এক সময়ের জনপ্রিয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের আপত্তির জেরে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে।
এক সময় ক্রিকেটবিশ্বে বেশ জনপ্রিয় ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি। বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে সফল দলগুলিকে নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছিল। আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ-সহ বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের সেরা দলগুলি এই প্রতিযোগিতায় একে অপরের মুখোমুখি হত। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আয়োজিত হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি। কিন্তু জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতাটি বন্ধ হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগের সংখ্যা আরও বেড়েছে। আইপিএলের পাশাপাশি বিগ ব্যাশ, পাকিস্তান সুপার লিগ, দ্য হান্ড্রেড, মেজর লিগ ক্রিকেট, এসএ২০, আইএলটি২০-সহ একাধিক প্রতিযোগিতা ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে জায়গা করে নিয়েছে। সেই কারণে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লিগের সেরা দলগুলিকে নিয়ে ফের একটি আন্তর্জাতিক ক্লাব-ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আয়োজনের ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
এই প্রতিযোগিতাকে অনেকটা ফুটবলের ক্লাব বিশ্বকাপের আদলে করার পরিকল্পনা ছিল। অর্থাৎ, বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের সফল ক্লাব বা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে এক জায়গায় এনে একটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করার চিন্তাভাবনা করেছিল আইসিসি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড—ক্রিকেটবিশ্বের তিন গুরুত্বপূর্ণ দেশের আপত্তির কারণে আইসিসিকে এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি মূলত বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সফল দলগুলিকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ তৈরি করেছিল। ২০০৯ সালে প্রথমবার এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। পরবর্তী কয়েক বছরেও বিভিন্ন দেশের সেরা টি-টোয়েন্টি দলগুলি এতে অংশ নেয়।
ভারতের আইপিএল থেকে একাধিক দল এই প্রতিযোগিতায় খেলেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশসহ অন্যান্য দেশের টি-টোয়েন্টি লিগের দলগুলিও অংশগ্রহণ করত। ফলে ক্রিকেটপ্রেমীরা একই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মুখোমুখি লড়াই দেখতে পেতেন।
২০১৪ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি আয়োজন করা হয়। এরপর আর এই প্রতিযোগিতা ফেরেনি। সময়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরও বাড়লেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো একটি আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতা ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে ফিরে আসেনি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট গত কয়েক বছরে ব্যাপকভাবে বদলে গিয়েছে। আগে হাতে গোনা কয়েকটি দেশে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ থাকলেও এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজিত হচ্ছে।
আইপিএল বিশ্বের অন্যতম বড় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ, পাকিস্তান সুপার লিগ, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আইএলটি২০, আমেরিকার মেজর লিগ ক্রিকেট এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতাও নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে।
ফলে আইসিসির সামনে নতুন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের সেরা দলগুলিকে নিয়ে যদি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা করা যায়, তা হলে তা ক্রিকেটের জন্য বড় বাণিজ্যিক ও দর্শক আকর্ষণের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।
এই ভাবনা থেকেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টির মতো একটি প্রতিযোগিতা ফেরানোর আলোচনা শুরু হয়েছিল।
নতুন প্রতিযোগিতার ভাবনাটি শুধুমাত্র পুরনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টিকে ফিরিয়ে আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের সেরা ক্লাব বা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে নিয়ে আরও বড় পরিসরে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
অনেকটা ফুটবলের ক্লাব বিশ্বকাপের মতোই বিভিন্ন দেশের ক্লাব দলকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একত্রিত করার ভাবনা ছিল। এতে এক দেশের ঘরোয়া লিগের দল অন্য দেশের লিগের সেরা দলের বিরুদ্ধে খেলতে পারত।
এই ধরনের প্রতিযোগিতা হলে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোর মধ্যে একটি নতুন সংযোগ তৈরি হতে পারত। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বাজারে নতুন দর্শক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেট ক্যালেন্ডার।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যস্ত। টেস্ট, এক দিনের আন্তর্জাতিক এবং টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো প্রতিযোগিতা রয়েছে।
তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ। ক্রিকেটারদের বছরের একটা বড় সময় এখন ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কেটে যায়।
ফলে নতুন একটি আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হলে ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে আলাদা সময় বের করতে হবে। তার জন্য হয় আন্তর্জাতিক সিরিজ কমাতে হবে, নয়তো কোনও একটি ঘরোয়া লিগের সময় পরিবর্তন করতে হবে।
এই জায়গাতেই আপত্তি জানিয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড।
ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বোর্ড হিসেবে পরিচিত। এই তিন দেশের নিজস্ব জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
নতুন কোনও প্রতিযোগিতা যোগ হলে ক্রিকেটারদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সিরিজ এবং ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মধ্যে সময়ের সংঘাতও তৈরি হতে পারে।
তিন দেশের আপত্তির মূল বক্তব্য হল, বর্তমান ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে নতুন একটি প্রতিযোগিতা যুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই। ক্রিকেটারদের বিশ্রাম, আন্তর্জাতিক সিরিজ এবং বিদ্যমান ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলির সূচি সামলাতেই ব্যস্ত ক্যালেন্ডারে নতুন প্রতিযোগিতার জায়গা তৈরি করা কঠিন।
এই আপত্তির পরই আইসিসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফেরানোর পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়েছে।
এই পরিকল্পনার পিছনে শুধু ক্রিকেটীয় কারণ নয়, আর্থিক বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ থেকে আইসিসির সরাসরি আয় নেই। ঘরোয়া লিগগুলির সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অধিকার সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ড বা ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে।
তাই বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লিগের জনপ্রিয়তা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যকে একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চের মাধ্যমে কাজে লাগানোর সুযোগ ছিল আইসিসির সামনে।
একটি ক্লাব-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা হলে সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আইসিসির জন্য নতুন রাজস্বের পথ খুলতে পারত।
তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য আগে ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে জায়গা তৈরি করা প্রয়োজন। আর সেখানেই তিন প্রধান ক্রিকেট বোর্ডের আপত্তি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যখন ২০০৯ সালে শুরু হয়েছিল, তখন বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের সংখ্যা আজকের তুলনায় অনেক কম ছিল। ফলে বিভিন্ন দেশের লিগের সেরা দলগুলিকে একত্রিত করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল।
এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। বিভিন্ন দেশে প্রায় সারা বছরই কোনও না কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ চলে। ফলে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সূচি, জাতীয় দলের দায়িত্ব এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
নতুন একটি প্রতিযোগিতা যুক্ত হলে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শীর্ষ ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এখন ক্রিকেট বোর্ডগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা নতুন ক্লাব বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় আগামী চার বছরের ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম বা এফটিপিতে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত কম।
এফটিপি মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি সূচি নির্ধারণ করে। কোন দেশ কখন কোন দেশের বিরুদ্ধে টেস্ট, এক দিনের ম্যাচ বা টি-টোয়েন্টি খেলবে, তার একটি কাঠামো এই সূচিতে থাকে।
নতুন কোনও বড় প্রতিযোগিতা যোগ হলে সেই সূচিতে পরিবর্তন করতে হত। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় বর্তমান কাঠামোই মূলত বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন ক্লাব প্রতিযোগিতা না হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বা ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় থাকতে পারে।
টেস্ট ক্রিকেটকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে টেস্ট সিরিজকে একটি নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্দেশ্যেই এই চ্যাম্পিয়নশিপ চালু হয়েছে।
তাই ভবিষ্যতে এর কাঠামো আরও বড় হলে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের সূচিতেও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি বা ক্লাব বিশ্বকাপের মতো নতুন কোনও প্রতিযোগিতা আপাতত যোগ না হওয়ায় আইসিসির আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে মূল প্রতিযোগিতাগুলিই গুরুত্ব পাবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এক দিনের বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ—এই প্রতিযোগিতাগুলিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে থাকবে।
এর ফলে ক্রিকেটার এবং বোর্ডগুলির উপর অতিরিক্ত সূচির চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই, কারণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি।
এই মুহূর্তে পরিকল্পনা বাতিল হলেও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা একই ধরনের কোনও আন্তর্জাতিক ক্লাব টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে, তাতে বিভিন্ন দেশের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলিকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যথেষ্ট। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে পর্যাপ্ত সময় এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলির সমর্থন—দুটিই প্রয়োজন।
বিশেষ করে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মতো বড় ক্রিকেট বোর্ডগুলির সম্মতি ছাড়া এমন একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা কঠিন। কারণ তাদের আন্তর্জাতিক সূচি এবং ঘরোয়া লিগের সময়সূচি বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক ক্যালেন্ডারে বড় প্রভাব ফেলে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার ঘটনা আসলে ক্রিকেটের একটি বড় পরিবর্তনের দিক তুলে ধরেছে। টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তা যেমন বাড়ছে, তেমনই বেড়েছে প্রতিযোগিতার সংখ্যাও।
একদিকে ক্রিকেট বোর্ডগুলি নতুন প্রতিযোগিতা থেকে আয় করতে চাইছে, অন্যদিকে ক্রিকেটারদের বিশ্রাম এবং কাজের চাপ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একই ক্রিকেটারকে জাতীয় দল এবং একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে হয়। ফলে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করার আগে সূচির ভারসাম্য নিয়ে ভাবা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি সেই ভারসাম্যের সমস্যারই একটি উদাহরণ। পুরনো একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বর্তমান ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে তার জন্য জায়গা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
ফলে আপাতত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টির প্রত্যাবর্তন হচ্ছে না। আইসিসির আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারেও বড় কোনও নতুন ক্লাব প্রতিযোগিতা যুক্ত হচ্ছে না। আগামী কয়েক বছরে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো প্রতিযোগিতাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল আকর্ষণ হয়ে থাকবে।
টি-টোয়েন্টি লিগের দ্রুত বিস্তারের যুগে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কীভাবে সাজানো হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। নতুন প্রতিযোগিতা যোগ করার চেয়ে বিদ্যমান প্রতিযোগিতাগুলির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা হয়তো আগামী দিনের ক্রিকেট প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।