না, আন্তর্জাতিক মহল কী প্রতিক্রিয়া জানায় সবকিছুর উপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে। যদি কূটনৈতিক উদ্যোগ দ্রুত শুরু না হয়, তবে সীমান্ত সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে। আর যদি দুই পক্ষই সংযম দেখায়, তবে হয়তো আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
তবে একথা স্পষ্ট, আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনা শুধু দুই দেশের স্বার্থে নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। জঙ্গি সমস্যা বাস্তব, কিন্তু তার সমাধান যদি নিরীহ মানুষের মৃত্যু ডেকে আনে, তবে সেই সমাধান নতুন সংকটের জন্ম দেয়। তাই সামরিক শক্তির পাশাপাশি দরকার কূটনীতি, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত। কারণ সীমান্তের রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিকার যেন আর শিশু ও সাধারণ মানুষ না হন—এই দাবি এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।