Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বারাকপুরে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের ঘাট পরিদর্শন, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং

দুর্গাপুজোর পর প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ নির্ধারিত বিসর্জনের ঘাটগুলি পরিদর্শন করা হল। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। বিসর্জন পর্ব যাতে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই ঘাটগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বারাকপুরে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের ঘাট পরিদর্শন, উপস্থিত মন্ত্রী অর্জুন সিং

দুর্গাপুজোর উৎসব শেষ হওয়ার পর প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। পুজোর কয়েকটি আনন্দমুখর দিন কাটানোর পর দশমী ও পরবর্তী সময়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। এই সময় বহু মানুষ প্রতিমা বিসর্জন দেখতে ঘাটগুলিতে উপস্থিত হন। পুজো কমিটিগুলিও প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা করে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে পৌঁছয়। ফলে বিসর্জনের দিনগুলিতে নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম সামলানো এবং ঘাটের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ নির্ধারিত দুর্গাপুজোর প্রতিমা বিসর্জনের ঘাটগুলি পরিদর্শন করা হল। এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং।

বিসর্জন পর্বকে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্ধারিত ঘাটগুলিতে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার পথ, প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের চলাচল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বড় পুজো কমিটিগুলির প্রতিমা বিসর্জনের সময় ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বহু মানুষের সমাগম হতে পারে। সেই কারণে আগাম পর্যবেক্ষণ ও পরিকল্পনা বিসর্জন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।

বারাকপুরে বিসর্জনের প্রস্তুতি ঘিরে তৎপরতা

বারাকপুর ও আশপাশের এলাকায় দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের পাশাপাশি বিসর্জনের দিনগুলিতেও স্থানীয় এলাকায় মানুষের আনাগোনা বাড়ে। প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা, বাদ্যযন্ত্র, পুজো কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি এবং বিসর্জন দেখতে আসা মানুষের ভিড় মিলিয়ে তৈরি হয় উৎসবের বিশেষ পরিবেশ।

এই পরিস্থিতিতে বিসর্জনের নির্ধারিত ঘাটগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ ঘাটগুলি পরিদর্শনের মাধ্যমে বিসর্জন পর্বের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। পরিদর্শনে মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতি এই ঘটনাকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

তবে পরিদর্শনের সময় কোন কোন ঘাটে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে কী কী ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে কিংবা কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এই পরিদর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনও দাবি করা সমীচীন নয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট পরিদর্শন?

দুর্গাপুজোর বিসর্জন একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু বড় জনসমাগমের কারণে এই পর্বে প্রশাসনিক প্রস্তুতিরও বিশেষ প্রয়োজন হয়। একটি নির্দিষ্ট ঘাটে একাধিক পুজো কমিটির প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পৌঁছলে সেখানে ভিড় বাড়তে পারে। প্রতিমা বহনকারী গাড়ি, শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী মানুষ এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচলের মধ্যে সমন্বয় রাখা জরুরি হয়ে ওঠে।

ঘাটের প্রবেশপথে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হলে মানুষের চলাচলে সমস্যা হতে পারে। আবার প্রতিমা নামানোর সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এই কারণে বিসর্জনের আগে ঘাটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঘাট পরিদর্শনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কোথায় মানুষের চলাচল বেশি হতে পারে, কোন জায়গায় যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে এবং কোথায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার—এ ধরনের বিষয় আগে থেকে চিহ্নিত করা গেলে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব

বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী বা জলাশয়ের ধারে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় অসাবধানতা থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক রাখা জরুরি।

বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং পরিবারের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। ভিড়ের মধ্যে শিশুদের হাত ধরে রাখা, জলাশয়ের খুব কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে না যাওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নির্দেশ মেনে চলা নিরাপদ বিসর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলিরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় শোভাযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্ধারিত পথ ব্যবহার করা এবং ঘাটে পৌঁছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নির্দেশ অনুসরণ করা প্রয়োজন। সব পক্ষের সহযোগিতা থাকলে বিসর্জন পর্ব আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।

যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজন পরিকল্পনা

দুর্গাপুজোর বিসর্জনের দিনে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর চাপ বাড়তে পারে। প্রতিমা বহনকারী গাড়ি ও শোভাযাত্রার কারণে কিছু রাস্তায় সাময়িকভাবে যান চলাচল ধীর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একই সময়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াতও অব্যাহত থাকে। ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প চলাচলের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিসর্জনের ঘাটের আশপাশে রাস্তার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে কোথায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে, তা বুঝতে সুবিধা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং শোভাযাত্রার পথ সম্পর্কে আগাম তথ্য দেওয়া সাধারণ মানুষের অসুবিধা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

যদিও বারাকপুরের এই পরিদর্শনের পর কোনও নির্দিষ্ট যান নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়, তবুও বিসর্জনের মতো বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলির গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।

পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় জরুরি

দুর্গাপুজোর বিসর্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুজো কমিটিগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি কমিটি তাদের প্রতিমা নিয়ে নির্ধারিত ঘাটে পৌঁছনোর সময় ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন থাকলে ভিড় সামলানো সহজ হতে পারে।

একই সময়ে একাধিক প্রতিমা ঘাটে পৌঁছলে অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই ঘাট ব্যবহারের নিয়ম, প্রতিমা নামানোর সময় এবং শোভাযাত্রার চলাচল সম্পর্কে সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রশাসন, পুলিশ এবং পুজো কমিটিগুলির মধ্যে যোগাযোগ থাকলে সম্ভাব্য সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

পুজো কমিটির সদস্যদেরও নিজেদের দলের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া উচিত। শোভাযাত্রার মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিশুদের নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া এবং ঘাটে পৌঁছনোর পর নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ বিসর্জনের ঘাটগুলি পরিদর্শনের ঘটনাকে এই বৃহত্তর প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটেই দেখা যেতে পারে।

সাধারণ মানুষের সচেতনতা কেন প্রয়োজন?

বিসর্জন দেখতে বহু মানুষ ঘাটে উপস্থিত হন। তাঁদের অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উৎসবের শেষ মুহূর্তগুলি উপভোগ করতে চান। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে সামান্য অসতর্কতাও কখনও কখনও সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের সচেতনতা বিসর্জন পর্বকে নিরাপদ রাখার অন্যতম শর্ত।

ঘাটে পৌঁছে নির্দিষ্ট চলাচলের পথ ব্যবহার করা, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ না করা এবং ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। কোনও জায়গায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হলে সেখানে দাঁড়িয়ে না থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নির্দেশ অনুসরণ করা উচিত।

news image
আরও খবর

জলাশয়ের ধারে ছবি তোলা বা প্রতিমা বিসর্জন কাছ থেকে দেখার সময়ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নিরাপত্তার সীমা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়। শিশুদের একা ছেড়ে না রাখা এবং তাঁদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার।

এই ধরনের সচেতনতামূলক আচরণ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে সহায়তা করে এবং বিসর্জনের আনন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উৎসবের শেষ পর্বে প্রশাসনের ভূমিকা

দুর্গাপুজোর আয়োজন শুধু পুজো মণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা দর্শন কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উৎসবের শেষ পর্বে প্রতিমা বিসর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুজোর দিনগুলিতে যেমন নিরাপত্তা ও জনপরিষেবার প্রয়োজন হয়, তেমনই বিসর্জনের সময়ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন থাকে।

বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হলে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব। নির্ধারিত ঘাটগুলির অবস্থা পর্যবেক্ষণ, মানুষের চলাচলের জায়গা চিহ্নিত করা, জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা—এসব বিষয় একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনার অংশ।

মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতিতে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ নির্ধারিত বিসর্জনের ঘাটগুলি পরিদর্শনের খবর এই প্রস্তুতির প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। তবে পরিদর্শনের সময় কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিংবা পরবর্তী সময়ে কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

বিসর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির আবেগ

বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি পরিবার, বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনেরও অন্যতম উপলক্ষ। পুজোর কয়েকটি দিন ধরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা, প্রতিমা দর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানোর পর বিসর্জনের দিন আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। আবার পরের বছর নতুন করে পুজোর অপেক্ষা শুরু হয়। এই ঐতিহ্য বহু প্রজন্ম ধরে বাংলার সামাজিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

বিসর্জনের সময় মানুষের আবেগ ও উৎসাহের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। উৎসবের আনন্দ যেন কোনও দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার কারণে ম্লান না হয়, তার জন্য প্রত্যেকের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।

বারাকপুরের বিসর্জন ঘাট নিয়ে নজর

বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ নির্ধারিত দুর্গাপুজোর বিসর্জনের ঘাটগুলি পরিদর্শনের খবর স্থানীয় এলাকার মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বিসর্জনের সময় ঘাটে কী ধরনের প্রস্তুতি থাকে এবং প্রশাসনিকভাবে পরিস্থিতি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক।

এই ধরনের পরিদর্শন ঘাটের পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে সাহায্য করতে পারে। তবে পরিদর্শনের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হয়েছে বা কোনও ঘাটে বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দাবি করতে হলে তার জন্য পৃথকভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন।

বিসর্জন সংক্রান্ত যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত নির্দেশিকা, যান চলাচল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ধারিত ঘাটের তথ্য অনুসরণ করাই সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

নিরাপদ বিসর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন

সুষ্ঠু বিসর্জন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসন, পুলিশ, পুজো কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনিক প্রস্তুতি থাকলেও সাধারণ মানুষ নিয়ম না মানলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। আবার পুজো কমিটিগুলি শৃঙ্খলা বজায় রাখলে এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে ভিড় সামলানো সহজ হয়।

প্রতিমা বহনকারী গাড়ির চলাচল, ঘাটে অপেক্ষার সময়, শোভাযাত্রার শৃঙ্খলা এবং জলাশয়ের ধারে নিরাপত্তা—প্রতিটি বিষয়েই সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিসর্জনের দিনগুলিতে কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সাহায্য পাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ জানা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।

বারাকপুরে নির্ধারিত বিসর্জনের ঘাটগুলি পরিদর্শনের ঘটনাটি তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের খবর নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উৎসবের শেষ পর্বে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার বৃহত্তর প্রয়োজনীয়তা।

কী জানা গেল এই পরিদর্শন সম্পর্কে?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ নির্ধারিত দুর্গাপুজোর প্রতিমা বিসর্জনের ঘাটগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। তবে পরিদর্শনের তারিখ, ঘাটগুলির নির্দিষ্ট নাম, উপস্থিত অন্যান্য আধিকারিকদের পরিচয়, পরিদর্শনের সময় দেওয়া নির্দেশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি।

তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে নির্ধারিত বিসর্জনের ঘাটগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট যান নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা কিংবা নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলে দাবি করার মতো তথ্য বর্তমানে নেই।

সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাঠকের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছয় এবং অনুমাননির্ভর তথ্যকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার ঝুঁকি কমে।

শেষ কথা

দুর্গাপুজোর শেষ পর্ব প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে মানুষের আবেগ যেমন থাকে, তেমনই থাকে সুষ্ঠু আয়োজনের প্রয়োজন। নির্ধারিত ঘাটগুলিতে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, যাতায়াত এবং জনসমাগম ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা এই পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ নির্ধারিত দুর্গাপুজোর বিসর্জনের ঘাটগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। এই খবরের মাধ্যমে বিসর্জন পর্বের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে।

সাধারণ মানুষের সহযোগিতা, পুজো কমিটিগুলির দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিসর্জন পর্ব আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে। উৎসবের আনন্দ অটুট রেখে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর্ব সম্পন্ন করাই সবার প্রত্যাশা।

।

Preview image