উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর। রেশন ব্যবস্থায় কেরোসিনের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
পুজোর মাসে রেশন ব্যবস্থায় কেরোসিনের দাম বাড়ল না। সেপ্টেম্বর মাসে কেরোসিনের দাম লিটারে প্রায় ৬ টাকা বাড়ার পর অক্টোবর মাসে ফের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কারণ, কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের অনুমোদন অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে রেশনের কেরোসিনের দাম প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়ম কার্যকর হলে অক্টোবরেও কেরোসিনের দাম বাড়তে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অক্টোবর মাসে রেশনের কেরোসিনের ইস্যু প্রাইস অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, অক্টোবর মাসে লিটারে প্রায় ৭ টাকা পর্যন্ত কেরোসিনের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের মূল্যবৃদ্ধির পর নতুন করে দাম বাড়লে পুজোর মরশুমে সাধারণ মানুষের উপর আরও চাপ তৈরি হতে পারত। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের তরফে কেন্দ্রের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত অক্টোবর মাসের জন্য নতুন করে দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা কেরোসিনের দাম দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির কাছে কেরোসিন এখনও রান্না এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। সেই কেরোসিনের দাম একবারে বেশ কিছুটা বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে সাধারণ মানুষের মাসিক খরচে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রেশনের কেরোসিনের দাম লিটারে প্রায় ৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এর পর থেকেই অক্টোবর মাসে ফের মূল্যবৃদ্ধি হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ কেন্দ্রের অনুমোদন অনুযায়ী তেল সংস্থাগুলির কাছে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুযোগ ছিল।
সেপ্টেম্বরের পর অক্টোবরেও যদি একইভাবে দাম বাড়ানো হত, তাহলে উৎসবের মরশুমে কেরোসিন ব্যবহারকারী পরিবারগুলির উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে আপাতত সেই আশঙ্কা নেই।
অক্টোবর মাসে পুজোর আবহে রেশনের কেরোসিনের ইস্যু প্রাইস একই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে যে দামে কেরোসিন সরবরাহ করা হচ্ছিল, অক্টোবর মাসে নতুন করে তার সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্য যোগ হচ্ছে না।
এই সিদ্ধান্তে কেরোসিন ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের জন্য অন্তত এই মাসে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। পুজোর আগে বাজারে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ বাড়ার সময়ে রেশনের কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত থাকাকে স্বস্তির খবর হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে কেরোসিনের দাম স্থায়ীভাবে কমানো হয়নি। বর্তমানে মূল বিষয় হল, অক্টোবর মাসে নতুন করে দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসগুলিতে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা পরবর্তী পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
কেরোসিনের দাম নিয়ে তৈরি হওয়া বর্তমান পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে কেন্দ্রের দেওয়া একটি অনুমোদন। গত মাসেই কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে রেশনের কেরোসিনের দাম প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল বলে প্রদত্ত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
এই অনুমোদনের ফলে তেল সংস্থাগুলির হাতে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মাসিক ভিত্তিতে কেরোসিনের ইস্যু প্রাইস পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে কোনও একটি মাসে দাম বাড়ানোর পর পরের মাসেও পরিস্থিতি অনুযায়ী ফের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই সেপ্টেম্বরের মূল্যবৃদ্ধির পর অক্টোবরের দাম নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। কিন্তু অক্টোবর মাসে সেই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়নি।
সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে রেশনের কেরোসিনের দাম লিটারে প্রায় ৭ টাকা বাড়ানোর বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রায় ৬ টাকা বৃদ্ধির পর অক্টোবরে ফের প্রায় ৭ টাকা বাড়লে অল্প সময়ের ব্যবধানে কেরোসিনের দাম আরও এক দফা বাড়ত।
তবে শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়। ফলে অক্টোবর মাসে নতুন করে কেরোসিনের দাম বাড়ছে না।
এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অক্টোবর মাসেই দুর্গাপুজো-সহ একাধিক উৎসব রয়েছে। এই সময়ে বহু পরিবারের অতিরিক্ত খরচ হয়। তাই রেশন কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির মাসিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে অন্তত একটি অতিরিক্ত চাপ এড়ানো সম্ভব হবে।
কেরোসিনের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যের তরফে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে সরকারি সূত্রের খবর। নতুন করে লিটারে ৭ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে রাজ্যের উদ্বেগের কথাও কেন্দ্রকে জানানো হয়।
বিশেষ করে রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেরোসিন পাওয়া সাধারণ মানুষের উপর বারবার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে—এই বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর পরেই অক্টোবর মাসে মূল্যবৃদ্ধি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী মূল্যছাড় হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং অক্টোবর মাসে নতুন দাম কার্যকর না করে আগের ইস্যু প্রাইসই বজায় রাখা হয়েছে।
কেরোসিনের দাম বাড়ার সম্ভাবনা সামনে আসার পর ডিলার সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। দামবৃদ্ধি আটকাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ চেয়েছিল কেরোসিন ডিলার সংগঠন।
ডিলারদের বক্তব্য, কেরোসিনের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রেশন কেরোসিনের চাহিদা কমতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এবং যাঁরা এখনও কেরোসিনের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি হতে পারে।
ডিলার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অশোক গুপ্ত জানিয়েছেন, শুধু সাময়িকভাবে দামবৃদ্ধি স্থগিত রাখলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাঁর মতে, কেরোসিনের দাম স্থায়ীভাবে কমানো প্রয়োজন। তবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে রেশন কেরোসিনের চাহিদা বাড়তে পারে।
কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে ডিলার সংগঠনের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল। কারণ রাজ্যের রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ কেরোসিনের দামের উপর নির্ভরশীল।
দাম যদি প্রতি মাসে বাড়তে থাকে, তাহলে কেরোসিন কেনার খরচ ক্রমশ বেড়ে যাবে। এর ফলে অনেক পরিবার বিকল্প জ্বালানির দিকে যেতে বাধ্য হতে পারে। আবার যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাঁদের ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত খরচও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অক্টোবর মাসে দাম না বাড়ার সিদ্ধান্তকে অন্তত সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সম্প্রতি কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এর পরেই রেশন কেরোসিনের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
তবে মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক কারণ বা ব্যাখ্যা এখানে উল্লেখ করা হয়নি। তাই ঘটনাক্রম হিসেবে বিষয়টি সামনে এলেও সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সরকারি ব্যাখ্যা আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
দুর্গাপুজো পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় উৎসব। পুজোর সময় সাধারণ পরিবারের খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। পোশাক, যাতায়াত, খাবার, বাজার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে অতিরিক্ত খরচ হয়। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির দামও যদি বাড়ে, তাহলে মাসিক বাজেটে তার প্রভাব পড়তে পারে।
এই কারণেই অক্টোবর মাসে কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত থাকার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেরোসিন সংগ্রহ করেন, তাঁদের জন্য অন্তত এই মাসে নতুন মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকছে না।
তবে দীর্ঘমেয়াদে কেরোসিনের দাম কমবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ডিলার সংগঠনের পক্ষ থেকে স্থায়ীভাবে দাম কমানোর দাবি তোলা হয়েছে।
অক্টোবর মাসে দাম না বাড়লেও প্রতি মাসে মূল্য পরিবর্তনের অনুমোদন থাকার কারণে পরবর্তী মাসগুলিতে ফের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নজর থাকবে। নভেম্বর বা তার পরের মাসে ইস্যু প্রাইস কী থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
তাই বর্তমান সিদ্ধান্তকে আপাতত অক্টোবর মাসের মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়া বন্ধ হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও সামনে আসেনি।
এই মুহূর্তে রেশন কেরোসিন ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর হল—অক্টোবর মাসে কেরোসিনের দাম নতুন করে বাড়ছে না। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে লিটারে প্রায় ৬ টাকা দাম বাড়ার পর অক্টোবরে আরও প্রায় ৭ টাকা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হয়েছে।
ফলে পুজোর মাসে রেশন কেরোসিন কিনতে গিয়ে নতুন করে বাড়তি দাম দিতে হবে না। তবে ভবিষ্যতে দাম কমবে নাকি আবার বাড়বে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ডিলার সংগঠনের পক্ষ থেকে স্থায়ীভাবে দাম কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কেরোসিনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে না থাকলে এর ব্যবহার ও চাহিদা আরও কমতে পারে। দাম কমলে রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেরোসিনের চাহিদা ফের বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
রেশন কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে আলোচনা চলছিল, অক্টোবর মাসের সিদ্ধান্তে আপাতত তাতে কিছুটা বিরতি এসেছে। কেন্দ্রের তরফে মাসে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও অক্টোবর মাসে সেই সুযোগ ব্যবহার করা হয়নি।
সেপ্টেম্বরে লিটারে প্রায় ৬ টাকা দাম বাড়ার পর অক্টোবরে প্রায় ৭ টাকা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। রাজ্যের তরফে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ, ডিলার সংগঠনের আবেদন এবং উৎসবের মরশুম—এই সবকিছুর মধ্যে অক্টোবরের ইস্যু প্রাইস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উঠে এসেছে।
তবে কেরোসিনের দাম স্থায়ীভাবে কমানোর দাবি এখনও রয়েছে। ডিলার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অশোক গুপ্তের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখাই যথেষ্ট নয়; দাম কমানো হলে তবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে রেশন কেরোসিনের চাহিদা বাড়তে পারে।
তাই আপাতত পুজোর মাসে রেশন কেরোসিন নিয়ে স্বস্তি থাকলেও আগামী মাসগুলিতে দাম কোন পথে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।