Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিদেশের মাটিতে বাঙালির আবেগ, ১০ ও ১১ অক্টোবর টাইমস স্কোয়ারে মহালয়া-দুর্গোৎসব

বিদেশের মাটিতেও বাঙালির হৃদয়ে দুর্গাপুজোর আবেগ অমলিন। নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মহালয়া ও দুর্গোৎসব। বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করতেই এই বিশেষ আয়োজন।

বিদেশের মাটিতে বাঙালির আবেগ, ১০ ও ১১ অক্টোবর টাইমস স্কোয়ারে মহালয়া-দুর্গোৎসব
আন্তর্জাতিক

“এ যেন সংস্কৃতির শেকড়ে প্রবেশ। হোক না বিদেশ, নাই বা থাকল কাশের দোলা—তবু তো বাঙালি হৃদয়। সেই হৃদয় তো পুজোর আনন্দে মাতোয়ারা হবেই।”
এই আবেগকেই সামনে রেখে এবার বিদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এক বিশেষ মহালয়া ও দুর্গোৎসব। নিউ ইয়র্কের বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হতে চলেছে এই বিশেষ অনুষ্ঠান।

দুর্গাপুজো শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বাঙালির কাছে এটি আবেগ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং শিকড়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের নাম। কলকাতা থেকে বহু দূরে, সমুদ্র পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও সেই আবেগ যে একইভাবে বেঁচে রয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাবে টাইমস স্কোয়ারের এই আয়োজনে।

নিউ ইয়র্ক বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও আন্তর্জাতিক শহর। প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখানে আসেন। সেই শহরের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কোয়ারে বাঙালির মহালয়া ও দুর্গোৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ এই আয়োজন শুধু প্রবাসী বাঙালিদের জন্য উৎসবের উপলক্ষ নয়, বরং বিশ্বের দরবারে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরারও একটি সুযোগ।

দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক বহু প্রাচীন। শরতের আকাশ, সাদা কাশফুল, শিউলির গন্ধ, ঢাকের আওয়াজ, মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ—সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো বাঙালির জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে রয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী বাঙালিরাও সেই আবেগ থেকে দূরে নন। বরং হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও তাঁরা নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

বিদেশে বড় হয়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে এই ধরনের অনুষ্ঠান আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের অনেকের জন্ম বা বেড়ে ওঠা বিদেশের মাটিতে। ফলে বাংলার গ্রাম, শহর, কাশবন, পুজোমণ্ডপ বা মহালয়ার ভোরের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি পরিচয় নাও থাকতে পারে। কিন্তু পরিবারের মাধ্যমে তাঁরা যে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, সেই শিকড়ের সঙ্গে তাঁদের আরও গভীরভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে এমন আয়োজন।

টাইমস স্কোয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবরের এই মহালয়া-দুর্গোৎসব তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় উদযাপনের একটি বড় মঞ্চ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

দুর্গাপুজোর আবেগের সঙ্গে মহালয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। মহালয়া থেকেই যেন বাঙালির মনে পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়ে যায়। ভোরবেলায় চণ্ডীপাঠ শোনা, দেবীর আগমনের অপেক্ষা এবং শরতের উৎসবের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে মহালয়া বাঙালির কাছে এক বিশেষ অনুভূতি।

বিদেশে থেকেও সেই মহালয়ার আবহকে ধরে রাখার চেষ্টা এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত শহুরে পরিবেশের মধ্যে দাঁড়িয়ে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মহালয়ার আবহ তৈরি করা নিঃসন্দেহে একটি অন্যরকম অভিজ্ঞতা হতে পারে।

পুজো মানেই শুধু প্রতিমা বা মণ্ডপ নয়। পুজো মানে গান, আবৃত্তি, নাচ, নাটক, আড্ডা, খাবার এবং সর্বোপরি মানুষের মিলন। প্রবাসে দুর্গাপুজো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে—এটি বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে এক জায়গায় নিয়ে আসে। বহুদিন পর পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হওয়া, নতুন বন্ধুত্ব তৈরি হওয়া এবং নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

টাইমস স্কোয়ারের মতো একটি আন্তর্জাতিক স্থানে এই ধরনের আয়োজনের ফলে বাঙালির উৎসব শুধু বাঙালিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষও বাঙালির দুর্গাপুজো, মহালয়া এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।

দুর্গাপুজো আজ শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের উৎসব নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের মতো করে দুর্গাপুজো আয়োজন করেন। লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, টরন্টো, সিডনি, দুবাই থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা শহরে প্রতি বছর দুর্গাপুজো হয়। কোথাও ছোট পরিসরে, কোথাও আবার বড় আয়োজনের মাধ্যমে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য এক—বিদেশের মাটিতে থেকেও নিজেদের শিকড়কে ভুলে না যাওয়া।

এই কারণেই “নাই বা থাকল কাশের দোলা”—এই কথার মধ্যে রয়েছে প্রবাসী বাঙালির আবেগের একটি গভীর ছবি। শরতের সেই পরিচিত প্রকৃতি হয়তো বিদেশের মাটিতে সবসময় পাওয়া যায় না। কিন্তু পুজোর অনুভূতি, দেবীর আরাধনা এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতি তো হৃদয়ের মধ্যেই থাকে।

নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী বাঙালিদের কাছে টাইমস স্কোয়ারের এই অনুষ্ঠান তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থানে নিজেদের সংস্কৃতিকে উদযাপন করার সুযোগ তাঁদের কাছে নিঃসন্দেহে গর্বের।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন দিককে তুলে ধরারও সুযোগ তৈরি হবে। দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত গান, নাচ, আবৃত্তি, শিল্প ও সাহিত্য বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। উৎসবকে কেন্দ্র করে এই সাংস্কৃতিক উপাদানগুলি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা গেলে তাঁদের মধ্যে নিজেদের ঐতিহ্য সম্পর্কে আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে প্রবাসী শিশু-কিশোরদের কাছে এই ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা যে দেশে বড় হচ্ছে, সেই দেশের সংস্কৃতির পাশাপাশি নিজেদের পারিবারিক সংস্কৃতি ও শিকড় সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। পুজোর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, বাংলা গান শোনা, নাচ বা আবৃত্তিতে অংশ নেওয়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে উৎসবে সময় কাটানো তাঁদের কাছে একটি বিশেষ স্মৃতি হয়ে উঠতে পারে।

news image
আরও খবর

দুর্গাপুজো আসলে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে যুক্ত করার একটি সেতু। ঠাকুমা-দিদার কাছ থেকে শোনা পুজোর গল্প যেমন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়, তেমনই বিদেশের মাটিতে আয়োজিত পুজোও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

প্রবাসী বাঙালির জীবনে দুর্গাপুজোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মিলন। সারা বছর কাজের ব্যস্ততা, পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা দায়িত্বের মধ্যে অনেকেরই একে অপরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ কম থাকে। পুজো সেই দূরত্ব কমিয়ে দেয়। পরিচিত মুখগুলির সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা জমে এবং তৈরি হয় এক বিশেষ সামাজিক পরিবেশ।

টাইমস স্কোয়ারে এই আয়োজনও সেই মিলনের আবহ তৈরি করতে পারে। ১০ ও ১১ অক্টোবর দুই দিন ধরে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিরা একসঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবেন।

এখানে বাঙালির পুজো শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়, বরং সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও অংশ। বিদেশে বসবাসকারী মানুষের কাছে নিজের ভাষা, খাবার, পোশাক, গান এবং উৎসবের সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেক সময় নিজের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার সমান। তাই দুর্গাপুজো তাঁদের কাছে নস্টালজিয়ারও একটি বড় উৎস।

শরতের পুজোর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কলকাতার রাস্তা, প্যান্ডেল, ধুনুচির গন্ধ, ঢাকের আওয়াজ, নতুন জামাকাপড়, পুজোর কেনাকাটা এবং বন্ধুদের সঙ্গে রাত জাগা। বিদেশে বসে সেই একই পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব না হলেও, পুজোর আবেগকে ধরে রাখা সম্ভব। টাইমস স্কোয়ারের এই অনুষ্ঠান সেই চেষ্টারই প্রতিফলন।

এই ধরনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুর্গাপুজো উদযাপন বাংলার সংস্কৃতির বিশ্বায়নেরও একটি উদাহরণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এখন ভারতীয় উৎসব সম্পর্কে আগ্রহী। দুর্গাপুজোও আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি পেয়েছে। বাঙালির শিল্প, সংস্কৃতি, খাবার ও ঐতিহ্যের সঙ্গে অন্য সংস্কৃতির মানুষের পরিচয় ঘটানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পুজোর আয়োজনকে কেন্দ্র করে তাই শুধু বাঙালিরাই নয়, অন্য সংস্কৃতির মানুষও আকৃষ্ট হতে পারেন। তাঁদের কাছে দুর্গাপুজোর প্রতিমা, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা বাঙালি খাবার এক নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে।

১০ ও ১১ অক্টোবরের এই অনুষ্ঠান সেই অর্থে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি ক্ষেত্রও হয়ে উঠতে পারে। বাঙালিরা নিজেদের ঐতিহ্য উদযাপন করবেন, আর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ সেই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রবাসে দুর্গাপুজো আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ঐতিহ্যকে ধরে রেখে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। কলকাতার মতো বিশাল পুজোর আবহ তৈরি করা সবসময় সম্ভব নয়। কিন্তু সীমিত পরিসরেও বাঙালির উৎসবের মূল অনুভূতিকে ধরে রাখা যায়। বরং বিদেশের মাটিতে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সাংস্কৃতিক দিকটি আরও বেশি গুরুত্ব পায়।

মহালয়া ও দুর্গোৎসবের এই আয়োজন সেই কারণেই বিশেষ। এটি শুধু দেবীর আরাধনা নয়, বরং বাঙালির ভাষা, গান, শিল্প, সাহিত্য, ঐতিহ্য এবং সামাজিক বন্ধনকে উদযাপন করার সুযোগ।

প্রবাসী বাঙালির কাছে পুজো মানে অনেক সময় নিজের শহর ও গ্রামের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া। বিদেশের ব্যস্ত জীবনে হঠাৎ করে ঢাকের আওয়াজ বা বাংলা গানের সুর শুনলেই মনে পড়ে যায় বাড়ির পুজো। সেই নস্টালজিয়াকে সঙ্গে নিয়েই তাঁরা নতুন প্রজন্মের জন্য তৈরি করেন নতুন স্মৃতি।

টাইমস স্কোয়ারের এই অনুষ্ঠানও সেই পুরনো ও নতুন স্মৃতির মধ্যে একটি সেতু তৈরি করবে। একদিকে থাকবে বাংলার বহু পুরনো পুজোর ঐতিহ্য, অন্যদিকে থাকবে নিউ ইয়র্কের আধুনিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ। দুই ভিন্ন জগতের এই মেলবন্ধনই অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষত্ব।

সব মিলিয়ে, ১০ ও ১১ অক্টোবর নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মহালয়া ও দুর্গোৎসব শুধু প্রবাসী বাঙালির উৎসব উদযাপনের একটি অনুষ্ঠান নয়। এটি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত মঞ্চে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ। কাশফুলের দোলা হয়তো নেই, শরতের পরিচিত আকাশও হয়তো অন্যরকম, কিন্তু পুজোর আনন্দের ক্ষেত্রে দূরত্ব কোনও বাধা নয়।

কারণ বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো শুধু একটি উৎসব নয়—এটি শিকড়ের টান। আর সেই শিকড়ের টানই সমুদ্র পেরিয়ে নিয়ে যায় নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারেও। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও যখন বাঙালিরা একসঙ্গে “মা আসছেন” বলে উৎসবের প্রস্তুতি নেন, তখন প্রমাণ হয়—ভৌগোলিক দূরত্ব যতই হোক, সংস্কৃতির সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক কখনও দূরে সরে যায় না।

Preview image