ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন বাংলার একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা। আবহাওয়ার অবনতি হলে দুর্যোগের মুখে পড়তে পারে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা।
কলকাতা, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: দুর্গাপুজোর পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিষ্কার নীল আকাশ, ঝলমলে রোদ এবং ভোর ও রাতের দিকে হালকা ঠান্ডা হাওয়ায় রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোরম হেমন্তের পরিবেশ। তবে এই স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এটি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে হলেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গেও। আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব অংশে প্রথমে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়। অনুকূল সামুদ্রিক ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে সেটি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।
আবহাওয়া দপ্তরের ২৫ অক্টোবর রাতের বুলেটিন অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৭৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। সেই সময় এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর ২৭ অক্টোবর আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় এবং পরবর্তী সময়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমুদ্রের উষ্ণ জল, পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প এবং অনুকূল বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ ঘূর্ণিঝড়কে শক্তি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত গতিপথ ও তীব্রতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এটি ঠিক কবে এবং কোথায় স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে?
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর, বুধবার সকালের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাটলা থেকে বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চল সম্ভাব্য ল্যান্ডফল এলাকার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে কাঁকিনাড়া ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসনিক সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
ল্যান্ডফলের সময় ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এই তথ্য পূর্বাভাসভিত্তিক। ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান, গতিবেগ এবং উপকূল অতিক্রমের সময় পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিনে পরিবর্তিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি ল্যান্ডফল পশ্চিমবঙ্গে হওয়ার পূর্বাভাস না থাকলেও রাজ্যের আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার প্রভাবে আশপাশের অঞ্চলগুলিতে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে মেঘের পরিমাণ বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হতে পারে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
তবে সব জেলায় একই পরিমাণ বৃষ্টি হবে, এমন নয়। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ এবং স্থলভাগে প্রবেশের পর তার অবস্থানের উপর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নির্ভর করবে।
ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ নজরে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমান।
এই জেলাগুলির কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া বইতে পারে। উপকূলীয় এবং নিচু এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, বকখালি এবং সাগরদ্বীপের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে আবহাওয়া খারাপ হলে পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে।
অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের কিছু এলাকাতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথায় কতটা বৃষ্টি হবে, তা নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী গতিপথের উপর।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে।
গত কয়েকদিন ধরে শহরে পরিষ্কার আকাশ এবং মনোরম আবহাওয়া থাকলেও মঙ্গলবার থেকে মেঘের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
বৃষ্টি বাড়লে শহরের নিচু এলাকায় সাময়িক জল জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অফিসযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া এবং দৈনন্দিন কাজে বাইরে বেরোনো মানুষদের কিছুটা অসুবিধার মুখে পড়তে হতে পারে।
তবে কলকাতায় ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাতের পূর্বাভাস নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি আবহাওয়া সতর্কতা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রদত্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
অন্যদিকে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে বাতাসের গতিবেগ সব এলাকায় একরকম থাকবে না। ঘূর্ণিঝড়ের দূরত্ব, অবস্থান এবং বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির উপর এর প্রভাব নির্ভর করবে।
ঝড়ো হাওয়ার সময় গাছের নিচে দাঁড়ানো, দুর্বল নির্মাণের আশপাশে থাকা কিংবা খোলা জায়গায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে চলাফেরা করা এড়িয়ে চলা উচিত।
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২৯ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকায় মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কতটা হবে, তা এখনও ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী গতিপথের উপর নির্ভরশীল।
পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হলে পর্যটকদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
শক্তিশালী বাতাস এবং উঁচু ঢেউয়ের কারণে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
প্রদত্ত সতর্কবার্তা অনুযায়ী, মৎস্যজীবীদের সোমবারের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার নির্দেশের কথাও জানানো হয়েছে।
যাঁরা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশ অনুসরণ করা উচিত।
মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার এবং অন্যান্য সামুদ্রিক যানবাহন নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ল্যান্ডফল অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে হওয়ায় সেখানে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
বিশাখাপত্তনম, কাঁকিনাড়া, কোনাসীমা এবং আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় এলাকায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
প্রয়োজন অনুযায়ী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রাখা এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না পড়লেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বাড়ির ছাদ বা বারান্দায় রাখা হালকা জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা উচিত। বিদ্যুতের তার, দুর্বল গাছ এবং বিপজ্জনক নির্মাণ থেকে দূরে থাকতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল ফোন চার্জ দিয়ে রাখা, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখা ভালো।
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, জলাশয় কিংবা উঁচু গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়।
উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ এবং আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অযাচাইকৃত খবরের পরিবর্তে সরকারি তথ্যের উপর নির্ভর করাই নিরাপদ।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বাংলায় সাধারণত হেমন্তের আবহাওয়া অনুভূত হতে শুরু করে।
ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা, দিনের বেলায় রোদ এবং রাতের দিকে মনোরম পরিবেশ এই সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তবে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এই আবহাওয়ায় সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে আর্দ্রতাও বাড়তে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেটে যাওয়ার পরে আবহাওয়া আবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে তার জন্য পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখতে হবে।
২৬ অক্টোবর, সোমবার: বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা। উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা বজায় থাকবে।
২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার: ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মেঘ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
২৮ অক্টোবর, বুধবার: অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ল্যান্ডফল। দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা।
২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার: ঘূর্ণিঝড়ের অবশিষ্ট প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
৩০ অক্টোবর, শুক্রবার: উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের উপর নির্ভর করবে।
এই সময়সূচি পূর্বাভাসভিত্তিক। আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে সতর্কতার সময় এবং এলাকা বদলাতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টির ল্যান্ডফল হতে পারে। সেই সময় দমকা বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
যদিও পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি ল্যান্ডফলের পূর্বাভাস নেই, তবুও এর পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার সর্বশেষ খবরের দিকে নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, মৎস্যজীবী এবং পর্যটকদের সরকারি সতর্কতা মেনে চলতে হবে।
আবহাওয়ার সর্বশেষ খবর, ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার আপডেট জানতে Lenspedia Bangla-র সঙ্গে থাকুন।