আগামী বছরও পাঁচ দিন ধরেই পালিত হবে দুর্গাপুজো। দৃক্‌সিদ্ধ ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথির তারতম্যের কারণে পুজোর দিনক্ষণে বিশেষ পার্থক্য দেখা যাবে। ২০২৮ সালে দুই পঞ্জিকা অনুযায়ী দুর্গাপুজোর ব্যবধান দাঁড়াবে প্রায় তিন সপ্তাহ।
আগামী বছরও পাঁচ দিন ধরেই পালিত হবে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। তবে পুজোর দিনক্ষণ নির্ধারণে পঞ্জিকাভেদে কিছুটা পার্থক্য থাকছে। দৃক্সিদ্ধ এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথির হিসাবের তারতম্যের কারণে আগামী বছরের দুর্গাপুজোয় বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যাবে। পঞ্জিকা অনুসারে আগামী বছর দু’টি নবমী তিথি পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মহাষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়া দশমীর দিনক্ষণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বাংলার পুজোপ্রেমীদের কাছে পঞ্জিকা শুধু ধর্মীয় আচার পালনের দিনক্ষণ জানার মাধ্যম নয়, দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব যথেষ্ট। মহালয়া থেকে শুরু করে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং দশমী—প্রতিটি তিথির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু বছরের ঐতিহ্য ও রীতি। তিথি কখন শুরু এবং কখন শেষ হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে পুজোর নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করা হয়। আর সেখানেই বিভিন্ন পঞ্জিকার গণনাপদ্ধতির কারণে কখনও কখনও দিনের ব্যবধানে পার্থক্য তৈরি হয়।
আগামী বছর দুর্গাপুজো পাঁচ দিনেরই থাকছে। তবে তিথির বিশেষ অবস্থানের কারণে পুজোর কোনও কোনও দিনে তিথি-সংক্রান্ত ব্যতিক্রম দেখা যাবে। বিশেষ করে নবমী তিথি দু’বার পড়ার বিষয়টি নজর কাড়ছে। এর ফলে পুজোর দিনক্ষণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
শুধু আগামী বছরই নয়, ২০২৮ সালেও দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ নিয়ে আরও বড় পার্থক্য দেখা যেতে পারে। দৃক্সিদ্ধ এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী ২০২৮ সালে দুর্গাপুজোর ব্যবধান প্রায় তিন সপ্তাহ হতে পারে। অর্থাৎ দুই পঞ্জিকা অনুসরণকারী মানুষের ক্ষেত্রে একই উৎসবের দিনক্ষণে উল্লেখযোগ্য ফারাক দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন উৎসবের ক্ষেত্রে এই ধরনের পঞ্জিকাগত পার্থক্য নতুন নয়। তিথি, নক্ষত্র, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত এবং অন্যান্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে পুজোর দিন নির্ধারণ করা হয়। বিভিন্ন পঞ্জিকা তাদের নিজস্ব গণনাপদ্ধতি অনুসরণ করায় একই তিথির অবস্থান বা পুজোর নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলারও অন্যতম প্রধান উপলক্ষ। তাই পুজোর দিনক্ষণ নিয়ে সামান্য পরিবর্তনও মানুষের দৈনন্দিন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে। পুজোর ছুটি, ভ্রমণ, বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা, পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান—সবকিছুর ক্ষেত্রেই পঞ্জিকার তারিখ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আগামী বছর পাঁচ দিনের দুর্গাপুজো হওয়ায় উৎসবের প্রচলিত কাঠামোয় বড় কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে দু’টি নবমী তিথির উপস্থিতি পঞ্জিকাগত দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একইভাবে ২০২৮ সালে দুই পঞ্জিকার মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধান তৈরি হওয়ার বিষয়টিও বাংলা পঞ্জিকা ও তিথি গণনার বৈচিত্র্যকে সামনে আনছে।
পুজোর দিনক্ষণ চূড়ান্তভাবে জানার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকার নির্দিষ্ট প্রকাশিত তিথি ও সময়সূচি অনুসরণ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কারণ তিথি কখন শুরু হচ্ছে এবং কখন শেষ হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করেই পুজোর আচার ও নির্দিষ্ট দিনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ নিয়ে পঞ্জিকাভেদে এই পার্থক্য কেন তৈরি হয়, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে। মূলত তিথি গণনার পদ্ধতি, সূর্যোদয়ের সময়, স্থানীয় সময় এবং বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে পঞ্জিকাগুলিতে দিন নির্ধারণ করা হয়। ফলে একই তিথি কখন শুরু হচ্ছে বা কোন দিনে তার অধিকাংশ সময় থাকছে, সেই হিসাবের উপর নির্ভর করে পুজোর দিন নির্ধারণে পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষ করে অষ্টমী ও নবমীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তিথির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কোনও কোনও বছরে একটি তিথি একই দিনে সম্পূর্ণভাবে অবস্থান না করে আগের বা পরের দিনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। আবার কোনও তিথি দু’দিন ধরে বিস্তৃত হলে পঞ্জিকার নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আচার পালনের দিন নির্ধারিত হয়। আগামী বছর দু’টি নবমী তিথি পড়ার বিষয়টিও সেই তিথিগত অবস্থানের সঙ্গেই সম্পর্কিত।
এর ফলে পুজোর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের সময় নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়। অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধিপুজো, নবমীর পুজো এবং দশমীর বিসর্জন—প্রতিটি আচার নির্দিষ্ট তিথি ও সময় মেনে সম্পন্ন করা হয়। তাই পঞ্জিকায় তিথির পরিবর্তন থাকলে সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে পুরোহিত, পুজো উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন বনেদি বাড়ির পুজোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হয়।
তবে পুজোর মূল উৎসবের আবহে এর কোনও প্রভাব পড়ে না। ষষ্ঠীর বোধন থেকে শুরু করে সপ্তমীর নবপত্রিকা স্নান, অষ্টমীর অঞ্জলি, নবমীর পুজো এবং দশমীর সিঁদুরখেলা ও বিসর্জন—সবকিছুই বাঙালির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী পালিত হবে। পঞ্জিকাভেদে তারিখের পার্থক্য থাকলেও উৎসবের আবেগ, রীতি এবং সামাজিক গুরুত্ব একই থাকবে।
২০২৮ সালের বিষয়টি আরও বেশি নজরকাড়া। দুই পঞ্জিকার গণনায় প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধান তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে আলোচনা বাড়বে। সাধারণত একই উৎসবের দিনক্ষণে এতটা ব্যবধান খুব সাধারণ ঘটনা নয়। তাই ২০২৮ সালের দুর্গাপুজো নিয়ে এখন থেকেই পঞ্জিকা বিশেষজ্ঞদের হিসাব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হতে পারে।
এই ধরনের পার্থক্যের ক্ষেত্রে কোন পঞ্জিকা অনুসরণ করা হবে, তা অনেক সময় পরিবার, স্থানীয় রীতি এবং দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথার উপর নির্ভর করে। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পরিবারে নির্দিষ্ট পঞ্জিকা অনুসরণ করার ঐতিহ্য রয়েছে। বনেদি বাড়ির পুজোতেও বহু ক্ষেত্রে বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তিথি ও পুজোর সময় ঠিক করা হয়।
শহর ও গ্রামের পুজো কমিটিগুলির কাছেও পুজোর দিনক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুজোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিমা আনা, মণ্ডপ উদ্বোধন, বিসর্জনের শোভাযাত্রা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা—সবকিছুর পরিকল্পনাই নির্ভর করে নির্দিষ্ট দিনগুলির উপর। তাই পঞ্জিকা প্রকাশের পর থেকেই পুজো উদ্যোক্তারা দিনক্ষণ মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেন।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের কাছেও পুজোর তারিখ মানে ছুটির পরিকল্পনা। কর্মসূত্রে অন্য শহরে থাকা বাঙালিরা পুজোর সময় বাড়ি ফেরার জন্য আগেভাগেই ট্রেন ও বিমানের টিকিটের পরিকল্পনা করেন। কেউ আবার পুজোর ছুটিতে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। ফলে দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাতায়াত ও ছুটির পরিকল্পনাও শুরু হয়ে যায়।
দুই পঞ্জিকার মধ্যে পার্থক্য থাকলে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও কখনও কখনও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ ছড়িয়ে পড়লে কোনটি সঠিক, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এই কারণে পুজোর দিনক্ষণ জানার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পঞ্জিকা এবং সংশ্লিষ্ট পুরোহিত বা পঞ্জিকা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী বছর পাঁচ দিনের দুর্গাপুজো হওয়ায় উৎসবের প্রচলিত ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। তবে দু’টি নবমী তিথি থাকার বিষয়টি পঞ্জিকাগত দিক থেকে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে ২০২৮ সালে দুই পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানের সম্ভাবনা দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ নিয়ে আরও একবার আলোচনার কেন্দ্র তৈরি করতে পারে।
বাঙালির জীবনে দুর্গাপুজোর গুরুত্ব এতটাই বেশি যে কয়েক দিনের তারতম্যও মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ, পারিবারিক মিলন, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, নতুন পোশাক, প্যান্ডেল হপিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা। ফলে পঞ্জিকার পাতায় একটি তারিখের পরিবর্তনও বাস্তব জীবনে বহু মানুষের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তিথির এই জটিল হিসাব আসলে ভারতীয় পঞ্জিকা ব্যবস্থার বৈচিত্র্য এবং প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যার সঙ্গে ধর্মীয় আচারের গভীর সম্পর্ককেই সামনে আনে। আধুনিক সময়ে প্রযুক্তির সাহায্যে তিথি ও নক্ষত্রের হিসাব সহজে পাওয়া গেলেও পুজোর আচার পালনের ক্ষেত্রে এখনও পঞ্জিকার গুরুত্ব অটুট রয়েছে।
আগামী বছরের দুর্গাপুজো নিয়ে তাই এখন থেকেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাঁচ দিনের উৎসবের মধ্যে তিথির বিশেষ অবস্থান কীভাবে পুজোর দিনক্ষণকে প্রভাবিত করবে, তা জানতে অপেক্ষা করছেন বহু মানুষ। পাশাপাশি ২০২৮ সালে দুই পঞ্জিকার মধ্যে যে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিও ভবিষ্যতের দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে আগামী বছর দুর্গাপুজো পাঁচ দিনের হলেও তিথির হিসাবে থাকছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দু’টি নবমী তিথি যেমন পঞ্জিকাগত দিক থেকে নজর কাড়ছে, তেমনই ২০২৮ সালে দুই পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানও ব্যতিক্রমী বিষয় হিসেবে সামনে আসছে। পুজোর দিনক্ষণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরের প্রকাশিত পঞ্জিকা ও নির্দিষ্ট তিথির সময়সূচিই শেষ কথা। তাই উৎসবের প্রস্তুতির আগে নিজের অনুসৃত পঞ্জিকা অনুযায়ী তারিখ ও সময় মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।