Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আউট হলেই অন্নগ্রহণ নয়! আদ্যন্ত ক্রিকেটভক্ত নানার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ কোহলিরা

নানার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রিকেটমহল। শচীন তাঁকে ‘মাটির মানুষ’ বলে স্মরণ করেছেন, শোকবার্তা জানিয়েছেন যুবরাজ সিংহ, অজিঙ্ক রাহানে ও শিখর ধাওয়ানরাও।

নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভারতীয় সিনেমা জগতের পাশাপাশি ক্রীড়ামহলও। তিনি ছিলেন শুধু একজন অসাধারণ অভিনেতা নন, ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের একনিষ্ঠ অনুরাগী। ব্যস্ত অভিনয়জীবনের মাঝেও ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অত্যন্ত গভীর। ভারতের খেলা থাকলে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখতেন তিনি। ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে আগ্রহী ছিলেন এবং বিশেষ করে বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ের প্রতি তাঁর আলাদা দুর্বলতা ছিল।

নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবর সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের একাধিক তারকা। বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে শচীন তেন্ডুলকর, যুবরাজ সিং, শিখর ধাওয়ান এবং অজিঙ্ক রাহানে—একাধিক ক্রিকেটার কিংবদন্তি অভিনেতাকে স্মরণ করেছেন। তাঁদের কথায় উঠে এসেছে নানা পাটেকরের অভিনয় প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপনের কথা।

নানা পাটেকর ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যাঁর অভিনয় ভারতীয় দর্শকের মনে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা করে নিয়েছে। মারাঠি এবং হিন্দি—দুই ভাষার সিনেমাতেই তিনি নিজের অভিনয়ের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন। কখনও কঠিন চরিত্র, কখনও আবেগঘন চরিত্র, আবার কখনও সাধারণ মানুষের ভূমিকায় তাঁকে দেখা গিয়েছে। তাঁর সংলাপ বলার ধরন, কণ্ঠস্বর এবং পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

তবে অভিনয়ের বাইরে নানা পাটেকরের আরও একটি বড় পরিচয় ছিল—তিনি ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমী। দেশের কোটি কোটি মানুষের মতো তিনিও ভারতীয় ক্রিকেটকে অত্যন্ত কাছ থেকে অনুসরণ করতেন। ব্যস্ততার কারণে মাঠে গিয়ে সব ম্যাচ দেখা সম্ভব না হলেও টেলিভিশনের মাধ্যমে ভারতের খেলা দেখার চেষ্টা করতেন। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর এই আবেগের সবচেয়ে বড় উদাহরণ পাওয়া যায় বিরাট কোহলিকে নিয়ে তাঁর করা একটি মন্তব্যে।

এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন, বিরাট কোহলি তাঁর অত্যন্ত পছন্দের ক্রিকেটার। বিরাট দ্রুত আউট হয়ে গেলে তাঁর মন খারাপ হয়ে যেত। এমনকি তিনি মজার ছলে বলেছিলেন, বিরাট তাড়াতাড়ি আউট হয়ে গেলে তাঁর আর খাবার খেতেই ইচ্ছে করে না। এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ক্রিকেট এবং ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল।

বিরাট কোহলিও নানা পাটেকরের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সোশাল মিডিয়ায় তিনি বর্ষীয়ান অভিনেতাকে কিংবদন্তি হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারতীয় সিনেমায় নানা পাটেকরের অবদান শুধু তাঁর সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী প্রজন্মও তাঁর কাজ থেকে অনুপ্রেরণা পাবে।

বিরাট কোহলির সঙ্গে নানা পাটেকরের এই সম্পর্কের জায়গাটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। একজন ছিলেন ক্রিকেটের ময়দানের সুপারস্টার, অন্যজন সিনেমার পর্দার কিংবদন্তি। দুই ভিন্ন জগতের মানুষ হলেও তাঁদের মধ্যে একটি জায়গায় মিল ছিল—দুজনেই নিজেদের ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন এবং দর্শক ও অনুরাগীদের মনে বিশেষ জায়গা তৈরি করেছিলেন।

নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকরও। ক্রিকেটবিশ্বে যাঁকে ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ বলা হয়, সেই শচীনও অভিনেতার ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, নানা পাটেকর ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ এবং মাটির কাছাকাছি থাকা একজন মানুষ। তাঁর অভিনয়ের মধ্যেও সেই সততা ফুটে উঠত।

শচীনের এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ নানা পাটেকরের অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া। তিনি যে চরিত্রই করতেন, সেটিকে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে আলাদা মাত্রা দিতেন। মারাঠি সিনেমা হোক বা হিন্দি সিনেমা—প্রতিটি চরিত্রেই তাঁর নিজস্ব অভিনয়শৈলী দর্শকদের নজর কেড়েছে।

যুবরাজ সিংও নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিনেতাকে তাঁর দেখা অন্যতম সেরা অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নানা পাটেকরের কণ্ঠস্বর এবং পর্দায় উপস্থিতির কথাও স্মরণ করেছেন যুবরাজ। তাঁর মতে, ভারতীয় সিনেমা সত্যিকারের একজন কিংবদন্তিকে হারাল।

নানা পাটেকরের কণ্ঠস্বর তাঁর অভিনয়ের অন্যতম শক্তি ছিল। সংলাপ বলার সময় তাঁর গলার স্বর, শব্দের ব্যবহার এবং আবেগ প্রকাশের ধরন দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলত। অনেক সিনেমায় তাঁর কণ্ঠস্বর এবং সংলাপ আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। যুবরাজ সিংয়ের বক্তব্যেও সেই বিষয়টি উঠে এসেছে।

শিখর ধাওয়ানও বর্ষীয়ান অভিনেতার প্রয়াণে শোক জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নানা পাটেকরের অভিনয় আগামী প্রজন্মের অভিনেতা ও দর্শকদের অনুপ্রাণিত করবে। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সাফল্য হয় যখন তাঁর কাজ সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকে। নানা পাটেকরের ক্ষেত্রে সেই কথাই বারবার উঠে আসছে।

অজিঙ্ক রাহানেও নানা পাটেকরের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, নানা পাটেকর ছিলেন একজন অসাধারণ অভিনেতা। তাঁর অভিনয় বহু প্রজন্মকে বিনোদন দিয়েছে এবং একই সঙ্গে অনুপ্রাণিত করেছে। রাহানের বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে, ক্রিকেটারদের মধ্যেও নানা পাটেকরের অভিনয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ছিল।

নানা পাটেকরের সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্ক তাই শুধুমাত্র একজন সাধারণ দর্শকের সম্পর্ক ছিল না। ক্রিকেট নিয়ে তাঁর আগ্রহ এবং আবেগ ছিল সত্যিকারের। ভারতীয় দলের ম্যাচে তাঁর নজর থাকত। প্রিয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স তাঁকে আনন্দ দিত, আবার প্রিয় খেলোয়াড় দ্রুত আউট হলে মন খারাপও করতেন।

news image
আরও খবর

বিরাট কোহলির প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসার কথা এখন নতুন করে সামনে এসেছে। বিরাট কোহলির ব্যাটিং দেখার জন্য তাঁর আগ্রহ এবং বিরাটের দ্রুত আউট হলে খাওয়ার ইচ্ছে চলে যাওয়ার সেই মন্তব্য এখন অভিনেতার ক্রিকেটপ্রেমের অন্যতম স্মৃতি হয়ে থাকছে।

ভারতীয় ক্রিকেটের তারকারাও নানা পাটেকরকে যে কতটা শ্রদ্ধা করতেন, তাঁদের শোকবার্তাতেই তার প্রমাণ মিলেছে। কোহলি, শচীন, যুবরাজ, ধাওয়ান এবং রাহানের মতো তারকারা প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে তাঁকে স্মরণ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে শুধু একজন অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা নয়, একজন মানুষের প্রতি গভীর সম্মানও প্রকাশ পেয়েছে।

নানা পাটেকরের অভিনয়জীবন ছিল দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময়। তিনি এমন অনেক চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেগুলি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। তাঁর অভিনয়ের মধ্যে ছিল বাস্তবতার ছোঁয়া। তিনি চরিত্রকে কৃত্রিমভাবে উপস্থাপন না করে তার আবেগ, যন্ত্রণা, রাগ, ভালোবাসা এবং সংগ্রামকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতেন।

এই কারণেই নানা পাটেকর শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিনেতার অভিনেতা। তাঁর অভিনয় নিয়ে সমালোচক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক—সকলেরই আলাদা শ্রদ্ধা ছিল। বহু তরুণ অভিনেতা তাঁর অভিনয়শৈলী থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।

তাঁর প্রয়াণ তাই একটি যুগের অবসানের মতোই। সিনেমার পর্দায় তাঁর অনুপস্থিতি যেমন দর্শকদের অনুভূত হবে, তেমনই তাঁর ক্রিকেটপ্রেমের গল্পও থেকে যাবে স্মৃতিতে। বিশেষ করে বিরাট কোহলিকে নিয়ে তাঁর সেই মন্তব্য এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নানা পাটেকরের প্রয়াণে ক্রিকেটমহলের এই আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া আরও একবার প্রমাণ করল, তিনি শুধু সিনেমার মানুষের ছিলেন না। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষেরও প্রিয়। ক্রিকেটপ্রেমী ভারতীয়দের সঙ্গে তাঁর আবেগের জায়গাটি ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং আন্তরিক।

একজন সুপারস্টার হয়েও নানা পাটেকরের ক্রিকেটপ্রেম ছিল একেবারে সাধারণ মানুষের মতো। ভারতের ম্যাচ চললে টিভির সামনে বসে থাকা, প্রিয় ক্রিকেটারের আউটে মন খারাপ করা এবং দলের জয়-পরাজয়ের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে ফেলা—এই বিষয়গুলিই তাঁকে আরও কাছের মানুষ করে তুলেছিল।

আজ তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সিনেমা যেমন একজন কিংবদন্তিকে হারাল, তেমনই ক্রিকেটও হারাল একজন একনিষ্ঠ অনুরাগীকে। বিরাট কোহলি, শচীন তেন্ডুলকর, যুবরাজ সিং, শিখর ধাওয়ান এবং অজিঙ্ক রাহানের মতো তারকাদের শোকবার্তা সেই সম্পর্কেরই প্রতিফলন।

নানা পাটেকরের অভিনয় হয়তো তাঁকে চিরকাল ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে বাঁচিয়ে রাখবে। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসার গল্পও তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। বিশেষ করে বিরাট কোহলিকে নিয়ে তাঁর সেই আবেগপূর্ণ মন্তব্য প্রমাণ করে, পর্দার বাইরে তিনি ছিলেন একেবারেই সাধারণ এক ক্রিকেটপ্রেমী ভারতীয়।

ভারতীয় সিনেমা এবং ক্রিকেট—দেশের মানুষের আবেগের দুই বড় জায়গা। নানা পাটেকর এই দুই জগতের সঙ্গেই নিজের মতো করে যুক্ত ছিলেন। তাই তাঁর প্রয়াণে দুই জগতের মানুষই শোকাহত। অভিনেতা হিসেবে তাঁর অবদান যেমন স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসাও অনুরাগীদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

নানা পাটেকরের প্রয়াণে বিরাট কোহলির আবেগঘন শ্রদ্ধা, শচীন তেন্ডুলকরের ‘মাটির মানুষ’ মন্তব্য, যুবরাজ সিংয়ের স্মৃতিচারণ, শিখর ধাওয়ানের শ্রদ্ধা এবং অজিঙ্ক রাহানের শোকবার্তা—সব মিলিয়ে স্পষ্ট, নানা পাটেকরের প্রভাব ছিল সিনেমার গণ্ডির অনেক বাইরে।

একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর কাজ। নানা পাটেকরের ক্ষেত্রেও সেটিই সত্যি। তাঁর অভিনয়, তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর সংলাপ এবং তাঁর চরিত্রায়ন আগামী দিনেও দর্শকদের মনে থাকবে। আর তাঁর ক্রিকেটপ্রেমের গল্প তাঁকে আরও মানবিক এবং কাছের করে তুলবে।

নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারতীয় সিনেমা হারাল এক কিংবদন্তিকে। আর ক্রিকেট হারাল এমন একজন দর্শককে, যিনি খেলাটিকে সত্যিই ভালোবাসতেন। তাঁর স্মৃতি, তাঁর অভিনয় এবং ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আবেগ—সবই অনুরাগীদের মনে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে

Preview image