সাত-আট বছরের খুদে ফুটবলপ্রেমী থেকে সদ্য দশ পেরোনো কিশোর—বিশ্বসেরা ফুটবলারদের হাত ধরে মাঠে প্রবেশের মুহূর্ত তাঁদের কাছে যেন স্বপ্ন ছোঁয়ার মতো। প্রিয় তারকাদের এত কাছ থেকে পাওয়ার সেই মুহূর্তে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভেসে ওঠে ছোট্ট মুখগুলি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের খুব কাছ থেকে দেখা, তাঁদের হাত ধরে স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় পা রাখা—ফুটবলপ্রেমী যে কোনও শিশুর কাছেই এমন মুহূর্ত স্বপ্নের মতো। আর সেই স্বপ্ন যদি সত্যি হয় আন্তর্জাতিক মঞ্চের অন্যতম জনপ্রিয় দল ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াস জুনিয়রের হাত ধরে, তা হলে সেই স্মৃতি আজীবন মনে থাকারই কথা। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচকে ঘিরে এমনই এক আবেগঘন ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হল কেরলের খুদে ফুটবলপ্রেমী সাহিথ পালানিভেল।
চেন্নাইয়ের আদিয়ার থিওসফিক্যাল অ্যাকাডেমির উদ্যোগে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচে উপস্থিত হয়েছিল মোট ২৫ জন খুদে। তাদের কারও বয়স সাত, কারও আট। আবার কেউ সদ্য দশের গণ্ডি পেরিয়েছে। বয়সে ছোট হলেও ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং আন্তর্জাতিক তারকাদের সামনে থেকে দেখার উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মতো ঐতিহাসিক মাঠে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দলের ম্যাচ দেখা, তার উপর ম্যাচ শুরুর আগে তারকা ফুটবলারদের হাত ধরে মাঠে প্রবেশ—এই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে নিঃসন্দেহে বিশেষ হয়ে থাকবে।
সেই ২৫ জন খুদের মধ্যেই ছিল কেরলের সাহিথ পালানিভেল। ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে প্রবেশের সময় ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াস জুনিয়রের হাত ধরার সুযোগ পায় সে। ফুটবল দুনিয়ায় ভিনিসিয়াস বর্তমানে অন্যতম পরিচিত নাম। তাঁর গতি, ড্রিবলিং, আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং গোল করার দক্ষতা তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এমন একজন তারকার সঙ্গে সরাসরি মাঠে প্রবেশ করা সাহিথের মতো ছোট্ট ফুটবলপ্রেমীর কাছে যে কতটা আনন্দের, তা সহজেই অনুমেয়।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে এমনিতেই ছিল তুমুল উত্তেজনা। তার সঙ্গে খুদেদের এই বিশেষ মুহূর্ত যোগ হওয়ায় ম্যাচের আবেগ আরও বেড়ে যায়। স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতি, ব্রাজিলের জার্সিতে তারকা ফুটবলারদের মাঠে নামা এবং গ্যালারি জুড়ে উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে সন্ধ্যাটি হয়ে উঠেছিল স্মরণীয়। তবে এই বিশাল আয়োজনের মধ্যে সাহিথের মতো খুদেদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল ফুটবলের তারকাদের এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ।
ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, বহু শিশুর কাছে এটি স্বপ্ন দেখার একটি মাধ্যম। টেলিভিশনের পর্দায় যাঁদের খেলা দেখে তারা বড় হয়, একদিন সেই ফুটবলারদের হাত ধরে মাঠে প্রবেশ করার সুযোগ পাওয়া তাদের কাছে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। সাহিথ পালানিভেলের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছে। ব্রাজিলের জার্সিতে ভিনিসিয়াসকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখার বদলে এবার তাঁর হাত ধরে সরাসরি যুবভারতীর মাঠে প্রবেশ—এই স্মৃতি নিঃসন্দেহে তার শৈশবের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে।
চেন্নাইয়ের আদিয়ার থিওসফিক্যাল অ্যাকাডেমির উদ্যোগে যে ২৫ জন শিশু এই বিশেষ সুযোগ পেয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের জন্যই দিনটি ছিল আলাদা। অনেক সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় ম্যাচ শুধুমাত্র ফলাফল, গোল বা তারকাদের পারফরম্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এই ধরনের উদ্যোগ ম্যাচের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগকেও জুড়ে দেয়। শিশুদের কাছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের তারকাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার এমন উদ্যোগ তাদের মধ্যে খেলাটির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়াতে পারে।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচকে ঘিরে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন বরাবরই বড় ফুটবল ম্যাচের আবেগের অন্যতম কেন্দ্র। কলকাতার ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এমন যোগসূত্র নতুন নয়। তবে ব্রাজিলের মতো বিশ্বখ্যাত দলের তারকাদের সামনে থেকে দেখার সুযোগ সবসময় আসে না। তাই এই ম্যাচকে ঘিরে সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি খুদেদের মধ্যেও ছিল প্রবল উত্তেজনা।
সাহিথের বয়স কম হলেও ফুটবল সম্পর্কে তার আগ্রহ এবং এই বিশেষ দিনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাকে আরও অনুপ্রাণিত করতে পারে। একজন শিশুর কাছে প্রিয় ফুটবলারের সঙ্গে কয়েক মুহূর্তের যোগাযোগও অনেক বড় প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। মাঠে প্রবেশের সেই মুহূর্ত হয়তো কয়েক মিনিটের, কিন্তু তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। হয়তো কোনও একদিন সাহিথ নিজেও ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখবে এবং সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে মনে রাখবে ভিনিসিয়াসের হাত ধরে যুবভারতীর মাঠে প্রবেশের দিনটিকে।
ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ব্রাজিলের জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ তারকায় পরিণত করেছে। তাঁর খেলা দেখেই বহু শিশু ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ফলে ভিনিসিয়াসের সঙ্গে মাঠে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া সাহিথের মতো শিশুর কাছে নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রিয় তারকার সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি তৈরি হওয়ার মতো বিষয়।
শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশও ছিল সেই আবেগের উপযুক্ত। মাঠে নামার আগে ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের প্রবেশের দৃশ্য দর্শকদের মধ্যেও আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। খুদেদের চোখে উত্তেজনা, তারকাদের পাশে দাঁড়ানোর আনন্দ এবং বিশাল স্টেডিয়ামের আবহ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক বিশেষ মুহূর্ত। সেই মুহূর্তের কেন্দ্রেই ছিল সাহিথ পালানিভেল এবং তাঁর হাতে ছিল ভিনিসিয়াসের হাত।
এই ধরনের ম্যাচ শুধু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে ফুটবলের আবেগ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। খুদেদের স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা, আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করা এবং তারকাদের সামনে থেকে দেখার সুযোগ করে দেওয়া ভবিষ্যতের ফুটবলপ্রেমী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। চেন্নাইয়ের আদিয়ার থিওসফিক্যাল অ্যাকাডেমির এই উদ্যোগ সেই দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারতীয় ফুটবলের পরিসরে আন্তর্জাতিক তারকাদের উপস্থিতি বরাবরই দর্শকদের আকর্ষণ করে। বিশেষ করে ব্রাজিলের মতো ফুটবলপাগল দেশের জাতীয় দলের তারকারা যখন ভারতের মাটিতে খেলতে আসেন, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই বড় আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। কলকাতার মতো ফুটবলপ্রেমী শহরে সেই উন্মাদনা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের তারকাদের উপস্থিতি তাই শুধু একটি ম্যাচের বিষয় ছিল না, বরং বহু ফুটবলপ্রেমীর কাছে আবেগের বিষয়।
আর সেই আবেগের সবচেয়ে সুন্দর ছবি ধরা পড়েছে খুদেদের মধ্যে। সাত-আট বছরের শিশুদের কাছে ভিনিসিয়াস, ব্রাজিলের জার্সি কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবল হয়তো অনেকটাই স্বপ্নের জগতের অংশ। কিন্তু শনিবার সেই স্বপ্ন বাস্তবের মাঠে এসে দাঁড়ায়। টেলিভিশনের পর্দার তারকা তখন তাঁদের কয়েক হাত দূরে। এমনকি সাহিথের ক্ষেত্রে সেই দূরত্ব আরও কমে গিয়ে ভিনিসিয়াসের হাত ধরেই মাঠে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।
সাহিথ পালানিভেলের এই অভিজ্ঞতা তাই শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের গল্প নয়। এটি ফুটবলের সঙ্গে শিশুদের আবেগের সম্পর্কের একটি সুন্দর উদাহরণ। একটি বড় ম্যাচ কীভাবে একটি শিশুর মনে আজীবনের স্মৃতি তৈরি করতে পারে, সেই ছবিই যেন ফুটে উঠেছে যুবভারতীর এই ঘটনায়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের তারকাদের কাছ থেকে পাওয়া এমন অভিজ্ঞতা শিশুদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। মাঠে গিয়ে ম্যাচ দেখা, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া এবং ফুটবলকে আরও কাছ থেকে বোঝার সুযোগ তাদের ভবিষ্যতের পথচলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যে শিশুরা ছোট থেকেই ফুটবল খেলতে ভালোবাসে, তাদের কাছে এমন একটি দিন নতুন স্বপ্নের জন্ম দিতে পারে।
সাহিথের জন্য ভিনিসিয়াসের সঙ্গে সেই মুহূর্ত হয়তো কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের। কিন্তু একটি শিশুর স্মৃতিতে সময়ের হিসাব সবসময় একইভাবে কাজ করে না। জীবনের বহু বছর পরেও হয়তো সে মনে রাখবে—একদিন কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াসের হাত ধরে সে মাঠে প্রবেশ করেছিল। সেই স্মৃতি তখন হয়ে উঠতে পারে তার শৈশবের অন্যতম মূল্যবান গল্প।
ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচের ফলাফল, গোল বা মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা চলবে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা ম্যাচ বিশ্লেষণ করবেন, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে মতামত দেবেন। কিন্তু সাহিথ পালানিভেলের মতো খুদেদের কাছে এই ম্যাচের অর্থ হয়তো সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁদের কাছে ম্যাচটি মানে প্রিয় তারকাদের সামনে থেকে দেখা, স্টেডিয়ামের আলো-আবহ অনুভব করা এবং জীবনে একবার পাওয়া এমন একটি অভিজ্ঞতাকে নিজের স্মৃতির অংশ করে নেওয়া।
এই কারণেই ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে খুদেদের এই উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২৫ জন শিশু হয়তো সেই দিন মাঠে গিয়েছিল, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের চোখে ছিল আলাদা আলাদা স্বপ্ন। কেউ হয়তো ভবিষ্যতে ফুটবলার হতে চায়, কেউ হয়তো শুধুই প্রিয় দলের সমর্থক হয়ে থাকতে চায়। তবে সাহিথের ক্ষেত্রে সেই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে গেল ভিনিসিয়াসের নামও। ফলে তার ফুটবল-স্মৃতির পাতায় শনিবারের দিনটি নিঃসন্দেহে আলাদা জায়গা করে নেবে।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সবুজ মাঠে ভিনিসিয়াসের হাত ধরে ছোট্ট সাহিথের প্রবেশ তাই এক টুকরো ফুটবল-রূপকথার মতো। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলাটির সঙ্গে একটি শিশুর স্বপ্নের এমন সুন্দর মেলবন্ধনই হয়তো ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। বড় তারকা, বিশাল স্টেডিয়াম কিংবা হাজার হাজার দর্শকের ভিড়ের মধ্যেও কখনও কখনও সবচেয়ে মনে রাখার মতো গল্পটি তৈরি হয় এক খুদের চোখের আনন্দে।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে যে ২৫ জন খুদে যুবভারতীতে হাজির হয়েছিল, তাদের জন্য এই দিনটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ দেখার দিন ছিল না। এটি ছিল স্বপ্নকে কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখার দিন। আর সাহিথ পালানিভেলের জন্য সেই স্বপ্ন আরও বিশেষ হয়ে উঠল ভিনিসিয়াস জুনিয়রের হাত ধরে মাঠে প্রবেশের কারণে। ছোট্ট সাহিথের সেই রোমাঞ্চিত মুহূর্তই হয়তো ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের বহু আলোচিত দৃশ্যের বাইরে থাকা সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলির একটি হয়ে থাকবে।