২৮শে এপ্রিল ২০২৬ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের শক্তিগড় বড়শোল এবং আমরা শিবতলা এলাকায় রাতের অন্ধকারে মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে সরাসরি ময়দানে নামল আমাদের প্রতিনিধি দল তীব্র গরমের কারণে এখন রাতের বেলাতেই চলছে জোরকদমে রাজনৈতিক প্রচার এবং সাধারণ ভোটারদের সাথে মুখোমুখি কথা বলে উঠে এল তাদের আশা আকাঙ্ক্ষা এবং বর্তমান রাজনীতির আসল চিত্র
বর্ধমান ২৮শে এপ্রিল ২০২৬
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে পৌঁছেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কেন্দ্র হলো বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র এই কেন্দ্রে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং বিরোধীদের এক ইঞ্চিও জমি না ছাড়তে বদ্ধপরিকর সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো চৈত্র মাসের শেষ এবং বৈশাখের শুরুতে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে এক ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ চলছে সকাল দশটা বাজতে না বাজতেই পিচের রাস্তা গরম হয়ে আক্ষরিক অর্থেই আগুন ঝরছে এই ভয়াবহ এবং অসহনীয় গরমের মধ্যে দিনের বেলা সাধারণ মানুষের পক্ষে বাড়ির বাইরে বেরোনো বা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে প্রচার করা আক্ষরিক অর্থেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাই এইবারের নির্বাচনে এক সম্পূর্ণ নতুন এবং অভিনব চিত্র দেখা যাচ্ছে দিনের বেলা রাস্তাঘাট শুনশান থাকলেও সূর্য ডোবার পর রাতের অন্ধকারে শুরু হচ্ছে আসল রাজনৈতিক লড়াই এবং প্রচারের ঝড় আগামী দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্তে এখন রাতের বেলাতেই চলছে জোরকদমে রাজনৈতিক প্রচার এবং সাধারণ ভোটারদের সাথে মুখোমুখি জনসংযোগ এই রাতের অন্ধকারে মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে এবং সাধারণ ভোটারদের মনের কথা জানতে আজ লেন্সপিডিয়া এর প্রতিনিধি দল সরাসরি ময়দানে নেমেছিল বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের শক্তিগড় বড়শোল এবং আমরা শিবতলা এলাকায় রাতের অন্ধকারে মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলে উঠে এল তাদের আশা আকাঙ্ক্ষা অভাব অভিযোগ এবং বর্তমান রাজনীতির আসল চিত্র
আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিল বর্ধমান উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত বিশ্ববিখ্যাত মিষ্টি ল্যাংচার আঁতুড়ঘর শক্তিগড় এলাকা রাত তখন প্রায় আটটা বাজে দিনের বেলা প্রখর রোদে যে জাতীয় সড়ক শুনশান ছিল রাতের অন্ধকারে সেই ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক বা পুরনো ২ নম্বর জাতীয় সড়ক যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাস্তার দুই ধারে সারি সারি ল্যাংচার দোকানগুলো উজ্জ্বল আলোয় সেজে উঠেছে এবং দূরপাল্লার বাস লরি ও ছোট গাড়ির যাত্রীরা সেখানে ভিড় জমিয়েছেন এই ল্যাংচার দোকানগুলো এবং সংলগ্ন চায়ের দোকানগুলোই হলো রাতের বেলা রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু আমরা কথা বললাম শক্তিগড়ের এক প্রবীণ মিষ্টি ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দা রামকান্ত ঘোষের সাথে তিনি আমাদের জানালেন যে শক্তিগড়ের ল্যাংচা শিল্পের ওপর নির্ভর করে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের রুটিরুজি চলে কিন্তু বিগত কয়েক বছরে কাঁচামাল যেমন ছানা চিনি এবং ময়দার দাম যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে লাভের পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে তিনি বলেন যেকোনো রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন আমাদের প্রধান দাবি হলো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা তিনি আরও জানান যে শক্তিগড় এলাকায় একটি আধুনিক মিষ্টি হাব বা ল্যাংচা হাব তৈরি করার কথা দীর্ঘ দিন ধরে বলা হলেও তা এখনও সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি এলাকার তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য এই ধরনের সরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন রাতের বেলা চায়ের দোকানে আড্ডারত কয়েকজন লরি চালক এবং সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেও বোঝা গেল যে তারা এইবারের নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত সচেতন তারা কেবল বড় বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শুনতে রাজি নন তারা চান রাস্তাঘাটের আরও উন্নতি হোক এবং টোল ট্যাক্সের নামে যে হয়রানি হয় তা বন্ধ হোক শক্তিগড়ের মানুষ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন যে যারা তাদের রুটিরুজির কথা ভাববে এবং এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন করবে তারা তাদেরকেই ভোট দেবেন
শক্তিগড় থেকে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল বড়শোল এলাকা রাত তখন প্রায় দশটা বাজে বড়শোল হলো বর্ধমান উত্তর বিধানসভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্ধিষ্ণু আধা শহর বা গ্রামীণ এলাকা এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিকাজ এবং ছোট ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল রাতের অন্ধকারে বড়শোল গ্রামের ভেতরের রাস্তাগুলো বেশ শান্ত হলেও গ্রামের মোড়ে মোড়ে এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর সামনে তরুণ এবং বয়স্কদের ছোট ছোট জটলা চোখে পড়ল এই জটলাগুলোতেই চলছে গভীর রাজনৈতিক কাটাছেঁড়া আমরা বড়শোল গ্রামের এক স্থানীয় ক্লাবের সামনে বসে থাকা কয়েকজন কৃষক এবং তরুণদের সাথে মুখোমুখি কথা বললাম গ্রামের প্রবীণ কৃষক হারাধন বাগদি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানালেন যে গত কয়েক বছরে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে কৃষিকাজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে কখনো অনাবৃষ্টি আবার কখনো অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্প এবং বিনামূল্যে ফসল বিমা যোজনা তাদের অনেক সাহায্য করেছে ঠিকই কিন্তু ফসলের সঠিক সহায়ক মূল্য বা এমএসপি না পাওয়ার কারণে কৃষকদের হাতে তেমন কোনো নগদ টাকা থাকছে না তিনি বলেন আমরা চাই নতুন সরকার এমন একটি ব্যবস্থা করুক যেখানে কৃষকরা সরাসরি বাজারে তাদের ফসল বিক্রি করতে পারবে এবং মাঝখান থেকে ফড়ে বা দালালদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে কৃষকদের জন্য আরও বেশি হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি যাতে ফসল পচে নষ্ট না হয়
বড়শোল এলাকার তরুণ প্রজন্মের সাথে কথা বলে তাদের এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আধুনিক চিন্তাধারার পরিচয় পাওয়া গেল গ্রামের তরুণরা এখন আর কেবল কৃষিকাজ বা ছোট ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল থাকতে চান না তারা উচ্চশিক্ষিত এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সম্পূর্ণভাবে পরিচিত আমরা কথা বললাম অতনু নামের এক স্থানীয় তরুণের সাথে যিনি বর্তমানে লেন্সট্যাক্স সলিউশনস এর মতো একটি আধুনিক কর্পোরেট সংস্থায় জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে বাড়ি থেকেই রিমোট ওয়ার্ক করেন অতনু জানালেন যে বড়শোল এলাকায় এখন প্রচুর প্রতিভাবান তরুণ রয়েছেন যারা ডিজিটাল মার্কেটিং সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং ডেটা এন্ট্রির কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করতে পারেন কিন্তু এলাকায় ভালো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা এবং ওয়াইফাই জোন না থাকার কারণে তাদের কাজের চরম ক্ষতি হয় তিনি বলেন আমাদের বড়শোল বা বর্ধমান শহরে যদি একটি আধুনিক আইটি পার্ক বা টেকনোলজি হাব তৈরি করা হয় তবে এই এলাকার তরুণদের আর কাজের খোঁজে ব্যাঙ্গালোর বা হায়দ্রাবাদে পাড়ি দিতে হবে না আমরা চাই রাজনৈতিক নেতারা কেবল ভোটের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি না দিয়ে এলাকার ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর দিন তরুণরা আজ অত্যন্ত সচেতন এবং তারা সেই দলকেই সমর্থন করবেন যারা তাদের আধুনিক কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল ভবিষ্যতের কথা ভাববে
বড়শোলের তরুণরা আরও জানালেন যে তারা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই এখন ছোট বাজেটে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি করে টাটা গোল্ড ইটিএফ বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে গেলে কেবল সরকারি চাকরির আশায় বসে থাকলে চলবে না বরং নিজেদের স্বাধীনভাবে উপার্জন করতে হবে এবং সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে হবে এলাকার তরুণরা লেন্সপিডিয়া এর মতো ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন এবং নিজেদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটাচ্ছেন অনেকেই মোবাইল গেম যেমন ইফুটবল খেলে নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা বজায় রাখছেন এবং অ্যানিমে চরিত্র এরেন ইয়েগারের স্টাইল অনুকরণ করে নিজেদের এক স্বাধীন পরিচয় তৈরি করছেন এই তরুণরা আগামী নির্বাচনে এক অত্যন্ত নির্ণায়ক ভোটব্যাংক হতে চলেছেন এবং তাদের সন্তুষ্ট করা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই সহজ হবে না
বড়শোল থেকে আমরা এগিয়ে গেলাম বর্ধমান উত্তর বিধানসভার আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আমরা শিবতলার দিকে রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা আমরা শিবতলা এলাকাটি মূলত আবাসিক এবং এখানে প্রচুর সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস রাতের বেলা এই এলাকার রাস্তাঘাট শুনশান হলেও স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিস বা পাড়ার মোড়ে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়গুলোতে তখন চরম ব্যস্ততা দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাতের অন্ধকারে দেওয়াল লিখন ফ্লেক্স লাগানো এবং ছোট ছোট উঠোন বৈঠক বা ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন চলছে জোরকদমে তীব্র গরমের কারণে রাজনৈতিক নেতারাও এখন রাতের বেলাতেই সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রচার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন আমরা শিবতলা এলাকার কয়েকজন গৃহবধূ এবং মহিলাদের সাথে আমাদের মুখোমুখি কথা হলো মহিলাদের সুরক্ষা এবং তাদের আর্থসামাজিক ক্ষমতায়ন এই নির্বাচনে এক অত্যন্ত বড় ইস্যু স্থানীয় বাসিন্দা সুমিতা দাস জানালেন যে রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প মহিলাদের জীবনে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছে প্রতি মাসে এই হাতখরচের টাকা তাদের অনেক ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে এবং পরিবারের ওপর তাদের নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে কিন্তু সেই সাথে তিনি এও জানালেন যে এলাকায় মহিলাদের জন্য আরও উন্নত হাসপাতাল এবং মেয়েদের জন্য ভালো স্কুল কলেজ তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজন রাতের বেলা এলাকার রাস্তাঘাটে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও মহিলারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তারা চান পুলিশি টহল আরও বাড়ানো হোক যাতে মেয়েরা রাতের বেলা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে
আমরা শিবতলা এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এল যে সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং হিসেবি তারা কেবল আবেগ দিয়ে ভোট দেন না বরং তারা বিচার বিশ্লেষণ করে দেখেন কোন দল তাদের প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প যেমন কন্যাশ্রী স্বাস্থ্যসাথী এবং খাদ্যসাথী সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে ঠিকই কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাব এবং স্থানীয় স্তরে দুর্নীতির অভিযোগগুলো মানুষের মনে এক ধরনের অসন্তোষেরও জন্ম দিয়েছে সাধারণ মানুষ চান অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত এবং পৌরসভা ব্যবস্থা যেখানে কোনো রকম স্বজনপোষণ ছাড়াই সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন যারা প্রকৃত অর্থে মানুষের হয়ে কাজ করবেন মানুষ তাদেরকেই আগামী দিনে নিজেদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন
এই রাতের প্রচারের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাতের অন্ধকারে রাজনৈতিক দলগুলো যাতে সাধারণ ভোটারদের টাকা বা কোনো সামগ্রী দিয়ে প্রভাবিত করতে না পারে তার জন্য নির্বাচন কমিশনের ফ্লাইং স্কোয়াড বা মোবাইল নজরদারি দল প্রতিনিয়ত এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিচ্ছে পুলিশের নাকা চেকিং চলছে এবং সন্দেহজনক গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভোটের ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে নিয়মিত পুলিশের ওপর কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে কিন্তু তা সত্ত্বেও এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর সাধারণ ভোটাররাও নির্বাচন কমিশনের এই কড়া ভূমিকায় অত্যন্ত খুশি তারা চাইছেন যাতে ভোটের দিন কোনো রকম অশান্তি বা বুথ দখলের ঘটনা না ঘটে এবং মানুষ অত্যন্ত শান্তিতে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন
বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের এই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শক্তিগড় বড়শোল এবং আমরা শিবতলা ঘুরে এবং রাতের অন্ধকারে সাধারণ মানুষের সাথে মুখোমুখি কথা বলে লেন্সপিডিয়া এর প্রতিনিধি দল যে বাস্তব চিত্রটি তুলে আনল তা আগামী নির্বাচনের ফলাফলের একটি আগাম পূর্বাভাস বলা যেতে পারে এই এলাকার মানুষ যেমন একদিকে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভোগ করছেন অন্যদিকে ঠিক তেমনি কর্মসংস্থান পরিকাঠামো এবং দুর্নীতির মতো ইস্যুগুলো নিয়ে তাদের মনে প্রশ্ন রয়েছে তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে আধুনিক ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের দাবি তুলছে এবং মহিলারা তাদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে অনেক বেশি সোচ্চার হয়েছেন আগামী দ্বিতীয় দফার ভোটে এই সমস্ত দাবি দাওয়া এবং আশা আকাঙ্ক্ষাগুলো ইভিএম মেশিনের বোতামে কীভাবে প্রতিফলিত হয় তা দেখার জন্য আমাদের ভোটের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তবে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার যে গণতন্ত্রের আসল শক্তি হলো সাধারণ মানুষ এবং বর্ধমান উত্তরের এই সাধারণ মানুষরা এখন আর কোনো রাজনৈতিক দলের অন্ধ সমর্থক নন তারা অনেক বেশি সচেতন এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আগামী দিনে যারা বাংলার ক্ষমতায় আসবে তাদের এই সাধারণ মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে তাদের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রকৃত অর্থে কাজ করতে হবে রাতের অন্ধকারে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক লড়াই শেষ পর্যন্ত কার জয়ের হাসি ফোটাবে তা ভবিষ্যৎ বলবে কিন্তু সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা প্রমাণ করে যে ভারতের গণতন্ত্র আজও অত্যন্ত সজীব এবং প্রাণবন্ত বিস্তারিত খবরের জন্য কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে ক্লিক করুন