Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বাগডোগরায় এবার রাজস্থানী গ্রামের ছোঁয়া, হাটখোলা সর্বজনীনের থিমে ‘শহরের ইতিকথা’

লোয়ার বাগডোগরা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির মণ্ডপে এবার ফুটে উঠবে রাজস্থানী ঘরানার নান্দনিকতা। ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, রঙিন সাজসজ্জা ও রাজস্থানী আবহে দেবী দুর্গার দর্শন মিলবে এক অন্যরকম পরিবেশে।

শ্যামল পাল, বাগডোগরা:
শারদোৎসবের আবহে সেজে উঠছে শিলিগুড়ির উপকণ্ঠ বাগডোগরা। পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপ তৈরির ব্যস্ততা, প্রতিমা সাজানোর প্রস্তুতি এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসাহ। প্রতি বছরই বাগডোগরার বিভিন্ন পুজো কমিটি নিজেদের মতো করে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। তবে এবারের দুর্গাপুজোয় বাগডোগরার দুই পুরনো পুজো কমিটির থিম বিশেষভাবে নজর কাড়তে চলেছে। একদিকে লোয়ার বাগডোগরা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির মণ্ডপে দেখা যাবে রাজস্থানী ঘরানার সাজ। অন্যদিকে, বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীনের এবারের বিশেষ আকর্ষণ ‘শহরের ইতিকথা’। ফলে দুই ভিন্ন ভাবনা ও নান্দনিক উপস্থাপনায় এবারের পুজোয় জমজমাট হতে চলেছে বাগডোগরা।

দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়। পুজোকে কেন্দ্র করে শিল্প, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, স্থাপত্য এবং মানুষের আবেগ একসূত্রে বাঁধা পড়ে। তাই এখন পুজোর মণ্ডপও হয়ে উঠেছে গল্প বলার মাধ্যম। কখনও কোনও ঐতিহাসিক ঘটনা, কখনও হারিয়ে যাওয়া লোকসংস্কৃতি, কখনও কোনও রাজ্যের স্থাপত্য কিংবা কখনও শহরের পুরনো দিনের স্মৃতি—বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয় মণ্ডপ। বাগডোগরার দুই পুজো কমিটির এবারের ভাবনাতেও সেই বৈচিত্র্যেরই ছাপ রয়েছে।

রাজস্থানী ঘরানায় সাজছে লোয়ার বাগডোগরা

লোয়ার বাগডোগরা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির এবারের মণ্ডপের মূল আকর্ষণ রাজস্থানী ঘরানা। বাংলার মাটিতে বসেই দর্শনার্থীরা যেন রাজস্থানের কোনও গ্রাম বা লোকালয়ে পৌঁছে যেতে পারেন, সেই আবহ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। মণ্ডপসজ্জায় রাজস্থানী স্থাপত্য, গ্রামীণ পরিবেশ এবং ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জার নানা অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজস্থানের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মরুভূমি, রঙিন পোশাক, মাটির ঘর, লোকশিল্প, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য এবং রাজকীয় সংস্কৃতির নানা ছবি। সেই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তুলে ধরাই এবারের বিশেষ ভাবনা। মণ্ডপে প্রবেশের পর দর্শনার্থীদের সামনে যেন অন্য এক পরিবেশ তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছেন উদ্যোক্তারা।

শুধু মণ্ডপের বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, রাজস্থানী ঘরানার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন উপকরণ ও সাজসজ্জার মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মাটির কাজ, গ্রামীণ স্থাপত্যের আদল, রঙের ব্যবহার এবং ঐতিহ্যবাহী নকশার মাধ্যমে মণ্ডপকে আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এই পুজো দেখতে এসে দর্শনার্থীদের কাছে মণ্ডপটি শুধুমাত্র একটি পূজামণ্ডপ হিসেবে নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা হিসেবেও ধরা দিতে পারে।

একখণ্ড রাজস্থানী গ্রাম বাগডোগরায়

লোয়ার বাগডোগরা সর্বজনীনের এবারের ভাবনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল রাজস্থানী গ্রামের আবহ। শহর ও আধুনিকতার ব্যস্ততার মধ্যে দাঁড়িয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী রাজস্থানী গ্রামের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। মণ্ডপের সাজে সেই গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন পরিচিত উপাদানকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজস্থানী গ্রামের নিজস্ব স্থাপত্যশৈলী এবং লোকজ সংস্কৃতি বহুদিন ধরেই শিল্পীদের আকর্ষণ করে এসেছে। মাটির দেওয়াল, ঐতিহ্যবাহী নকশা, রঙিন সাজসজ্জা এবং গ্রামীণ পরিবেশের সঙ্গে রাজস্থানের সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সেই পরিচিত পরিবেশকে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে নিয়ে আসার প্রয়াস এবারের পুজোকে আলাদা মাত্রা দিতে পারে।

দর্শনার্থীরা মণ্ডপে ঢুকলে যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য উত্তরবঙ্গের পরিচিত পরিবেশ থেকে বেরিয়ে রাজস্থানের কোনও গ্রামীণ প্রান্তরে পৌঁছে যান—এমন অনুভূতি তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের অন্যতম লক্ষ্য। পুজোর সময় এই ধরনের থিম দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ প্রজন্মের কাছে মণ্ডপের মাধ্যমে অন্য রাজ্যের সংস্কৃতি ও স্থাপত্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়।

অন্যদিকে ‘শহরের ইতিকথা’

লোয়ার বাগডোগরার রাজস্থানী ভাবনার পাশাপাশি বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির এবারের থিমও কম আকর্ষণীয় নয়। হাটখোলা সর্বজনীনের মণ্ডপের ভাবনায় উঠে আসছে ‘শহরের ইতিকথা’। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে শহরের পরিবর্তন, পুরনো দিনের স্মৃতি এবং নগরজীবনের নানা অধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে এবারের মণ্ডপ।

একটি শহর শুধুমাত্র রাস্তা, বাড়ি, দোকান কিংবা বাজারের সমষ্টি নয়। একটি শহরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের স্মৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, পেশা এবং জীবনযাত্রা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শহর বদলায়, বদলায় তার রাস্তা, যানবাহন, বাজার, বাড়িঘর এবং মানুষের জীবনযাপন। কিন্তু সেই পরিবর্তনের মধ্যেও পুরনো দিনের কিছু স্মৃতি মানুষের মনে থেকে যায়। ‘শহরের ইতিকথা’ সেই স্মৃতি ও পরিবর্তনের গল্পই তুলে ধরতে পারে।

বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীনের এবারের ভাবনায় সেই শহরের অতীত ও বর্তমানকে পাশাপাশি দেখানোর প্রয়াস রয়েছে। মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে পুরনো দিনের শহরের ছবি, নাগরিক জীবনের নানা পরিচিত দৃশ্য এবং সময়ের পরিবর্তনের নানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরে আসার অপেক্ষা

‘শহরের ইতিকথা’ থিমের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে নস্টালজিয়া। আজকের প্রজন্ম যে শহর দেখছে, কয়েক দশক আগে সেই শহরের চেহারা ছিল অনেকটাই আলাদা। পুরনো রাস্তা, পুরনো যানবাহন, দোকানের ধরন, বাজারের পরিবেশ, মানুষের পোশাক, জীবনযাপন—সবকিছুতেই ছিল অন্যরকম বৈশিষ্ট্য।

সময়ের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই ছবির অনেকটাই বদলে গিয়েছে। কিছু জিনিস হারিয়ে গিয়েছে, কিছু বদলে গিয়েছে, আবার কিছু ঐতিহ্য এখনও টিকে রয়েছে। সেই পরিবর্তনের গল্পকে মণ্ডপের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার ভাবনা তাই নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়।

পুজোর কয়েকদিনে মণ্ডপে ভিড় জমালে শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, প্রবীণ দর্শনার্থীরাও হয়তো নিজেদের দেখা পুরনো দিনের সঙ্গে মণ্ডপের বিভিন্ন উপস্থাপনার মিল খুঁজে পাবেন। ফলে ‘শহরের ইতিকথা’ শুধু একটি থিম নয়, বরং স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানের একটি সংযোগ তৈরি করতে পারে।

দুই পুজোর দুই ভিন্ন ভাবনা

বাগডোগরার এই দুই পুজোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তাদের ভাবনার পার্থক্য। লোয়ার বাগডোগরা সর্বজনীন যেখানে দর্শনার্থীদের নিয়ে যেতে চাইছে রাজস্থানী সংস্কৃতি ও গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে, সেখানে হাটখোলা সর্বজনীন তুলে ধরছে শহরের নিজস্ব ইতিহাস ও পরিবর্তনের গল্প।

একদিকে ভিনরাজ্যের লোকসংস্কৃতি ও স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচয়, অন্যদিকে নিজের পরিচিত শহরের অতীতকে নতুন করে দেখার সুযোগ। এই বৈচিত্র্যই এবারের বাগডোগরার পুজোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

দুই পুজো কমিটিই বহুদিন ধরে নিজেদের মতো করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করে আসছে। এলাকার মানুষের সঙ্গে এই পুজোগুলির সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। ফলে পুজোর সময় শুধু মণ্ডপ দেখতে নয়, আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেও বহু মানুষ ভিড় করেন।

পুজো ঘিরে বাড়ছে উৎসাহ

পুজোর প্রস্তুতি যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বাগডোগরার মানুষের উৎসাহ। মণ্ডপ নির্মাণের পাশাপাশি আলোকসজ্জা, প্রতিমা, নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পুজোর দিনগুলিতে যাতে এলাকার মানুষ স্বচ্ছন্দে মণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন, সেই বিষয়েও নজর রাখছে আয়োজকরা।

বাগডোগরা ভৌগোলিকভাবে শিলিগুড়ির খুব কাছেই হওয়ায় এখানকার পুজোগুলিতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষেরও আগ্রহ থাকে। শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার দর্শনার্থীরা বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখেন। সেই তালিকায় বাগডোগরার এই দুই পুরনো পুজোও এবারে জায়গা করে নিতে পারে।

news image
আরও খবর

বিশেষ করে থিমের বৈচিত্র্য দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ হতে পারে। একই এলাকায় দুটি পুজোতে সম্পূর্ণ আলাদা ভাবনার মণ্ডপ দেখতে পাওয়া নিঃসন্দেহে পুজোপ্রেমীদের জন্য বাড়তি পাওনা।

মণ্ডপের পাশাপাশি প্রতিমাতেও নজর

দুর্গাপুজোয় মণ্ডপ যতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক, প্রতিমাই শেষ পর্যন্ত উৎসবের মূল কেন্দ্র। তাই মণ্ডপের সঙ্গে প্রতিমার সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্থানী ঘরানার মণ্ডপে প্রতিমার উপস্থাপনা কীভাবে করা হচ্ছে এবং ‘শহরের ইতিকথা’ ভাবনার সঙ্গে হাটখোলা সর্বজনীনের প্রতিমা ও মণ্ডপের কীভাবে সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে, সেদিকেও দর্শনার্থীদের নজর থাকবে।

পুজোর দিনগুলিতে আলো, প্রতিমা এবং মণ্ডপের সামগ্রিক পরিবেশ মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই দুই পুজো কমিটির পক্ষ থেকে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের পুজোয় থিমের বৈচিত্র্য

উত্তরবঙ্গের দুর্গাপুজোও বর্তমানে থিমনির্ভর আয়োজনের ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে এসেছে। শিলিগুড়ি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে প্রতি বছর বিভিন্ন পুজো কমিটি নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে হাজির হয়। কখনও বাংলার লোকসংস্কৃতি, কখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্থাপত্য, আবার কখনও সামাজিক বার্তা—বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয় মণ্ডপ।

বাগডোগরার দুই পুজোও সেই ধারারই অংশ। রাজস্থানী গ্রামের ভাবনা যেমন দর্শনার্থীদের অন্য রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাবে, তেমনই ‘শহরের ইতিকথা’ নিজের চারপাশের পরিচিত ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ দেবে।

পরিবারের সঙ্গে পুজো পরিক্রমায় নতুন আকর্ষণ

দুর্গাপুজোয় পরিবার নিয়ে মণ্ডপ ঘোরা বাঙালির বহু পুরনো অভ্যাস। ছোটদের কাছে থিম মণ্ডপ যেমন আনন্দের, তেমনই বড়দের কাছে থাকে স্মৃতি ও শিল্পকর্ম দেখার আগ্রহ। বাগডোগরার এই দুই পুজো সেই দুই ধরনের দর্শনার্থীর কাছেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

রাজস্থানী গ্রামের আদলে তৈরি মণ্ডপ শিশুদের কাছে কৌতূহলের বিষয় হতে পারে। অন্যদিকে শহরের পুরনো দিনের গল্প প্রবীণদের মনে ফিরিয়ে আনতে পারে হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতি। তরুণ প্রজন্মের কাছে দুই মণ্ডপই ছবি তোলা ও সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

বাগডোগরার পুজোয় উৎসবের আবহ

দুর্গাপুজোকে ঘিরে এলাকার অর্থনীতিতেও তৈরি হয় বাড়তি গতি। মণ্ডপ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, প্রতিমা তৈরি, খাবারের দোকান, ছোট ব্যবসা এবং বিভিন্ন অস্থায়ী স্টল—সব মিলিয়ে পুজোর সময় স্থানীয় বাজার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বাড়তি ব্যস্ততা দেখা যায়।

বাগডোগরার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুই পুরনো পুজোকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে। পুজোর দিনগুলিতে খাবার, পোশাক, উপহার, খেলনা এবং নানা সামগ্রীর দোকানগুলিতেও মানুষের আনাগোনা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

দুই পুজোর ভাবনাতেই একদিকে রয়েছে ঐতিহ্য, অন্যদিকে আধুনিক উপস্থাপনার সম্ভাবনা। রাজস্থানী গ্রামের ভাবনায় দেশের এক সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরা হচ্ছে। আবার ‘শহরের ইতিকথা’য় একটি শহরের পরিবর্তনের গল্পকে শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে।

দুর্গাপুজোর মণ্ডপ এখন তাই শুধুমাত্র সাজসজ্জার জায়গা নয়। একটি থিমের মাধ্যমে শিল্পীরা দর্শকদের সামনে একটি গল্প তুলে ধরেন। দর্শনার্থীরা সেই গল্পের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যান, বিভিন্ন উপাদান দেখেন এবং নিজেদের মতো করে তার অর্থ খুঁজে নেন।

বাগডোগরার দুই পুজোর ক্ষেত্রেও সেই গল্প বলার চেষ্টা এবারের আয়োজনকে আলাদা করে তুলতে পারে।

পুজোর আগে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা

পুজোর সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপ তৈরির কাজের গতি। শিল্পী, কারিগর এবং পুজো কমিটির সদস্যরা শেষ মুহূর্তের কাজ শেষ করতে ব্যস্ত। কোথাও মণ্ডপের কাঠামো তৈরি হচ্ছে, কোথাও চলছে রঙের কাজ, আবার কোথাও চলছে সাজসজ্জার শেষ প্রস্তুতি।

পুজোর আগে শেষ মুহূর্তে মণ্ডপের আসল রূপ ফুটে ওঠে। তাই এখন থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুজোপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—শেষ পর্যন্ত রাজস্থানী গ্রাম এবং ‘শহরের ইতিকথা’ ঠিক কীভাবে দর্শকদের সামনে ধরা দেয়।

বাগডোগরায় এবার পুজোর লড়াই নয়, বৈচিত্র্যের উৎসব

দুর্গাপুজোয় একাধিক পুজোর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই থাকে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার প্রতিযোগিতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতাই পুজোর বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করে। একটি পুজো যদি রাজস্থানের গ্রামকে তুলে ধরে, অন্যটি যদি শহরের অতীতের গল্প বলে, তাহলে দর্শনার্থীদের সামনে তৈরি হয় একাধিক অভিজ্ঞতার সুযোগ।

বাগডোগরার দুই পুরনো ক্লাবের পুজো তাই এবারে শুধু মণ্ডপসজ্জার কারণে নয়, ভাবনার বৈচিত্র্যের কারণেও নজরে থাকতে পারে। শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে দাঁড়িয়ে দুই পুজো দুই ভিন্ন গল্প বলবে—একটি রাজস্থানী সংস্কৃতির, অন্যটি শহরের স্মৃতির।

সব মিলিয়ে এবারের দুর্গাপুজোয় বাগডোগরার লোয়ার বাগডোগরা সর্বজনীন এবং বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীন—দুই পুজোকেই ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা তুঙ্গে। একদিকে রাজস্থানী ঘরানার মণ্ডপে একখণ্ড রাজস্থানী গ্রামের আবহ, অন্যদিকে ‘শহরের ইতিকথা’র মাধ্যমে পুরনো দিনের শহরের স্মৃতিচারণ। দুই ভিন্ন ভাবনা, দুই ভিন্ন উপস্থাপনা এবং পুজোর একই আনন্দ।

শিলিগুড়ির উপকণ্ঠ বাগডোগরায় তাই এবার দুর্গাপুজোর আবহ আরও জমজমাট হতে চলেছে। পুজোর ক’দিনে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হবে এলাকা। থিমের বৈচিত্র্য, মণ্ডপের শিল্পকর্ম এবং প্রতিমার সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে বাগডোগরার এই দুই পুরনো পুজো এবারের শারদোৎসবে দর্শনার্থীদের তালিকায় বিশেষ জায়গা করে নিতে পারে।

Preview image