বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচে মেসির বিদায়ে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হল ফুটবল বিশ্ব।
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল কেরিয়ারের শেষ অধ্যায় লেখা হয়ে গেল আবেগ, স্মৃতি, গোল এবং এক ঐতিহাসিক বিদায়ের মধ্য দিয়ে। ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে আর্জেন্তিনার বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ ছিল না। এটি ছিল এক কিংবদন্তির দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রার আবেগঘন সমাপ্তি। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৮৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গোটা স্টেডিয়াম পরিণত হয়েছিল লিওনেল মেসির সম্মানজ্ঞাপনের মঞ্চে। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্তিনা ৩-০ গোলে বেনিনকে হারায়। আর সেই জয়ে গোল করে এবং গোলের সুযোগ তৈরি করে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখেন মেসি।
ম্যাচ শুরুর আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে রাতটি অন্যরকম হতে চলেছে। বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরে উঠেছিল সমর্থকদের ভিড়ে। চারদিকে দেখা যাচ্ছিল আর্জেন্তিনার পতাকা, নীল-সাদা জার্সি এবং মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। গ্যালারিতে বিশাল আকারে লেখা ছিল ‘Gracias Leo’—অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ লিও’। মেসিকে বিদায় জানাতে সমর্থকদের আবেগ যেন কোনওভাবেই থামছিল না।
নিজের তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও এবং সিরোকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন মেসি। সেই মুহূর্তটিও ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। ৩৯ বছর বয়সি তারকা যখন জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে দাঁড়ান, তখন স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় মেসির নামে জয়ধ্বনি। জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। তাঁর চোখে জল দেখা যায়। এই দৃশ্যই বুঝিয়ে দিয়েছিল, ম্যাচটির গুরুত্ব কতটা বেশি।
শুধু মেসি নন, আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও আবেগ সামলাতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে মেসির সঙ্গে জাতীয় দলের যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন স্কালোনি। মেসির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা জয় এবং একের পর এক সাফল্যের সাক্ষী ছিলেন তিনি। তাই প্রিয় অধিনায়কের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াটাও ছিল স্বাভাবিক।
গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধু অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন তারকা ডেভিড ত্রেজেগেও উপস্থিত ছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে। মাঠের বাইরে এবং গ্যালারিতে থাকা প্রত্যেকের চোখেমুখেই ছিল আবেগের ছাপ।
ম্যাচ শুরুর আগে আরও একটি বিশেষ মুহূর্ত তৈরি হয়। বেনিনের অধিনায়ক মেসির হাতে একটি বিশেষ স্মারক ও চিঠি তুলে দিয়ে তাঁকে সম্মান জানান। ফুটবল দুনিয়ায় মেসির অবদানের প্রতি এই শ্রদ্ধা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিপক্ষ দলের পক্ষ থেকেও যে মেসির বিদায়কে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হচ্ছে, সেই ছবি মন ছুঁয়ে যায় ফুটবলপ্রেমীদের।
এরপর আসে আরও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ম্যাচের ১০ম মিনিটে মেসির সম্মানে এক মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়। গোটা স্টেডিয়াম তখন মেসির নামে গর্জে ওঠে। আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে যায় বুয়েনস আয়ার্সের আকাশ। ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে মনুমেন্তাল। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্তিনার জাতীয় দলের হয়ে যে ফুটবলার কোটি কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন, তাঁর জন্য এই শ্রদ্ধা ছিল একেবারেই প্রাপ্য।
মাঠে অবশ্য মেসি নিজের পরিচিত ছন্দেই ছিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই বল পায়ে সক্রিয় ছিলেন আর্জেন্তিনার অধিনায়ক। ৭ম মিনিটেই বক্সের বাইরে ওয়ান-টু খেলে বাম পায়ে জোরালো শট নেন তিনি। কিন্তু বেনিনের গোলকিপার দুর্দান্ত দক্ষতায় সেই শট আটকে দেন। গোল না হলেও মেসির প্রথম দিকের এই প্রচেষ্টাই বুঝিয়ে দেয়, বিদায়ী ম্যাচেও তিনি কোনওভাবেই শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য মাঠে নামেননি।
আর্জেন্তিনা প্রথমার্ধে বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রায় ৬৫ শতাংশ পজেশন ছিল তাদের দখলে। কিন্তু বেনিনের রক্ষণ ভেদ করে প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি আর্জেন্তিনা। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের শটও রুখে দেন বেনিনের গোলরক্ষক। অন্যদিকে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতানের শটও দুর্দান্তভাবে সামলে নেন আর্জেন্তিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আর্জেন্তিনা দ্রুত আক্রমণে উঠতে থাকে এবং ৪৮ মিনিটেই আসে প্রথম গোল।
মেসির তৈরি করা সেট-পিস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন নিকোলাস ওতামেন্দি। আর্জেন্তিনা এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। মেসির বিদায়ী ম্যাচে তাঁর দীর্ঘদিনের সতীর্থ ওতামেন্দির এই গোলটিও বিশেষ আবেগ বহন করছিল। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলছিলেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারও। গোল করার পর কিছুক্ষণ বাদেই মাঠ ছাড়েন তিনি।
এরপর আসে ম্যাচের অন্যতম সুন্দর এবং প্রতীকী মুহূর্ত। ৬১তম মিনিটে মেসির বাড়ানো বল বাঁ প্রান্ত থেকে নিয়ন্ত্রণে নেন তরুণ নিকো পাজ। এরপর ভেতরের দিকে ঢুকে মেসির চেনা স্টাইলে বাঁকানো শটে দূরপাল্লা থেকে গোল করেন তিনি। আর্জেন্তিনার ব্যবধান বেড়ে হয় ২-০।
নিকো পাজের এই গোল শুধু স্কোরলাইন বদলায়নি, এর মধ্যে যেন লুকিয়ে ছিল একটি প্রতীকী বার্তাও। মেসির প্রজন্মের পর আর্জেন্তিনার নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে সেই মুহূর্ত। মেসির পাস থেকে নিকো পাজের গোলকে অনেকেই ভবিষ্যতের আর্জেন্তিনা দলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
এরপর আসে সেই মুহূর্ত, যার অপেক্ষায় ছিলেন পুরো স্টেডিয়ামের দর্শকরা। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে বেনিনের বক্সের মধ্যে অগাস্টিন ফাউলের শিকার হন এবং রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে গোটা মনুমেন্তাল যেন নিস্তব্ধ হয়ে যায়। সবাই অপেক্ষা করছিলেন মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে আরও একটি গোল দেখার জন্য।
স্পট কিকে বল রাখেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি নেওয়া সেই তারকা আবারও নিজের স্নায়ুর দৃঢ়তার প্রমাণ দেন। ডানদিকের উপরের কোণ লক্ষ্য করে দুর্দান্ত গতির শটে বল জালে পাঠান মেসি। গোলের সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্তিনা এগিয়ে যায় ৩-০।
এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির ১২৬তম গোল। তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করে নিজের আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যাকে আরও সমৃদ্ধ করলেন তিনি। শুধু গোল নয়, পুরো ম্যাচেই মেসি ছিলেন আক্রমণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
ম্যাচের শেষদিকে মেসির সামনে আরও একটি গোল করার সুযোগ এসেছিল। তাঁর প্লেসিং শট বারে লেগে ফিরে আসে। এরপর অন্তিম মুহূর্তে আর্জেন্তিনা বক্সের ঠিক বাইরে প্রায় ২১ মিটার দূরত্বে একটি ফ্রি-কিক পায়। তখন মনুমেন্তালের হাজার হাজার দর্শক নিজেদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মেসির শেষ জাদুর জন্য।
ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো ভেবেছিলেন, শেষ মুহূর্তে একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোল করে মেসি তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের জন্য এক নিখুঁত সিনেমার সমাপ্তি লিখবেন। কিন্তু ফুটবল সবসময় চিত্রনাট্য মেনে চলে না। মেসির ফ্রি-কিক বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। আর সেইভাবেই শেষ বাঁশির অপেক্ষায় এগিয়ে যায় ম্যাচ।
শেষ পর্যন্ত রেফারির বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয়ে যায়—আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির শেষ ম্যাচ শেষ। আর্জেন্তিনা ৩-০ গোলে জয়ী। মেসি গোল করেছেন, গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন এবং নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচকে স্মরণীয় করে রেখে মাঠ ছেড়েছেন।
তবে এই বিদায়ের সবচেয়ে বড় দিক শুধু তাঁর গোল বা আর্জেন্তিনার জয় নয়। এই ম্যাচ ছিল একটি যুগের সমাপ্তি। আর্জেন্তিনার জাতীয় দলের হয়ে মেসির পথচলা ছিল অসংখ্য উত্থান-পতনে ভরা। শুরুতে তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল বিপুল। সময়ের সঙ্গে সেই প্রত্যাশা বদলে যায় চাপ এবং সমালোচনায়। কিন্তু মেসি থামেননি।
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ট্রফি না পাওয়ার হতাশা তাঁকে বহুবার কাঁদিয়েছে। কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার, বিশ্বকাপের আগে একের পর এক ব্যর্থতা—সবকিছুর পরও তিনি ফিরে এসেছেন। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে। এরপর আসে বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারকে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
বিশ্বকাপ জয় মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা দূর করে। আর্জেন্তিনার হয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার যেন পূর্ণতা পায়। এরপরও তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন, গোল করেছেন, সতীর্থদের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের এই শেষ ম্যাচ তাই শুধুমাত্র একজন ফুটবলারের অবসর বা বিদায় নয়। এটি ছিল একটি প্রজন্মের স্মৃতির সমাপ্তি। যে প্রজন্ম মেসিকে দেখে বড় হয়েছে, তাঁর গোল দেখে আনন্দ করেছে, তাঁর হার দেখে কেঁদেছে, বিশ্বকাপ জয়ে রাস্তায় নেমে উৎসব করেছে—তাদের কাছে এই বিদায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিকো পাজের গোলও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একদিকে মেসি তাঁর শেষ অধ্যায় লিখছেন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। মেসির পাস থেকে নিকো পাজের গোল যেন আর্জেন্তিনা ফুটবলের ভবিষ্যতের দিকে একটি ইঙ্গিত।
তবে মেসির মতো একজন ফুটবলারের জায়গা পূরণ করা সহজ নয়। তাঁর মতো প্রতিভা, নেতৃত্ব, ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিনের প্রভাব পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্তিনা হয়তো ভবিষ্যতে নতুন তারকা পাবে, নতুন অধিনায়ক পাবে, নতুন বিশ্বকাপ জিততেও পারে। কিন্তু মেসি যে জায়গা তৈরি করে গিয়েছেন, সেটি ফুটবল ইতিহাসে আলাদা হয়েই থাকবে।
শেষ ম্যাচে মেসির চোখের জল, সন্তানদের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ, স্কালোনির আবেগ, গ্যালারিতে ‘Gracias Leo’, ১০ নম্বর জার্সির বিশাল ছবি, দর্শকদের মেসি-মেসি ধ্বনি এবং ম্যাচ শেষে তাঁর শেষ বাঁশি শোনা—সবকিছু মিলিয়ে রাতটি হয়ে থাকল আর্জেন্তিনা ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত।
মেসি মাঠ ছাড়লেন একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে। একজন কোপা আমেরিকা জয়ী হিসেবে। একজন রেকর্ডধারী গোলদাতা হিসেবে। একজন অধিনায়ক হিসেবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, কোটি কোটি মানুষের প্রিয় ফুটবলার হিসেবে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর শেষ ম্যাচের স্কোরলাইন—আর্জেন্তিনা ৩-০ বেনিন। স্কোরশিটে গোল করেছেন নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকো পাজ এবং লিওনেল মেসি। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাম অবশ্যই লিওনেল মেসি।
শেষ বাঁশি বেজে গেছে। জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না সেই ১০ নম্বরকে। আর হয়তো কোনও একদিন ভবিষ্যতের কোনও ফুটবলপ্রেমী প্রশ্ন করবে—মেসিকে খেলতে দেখার অনুভূতি কেমন ছিল?
তখন উত্তরটা হয়তো একটাই হবে—আমরা এমন একজন ফুটবলারকে দেখেছি, যিনি ফুটবলকে শুধু খেলেননি, ফুটবলকে শিল্পে পরিণত করেছিলেন।
বিদায়, লিও।
Gracias, Leo