দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়তেই কৃষ্ণনগরজুড়ে শুরু হয়েছে মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পঞ্চমীর আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যে রাতদিন ব্যস্ত আলোকশিল্পীরা। শহরের পুজোকে আরও ঝলমলে করে তুলতে চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়।
দুর্গাপুজোর আবহ ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। ঢাকের বাদ্যি, প্যান্ডেলের কাঠামো, প্রতিমার সাজসজ্জা, রঙের কাজ—সব মিলিয়ে উৎসবের শহরগুলি ধীরে ধীরে নতুন রূপ নিতে শুরু করেছে। কৃষ্ণনগরও তার ব্যতিক্রম নয়। পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মণ্ডপসজ্জা ও রঙের কাজের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আলোকসজ্জায়। আর সেই আলোর কাজ শেষ করার লক্ষ্যেই এখন রাতদিন এক করে কাজ করে চলেছেন কৃষ্ণনগরের আলোকশিল্পীরা।
পঞ্চমীর আগেই শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিকে আলোর সাজে সাজিয়ে তোলার তাড়া রয়েছে। ফলে সময় যত কমছে, কাজের চাপও তত বাড়ছে। দিনের আলো ফোটার সঙ্গে শুরু হচ্ছে কাজ, অনেক ক্ষেত্রে রাত পর্যন্ত চলছে প্রস্তুতি। কোথাও আলো বসানোর কাজ, কোথাও কাঠামো তৈরি, কোথাও আবার আলো জ্বালিয়ে দেখে নেওয়া হচ্ছে সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে কি না। উৎসবের আগে শেষ মুহূর্তে কোনও সমস্যা যাতে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হচ্ছে শিল্পীদের।
দুর্গাপুজোর সঙ্গে আলোকসজ্জার সম্পর্ক বহুদিনের। সন্ধ্যা নামার পর আলোয় ঝলমলে মণ্ডপ, রাস্তার দু’ধারে আলোর সাজ, বিভিন্ন নকশা ও আলোকচিত্র—সবকিছু মিলিয়েই পুজোর পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। প্রতিমা দর্শনে বেরোনো মানুষদের কাছে তাই মণ্ডপের পাশাপাশি আলোকসজ্জাও একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। কৃষ্ণনগরের মতো ঐতিহ্যবাহী শহরে সেই আলোর কাজকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে আলাদা ব্যস্ততা।
পুজোর দিনগুলিতে একটি মণ্ডপের সৌন্দর্য শুধু প্রতিমা বা থিমের উপর নির্ভর করে না। প্রবেশপথ থেকে শুরু করে মণ্ডপের চারপাশ, রাস্তার সংযোগস্থল এবং বিভিন্ন অংশের সাজসজ্জা—সব মিলিয়ে তৈরি হয় একটি সম্পূর্ণ পরিবেশ। আলোর পরিকল্পনা সেই পরিবেশকে আরও জীবন্ত করে তোলে। কখনও স্থির আলো, কখনও বিভিন্ন রঙের আলো, কখনও নকশা করা আলোকসজ্জা—বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেন আলোকশিল্পীরা।
এই কাজ যতটা বাইরে থেকে ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তা ততটাই পরিশ্রমসাপেক্ষ। একটি আলোকসজ্জা তৈরি করতে শুধু বাতি লাগালেই হয় না। আগে প্রয়োজন পরিকল্পনা। কোথায় কোন আলো থাকবে, কীভাবে তার সংযোগ করা হবে, কোন অংশে কতটা আলো প্রয়োজন, কীভাবে পুরো কাঠামোটি দৃশ্যমান হবে—এসব বিষয় ভেবেই কাজ করতে হয়।
তারপর আসে কাঠামো তৈরির কাজ। অনেক সময় বাঁশ, লোহার কাঠামো বা অন্যান্য উপকরণের সাহায্যে আলোর নকশা তৈরি করা হয়। সেই কাঠামোর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আলো বসানো হয়। কোথাও ছোট ছোট বাল্ব, কোথাও এলইডি আলো, আবার কোথাও নকশা অনুযায়ী বিশেষ আলোকসজ্জা ব্যবহার করা হয়। সবশেষে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয় পুরো ব্যবস্থাটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না।
পঞ্চমীর আগে কাজ শেষ করার চাপের কারণও রয়েছে। পুজোর মূল দিনগুলিতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় শুরু হয়ে যায়। তাই তার আগেই মণ্ডপ এবং আশপাশের এলাকা প্রস্তুত রাখতে হয়। শেষ মুহূর্তে যদি আলোর কাজ অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে পুজোর পরিবেশে তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই আলোকশিল্পীদের কাছে পঞ্চমী একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হয়ে উঠেছে।
কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন এলাকায় এখন সেই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততাই চোখে পড়ছে। কোথাও শিল্পীরা মাটিতে বসে আলোর অংশ তৈরি করছেন, কোথাও আবার উঁচু কাঠামোয় উঠে আলো বসানোর কাজ চলছে। কোথাও তৈরি হচ্ছে প্রবেশপথের আলোকসজ্জা, আবার কোথাও মণ্ডপের নির্দিষ্ট অংশকে আলোর মাধ্যমে আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।
একদিকে সময়ের চাপ, অন্যদিকে কাজের নিখুঁততা বজায় রাখার দায়িত্ব—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এগোতে হচ্ছে শিল্পীদের। কারণ আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে ছোট একটি ভুলও পুরো নকশাকে প্রভাবিত করতে পারে। একটি আলো ঠিকমতো না জ্বললে পুরো ডিজাইনের সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। আবার বিদ্যুৎ সংযোগের কোনও সমস্যা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা ঠিক করার জন্য সময় কম পাওয়া যায়।
তাই আলোকশিল্পীদের কাজের বড় অংশই আসলে পরীক্ষা ও প্রস্তুতির মধ্যে দিয়ে যায়। শুধু আলো লাগানো নয়, প্রতিটি সংযোগ, তার এবং আলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করাও জরুরি। পুজোর রাতে যাতে আচমকা কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য আগেভাগেই যতটা সম্ভব প্রস্তুতি সেরে রাখতে হয়।
একসময় পুজোর আলোকসজ্জা বলতে মূলত সাধারণ বাল্ব বা ছোট ছোট আলো দিয়ে মণ্ডপ ও রাস্তা সাজানো বোঝানো হত। সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলেছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে আলোকসজ্জাতেও এসেছে নানা পরিবর্তন। এখন আলো দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের নকশা ও দৃশ্য। রঙের পরিবর্তন, আলো জ্বলা-নেভার বিভিন্ন ছন্দ এবং নির্দিষ্ট আকারের আলোকসজ্জা মণ্ডপের সৌন্দর্যকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।
তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, এর পেছনে প্রয়োজন দক্ষ মানুষের। একটি নকশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আলোকশিল্পীদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। কোথায় আলো বসালে দূর থেকে ভালো দেখা যাবে, কোন উচ্চতায় কোন আলো বসানো উচিত, কীভাবে দর্শনার্থীদের চলাচলের জায়গা খোলা রাখা যায়—এসব বিষয় কাজের সময় মাথায় রাখতে হয়।
পুজোর সময় রাতের শহর আলোর শহরে পরিণত হয়। কৃষ্ণনগরেও সেই দৃশ্য দেখতে অপেক্ষা করে থাকেন সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যার পর যখন একে একে মণ্ডপের আলো জ্বলে ওঠে, তখন দিনের ব্যস্ত শহর বদলে যায় উৎসবের শহরে। এই পরিবর্তনের পেছনে যারা নেপথ্যে কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে আলোকশিল্পীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুজোর আগে শেষ কয়েকদিন আলোকশিল্পীদের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত সময়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য অনেক সময় সাধারণ কর্মঘণ্টার বাইরে গিয়েও কাজ করতে হয়। দিনের বেলায় কাঠামো তৈরির কাজ, সন্ধ্যার পরে আলো পরীক্ষা—এইভাবে সময় ভাগ করে এগোতে হয়।
কোনও কোনও কাজ আবার দিনের আলোয় করা সম্ভব হয় না। রাতের অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে দেখতে হয় আসল নকশাটি কেমন দেখাচ্ছে। ফলে রাতেও কাজ করতে হয় শিল্পীদের। কোথাও আলো জ্বালিয়ে দূর থেকে দেখা হচ্ছে, কোথাও আবার কোনও অংশ বেশি উজ্জ্বল হয়ে যাচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই কারণেই পঞ্চমীর আগে কৃষ্ণনগরের আলোকশিল্পীদের কাছে সময় যেন সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা কাজে লাগাতে হচ্ছে।
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এর সঙ্গে যুক্ত থাকে বহু মানুষের জীবিকা। প্রতিমাশিল্পী, মণ্ডপশিল্পী, রংমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, বিদ্যুৎকর্মী, আলোকশিল্পী, পরিবহণকর্মী—অসংখ্য মানুষ পুজোর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন।
আলোকসজ্জার ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক স্তরের কাজ। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে কাঠামো তৈরি, আলো জোড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ, পরীক্ষা এবং শেষ মুহূর্তের রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি পর্যায়েই প্রয়োজন দক্ষ কর্মীর।
ফলে পুজোর মরসুম অনেক পরিবারের জন্য অতিরিক্ত কাজের সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে যাঁরা সারা বছর বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জার কাজ করেন, তাঁদের কাছে দুর্গাপুজো একটি গুরুত্বপূর্ণ মরসুম।
কৃষ্ণনগরের শিল্পীরা এখন সেই ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই রয়েছেন। পুজোর আনন্দ যাতে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সুন্দর হয়ে পৌঁছয়, তার জন্য নিজেদের সময় ও শ্রম উজাড় করে দিচ্ছেন তাঁরা।
বর্তমানে আলোকসজ্জাকে মণ্ডপসজ্জা থেকে আলাদা করে দেখা হয় না। মণ্ডপের থিম বা নকশার সঙ্গে মিল রেখেই অনেক সময় আলোর পরিকল্পনা করা হয়। একটি ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপ হলে এক ধরনের আলো, আবার আধুনিক বা থিমভিত্তিক মণ্ডপ হলে অন্য ধরনের আলোকসজ্জা প্রয়োজন হতে পারে।
প্রবেশপথও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দর্শনার্থীরা প্রথমে যে অংশটি দেখেন, সেটিই অনেক সময় মণ্ডপের প্রথম পরিচয় তৈরি করে। তাই প্রবেশপথে আলোর নকশাকে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা থাকে। এরপর মণ্ডপের মূল অংশ এবং চারপাশের সাজসজ্জার সঙ্গে সেই আলোকে মিলিয়ে নেওয়া হয়।
আলোকশিল্পীদের কাজ তাই শুধু বিদ্যুতের আলো বসানো নয়; এর মধ্যে রয়েছে নকশা, সৌন্দর্যবোধ এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা।
পুজোয় মণ্ডপ দর্শন করতে বেরোনো মানুষের কাছে আলোকসজ্জা অনেক সময় আলাদা আকর্ষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মণ্ডপে ভিড় বাড়তে শুরু করলে আলোয় সজ্জিত রাস্তা এবং মণ্ডপের ছবি তুলতে দেখা যায় অনেককে।
বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমের কারণে আলোকসজ্জার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কোনও মণ্ডপের আকর্ষণীয় আলো দ্রুত ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে পুজো কমিটিগুলিও আলোকসজ্জার দিকে বিশেষ নজর দেয়।
একটি সুন্দর আলোকসজ্জা শুধু মণ্ডপের সৌন্দর্য বাড়ায় না, পুরো এলাকার উৎসবের আবহকেও বদলে দেয়। অন্ধকার রাস্তা আলোর মালায় সাজলে মানুষের চলাচলের পরিবেশও আরও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
পঞ্চমী যত এগিয়ে আসছে, ততই সময়ের চাপ বাড়ছে। কিন্তু তাড়াহুড়ো করলেও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ, তারের অবস্থান, সুইচিং ব্যবস্থা এবং আলোর কাঠামো—সবকিছু যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মণ্ডপে যখন হাজার হাজার মানুষ আসবেন, তখন বিদ্যুৎ সংক্রান্ত নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলোকসজ্জা যতই সুন্দর হোক, সেটি নিরাপদ না হলে সেই সৌন্দর্যের কোনও মূল্য থাকে না।
তাই শেষ মুহূর্তে আলোর কাজ শেষ করার পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পীদের কাজ শুধু সময়মতো আলো জ্বালানো নয়, নিরাপদভাবে সেই আলো জ্বালানোও।
এখন কৃষ্ণনগরে দিনের ব্যস্ততার পাশাপাশি রাতেও কাজ চলছে। অন্ধকার নামার পর বিভিন্ন জায়গায় যখন পরীক্ষামূলকভাবে আলো জ্বলে উঠছে, তখন বোঝা যাচ্ছে পুজো আর খুব বেশি দূরে নেই।
একটি একটি করে আলো জ্বলছে, তৈরি হচ্ছে আলোর নকশা। কোথাও পুরো কাঠামো এখনও অসম্পূর্ণ, কোথাও আবার কাজ প্রায় শেষ। কোথাও শিল্পীরা শেষ মুহূর্তে সংযোগ পরীক্ষা করছেন। সব মিলিয়ে পুজোর আগে শহরের কর্মব্যস্ত ছবি ধরা পড়ছে।
এই ব্যস্ততার মধ্যেই অপেক্ষা পঞ্চমীর। সেই দিন থেকে যখন দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়বে, তখন আলোকশিল্পীদের রাতদিনের পরিশ্রমের ফল দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ।
পুজোর সময় আমরা সাধারণত যে দৃশ্য দেখি, তা হল ঝলমলে মণ্ডপ, প্রতিমা, আলোর নকশা এবং মানুষের ভিড়। কিন্তু সেই দৃশ্য তৈরি হওয়ার আগে কত মানুষের পরিশ্রম থাকে, তা অনেক সময় চোখের আড়ালে থেকে যায়।
আলোকশিল্পীরা সেই নেপথ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারিগর। তাঁরা কাজ করেন যখন শহরের অধিকাংশ মানুষ পুজোর আনন্দের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ কেনাকাটা করছেন—আর শিল্পীরা তখন আলোর কাঠামো নিয়ে ব্যস্ত।
তাঁদের লক্ষ্য একটাই—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুন্দর, আকর্ষণীয় এবং নিরাপদ আলোকসজ্জা তৈরি করা।
পুজোর রাতে মানুষ যখন মণ্ডপে গিয়ে আলো দেখে মুগ্ধ হবেন, তখন সেই আলোর পেছনে থাকা শ্রমের কথা হয়তো সবাই মনে রাখবেন না। কিন্তু সেই আলো জ্বালানোর জন্য পুজোর আগের দিনগুলিতে শিল্পীদের যে পরিশ্রম, তা উৎসবেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দুর্গাপুজোর সঙ্গে আলো ও আনন্দের সম্পর্ক গভীর। সন্ধ্যার পর ঢাকের শব্দ, ধূপের গন্ধ, মণ্ডপের সামনে মানুষের ভিড় এবং চারপাশে ঝলমলে আলো—সবকিছু মিলে তৈরি হয় পুজোর পরিবেশ।
আলো সেই পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে। একটি মণ্ডপ দিনের বেলায় যেমন দেখায়, রাতের আলোয় তার চেহারা সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। সঠিক আলোকসজ্জা স্থাপত্যের বিভিন্ন অংশকে তুলে ধরে, প্রতিমাকে আরও স্পষ্ট করে এবং দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
এই কারণেই পুজোর প্রস্তুতিতে আলোকসজ্জাকে শেষ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির মধ্যে ধরা হয়।
এখন লক্ষ্য একটাই—পঞ্চমীর আগে কাজ শেষ করা। সময় হাতে কম, কাজ অনেক। তাই কৃষ্ণনগরের আলোকশিল্পীদের ব্যস্ততাও চরমে।
মণ্ডপসজ্জার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে আলোর কাজ। যেখানে এখনও কিছু অংশ বাকি, সেখানে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেখানে আলো বসানো হয়ে গিয়েছে, সেখানে পরীক্ষা চলছে। কোথাও আবার শেষ মুহূর্তে নকশায় পরিবর্তন বা সংযোজনের কাজ হতে পারে।
সব মিলিয়ে পুজোর আগের এই কয়েকটি দিন শিল্পীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শহরবাসীর অপেক্ষা এখন পুজোর দিনের জন্য। মণ্ডপগুলি যখন সম্পূর্ণ সাজে সেজে উঠবে, প্রতিমা যখন দর্শনার্থীদের সামনে আসবে এবং সন্ধ্যার পর একে একে আলোগুলি জ্বলে উঠবে, তখন বোঝা যাবে এই কয়েকদিনের ব্যস্ততার ফল।
আলোকশিল্পীদের তৈরি আলোর নকশা তখন হয়ে উঠবে পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। মানুষ মণ্ডপে আসবেন, ছবি তুলবেন, আলো দেখবেন, পুজোর আনন্দ উপভোগ করবেন।
আর সেই দৃশ্যের নেপথ্যে থাকবে পঞ্চমীর আগে রাতদিন পরিশ্রম করা মানুষগুলির অবদান।
দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, কৃষ্ণনগরের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। একদিকে মণ্ডপসজ্জার কাজ, অন্যদিকে প্রতিমার শেষ প্রস্তুতি, রঙের কাজ এবং সাজসজ্জা। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে আলোর কাজ।
পুজোর ঢাক বেজে গিয়েছে। এখন আর দীর্ঘ প্রস্তুতির সময় নেই। হাতে রয়েছে অল্প কয়েকটি দিন। সেই সময়ের মধ্যেই শহরকে উৎসবের সাজে সাজিয়ে তুলতে হবে।
এই শেষ দৌড়েই রাতদিন ব্যস্ত কৃষ্ণনগরের আলোকশিল্পীরা।
তাঁদের হাতেই তৈরি হচ্ছে সেই আলো, যা পুজোর রাতে শহরকে নতুন করে চিনিয়ে দেবে। সন্ধ্যা নামার পর যখন কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন প্রান্তে আলো জ্বলে উঠবে, তখন তার ঝলকানির মধ্যে মিশে থাকবে শিল্পীদের ঘাম, পরিশ্রম, দক্ষতা এবং সময়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প।
পঞ্চমীর আগে কাজ শেষ করার তাড়া তাই শুধু একটি সময়সীমা পূরণের তাড়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের পুজোর আনন্দকে সম্পূর্ণ করে তোলার দায়িত্ব।
দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ। আর সেই আবেগকে আরও রঙিন করে তুলতে আলোর কারিগরদের এই পরিশ্রমও উৎসবেরই একটি অংশ।
পঞ্চমীর আগে শেষ হবে কাজ, তারপরই আলোয় আলোয় সেজে উঠবে কৃষ্ণনগর—অপেক্ষা এখন সেই মুহূর্তের।