Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বেলপাহাড়ির দুর্ঘটনায় মৃত্যু, বারুইপুরে প্রীতির দেহ ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার

ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রীতি দত্তের। সোমবার রাতে বারুইপুরে তাঁর নিথর দেহ ফিরতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার ও এলাকায়। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-পরিজন ও স্থানীয়রা।

সংবাদদাতা, বারুইপুর: ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর সোমবার রাতে বারুইপুরে ফিরল প্রীতি দত্তের নিথর দেহ। প্রিয়জনকে হারানোর শোক মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ায় প্রীতির শ্বশুরবাড়ির সামনে ভিড় জমতে থাকে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীদের চোখেও তখন জল। মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন অপেক্ষা করছিলেন সেই অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য, যে গাড়িতে করে শেষবারের মতো বাড়ি ফিরছিলেন প্রীতি।

এই দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দিক আরও গভীর হয়েছে তাঁর ছেলেকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, ছেলে প্রিয়ঙ্কনও ওই ঘটনার সময় সেখানে ছিল। জলে পড়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি মা প্রীতি দত্ত। ছেলেকে বাঁচানোর তাগিদে তিনি জলে ঝাঁপ দেন। কিন্তু সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, জলে নামার সময় প্রীতির মাথা পাথরে আঘাত লাগে। এরপরই তিনি জলের মধ্যে তলিয়ে যান।

মাকে হারিয়ে কার্যত বাকরুদ্ধ প্রিয়ঙ্কন। ঘটনার পর অন্যদের সঙ্গে সে দুপুরেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু যে বাড়িতে মায়ের ফেরার কথা ছিল, সেখানে শেষ পর্যন্ত ফিরল তাঁর নিথর দেহ। প্রিয়ঙ্কনের সামনে এখন এক কঠিন বাস্তবতা—যে মা তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে গেলেন, সেই মাকে আর কোনওদিন ফিরে পাওয়া যাবে না।

ছেলেকে বাঁচাতে জলে ঝাঁপ মায়ের

ঘাগরা জলপ্রপাতের দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান থেকে উঠে এসেছে ঘটনার মর্মান্তিক বিবরণ। হরিনাভির বাসিন্দা দীপালি মিত্রও ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রিয়ঙ্কন জলে পড়ে যাওয়ার পর তাকে বাঁচানোর জন্যই প্রীতি জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ছেলের বিপদ দেখে মা নিজেকে সামলাতে পারেননি। সন্তানের প্রাণ বাঁচানোর জন্য স্বাভাবিকভাবেই জলে নেমে পড়েন তিনি।

দীপালি মিত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, জলে নামার সময় প্রীতির মাথা পাথরে লাগে। মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই জলের মধ্যে তলিয়ে যান। ঘটনাটি চোখের সামনে দেখতে হওয়ায় উপস্থিত অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

একটি আনন্দের সফর যে এভাবে শোকের ঘটনায় পরিণত হবে, তা হয়তো কেউই ভাবতে পারেননি। জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে আচমকা ঘটে যায় বিপদ। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি। আনন্দের জায়গায় নেমে আসে আতঙ্ক, আর শেষ পর্যন্ত সেই আতঙ্ক পরিণত হয় গভীর শোকে।

ময়নাতদন্তের পর বারুইপুরের পথে দেহ

দুর্ঘটনার পর প্রীতির দেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাঁর ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দেহ নিয়ে বারুইপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

বেলা আড়াইটে নাগাদ ঝাড়গ্রাম থেকে প্রীতির দেহ নিয়ে বাড়ির লোকজন রওনা হন। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাতের দিকে তাঁরা বারুইপুরে পৌঁছন। প্রতিটি মুহূর্ত যেন পরিবারের কাছে আরও ভারী হয়ে উঠছিল। একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক, অন্যদিকে শেষবারের মতো তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বেদনা—সব মিলিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার।

রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রীতির দেহ এসে পৌঁছয় হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে। অ্যাম্বুল্যান্স বাড়ির সামনে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। আশপাশের মানুষজনও ছুটে আসেন। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

মোড়ে মোড়ে মানুষের ভিড়

প্রীতির দেহ বাড়িতে ফিরছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষজন রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। মোড়ে মোড়ে ভিড় জমে যায়। অনেকেই শেষবারের মতো প্রীতিকে দেখতে বাড়ির সামনে উপস্থিত হন। পরিচিত মানুষকে এভাবে হারানোর ঘটনায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়।

কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে যে মহিলা পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন, তাঁরই নিথর দেহ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাড়িতে ফিরবে। অনেকের মুখে তখন একটাই কথা—সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে একজন মা নিজের জীবন দিয়ে দিলেন।

এই ধরনের দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, গোটা এলাকাকেই নাড়িয়ে দেয়। পরিচিত-পরিজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা—সকলের মধ্যেই তৈরি হয় শোক ও বেদনা। প্রীতির পরিবারের সদস্যদের কান্না দেখে উপস্থিত অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

মাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ছেলে

এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায় প্রিয়ঙ্কনকে ঘিরে। মাকে হারানোর পর সে কার্যত বাকরুদ্ধ। ঘটনার পর থেকেই তার উপর নেমে এসেছে গভীর মানসিক আঘাত। যে মা তাকে বাঁচাতে নিজের জীবনের কথা না ভেবে জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, সেই মায়ের নিথর দেহ নিয়েই তাকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

সন্তানের বিপদে একজন মা কতটা তৎপর হয়ে উঠতে পারেন, প্রীতির ঘটনা তারই মর্মান্তিক উদাহরণ। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে তিনি ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই চেষ্টার পরিণতি হল তাঁর মৃত্যু।

পরিবারের কাছে এই শোক সামলে ওঠা সহজ নয়। বিশেষ করে প্রিয়ঙ্কনের কাছে এই ঘটনা সারাজীবনের এক গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে। মায়ের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, দুর্ঘটনার সেই ভয়াবহ স্মৃতি এবং মাকে হারানোর বেদনা—সবকিছুই তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে।

ঘাগরা জলপ্রপাতের সেই ভয়াবহ মুহূর্ত

জলপ্রপাতের মতো পর্যটনকেন্দ্রে সাধারণত মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি অনেকে জলের কাছাকাছি গিয়ে ছবি তোলেন, আনন্দ করেন। কিন্তু জলপ্রপাতের কাছে থাকা জল, পাথর ও স্রোতের প্রকৃতি অনেক সময় অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ঘাগরা জলপ্রপাতেও সেই বিপদের ছবি সামনে এল প্রীতি দত্তের দুর্ঘটনায়। জলে পড়ে যাওয়া ছেলেকে দেখতে পেয়ে মা প্রীতি তৎক্ষণাৎ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। কিন্তু জলপ্রপাতের জলে থাকা পাথরের সঙ্গে মাথায় আঘাত লাগার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, মাথায় আঘাত পাওয়ার পর প্রীতি তলিয়ে যান। উপস্থিত মানুষজনের সামনে ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা, যা তাঁরা সহজে ভুলতে পারবেন না।

আনন্দের সফর থেকে শোকের বাড়ি

ভ্রমণ সাধারণত মানুষের মনে আনন্দের স্মৃতি তৈরি করে। কিন্তু প্রীতির পরিবারের ক্ষেত্রে সেই ভ্রমণ হয়ে উঠল জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক স্মৃতিগুলির একটি। যে সফর থেকে হাসিমুখে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, সেখান থেকে ফিরতে হল শোকের আবহে।

news image
আরও খবর

পরিবারের সদস্যদের কাছে এই পরিবর্তন ছিল অত্যন্ত আকস্মিক। কিছুক্ষণ আগেও যাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে, যাঁকে সামনে দেখা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর সেই মানুষটির দেহ বাড়িতে ফিরছে—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।

প্রীতির মৃত্যু তাই শুধু একটি দুর্ঘটনার খবর নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং হঠাৎ করে প্রিয় একজন মানুষকে হারানোর বেদনা।

রাতেই শেষকৃত্য

রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রীতির দেহ বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ার বাড়িতে পৌঁছনোর পর শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা পরিবার। রাতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবারের সদস্যদের সামনে আসে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত।

শেষকৃত্যের সময় পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক। যাঁরা প্রীতিকে কাছ থেকে চিনতেন, তাঁরাও এই ঘটনায় ভেঙে পড়েন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি পরিবারের জীবনে যে এমন পরিবর্তন আসতে পারে, তা যেন কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে উঠে এল ঘটনার বিবরণ

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দীপালি মিত্রের বক্তব্য এই দুর্ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি জানান, প্রিয়ঙ্কন জলে পড়ে যাওয়ার পরই প্রীতি তাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন। ছেলের প্রতি মায়ের স্বাভাবিক টান এবং বিপদের মুহূর্তে সন্তানের জন্য নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেওয়ার ছবি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রীতির মাথায় পাথর লাগার পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তারপর তিনি জলের মধ্যে তলিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীর এই বর্ণনা থেকেই বোঝা যায়, গোটা ঘটনাটি কত দ্রুত ঘটেছিল।

এ ধরনের ঘটনায় কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তও অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। জলপ্রপাত বা গভীর জলের কাছে তাই বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু বা পরিবারের সদস্যরা জলের কাছে গেলে তাঁদের নিরাপত্তার দিকে অতিরিক্ত নজর রাখা জরুরি।

বারুইপুরে শোকের ছায়া

প্রীতির দেহ বাড়িতে পৌঁছনোর পর বারুইপুরের বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় মানুষজনের উপস্থিতি প্রমাণ করে, প্রীতির সঙ্গে এলাকার মানুষের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল।

পরিবারের সদস্যদের কান্না এবং প্রতিবেশীদের ভিড়ে বারবার ফিরে আসছিল দুর্ঘটনার সেই স্মৃতি। অনেকেই প্রীতির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। এমন কঠিন সময়ে প্রতিবেশী ও পরিচিতদের এই উপস্থিতি পরিবারকে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও শক্তি জোগাতে পারে।

তবে প্রিয়জন হারানোর শোক এত সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আকস্মিক মৃত্যু হলে পরিবারের সদস্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। প্রীতির ক্ষেত্রেও সেই ছবিই দেখা গেল।

জলপ্রপাত ও পর্যটনকেন্দ্রে সতর্কতার প্রয়োজন

প্রীতি দত্তের মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, জলপ্রপাত বা প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রে আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাথুরে জায়গা, জলের গভীরতা, স্রোতের গতি এবং ভেজা পাথরের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক সময় বেড়ে যায়।

বিশেষ করে বর্ষার পর জলপ্রপাতগুলিতে জলের পরিমাণ ও স্রোত বেড়ে যেতে পারে। বাইরে থেকে কোনও জায়গা নিরাপদ মনে হলেও বাস্তবে সেখানে গভীরতা বা স্রোতের তীব্রতা অনেক বেশি থাকতে পারে। তাই নির্দিষ্ট নিরাপদ এলাকার বাইরে না যাওয়া, সতর্কতা মেনে চলা এবং পরিবারের ছোটদের উপর নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রীতির ঘটনা কোনও পরিবারের কাছে যেন আর এমন দুঃখজনক পরিস্থিতি তৈরি না করে—এই সচেতনতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

একটি মর্মান্তিক অধ্যায়ের সমাপ্তি

বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতের সেই দুর্ঘটনার পর সোমবার রাতে বারুইপুরে ফিরল প্রীতি দত্তের দেহ। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এই মায়ের মৃত্যু পরিবারকে চিরদিনের জন্য শোকের মধ্যে রেখে গেল।

সোমবার সকাল থেকে ময়নাতদন্ত, তারপর ঝাড়গ্রাম থেকে বারুইপুরের দীর্ঘ পথ, রাত সাড়ে ৯টায় বাড়িতে দেহ পৌঁছনো এবং রাতেই শেষকৃত্য—একটি দিনের মধ্যেই পরিবারকে পার করতে হল অসহনীয় এক সময়। আর সবকিছুর কেন্দ্রে রয়ে গেল সেই একটিই ঘটনা—ছেলে জলে পড়ে যাওয়ায় তাকে বাঁচাতে মা প্রীতি দত্তের ঝাঁপ দেওয়া।

মাকে হারিয়ে প্রিয়ঙ্কন এখন বাকরুদ্ধ। পরিবারের সদস্যদের কান্না থামছে না। প্রতিবেশীদের চোখেও জল। মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভিড় সাক্ষী হয়ে রইল এক মর্মান্তিক বিদায়ের।

বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতের দুর্ঘটনায় প্রীতি দত্তের মৃত্যু তাই শুধু একটি দুর্ঘটনার খবর হয়ে থাকবে না। এটি হয়ে থাকবে এক মায়ের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক বেদনাদায়ক স্মৃতি। যে মা ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনের কথা ভাবেননি, শেষ পর্যন্ত সেই মায়ের নিথর দেহই ফিরল বারুইপুরের বাড়িতে।

এই ঘটনার পর একদিকে যেমন প্রীতির পরিবারকে ঘিরে গভীর শোক, অন্যদিকে তেমনই জলপ্রপাত ও পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে যাতে আর কোনও পরিবারকে এমন অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রীতির পরিবারের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত কঠিন। একজন মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি নিঃসন্দেহে সকলের মনেই গভীর দাগ রেখে গেল।

Preview image