Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বেঙ্গালুরুর ট্রাফিক-থাকা-খাওয়া নিয়ে ক্ষোভ ভারতকে ‘অব্যবস্থা’র কাঠগড়ায় তুললেন পানামা কোচ

পানামার কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন বেঙ্গালুরুর ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভারতকে হারাতে না পারার হতাশার পাশাপাশি শহরের ট্রাফিক ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থার নিয়েও মন্তব্য করেছেন।

বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে ভারত-পানামা আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচ শেষ হয়েছে ১-১ গোলে। FIFA ranking-এ ভারতের থেকে ৯৪ ধাপ এগিয়ে থাকা এবং ২০২৬ FIFA World Cup খেলে আসা পানামার বিরুদ্ধে ভারতের এই ড্র স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলমহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। প্রথমার্ধের শেষ দিকে রায়ান উইলিয়ামসের গোলে এগিয়ে যায় ব্লু টাইগার্স। দ্বিতীয়ার্ধে পানামার ওমর ভ্যালেন্সিয়া গোল করে সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত আর কোনও গোল না হওয়ায় ১-১ ফলেই ম্যাচ শেষ হয়।

ভারতের জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল আরও একটি কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া ভারতীয় দল এই ম্যাচে বিশ্বকাপ খেলে আসা পানামার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে। AIFF-এর ম্যাচ রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত শুধু রক্ষণাত্মকভাবে ম্যাচ সামলানোর চেষ্টা করেনি; বেশ কিছু সময় তারা পানামাকে চাপে রেখেছিল এবং জয়ের সুযোগও তৈরি করেছিল।

অন্যদিকে পানামার জন্য এই ম্যাচ ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের পর এশিয়া সফরের প্রথম পরীক্ষা। ম্যাচে পানামা বেশ কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেয়। পানামা ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজন ফুটবলার এই ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করেন। ফলে দলের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও নতুনদের মিশ্রণ ছিল।

পানামার কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন ম্যাচের ফলের দায়ও নিজের উপর নিয়েছেন। ম্যাচের পর তিনি জানান, একসঙ্গে একাধিক নতুন খেলোয়াড়কে খেলানো সহজ ছিল না এবং এই সিদ্ধান্তের দায় তিনি নিজের বলে মনে করেন। পানামার সংবাদমাধ্যমেও তাঁর এই আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।

তবে ম্যাচের পর আলোচনায় এসেছে অন্য একটি বিষয়—বেঙ্গালুরুর যাতায়াত ও লজিস্টিক সমস্যা। ক্রিশ্চিয়ানসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, দলকে অনুশীলন ও ম্যাচের জন্য যাতায়াত করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হয়েছে। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর যানজটের কারণে দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পানামা দল ট্রাফিকের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত রাস্তায় আটকে ছিল এবং ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেও দেরি হয়েছিল।

এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে একটি দলকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, অনুশীলন এবং যাতায়াতের সময় পাওয়া দরকার। বিশেষ করে বিদেশ সফরে থাকা দলের ক্ষেত্রে হোটেল, অনুশীলন মাঠ এবং ম্যাচ ভেন্যুর মধ্যে যাতায়াতের পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিশ্চিয়ানসেনের বক্তব্যে সেই সমস্যার কথাই উঠে এসেছে।

বেঙ্গালুরুর ট্রাফিক নিয়ে পানামা কোচের মন্তব্য অবশ্য পুরো ম্যাচের ফলের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা হয়নি। ক্রিশ্চিয়ানসেন নিজেও বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে দেখতে চাননি। বরং তিনি দলের নিজেদের পারফরম্যান্স, নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি এবং সীমিত প্রস্তুতির কথাও বলেছেন। অর্থাৎ পানামার ১-১ ড্রয়ের পেছনে একাধিক কারণ ছিল—দলের পরিবর্তন, নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া, পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাব এবং যাতায়াতের সমস্যা।

ম্যাচের আগে থেকেই পানামা দলের সামনে পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া চলছিল। বিশ্বকাপের পর নতুন খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করে দেখা এবং ভবিষ্যতের দল গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল। ফলে ভারত ম্যাচে পানামার একাদশে একাধিক নতুন মুখ দেখা যায়। পানামা ফুটবল ফেডারেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচজন খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেন।

ভারতের দিক থেকেও ম্যাচটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কোচ খালিদ জামিলের অধীনে ভারত একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের সংগঠিত ফুটবল দেখায়। রায়ান উইলিয়ামসের গোল ভারতকে এগিয়ে দেয়। পরে ওমর ভ্যালেন্সিয়ার দূরপাল্লার শটে পানামা সমতা ফেরালেও ভারত শেষ পর্যন্ত ম্যাচ থেকে একটি পয়েন্ট নিশ্চিত করে।

বিশেষ করে ভারতের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পানামা বল দখলে রাখার চেষ্টা করলেও ভারত একাধিক সময় দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে। ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে ভারতের প্রেসিং এবং কাউন্টার অ্যাটাক পানামার রক্ষণকে সমস্যায় ফেলেছিল। Times of India-র ম্যাচ রিপোর্টেও ভারতের ইতিবাচক পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের এই ড্রকে তাই শুধু ফলাফল দিয়ে বিচার করলে পুরো ছবিটা পাওয়া যাবে না। প্রতিপক্ষের FIFA ranking, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করলে ম্যাচটি ভারতীয় দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল। একইসঙ্গে পানামার জন্যও ম্যাচটি ছিল নতুন খেলোয়াড়দের পরখ করার সুযোগ।

তবে ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের বেঙ্গালুরু-সংক্রান্ত মন্তব্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলকে দীর্ঘ সময় বাসে থাকতে হয়েছে এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার কারণে পর্যাপ্ত একসঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি ভবিষ্যতে এই ধরনের সফর বা চুক্তি করার ক্ষেত্রে বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

news image
আরও খবর

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—ক্রিশ্চিয়ানসেনের বক্তব্যে বেঙ্গালুরুর ট্রাফিক ও লজিস্টিক সমস্যার কথা থাকলেও তিনি একই সঙ্গে ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন এবং ম্যাচের ফলের দায় নিজের সিদ্ধান্তের ওপরও নিয়েছেন। তাই তাঁর মন্তব্যকে শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে দেখলে বক্তব্যের পুরো প্রেক্ষাপটটি ধরা পড়ে না।

পানামা কোচের মন্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দলের প্রস্তুতির সময়। এশিয়া সফরের আগে সব খেলোয়াড়কে একই সময়ে পাওয়া যায়নি। EFE-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণ এবং খেলোয়াড়দের ধাপে ধাপে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কারণে পানামার হাতে পূর্ণ দল নিয়ে প্রস্তুতির সময় সীমিত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি সংগঠিত দল তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের ১-১ ড্র আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারত শুধু পানামার বিরুদ্ধে গোল করেনি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। AIFF-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ৯৪ র‍্যাঙ্কিং ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং ম্যাচের বড় অংশে প্রতিপক্ষকে সমস্যায় ফেলেছে।

ম্যাচের পর ভারতের কোচ খালিদ জামিলের বক্তব্যও ছিল ইতিবাচক। তাঁর মতে, আরও একটু বিশ্বাস থাকলে ভারত ম্যাচটি জিততেও পারত—এমন মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে এটি তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন, তাই ম্যাচের ফল হিসেবে ১-১ ড্র-ই চূড়ান্ত।

অন্যদিকে পানামা দলের জন্য এই সফর এখানেই শেষ নয়। ভারত ম্যাচের পর দলটি জাপানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল এবং সেখানে আরও দুটি ম্যাচ খেলার সূচি ছিল। ফলে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি তাদের জন্য একটি বৃহত্তর প্রস্তুতি সফরের প্রথম ধাপ।

ভারত-পানামা ম্যাচের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এটি দুই দেশের সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দলের প্রথম মুখোমুখি ম্যাচ ছিল। ফলে দুই দলের কাছেই এই ম্যাচের আলাদা গুরুত্ব ছিল। ভারতীয় দলের জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের মান যাচাইয়ের সুযোগ। পানামার ক্ষেত্রে এটি ছিল নতুন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরীক্ষা করার সুযোগ।

ম্যাচের ফলাফল শেষ পর্যন্ত দুই দলের জন্যই আলাদা বার্তা দিয়েছে। ভারত দেখিয়েছে, র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান সবসময় মাঠের পারফরম্যান্সের সরাসরি প্রতিফলন হয় না। আর পানামা বুঝেছে, নতুন দল নিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি, খেলোয়াড়দের সমন্বয় এবং সফরের লজিস্টিক—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

বেঙ্গালুরুর যানজট নিয়ে পানামা কোচের মন্তব্য তাই ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল দলের জন্য ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুশীলন মাঠে পৌঁছনো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং ম্যাচ ভেন্যুতে সময়মতো পৌঁছনো গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাফিকের মতো অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি সেই পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে ভারতের ১-১ ড্রকে শুধুমাত্র পানামার লজিস্টিক সমস্যার ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ মাঠে ভারতও নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলেছিল। পানামা কোচ নিজেও ভারতের খেলার প্রশংসা করেছেন এবং নিজের দল ও দল নির্বাচন নিয়েও দায়িত্ব স্বীকার করেছেন।

সব মিলিয়ে বেঙ্গালুরুর এই ম্যাচে তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে—ভারতের লড়াকু পারফরম্যান্স, পানামার নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের লজিস্টিক নিয়ে মন্তব্য। ১-১ ফলাফলে ভারত একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক দলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা পেল। অন্যদিকে পানামা তাদের এশিয়া সফরের প্রথম ম্যাচ থেকেই বুঝতে পারল, নতুন দল নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিকতা তৈরি করতে মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি সফর ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।

পানামা কোচের মন্তব্য নিয়ে ভারতীয় ফুটবলমহলে আলোচনা চললেও ম্যাচের পরিসংখ্যান ও মাঠের ঘটনা আলাদা করে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারত ম্যাচে শুধু প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় ছিল না। রায়ান উইলিয়ামসের গোল, সংগঠিত রক্ষণ এবং আক্রমণে ইতিবাচক মানসিকতা ভারতকে ম্যাচে এগিয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওমর ভ্যালেন্সিয়ার গোলে পানামা সমতা ফেরালেও ভারত শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই করে পয়েন্ট নিশ্চিত করে।

তাই বেঙ্গালুরুর ভারত-পানামা ম্যাচ এখন শুধু একটি ১-১ ড্র হিসেবে নয়, বরং দুই দলের ভিন্ন পরিস্থিতির একটি আন্তর্জাতিক পরীক্ষা হিসেবেও আলোচনায় থাকছে। একদিকে বিশ্বকাপ খেলে আসা পানামা, অন্যদিকে র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা ভারত—মাঠে দুই দলের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত দেখা যায়নি। আর ম্যাচ শেষে পানামা কোচের বেঙ্গালুরুর ট্রাফিক ও লজিস্টিক নিয়ে মন্তব্য সেই ম্যাচের আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Preview image