তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে থিরুপ্পারাঙ্কুন্দ্রম মুরুগান মন্দিরের প্রদীপ স্থাপন ইস্যু। কার্তিগাই দীপম উৎসবকে ঘিরে প্রাচীন পাথরের স্তম্ভে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন নিয়ে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায়, হিন্দু সংগঠন এবং বিজেপি সরব হয়। তাদের অভিযোগ DMK সরকার ধর্মীয় ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ করছে এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে। এই পরিস্থিতিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করে জানায় শর্তসাপেক্ষে প্রদীপ স্থাপন করা যেতে পারে, তবে প্রত্নসম্পদ সুরক্ষা আইন মেনেই।
তামিলনাড়ুর রাজনীতি গত কয়েক দিনে প্রবলভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কার্তিগাই দীপম উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন নিয়ে জোর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে সেই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে "ইচ্ছাকৃত অবহেলার" অভিযোগ তুলেছেন।
এই দুই আলোচ্য বিষয় আলাদাভাবে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক হলেও, বাস্তবে তা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক আবহকে আরও ঘনীভূত করছে।
মাদুরাই জেলার ঐতিহাসিক থিরুপ্পারাঙ্কুন্দ্রম মুরুগান মন্দির বহু শতকের পুরনো হিন্দু আস্থার কেন্দ্র। এখানে কার্তিগাই দীপম উৎসবের সময় একটি নির্দিষ্ট পাথরের স্তম্ভের উপরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের রীতি চলে আসছে।
কিন্তু এই বছর মন্দির প্রশাসনের মত—
আদালত অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত প্রদীপ সেই স্তম্ভে রাখা যাবে না, কারণ সেটি একটি "অতিমূল্যবান প্রত্নসম্পদ"।
এই অবস্থানকে ঘিরেই বিতর্কের সূচনা।
হিন্দু সংগঠনগুলো দাবি করে—
"এটি আমাদের প্রাচীন রীতি। প্রশাসন ধর্মীয় প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে।"
ফলে বিষয়টি আদালতে ওঠে এবং মাদ্রাজ হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়—
মন্দির কর্তৃপক্ষ চাইলে আদালত–নির্দেশের সীমার মধ্যে থেকে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতে পারবে।
এই নির্দেশ DMK সরকারের বিরুদ্ধে "ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতিবন্ধকতা" অভিযোগ তোলার সুযোগ করে দেয় বিরোধী দলগুলোর কাছে।
বিজেপি এবং তামিল হিন্দু সংগঠনগুলোর অভিযোগ—
DMK ও মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন "হিন্দুদের ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ করছেন"।
অপরদিকে DMK নেতৃত্বের দাবি—
তারা শুধু "আইন ও প্রত্নসম্পদ সুরক্ষার" নিয়ম মেনে কাজ করছে।
DMK সূত্র NDTV–কে বলেছে—
“আমরা হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষা করছি। আদালত যা বলেছে, তা মেনেই কাজ চলছে। বিজেপি ইচ্ছে করে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।”
এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন সাংবাদিকদের সামনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন—
“তামিলনাড়ুর মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা মন্দিরের স্তম্ভে প্রদীপ চান, নাকি মেট্রো রেল, AIIMS, স্মার্ট শহর, উন্নত রাস্তাঘাট চান।”
এই বক্তব্যই পুরো বিতর্ককে নতুন মাত্রা দেয়।
স্টালিন অভিযোগ করেন—
মাদুরাই মেট্রো রেল প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে
AIIMS–এর নির্মাণকাজ দ্রুত করা হয়নি
কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পে তামিলনাড়ুকে "ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা" করছে
স্টালিনের পরিষ্কার ইঙ্গিত—
ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করা হচ্ছে।
এখানেই বিতর্ক ধর্মীয়তা থেকে সরাসরি উন্নয়ন–রাজনীতিতে রূপ নেয়।
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিসরে ধর্মীয় অনুভূতি এবং উন্নয়ন—এই দুই মেরুর সংঘর্ষ বহুদিনের। তবে এবার থিরুপ্পারাঙ্কুন্দ্রম মুরুগান মন্দিরের দীপ–বিতর্ক এমন সময় সামনে এসেছে যখন রাজ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এই কারণে ঘটনাটি কেবলমাত্র দেবদেবীর উপাসনা বা প্রত্নসামগ্রী রক্ষার তাত্ত্বিক বিষয় নয়—এটি কার্যত বড় রাজনৈতিক ও জনমত–সংক্রান্ত প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
মন্দিরে প্রদীপ স্থাপন নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ ওঠার পরই বিজেপি–ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ব্যাপক প্রতিবাদ দেখায়।
তাদের দাবি—
DMK মন্দির–সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে ইচ্ছাকৃত অমান্যতা করছে
মন্দিরের রীতি বহু শতাব্দীর, তাই তা প্রশাসনের দ্বারা বদলানো যাবে না
সরকার ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ নামে হিন্দু–আচার অনুষ্ঠানকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে
একটি সংগঠনের নেতা NDTV–কে বলেন—
“মন্দিরে প্রদীপ দেওয়া কেবল একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের ভক্তির প্রতীক। সরকার সেটা বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে আঘাত করছে।”
অন্যদিকে বিজেপি সরাসরি এই ইস্যুতে রাজ্যের DMK সরকারকে নিশানা করেছে।
তামিলনাড়ু BJP সভাপতি আনামলাই বলেছেন—
“DMK সরকার হিন্দুদের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করছে। তারা আদালতের আদেশকে ভুল ব্যাখ্যা করে শাস্ত্রীয় রীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।”
বিজেপির দাবি—
DMK ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে খেলছে
তারা ইচ্ছাকৃতভাবে হিন্দু–উৎসবগুলোতে বাধা দিচ্ছে
মন্দির বিষয়ক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নেই
সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় ঐতিহ্য পরিবর্তন করছে
এটা স্পষ্ট—তামিলনাড়ু BJP এই ইস্যুকে জনমত–সংগ্রামের বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, বিশেষত দক্ষিণ ভারতে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে।
DMK সূত্র NDTV–কে জানিয়েছে—
“আমরা ধর্মের বিরুদ্ধে নই। আদালতের নির্দেশ, প্রত্নসম্পদ সুরক্ষা আইন এবং মন্দির প্রশাসনের পরামর্শ—সব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
DMK–র বক্তব্য:
আদালত প্রদীপ স্থাপন নিয়ে শর্তযুক্ত অনুমতি দিয়েছে
DMK সরকার ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করেনি
BJP উত্তেজনা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে
মন্দির প্রশাসনই পাথরের স্তম্ভকে “সংরক্ষিত সম্পদ” ঘোষণা করেছে
এই অবস্থান DMK–র সাধারণ রাজনৈতিক নীতি—ধর্মীয় কঠোর অবস্থান থেকে নিজেদের দূরে রাখার প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা।
মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ:
পাথরের স্তম্ভটি প্রাচীন প্রত্নসম্পদ—সঠিক সুরক্ষার প্রয়োজন
ধর্মীয় রীতি বজায় রেখে একটি নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা করা যেতে পারে
প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে
আদালতের নির্দেশ অনুসারে মন্দির কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট জায়গায় প্রদীপ স্থাপন করে ঐতিহ্য বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।
এই নির্দেশ DMK সরকারের জন্য রাজনৈতিক স্বস্তি নিয়ে আসে, তবে বিরোধীরা এটিকে "আদালত দ্বারা বাধ্যতামূলক করা স্বীকারোক্তি" হিসেবে ব্যবহার করে প্রচারের অস্ত্র বানাতে থাকে।
বিতর্ক যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন স্পষ্টভাবে উন্নয়ন–কেন্দ্রিক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন—
“ল্যাম্প–পিলার নিয়ে রাজনীতি নয়। মাদুরাইয়ের উন্নয়নই প্রধান। কেন্দ্র সরকার বহু প্রকল্পে অযথা দেরি করছে।”
স্টালিন উল্লেখ করেন—
মাদুরাই মেট্রো রেল প্রকল্প
AIIMS হাসপাতাল নির্মাণ
জাতীয় সড়ক উন্নয়ন
রেল প্রকল্পে তহবিলের ঘাটতি
তিনি অভিযোগ করেন—
কেন্দ্র তামিলনাড়ুর উন্নয়ন প্রকল্পে উপেক্ষা করছে
রাজ্যের আবেদন বারবার আটকে দেওয়া হচ্ছে
বিনা কারণে অনুমোদন দেরি হচ্ছে
স্টালিনের বার্তা স্পষ্ট—
এই বিতর্ক আসলে ধর্ম নিয়ে নয়, উন্নয়ন নিয়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—
স্টালিন খুব সচেতনভাবে উন্নয়ন প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন, কারণ:
DMK সবসময় যুক্তিবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনার দল।
এ অবস্থায় ধর্মীয় বিতর্ক DMK–র পক্ষে সুবিধাজনক নয়।
প্রকল্প, তহবিল, পরিকাঠামো—এসব বিষয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করলে জনমতের সহানুভূতি পাওয়া যায়।
এখানে ভোটব্যাংক ধরতে কেন্দ্র–বিরোধী উন্নয়ন বক্তব্য কার্যকর।
তামিলনাড়ুর ভোটার সাধারণত উন্নয়ন, শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক কল্যাণকে গুরুত্ব দেন।
ধর্মীয় মেরুকরণ নয়—সমাজ, শিক্ষা ও পরিকাঠামোই DMK–র মূল ভিত্তি।
এই কারণেই স্টালিন সরাসরি বলেন—
“মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন—দীপ চান, নাকি উন্নয়ন চান?”
এ বক্তব্য বিরোধীদের পালটা চাপের মুখে ফেলে দেয়।
তামিলনাড়ুর মন্দির দীপ–বিতর্ক ও মুখ্যমন্ত্রী স্টালিনের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আক্রমণ শুধুই একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়। এর পেছনে রয়েছে বহু বছরের কেন্দ্র–রাজ্য টানাপড়েন, দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক অভিমত এবং উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকৃত অগ্রগতির অভাব।
এই অধ্যায়ে আমরা সেই সমস্ত বিষয় বিশদভাবে তুলে ধরছি।
গত কয়েক বছরে তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক খুব একটা সরল ছিল না।
মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন একাধিকবার অভিযোগ করেছেন:
তামিলনাড়ুর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনে কেন্দ্র ইচ্ছাকৃত দেরি করছে
GST ক্ষতিপূরণ সময়মতো ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি
কেন্দ্রীয় সরকারি পরিকল্পনায় দক্ষিণ রাজ্যগুলোকে তুলনামূলক কম তহবিল দেওয়া হচ্ছে
DMK নেতৃত্ব এটিকে “কোঅপরেটিভ ফেডারালিজমের ব্যর্থতা” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তামিলনাড়ুর দাবি—
মাদুরাইয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে মেট্রো প্রকল্পের প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরি।
কিন্তু অভিযোগ, কেন্দ্র ১ বছর ধরে Detailed Project Report (DPR) অনুমোদন না দিয়ে রেখেছে।
AIIMS–এর কাজ বারবার স্থগিত হওয়ায় স্টালিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি NDTV–কে বলেন—
“এআইআইএমএস বহু বছর ধরে অদৃশ্য প্রকল্প হয়েই রইল। অনুমোদন পেলাম, জমি দিলাম—কিন্তু কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করল না।”
মাদুরাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের “অতিরিক্ত যাচাই” প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে কাজ এগোচ্ছে না।
গ্রামীণ রেললাইন উন্নয়নে কেন্দ্রীয় বাজেটে বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছে রাজ্য।
এ সবকিছুর পর স্টালিনের বক্তব্য—
“ধর্মের নামে বিতর্ক নয়, উন্নয়নই আসল। কেন্দ্র তামিলনাড়ুকে উপেক্ষা করছে।”
এই বক্তব্য মানুষের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।
NDTV–র মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট অনুযায়ী—
মন্দির প্রদীপ বিতর্কে জনমত দুই ভাগে বিভক্ত:
“এটি শতাব্দী–প্রাচীন রীতি।”
“সরকার ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।”
“দীপ প্রজ্জ্বলন শুধুই ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক উৎসব।”
“মাদুরাইয়ে মেট্রো চাই।”
“প্রতিদিন বাস–জ্যামের যন্ত্রণা।”
“AIIMS হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হবে।”
“ধর্মীয় বিতর্ক মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।”
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী NDTV–কে বলেন—
“ভোট আসে–যায়, বিতর্কও হয়। কিন্তু উন্নয়ন না হলে শহর এগোবে কীভাবে?”
এই মন্তব্যই জনমতের একটি বড় দিক তুলে ধরে।
বিশ্লেষকদের মতে:
স্টালিন উন্নয়ন প্রসঙ্গ সামনে এনে—
BJP–র ধর্মীয় প্রচারের মোকাবিলা করেছেন
উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যর্থতার দায় কেন্দ্রের উপর চাপিয়েছেন
মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন
এতে DMK–র রাজনৈতিক ভিত্তি মাদুরাইসহ দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বিজেপি তামিলনাড়ুর মাটিতে ধর্মীয় ইস্যুকে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
মন্দির বিতর্ক তাদের একটি বড় সুযোগ দেয়।
তবে DMK উন্নয়ন প্রসঙ্গ সামনে এনে ধর্মীয় উত্তেজনা কমিয়ে দিলে BJP–র প্রচার কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।
বর্তমান জনমত—
শহরাঞ্চলে মানুষ উন্নয়নমুখী ভাবনার দিকে ঝুঁকছে
গ্রামাঞ্চলে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগ বড় ভূমিকা রাখছে
ফলে কেউই একতরফা সুবিধা নিতে পারছে না।
মন্দির কর্তৃপক্ষ NDTV–কে বলেছে—
পাথরের স্তম্ভটি প্রত্নসম্পদ
অত্যধিক ভিড়ে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
আদালতের রায় অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থাই যুক্তিসঙ্গত
মন্দির প্রশাসনের এক সদস্য বলেন—
“ঐতিহ্য রক্ষা আর ভক্তদের অনুভূতি—দুইই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এটি DMK–র অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এক মুখপাত্র NDTV–কে বলেন—
“উন্নয়ন বিষয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রকল্প অনুমোদিত, তবে আর্থিক ও কারিগরি যাচাই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”
অর্থাৎ কেন্দ্র স্টালিনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।