আজ, শুক্রবার বক্সার জঙ্গলে ফিরছে ‘জঙ্গলের রাজা’। আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডের জায়ান্ট স্ক্রিনে সরাসরি দেখা যাবে বাঘ ছাড়ার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
আলিপুরদুয়ার: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। শুক্রবার বক্সার জঙ্গলে হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ‘রাজার প্রত্যাবর্তন’। বক্সা টাইগার রিজার্ভে নতুন অতিথি হিসেবে আসা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে নির্দিষ্ট ঘেরাটোপ থেকে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই বিশেষ মুহূর্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আলিপুরদুয়ারজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বনপ্রেমী, পর্যটন ব্যবসায়ী এবং জেলার স্কুলপড়ুয়ারাও তাকিয়ে রয়েছেন ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের দিকে।
বাঘ ছাড়ার এই বিশেষ দৃশ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে বসানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। সেখানেই সরাসরি দেখানো হবে বক্সার জঙ্গলে বাঘিনিকে ছাড়ার লাইভ ফুটেজ। ফলে গভীর জঙ্গলের সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সরাসরি উপস্থিত না থেকেও শহরের মানুষ দেখতে পারবেন বাঘের জঙ্গলে ফিরে যাওয়ার দৃশ্য।
এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বৃহস্পতিবারই রাজাভাতখাওয়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। সেখানে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রাত্রিবাসের জন্য জয়ন্তী বনবাংলোয় বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরও।
সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বক্সার ২৫ মাইল জঙ্গলের ২.২ হেক্টরের ঘেরাটোপে রাখা বাঘিনিকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট পরিবেশে পর্যবেক্ষণে রাখার পর এবার তাকে বক্সার গভীর জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বাঘিনির স্বাভাবিক আচরণ, শারীরিক অবস্থা এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করছেন বন দফতর ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা।
ইতিমধ্যেই বক্সায় পৌঁছে গিয়েছে বিশেষজ্ঞদের একটি দল। ওয়াইল্ড ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের প্রতিনিধিরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বাঘিনিকে জঙ্গলে ছাড়ার আগে তার আচরণ এবং শারীরিক পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঘিনিকে ঘেরাটোপে রাখার সময় তার খাবার, জলপান, চলাফেরা এবং আচরণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে প্রায় ১০ কেজি পাঁঠার মাংস খেতে দেওয়া হয়। বনকর্তার দাবি অনুযায়ী, বাঘিনি খুব দ্রুত সেই মাংস খেয়ে নেয়। এরপর ঘেরাটোপের মধ্যে তৈরি কংক্রিটের জলাশয়ে গিয়ে জলপান করে। শুধু তাই নয়, কিছুক্ষণ জলাশয়ের মধ্যে শরীর ডুবিয়েও রাখে সে।
বাঘিনির জন্য তৈরি কৃত্রিম জলাশয়ে পাম্পের মাধ্যমে নতুন করে ঠান্ডা জল দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গরম আবহাওয়ার মধ্যে বাঘিনির স্বাভাবিক আরাম এবং জলপানের সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘেরাটোপের মধ্যে বাঘিনির চলাফেরাও নজর কেড়েছে বনকর্মীদের।
বনকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নতুন পরিবেশে আসার পর বাঘ সাধারণত নিজের চারপাশের এলাকা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করে। ঘেরাটোপের মধ্যেও বাঘিনিকে এদিক-ওদিক ঘুরে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গিয়েছে। বন দফতরের ভাষায়, এটি ‘এরিয়া ডমিনেশন’-এর স্বাভাবিক আচরণের অংশ হতে পারে। অর্থাৎ নতুন এলাকায় নিজের উপস্থিতি এবং পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করেছে বাঘিনি।
এই আচরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা। কারণ, কোনও বাঘকে নতুন জঙ্গলে ছাড়ার আগে তার আচরণ এবং শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঘ নতুন পরিবেশে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, খাবার গ্রহণ করছে কি না, জলপান করছে কি না এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে কি না—এই সমস্ত বিষয়ই পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকে।
শুক্রবার বাঘ ছাড়ার মুহূর্তটিকে কেন্দ্র করে রাজাভাতখাওয়া এবং জয়ন্তী এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জঙ্গলের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বন দফতরের কর্মী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সেখানে তৈরি হয়েছে প্যান্ডেল ও মঞ্চ। জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে বাঘ ছাড়ার সরাসরি সম্প্রচার দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্কুলপড়ুয়ারাও। বন দফতরের তৈরি ‘টাইগার কাবস ক্লাব’-এর সদস্য জেলার ৭০টি স্কুলের মোট ৬৯৩ জন পড়ুয়া এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে।
স্কুলপড়ুয়াদের সামনে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং বাঘের গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাঘ শুধু জঙ্গলের অন্যতম প্রধান প্রাণী নয়, একটি সম্পূর্ণ বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গেও তার অস্তিত্ব জড়িয়ে রয়েছে। তাই বাঘ সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও এই ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বক্সা টাইগার রিজার্ভ উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল। ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সবুজ অঞ্চল, পাহাড়-জঙ্গল এবং নদীঘেরা পরিবেশের জন্য এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র। বাঘের উপস্থিতি সেই জঙ্গলের বন্যপ্রাণ বৈচিত্র্যের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবেই প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর বক্সার জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের আশা, বাঘের উপস্থিতি ভবিষ্যতে বক্সাকে আরও আকর্ষণীয় বন্যপ্রাণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
তবে একই সঙ্গে পর্যটনের উপর এর প্রভাব নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বাঘ ছাড়ার পর বক্সার জঙ্গলে পর্যটকদের জন্য কী ধরনের নিয়ম থাকবে, কোন কোন এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হবে এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার সঙ্গে পর্যটনের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে—এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে সবচেয়ে বড় বিষয় হল প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়লেও জঙ্গলের পরিবেশে অতিরিক্ত মানুষের চাপ যাতে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হয়। বিশেষ করে বাঘের মতো বড় মাংসাশী প্রাণীর ক্ষেত্রে পর্যটন এবং সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাঘ ছাড়ার আগে যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাতে সেই বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। নির্দিষ্ট ঘেরাটোপে পর্যবেক্ষণের পর বাঘিনিকে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। জঙ্গলে ছাড়ার পর তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিশেষজ্ঞদের নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বক্সার জঙ্গলে বাঘের প্রত্যাবর্তনকে শুধু একটি প্রাণীকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বন্যপ্রাণপ্রেমীরা। তাঁদের কাছে এটি বক্সার বনাঞ্চলের পরিবেশগত গুরুত্বের সঙ্গেও যুক্ত একটি ঘটনা। বাঘের মতো শীর্ষ শিকারির উপস্থিতি একটি জঙ্গলের খাদ্যশৃঙ্খল এবং বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বাঘ জঙ্গলের খাদ্যশৃঙ্খলের অন্যতম শীর্ষে থাকা প্রাণী। তার উপস্থিতি বনাঞ্চলের অন্যান্য প্রাণীর সংখ্যাবিন্যাস এবং চলাফেরার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অবশ্য কোনও নতুন এলাকায় বাঘের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নির্ভর করে সেখানে পর্যাপ্ত শিকার, জল, নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র এবং উপযুক্ত আবাসস্থল রয়েছে কি না তার উপর।
এই কারণেই বক্সার জঙ্গলে নতুন বাঘিনির উপস্থিতি বন দফতর ও বিশেষজ্ঞদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয়। আগামী দিনে সে কোন এলাকায় যায়, কীভাবে নিজের বিচরণক্ষেত্র তৈরি করে এবং জঙ্গলের পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেয়—সবকিছুর উপর নজর রাখা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার বাঘিনির আচরণে স্বাভাবিকতার বেশ কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছে বলে বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে। খাবার খাওয়া, জলপান করা এবং ঘেরাটোপে স্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করার বিষয়গুলি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। জলাশয়ে শরীর ডুবিয়ে রাখার ঘটনাটিও বাঘিনির স্বাভাবিক আচরণের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে শুক্রবারের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতি এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। প্যারেড গ্রাউন্ডে জায়ান্ট স্ক্রিনে লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ। সকাল থেকেই সেখানে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে ‘টাইগার কাবস ক্লাব’-এর ৬৯৩ জন স্কুলপড়ুয়ার উপস্থিতি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। ছোটদের মধ্যে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য এই ধরনের সরাসরি অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বইয়ের পাতায় বাঘ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি জঙ্গলে বাঘের প্রত্যাবর্তনের মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ তাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।
বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার সময় নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঘকে ঘেরাটোপ থেকে বের করার পর সে যাতে স্বাভাবিকভাবে নিজের পথ বেছে নিতে পারে এবং মানুষের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হবে। একই সঙ্গে জঙ্গলের অন্যান্য প্রাণী এবং পরিবেশের নিরাপত্তাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
রাজাভাতখাওয়া ও জয়ন্তী এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা সেই প্রস্তুতিরই অংশ। বনকর্মীদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ দলও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বাঘ ছাড়ার পর তার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত অবশ্যই হবে বাঘিনির ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে গভীর জঙ্গলে প্রবেশের সময়। এতদিন নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকার পর এবার সে ফিরে যাবে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে। জঙ্গলের পথ ধরে তার প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপ দেখার জন্যই অপেক্ষা করছেন আলিপুরদুয়ারের মানুষ।
‘রাজার প্রত্যাবর্তন’ নামটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যদিও নতুন অতিথি আসলে বাঘিনি, তবু বক্সার জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতিকে ঘিরে এই প্রতীকী আবেগ তৈরি হয়েছে। বক্সার জঙ্গলে ফের বাঘের গর্জন শোনা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন অপেক্ষা শুধু সময়ের।
বাঘ ছাড়ার পর বক্সার পর্যটনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। পর্যটকদের কাছে বাঘের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে আকর্ষণের বিষয় হলেও একই সঙ্গে বনাঞ্চলের সংরক্ষণ এবং প্রাণীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পর্যটন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলের পরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্যও এই ঘটনা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। বক্সায় বাঘের উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ বাড়লে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাস্তবে পর্যটনে কতটা পরিবর্তন আসে, তা নির্ভর করবে বন দফতরের নিয়ম, পর্যটন নীতি এবং বাঘের গতিবিধির উপর।
সব মিলিয়ে শুক্রবারের দিনটি বক্সা এবং আলিপুরদুয়ারের জন্য বিশেষ হয়ে উঠতে চলেছে। একদিকে গভীর জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে মুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি, অন্যদিকে শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে জায়ান্ট স্ক্রিনে সেই দৃশ্য দেখার আয়োজন—দুই মিলিয়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।
এখন অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। সকাল সাড়ে ৯টার পর ঘেরাটোপের দরজা খুলবে। বাঘিনি পা বাড়াবে বক্সার গভীর জঙ্গলের দিকে। তারপর শুরু হবে তার নতুন পথচলা। নতুন পরিবেশে সে কীভাবে নিজের এলাকা তৈরি করবে, কোথায় বিচরণ করবে এবং বক্সার জঙ্গলের পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেবে, তা সময়ই বলবে।
তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট—বক্সার জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। আলিপুরদুয়ার শহর থেকে রাজাভাতখাওয়া, জয়ন্তী থেকে বক্সার জঙ্গল—সবার নজর এখন সেই এক মুহূর্তের দিকে। জঙ্গলের নিস্তব্ধতা ভেঙে ফের শোনা যাবে কি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন? সেই উত্তর জানার অপেক্ষাতেই এখন গোটা উত্তরবঙ্গ।