শহরে বড়দিন মানেই পার্ক স্ট্রিটের চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা। এবার দুর্গাপুজোর সময় সেই ধাঁচের আলোর রোশনাই দেখা যেতে পারে সল্টলেক ও নিউটাউনেও। পুজোর রাতকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আলো দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে কলকাতার পূর্ব প্রান্তে।
কলকাতার উৎসব মানেই আলো, রঙ আর আনন্দ। দুর্গাপুজো হোক কিংবা বড়দিন, উৎসবের মরশুমে শহরের রাস্তাঘাট নতুন রূপে সেজে ওঠে। তবে বড়দিনের সময় পার্ক স্ট্রিটের আলোকসজ্জা যে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। রঙিন আলো, আলোকসজ্জায় সাজানো রাস্তা এবং রাতের শহরের ঝলমলে পরিবেশ প্রতি বছরই কলকাতাবাসী এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
এবার সেই ধাঁচের আলোর উৎসবের আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে শহরের পূর্ব প্রান্তে। দুর্গাপুজোর সময় সল্টলেক এবং নিউটাউনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিশেষ আলোকসজ্জার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে পুজোর রাতে শুধুমাত্র মণ্ডপ দর্শন নয়, আলোয় সাজানো রাস্তা এবং শহরের সৌন্দর্যও হয়ে উঠতে পারে মানুষের অন্যতম আকর্ষণ।
দুর্গাপুজো কলকাতার অন্যতম বড় উৎসব। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—প্রায় প্রতিটি এলাকাই পুজোর সময় নতুন সাজে সেজে ওঠে। বিভিন্ন পুজো কমিটি নিজেদের মণ্ডপ, রাস্তা এবং আশপাশের এলাকা আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলে।
তবে এবার আলোর সাজে আরও বড় পরিসরে নজর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সল্টলেক এবং নিউটাউনকে ঘিরে। উদ্দেশ্য শুধু কয়েকটি পুজোমণ্ডপকে আলোয় সাজানো নয়, বরং বিস্তৃত এলাকার রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলিকে উৎসবের আবহে সাজিয়ে তোলা।
এর ফলে পুজোর সময় সন্ধ্যা নামার পর সল্টলেক এবং নিউটাউনের একাধিক রাস্তা নতুন রূপ পেতে পারে। বিভিন্ন রঙের আলো, আলোকসজ্জার থিম এবং উৎসবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো আলো রাতের শহরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
বড়দিনের সময় পার্ক স্ট্রিটের আলোকসজ্জা কলকাতার উৎসব সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। উৎসবের কয়েক দিন আগে থেকেই পার্ক স্ট্রিটের বিভিন্ন অংশ রঙিন আলোয় সাজতে শুরু করে। সন্ধ্যা নামার পর সেই আলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
শুধু কলকাতার বাসিন্দারাই নয়, শহরের বাইরে থেকেও অনেকে পার্ক স্ট্রিটের আলোকসজ্জা দেখতে আসেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, ছবি তোলা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরোনোর ক্ষেত্রে পার্ক স্ট্রিটের আলোর আকর্ষণ আলাদা।
এবার দুর্গাপুজোর সময় সল্টলেক-নিউটাউনেও যদি একই ধরনের বড় পরিসরের আলোকসজ্জা করা হয়, তাহলে পুজোর রাতের শহুরে বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাঙালির রাত জাগার সম্পর্ক বহু পুরনো। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী কিংবা দশমী—প্রতিটি দিনই রাত পর্যন্ত রাস্তায় মানুষের ভিড় থাকে। বিশেষ করে অষ্টমী ও নবমীর রাতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি রাস্তার খাবার, কেনাকাটা, আড্ডা এবং আলোকসজ্জা উপভোগ করেন মানুষ। ফলে পুজোর সময় শহরের রাস্তা শুধু যাতায়াতের পথ থাকে না, সেটিও উৎসবের অংশ হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে বড় পরিসরে আলোকসজ্জা করা হলে সল্টলেক এবং নিউটাউনের রাতের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
নিউটাউন গত কয়েক বছরে কলকাতার অন্যতম আধুনিক শহুরে অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রশস্ত রাস্তা, আধুনিক পরিকাঠামো, বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নিউটাউনের নিজস্ব একটি শহুরে পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
পুজোর সময় সেই আধুনিক শহুরে পরিবেশের সঙ্গে যদি পরিকল্পিত আলোকসজ্জা যুক্ত হয়, তাহলে নিউটাউনের রাতের চেহারা আরও বদলে যেতে পারে।
রাস্তার পাশে আলো, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিশেষ সাজসজ্জা, থিমভিত্তিক আলোকসজ্জা এবং পুজো উপলক্ষে নানা ধরনের আলোর ইনস্টলেশন—সব মিলিয়ে তৈরি হতে পারে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ।
সল্টলেকও কলকাতার পুজো সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম। বড় বড় পুজো, বিভিন্ন থিমের মণ্ডপ এবং মানুষের ব্যাপক সমাগমের জন্য পুজোর সময় সল্টলেকের বিভিন্ন এলাকা জমজমাট হয়ে ওঠে।
এবার আলোকসজ্জার উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলে সল্টলেকের বিভিন্ন সেক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা উৎসবের নতুন আবহ পেতে পারে।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যখন মণ্ডপগুলিতে ভিড় বাড়তে শুরু করবে, তখন রাস্তার আলোকসজ্জা পুজোর পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে।
উৎসবকেন্দ্রিক আলোকসজ্জা এখন শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়। এটি শহরের পর্যটন ও বিনোদনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
বড়দিনে পার্ক স্ট্রিটের আলোকসজ্জা যেমন কলকাতার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে, তেমনই দুর্গাপুজোর সময় সল্টলেক ও নিউটাউনের আলোকসজ্জাও ভবিষ্যতে শহরের উৎসব পর্যটনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।
কলকাতার দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পরিচিত। পুজোর মণ্ডপ, প্রতিমা, থিম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাস্তার পরিবেশ দেখতে প্রতি বছর বহু মানুষ শহরে আসেন।
এর সঙ্গে যদি পরিকল্পিত আলোকসজ্জা যুক্ত হয়, তাহলে পুজোর রাতের শহর ঘোরার অভিজ্ঞতাও আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।
বর্তমান সময়ে উৎসবের সঙ্গে ছবি তোলা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বা ভিডিও প্রকাশের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। কোনও সুন্দর আলোকসজ্জা হলেই সেখানে মানুষের ভিড় বাড়ে।
সল্টলেক-নিউটাউনে বড় পরিসরে আলোকসজ্জা করা হলে পুজোর সময় সেখানে ছবি তোলার জন্য মানুষের আগ্রহ বাড়তে পারে। পরিবার, বন্ধুদের দল কিংবা তরুণ-তরুণীদের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন নতুন ফটো স্পট।
আলোর নকশা যদি থিমভিত্তিক হয়, তাহলে প্রতিটি অংশে আলাদা আলাদা আকর্ষণ তৈরি করা সম্ভব। ফলে পুজোর রাতে ঘোরার তালিকায় নতুন জায়গা যোগ হতে পারে।
বড় কোনও উৎসবের সঙ্গে মানুষের বিপুল সমাগম জড়িত থাকে। তাই আলোকসজ্জার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাস্তার আলো বসানোর ক্ষেত্রে যান চলাচলে যাতে সমস্যা না হয়, পথচারীদের চলাচলের জায়গা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং জরুরি পরিষেবার গাড়ি যাতে সহজে চলাচল করতে পারে—সেই বিষয়গুলির দিকে নজর দিতে হবে।
পুজোর সময় এমনিতেই বিভিন্ন রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। তার সঙ্গে আলোকসজ্জা দেখতে অতিরিক্ত মানুষ জমায়েত হলে ট্রাফিকের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
তাই পরিকল্পিত আলোকসজ্জার পাশাপাশি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বড় পরিসরে আলোকসজ্জা মানেই বিদ্যুতের ব্যবহার। তাই উৎসবের আলোয় সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন।
আধুনিক LED আলো ব্যবহার করলে তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ খরচ করে বেশি উজ্জ্বলতা পাওয়া সম্ভব। নির্দিষ্ট সময়ের পরে আলো বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়।
পরিবেশবান্ধব এবং শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলোকসজ্জা করলে উৎসবের আনন্দের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় রাখা সম্ভব।
পুজোর সময় কোনও এলাকায় মানুষের আনাগোনা বাড়লে স্থানীয় ব্যবসার উপর তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, দোকান, শপিং সেন্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মানুষের বাড়তি উপস্থিতি থেকে উপকৃত হতে পারে।
সল্টলেক ও নিউটাউনের মতো বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আলোকসজ্জার কারণে মানুষের চলাচল বাড়লে স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও উৎসবের আমেজ তৈরি হতে পারে।
অনেক পরিবার পুজোর সময় শুধু মণ্ডপ দেখতে বেরোয় না, পাশাপাশি রেস্তোরাঁয় খাওয়া, কেনাকাটা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনাও করে। তাই আলোকসজ্জা একটি এলাকার সামগ্রিক উৎসব অর্থনীতিকে সক্রিয় করতে পারে।
কলকাতার বিভিন্ন উৎসবের নিজস্ব আলাদা পরিচয় রয়েছে। বড়দিনের সঙ্গে পার্ক স্ট্রিটের আলো যেমন জড়িয়ে গেছে, তেমনই দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মণ্ডপ, প্রতিমা এবং থিমের বৈচিত্র্য।
এবার যদি সল্টলেক-নিউটাউনে বড় পরিসরের আলোকসজ্জা হয়, তাহলে দুর্গাপুজোর উৎসবেও আলোর একটি আলাদা পরিচয় তৈরি হতে পারে।
একটি নির্দিষ্ট এলাকার রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিকে কেন্দ্র করে আলোকসজ্জা করা গেলে তা ভবিষ্যতে প্রতি বছর পুজোর একটি নিয়মিত আকর্ষণে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতা এমনিতেই রাতের শহর হিসেবে পরিচিত। পুজোর সময় সেই রাতের শহর আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজো থেকে দক্ষিণ কলকাতার থিমের মণ্ডপ—সব জায়গাতেই রাতভর মানুষের ভিড় দেখা যায়।
সল্টলেক ও নিউটাউনে বড় পরিসরের আলোকসজ্জা যুক্ত হলে কলকাতার পুজোর রাতের মানচিত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।
মানুষের কাছে তখন পুজো মানে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় ঘোরাঘুরি নয়, শহরের পূর্ব প্রান্তেও রাতের আলোর সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ থাকবে।
দুর্গাপুজোর আগে থেকেই কলকাতায় সাজসজ্জার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। প্যান্ডেল তৈরি, প্রতিমা গড়া, রাস্তা পরিষ্কার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আলোকসজ্জার কাজ—সব মিলিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে ওঠে।
তার মধ্যেই সল্টলেক ও নিউটাউনকে ঘিরে বড় পরিসরের আলোকসজ্জার ভাবনা শহরবাসীর আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুজোর রাতে এই দুই এলাকার রাস্তা হয়ে উঠতে পারে শহরের অন্যতম আকর্ষণ।
পার্ক স্ট্রিটের বড়দিনের আলো যেমন কলকাতার উৎসবের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, তেমনই ভবিষ্যতে সল্টলেক-নিউটাউনের পুজোর আলোও শহরের উৎসব সংস্কৃতিতে নতুন পরিচয় তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোর সময় সল্টলেক ও নিউটাউনে পার্ক স্ট্রিটের ধাঁচের আলোকসজ্জার উদ্যোগ সফল হলে কলকাতার উৎসবের পরিসরে একটি নতুন মাত্রা যোগ হবে। মণ্ডপ দর্শনের পাশাপাশি আলোয় সাজানো রাস্তা, ছবি তোলা, পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং রাতের শহর উপভোগ—সব মিলিয়ে পুজোর আনন্দ আরও বাড়তে পারে।
এখন নজর থাকবে, পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং শেষ পর্যন্ত পুজোর রাতে সল্টলেক ও নিউটাউনের রাস্তাগুলি কতটা ঝলমলে হয়ে ওঠে। শহরবাসীর অপেক্ষা, এবার কি দুর্গাপুজোর আলোয় নতুন ‘পার্ক স্ট্রিট’ হয়ে উঠবে কলকাতার পূর্ব প্রান্ত?