মেসিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনির। তাঁর কথায়, মেসির মতো কিংবদন্তি আর কখনও আসবেন না।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং লিওনেল মেসি—গত দুই দশকের বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুই নাম। মাঠের লড়াইয়ে তাঁরা ছিলেন একে অপরের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। কখনও ক্লাব ফুটবলে, কখনও ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ে, কখনও আবার গোল এবং রেকর্ডের হিসাবেও দুই মহাতারকার মধ্যে চলেছে দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাঁদের এই দ্বৈরথকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় অধ্যায়। কিন্তু মাঠের বাইরের বাস্তবতা বরাবরই ছিল আলাদা। মেসি এবং রোনাল্ডো একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখেন না। বরং দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরেও একে অপরের প্রতিভা, সাফল্য এবং অবদানের প্রতি তাঁদের রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা।
মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের মুহূর্তে সেই শ্রদ্ধাই আরও একবার সামনে চলে এল। মেসির অবসর উপলক্ষে আবেগঘন বার্তা দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তাঁর বার্তায় ছিল না কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ, ছিল শুধুই শ্রদ্ধা, সম্মান এবং ভালোবাসা। রোনাল্ডো মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ার এবং আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর অসাধারণ সাফল্যের প্রশংসা করেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ফুটবলের ইতিহাসে মেসির জায়গা কতটা বিশেষ।
দীর্ঘদিন ধরে দুই তারকার ভক্তদের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়, তা অনেক সময় মেসি বনাম রোনাল্ডো দ্বন্দ্বকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ফুটবল আলোচনার মঞ্চ—সব জায়গাতেই প্রশ্ন উঠেছে, কে সেরা? মেসি না রোনাল্ডো? কিন্তু এই দুই ফুটবল কিংবদন্তির নিজেদের সম্পর্ক সেই বিতর্কের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। দু’জনেই বহুবার একে অপরের কৃতিত্বের প্রশংসা করেছেন। আর মেসির বিদায়ের দিন রোনাল্ডোর আবেগঘন বার্তা সেই সম্পর্কেরই আরেকটি বড় প্রমাণ হয়ে থাকল।
রোনাল্ডোর বক্তব্যে উঠে আসে মেসির দেশের হয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা। তিনি মেসির কাহিনিকে এমন এক ফুটবল-গল্প হিসেবে দেখেছেন, যা ভবিষ্যতেও ফুটবলপ্রেমীদের মনে বেঁচে থাকবে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা যে অসাধারণ—সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। এরপর কেটে গিয়েছে প্রায় দুই দশক। এই দীর্ঘ সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসিকে দেখতে হয়েছে উত্থান-পতন, সাফল্য-বিফলতা, আনন্দ-বেদনা—সবকিছু। শুরুটা যতটা স্বপ্নের ছিল, মাঝের সময়টা ততটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থতা, ফাইনালে হার এবং জাতীয় দলের হয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি না পাওয়ার যন্ত্রণা মেসির কেরিয়ারকে একটা সময় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল।
এক সময় সেই ব্যর্থতার চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত স্থায়ী হয়নি। ফিরে এসেছিলেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই যেন বদলে যেতে শুরু করে গল্পের গতিপথ।
এরপর যা ঘটেছে, তা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর প্রত্যাবর্তনের গল্প। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা একের পর এক সাফল্য অর্জন করতে থাকে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে। যে মেসিকে একসময় জাতীয় দলের হয়ে ব্যর্থতার জন্য সমালোচিত হতে হয়েছিল, সেই মেসিই পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং প্রিয় অধিনায়ক হয়ে ওঠেন।
মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলির একটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর শেষ পথচলা। বিদায়ের মুহূর্ত যত এগিয়ে এসেছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে যে ফুটবলপ্রেমীরা একজন কিংবদন্তিকে শেষবারের মতো দেখতে চলেছেন। মেসির নিজের কথাতেও সেই আবেগ ফুটে উঠেছে।
বিদায়ের সময় কথা বলতে গিয়ে তাঁর গলা ভারী হয়ে আসে। প্রায় দুই দশকের স্মৃতি যেন একসঙ্গে ফিরে আসে। মেসি জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তাঁকে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু লড়াই করার মানসিকতা কখনও হারাননি। বারবার নিজেকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।
আর্জেন্টিনার জার্সি নিয়ে মেসির আবেগ বরাবরই ছিল বিশেষ। ক্লাব ফুটবলে তাঁর অসংখ্য সাফল্য থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার অনুভূতিকে তিনি আলাদা জায়গায় রেখেছেন। তাই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে তাঁর সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল আর কখনও আর্জেন্টিনার জার্সি পরে মাঠে নামতে না পারা।
মেসির কথায়, জীবনের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার জিনিসগুলির মধ্যে অন্যতম হল আর্জেন্টিনার জার্সি পরে মাঠে নামা। সেই জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর শৈশব, স্বপ্ন, লড়াই, ব্যর্থতা, প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্য।
একজন ফুটবলারের কেরিয়ার শুধুমাত্র গোল, অ্যাসিস্ট বা ট্রফির হিসাব দিয়ে বিচার করা যায় না। একজন খেলোয়াড় কতটা মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন, সেটিও তাঁর উত্তরাধিকারের বড় অংশ। মেসির বিদায়ের মুহূর্তে সেটিই সবচেয়ে বেশি দেখা গেল।
স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন হাজার হাজার সমর্থক। তাঁদের চোখে প্রিয় অধিনায়ককে শেষবার দেখার আবেগ। মেসি যখন শেষবারের মতো স্টেডিয়াম ছাড়ছিলেন, তখন গ্যালারি থেকে ভেসে আসে শেষবারের মতো গর্জন। এরপর ধীরে ধীরে নেমে আসে নীরবতা।
সেই নীরবতা আসলে শূন্যতার নয়। সেই নীরবতার মধ্যে ছিল কৃতজ্ঞতা। একজন খেলোয়াড় ফুটবলকে যে আনন্দ দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ জানানোর অনুভূতি। মেসি শুধু আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেননি, তিনি বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর শৈশব, কৈশোর এবং জীবনের অসংখ্য স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছেন।
মেসির বিদায়ের সঙ্গে তাই শেষ হয়ে গেল শুধু একজন ফুটবলারের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নয়, শেষ হল একটি যুগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির বক্তব্যও সেই আবেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাঁর মতে, মেসির মতো আর কেউ আসবে না। এই বক্তব্য শুধুমাত্র একজন কোচের প্রশংসা নয়, বরং মেসির প্রভাব এবং তাঁর অসাধারণ ফুটবল প্রতিভার স্বীকৃতি।
মেসির মতো খেলোয়াড় পাওয়া যে কতটা বিরল, তা বোঝা যায় তাঁর কেরিয়ারের পরিসংখ্যান, রেকর্ড এবং ট্রফির দিকে তাকালেই। কিন্তু সংখ্যার বাইরেও রয়েছে তাঁর খেলার ধরন। বল পায়ে তাঁর নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং, পাস, গোল করার ক্ষমতা, ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার দক্ষতা—সবকিছু মিলিয়ে তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, যেখানে তাঁকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
আর এই কারণেই মেসির বিদায়কে ঘিরে রোনাল্ডোর বার্তা এতটা গুরুত্বপূর্ণ। দুই দশক ধরে যাঁদের নাম পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে, তাঁদের একজন যখন বিদায় নিচ্ছেন, তখন অন্যজনের পক্ষ থেকে এসেছে শ্রদ্ধার বার্তা।
মেসি এবং রোনাল্ডোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের ক্লাব ফুটবলের দ্বৈরথ, ব্যক্তিগত পুরস্কারের লড়াই, গোলের রেকর্ড এবং অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও তাঁরা একে অপরের মান বুঝেছেন।
সম্ভবত এটাই দুই কিংবদন্তির সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দিক। তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, কিন্তু শত্রু নন। মাঠে একে অপরকে হারানোর জন্য লড়েছেন, কিন্তু মাঠের বাইরে একে অপরের সাফল্যকে সম্মান করেছেন।
মেসির অবসরের দিনে রোনাল্ডোর বার্তা তাই শুধুমাত্র একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা বিদায়ী শুভেচ্ছা নয়। এটি ফুটবলের দুই সর্বকালের সেরার মধ্যকার পারস্পরিক সম্মানের প্রতীক হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
একজন আর্জেন্টিনার হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন, অন্যজন পর্তুগালের হয়ে। দু’জনের পথ আলাদা হলেও তাঁদের প্রভাব একইভাবে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। কোটি কোটি মানুষ তাঁদের খেলা দেখে বড় হয়েছেন। তাঁদের গোল, পাস, রেকর্ড এবং ট্রফির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতি।
আজ মেসি যখন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরে আসছে তাঁর পুরনো দিনের ছবি। সেই ছোট্ট বয়সে জাতীয় দলের জার্সিতে আত্মপ্রকাশ থেকে শুরু করে কঠিন সময়, সমালোচনা, অবসর ঘোষণা, প্রত্যাবর্তন এবং অবশেষে কিংবদন্তির মর্যাদা—সব মিলিয়ে মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার যেন একটি পূর্ণাঙ্গ সিনেমার গল্প।
এই গল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর লড়াই করার মানসিকতা। ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। সমালোচনা তাঁকে ভেঙে দিতে পারেনি। বরং প্রতিবার তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরেছেন।
তাই মেসির বিদায়কে শুধুমাত্র অবসরের খবর হিসেবে দেখলে তাঁর কেরিয়ারের গভীরতা বোঝা যাবে না। এটি এমন একজন ফুটবলারের বিদায়, যিনি একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। যাঁর খেলা দেখে অসংখ্য শিশু ফুটবলকে ভালোবাসতে শিখেছে। যাঁর বাঁ পায়ের জাদু, গোল করার মুহূর্ত এবং সতীর্থকে দিয়ে গোল করানোর ক্ষমতা ফুটবলকে আরও সুন্দর করেছে।
রোনাল্ডোর বার্তাও সেই সৌন্দর্যেরই অংশ। ফুটবল মাঠে তাঁদের লড়াই যতটা তীব্র ছিল, মেসির বিদায়ের মুহূর্তে রোনাল্ডোর শ্রদ্ধা ততটাই আবেগঘন।
সময়ের সঙ্গে হয়তো মেসি এবং রোনাল্ডোর রেকর্ড নিয়ে আরও আলোচনা হবে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা তাঁদের রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করবেন। নতুন তারকারা বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে উঠে আসবেন। কিন্তু মেসি-রোনাল্ডো যুগকে পুনরায় তৈরি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
কারণ এই দুই তারকা শুধু একই সময়ে খেলেননি, তাঁরা একই যুগকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। একে অপরকে আরও ভালো হতে বাধ্য করেছেন। একজনের অসাধারণ পারফরম্যান্স অন্যজনের কাছ থেকেও আরও বড় পারফরম্যান্স বের করে এনেছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ পর্যন্ত ফুটবলকেই সমৃদ্ধ করেছে।
আজ তাই মেসির বিদায়ের দিনে রোনাল্ডোর কণ্ঠে শ্রদ্ধা যেন সেই দুই দশকের গল্পকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে এল।
একদিকে মেসির আবেগঘন বিদায়, অন্যদিকে রোনাল্ডোর সম্মানসূচক বার্তা। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর স্মৃতি।
মেসি হয়তো আর আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামবেন না। তাঁর বাঁ পায়ের সেই জাদু আন্তর্জাতিক মঞ্চে আর দেখা যাবে না। গ্যালারি থেকে তাঁর নাম ধরে সেই একই গর্জনও আর শোনা যাবে না। কিন্তু তাঁর তৈরি করা ইতিহাস মুছে যাবে না।
ফুটবলপ্রেমীরা তাঁকে মনে রাখবেন তাঁর গোলের জন্য, তাঁর অ্যাসিস্টের জন্য, তাঁর নেতৃত্বের জন্য, তাঁর লড়াইয়ের জন্য এবং সবচেয়ে বেশি মনে রাখবেন তাঁর ফুটবল খেলার অসাধারণ সৌন্দর্যের জন্য।
শেষবার যখন মেসি স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন, গ্যালারির দিকে তাকিয়ে থাকা হাজার হাজার চোখ যেন একই কথা বলছিল—বিদায় নয়, ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ লিওনেল মেসি।
ফুটবলকে এত সুন্দর করার জন্য ধন্যবাদ।
একটি প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানোর জন্য ধন্যবাদ।
আর্জেন্টিনার জার্সিকে এত ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।
আর ফুটবল ইতিহাসে নিজের জন্য যে জায়গা তৈরি করে গিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ।
আর হয়তো মেসির বিদায়ের দিনে রোনাল্ডোর বার্তাই সবচেয়ে সুন্দরভাবে সেই অনুভূতিকে প্রকাশ করেছে—দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর গল্পের শেষ অধ্যায়ে কোনও বিদ্বেষ নেই, আছে শুধু শ্রদ্ধা।
মেসির কাহিনি সত্যিই ফুটবল লোকগাথার অংশ হয়ে থাকবে। আর সেই লোকগাথার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে থাকবেন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও।
মেসি-রোনাল্ডো যুগ হয়তো শেষের পথে, কিন্তু তাঁদের গল্প শেষ হওয়ার নয়। ফুটবল যতদিন থাকবে, ততদিন ফিরে আসবে এই দুই মহাতারকার নাম।