নয়াদিল্লি, টিমারপুর: ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডে রক্ত হিম ভারতের রাজধানীতে। ফরেনসিক বিজ্ঞান পড়ুয়া এক তরুণী নিজের প্রেমিককে হত্যা করে তার দেহে ঘি ও অ্যালকোহলের মিশ্রণ লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন— এমনই রোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে দিল্লি পুলিশের তদন্তে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত তরুণটি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং ওই তরুণীর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। সম্প্রতি দু’জনের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। অভিযোগ, ওই তরুণ তাঁর সঙ্গিনীর কিছু ‘অশ্লীল ভিডিও’ ধারণ করে রেখেছিলেন এবং সেগুলি মুছে ফেলতে অস্বীকার করেন। এরপর থেকেই তরুণীর মাথায় ঘুরতে থাকে প্রতিশোধের নেশা।
ফরেনসিক বিজ্ঞানের ছাত্রী হওয়ায় অপরাধের কৌশল সম্পর্কে ছিল তার গভীর ধারণা। ক্রাইম শো দেখা ছিল তার নেশা। সেখান থেকেই ধারণা নিয়ে নিজের প্রাক্তন প্রেমিক ও এক বন্ধুকে নিয়ে তৈরি করে হত্যার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা।
ঘটনার দিন রাতে তিনজনে মিলে টিমারপুরের ঘরে ওই যুবককে হত্যা করে। প্রথমে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়, তারপর দেহে ঘি ও অ্যালকোহল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় যাতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। প্রাক্তন প্রেমিক, যিনি পেশায় এলপিজি গ্যাস বিতরণকারী, তিনি সিলিন্ডার খুলে আগুন আরও বাড়িয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
প্রথমে ঘটনাটি ‘অ্যাকসিডেন্টাল ফায়ার’ মনে হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ডে প্রকাশ পায় আসল রহস্য। দেখা যায়, আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে ওই তরুণী ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এরপরই পুলিশ তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৮ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের মরাদাবাদ থেকে অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার সঙ্গে প্রাক্তন প্রেমিক ও সহায়ককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনজনই পুলিশের হেফাজতে। ফরেনসিক টিম দেহের ভিসেরা রিপোর্ট পরীক্ষা করছে।
তদন্তকারী এক পুলিশ অফিসার বলেন, “অপরাধে ব্যবহৃত প্রতিটি পদক্ষেপ পরিকল্পিত। অপরাধ ঢাকতে যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।”
এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিল্লি ও আশপাশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের ভাঙন ও ব্যক্তিগত ভিডিওর মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি এখন এক গভীর সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।