আলিপুরদুয়ারের ম্যাকউইলিয়াম হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র অঙ্কিত দেবনাথ। কোনও প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছাড়াই মাত্র আট বছর বয়স থেকে নিজের আগ্রহে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে আসছে সে। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত অঙ্কিতের এই সৃজনশীলতা ও নিষ্ঠা দুর্গাপুজোর আবহে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, আনন্দ, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মিলন। মহালয়ার পর থেকেই পুজোর প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়ে ওঠে। কোথাও মণ্ডপ তৈরির কাজ চলে, কোথাও প্রতিমার সাজসজ্জা শেষ করার ব্যস্ততা, আবার কোথাও আলোর রোশনাইয়ে নতুন রূপে সেজে ওঠে পুজোপ্রাঙ্গণ। এই উৎসবের আবহে নিজের হাতে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে আলিপুরদুয়ারের নবম শ্রেণির ছাত্র অঙ্কিত দেবনাথ।
আলিপুরদুয়ার ম্যাকউইলিয়াম হাইস্কুলের এই পড়ুয়ার প্রতিমা তৈরির প্রতি আগ্রহের শুরু খুব অল্প বয়সেই। মাত্র আট বছর বয়স থেকে নিজের ইচ্ছা ও আগ্রহে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে আসছে সে। প্রতিমা তৈরির জন্য কোনও প্রথাগত শিক্ষা বা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই তার। আপন খেয়ালে, নিজের পর্যবেক্ষণ এবং সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়েই দেবী দুর্গার মূর্তি গড়ার চেষ্টা করে অঙ্কিত।
দুর্গাপুজোর সময় যখন চারদিকে উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখন নিজের হাতে তৈরি প্রতিমার পুজো নিয়ে ব্যস্ত এই কিশোর। একদিকে স্কুলের পড়াশোনা, অন্যদিকে প্রতিমা তৈরির কাজ—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় রেখে নিজের পছন্দের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে সে।
শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিভা দেখা যায়। কেউ ছবি আঁকতে ভালোবাসে, কেউ গান গায়, কেউ আবার খেলাধুলায় নিজের দক্ষতা প্রকাশ করে। অঙ্কিতের আগ্রহ প্রতিমা তৈরির মতো সৃজনশীল কাজে। ছোটবেলা থেকেই দেবী দুর্গার মূর্তি তৈরি করার প্রতি তার আকর্ষণ তৈরি হয়। সেই আগ্রহই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে নিয়মিত চর্চায়।
মাত্র আট বছর বয়সে যে কাজের প্রতি তার আগ্রহ জন্মেছিল, সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহকে ধরে রেখেছে অঙ্কিত। প্রতিমা তৈরির মতো কাজে ধৈর্য, মনোযোগ এবং সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাটির কাজ থেকে শুরু করে প্রতিমার বিভিন্ন অঙ্গের গঠন—প্রতিটি পর্যায়েই দরকার যত্ন ও মনোসংযোগ।
প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই কাজে আগ্রহ ধরে রাখা অঙ্কিতের সৃজনশীল মানসিকতার পরিচয় দেয়। নিজের মতো করে শেখার চেষ্টা এবং নতুন কিছু তৈরি করার ইচ্ছাই তার এই চর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সাধারণত দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেন। প্রতিমার কাঠামো তৈরি, মাটির প্রলেপ দেওয়া, মুখের গড়ন ফুটিয়ে তোলা এবং বিভিন্ন অঙ্গের অনুপাত বজায় রাখা—সব ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু অঙ্কিতের ক্ষেত্রে প্রতিমা তৈরির যাত্রা শুরু হয়েছে নিজের আগ্রহ থেকে। কোনও প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই সে এই শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। তার কাছে প্রতিমা তৈরি শুধু একটি কাজ নয়, বরং নিজের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করার একটি মাধ্যম।
একটি প্রতিমা তৈরি করতে সময়, শ্রম ও মনোযোগ দিতে হয়। সামান্য ভুলও প্রতিমার সামগ্রিক গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কাজের প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকা জরুরি। অঙ্কিতের মতো একজন স্কুলপড়ুয়ার কাছে এই অভিজ্ঞতা শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও হতে পারে।
নিজের হাতে কিছু তৈরি করার আনন্দ অনেক সময় শিশুদের মধ্যে নতুন উদ্যম তৈরি করে। সেই উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে অঙ্কিত প্রতিমা তৈরির প্রতি তার আগ্রহ ধরে রেখেছে।
অঙ্কিত আলিপুরদুয়ার ম্যাকউইলিয়াম হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। এই বয়সে পড়াশোনা, স্কুলের কাজ এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার পাশাপাশি নিজের পছন্দের সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যাওয়াও কম কৃতিত্বের নয়।
পড়াশোনার সঙ্গে শখের কাজের সমন্বয় করতে হলে সময়ের সঠিক ব্যবহার জরুরি। প্রতিমা তৈরির কাজে মন দেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনার দিকেও নজর রাখা দরকার। বিশেষ করে স্কুলের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাজীবনের দায়িত্ব পালন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অঙ্কিতের এই উদ্যোগ তাই শুধু প্রতিমা তৈরির দক্ষতার গল্প নয়, বরং ছোটবেলা থেকে কোনও একটি কাজের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখার উদাহরণও। কোনও বিষয়ে আগ্রহ জন্মালে নিয়মিত চর্চা এবং ধৈর্যের মাধ্যমে সেই আগ্রহকে আরও বিকশিত করা সম্ভব—অঙ্কিতের প্রতিমা তৈরির যাত্রা সেই সম্ভাবনার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিল্প, সংস্কৃতি, পারিবারিক বন্ধন এবং অসংখ্য মানুষের পরিশ্রম। প্রতিমাশিল্পীরা মাসের পর মাস ধরে দেবী দুর্গার মূর্তি তৈরির কাজ করেন। পুজোর সময় তাঁদের শিল্পকর্মই মণ্ডপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
এই উৎসবের আবহেই নিজের হাতে তৈরি দুর্গাপ্রতিমার পুজো নিয়ে ব্যস্ত অঙ্কিত। তার কাছে দুর্গাপুজো শুধু আনন্দের সময় নয়, নিজের সৃজনশীল কাজকে বাস্তবে রূপ দেওয়ারও একটি বিশেষ উপলক্ষ।
নিজের হাতে দেবীর মূর্তি তৈরি করার মধ্যে রয়েছে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি। নিজের ভাবনা অনুযায়ী প্রতিমা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা একজন শিল্পমনস্ক মানুষের কাছে অত্যন্ত আনন্দের। অঙ্কিতের ক্ষেত্রেও এই আগ্রহ তাকে প্রতিমা তৈরির কাজে উৎসাহ জোগাচ্ছে।
তবে প্রতিমার আকার, তৈরির সময়, ব্যবহৃত উপকরণ কিংবা পুজোর বিস্তারিত আয়োজন সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় সেসব বিষয়ে অনুমান করে কিছু বলা যায় না। যে তথ্য জানা গিয়েছে, তা হল—ছোটবেলা থেকে নিজের আগ্রহে প্রতিমা তৈরি করে আসছে এই স্কুলপড়ুয়া।
শিশু ও কিশোরদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিভা লুকিয়ে থাকে। সঠিক পরিবেশ, উৎসাহ এবং অনুশীলনের সুযোগ পেলে সেই প্রতিভা আরও বিকশিত হতে পারে। কেউ সংগীতের মাধ্যমে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে, কেউ আঁকাআঁকি বা হাতের কাজের মাধ্যমে নতুন কিছু তৈরি করে, আবার কেউ বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখায়।
প্রতিমা তৈরির মতো শিল্পকর্মে হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়া, ধৈর্য, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং সৃজনশীল চিন্তার প্রয়োজন হয়। কোনও একটি কাজ শুরু করে সেটিকে সম্পূর্ণ করার অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।
অঙ্কিতের এই উদ্যোগ থেকে বোঝা যায়, স্কুলের পাঠ্যক্রমের বাইরেও নিজের আগ্রহ অনুযায়ী শেখার সুযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি পড়াশোনা, বিশ্রাম এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজের জন্যও সময় রাখা দরকার।
অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের কাছ থেকে উৎসাহ পেলে অঙ্কিতের মতো পড়ুয়ারা নিজেদের পছন্দের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পেতে পারে। তাদের আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সেই আগ্রহের সঙ্গে শিক্ষাজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করা অত্যন্ত জরুরি।
দুর্গাপ্রতিমা তৈরি বাংলার শিল্প-ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুমোরটুলি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিমাশিল্পীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তাঁদের হাতের কাজের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে দেবী দুর্গার নানা রূপ, শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা এবং বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়।
এই ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া এবং ছোটবেলা থেকেই প্রতিমা গড়ার চেষ্টা করা অঙ্কিতের কাছে একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। যদিও তার প্রতিমা তৈরির পদ্ধতি বা শেখার নির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি, তবু কোনও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের আগ্রহে কাজটি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
শিল্পের প্রতি ভালোবাসা অনেক সময় কোনও নির্দিষ্ট বয়স বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডিতে আটকে থাকে না। কৌতূহল, পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নতুন দক্ষতা অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
অঙ্কিতের এই প্রতিমা তৈরির চর্চা তাই দুর্গাপুজোর আনন্দের পাশাপাশি বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহের কথাও সামনে নিয়ে আসে।
নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রতিমা তৈরির মতো সৃজনশীল কাজে আগ্রহ দেখানো অঙ্কিতের জন্য ভবিষ্যতে নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দিতে পারে। নিয়মিত চর্চা, শিল্প সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ এবং অভিজ্ঞ শিল্পীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে তার দক্ষতা বাড়তে পারে।
ভবিষ্যতে সে এই কাজকে শখ হিসেবে চালিয়ে যাবে, নাকি আরও গভীরভাবে শিল্পচর্চার পথে এগোবে—তা এখনই বলা সম্ভব নয়। এই বয়সে তার সামনে পড়াশোনা ও বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের অনেক সুযোগ রয়েছে। নিজের পছন্দের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সেই সুযোগগুলিও কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।
অঙ্কিতের গল্পের মূল আকর্ষণ তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বড় কোনও দাবি নয়, বরং ছোটবেলা থেকে নিজের আগ্রহকে ধরে রাখার চেষ্টা। মাত্র আট বছর বয়স থেকে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির এই যাত্রা তাকে নতুন কিছু শেখার এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ করে দিতে পারে।
দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসে, ততই বাড়ে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে দেবীর রূপ পায়। সেই শিল্পের প্রতি ভালোবাসা থেকেই নিজের হাতে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে চলেছে আলিপুরদুয়ার ম্যাকউইলিয়াম হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র অঙ্কিত দেবনাথ।
প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছাড়াই মাত্র আট বছর বয়স থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসা এই পড়ুয়ার উদ্যোগ দুর্গাপুজোর আবহে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া, ধৈর্য ধরে কাজ করা এবং নতুন কিছু তৈরি করার আনন্দ—এই তিনটি বিষয় তার গল্পকে বিশেষ করে তুলেছে।
অঙ্কিতের প্রতিমা তৈরির চর্চা ভবিষ্যতে কতটা এগোবে, তা সময়ই বলবে। তবে ছোটবেলা থেকে নিজের পছন্দের কাজের প্রতি এমন আগ্রহ ধরে রাখা নিঃসন্দেহে উৎসাহজনক। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতার চর্চা করে সে নিজের মতো করে দুর্গাপুজোর আনন্দে অংশ নিচ্ছে।
আলিপুরদুয়ারের এই স্কুলপড়ুয়ার গল্প মনে করিয়ে দেয়, প্রতিভার প্রকাশ সব সময় বড় মঞ্চে হয় না। কখনও কখনও নিজের হাতে তৈরি একটি প্রতিমার মধ্য দিয়েও প্রকাশ পায় ভালোবাসা, কৌতূহল এবং নতুন কিছু শেখার ইচ্ছা।