Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আইপিও-তে আবেদনে বিশ্বরেকর্ড জিও-র! বিনিয়োগকারীদের বিপুল সাড়া

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে বিনিয়োগকারীদের বিপুল সাড়া। রেকর্ড পরিমাণ আবেদনের মধ্য দিয়ে দেশের বৃহত্তম পাবলিক ইস্যু নতুন ইতিহাস গড়ল।

আইপিও-তে বিশ্বরেকর্ড গড়ল জিও প্ল্যাটফর্মস! ৩০ হাজার কোটি টাকার ইস্যুতে আবেদন প্রায় ৭.৪০ লক্ষ কোটি

ভারতের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে নতুন নজির গড়ল জিও প্ল্যাটফর্মসের ইনিশিয়াল পাবলিক অফার (আইপিও)। দেশের বৃহত্তম পাবলিক ইস্যুকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে বিপুল উৎসাহ দেখা গেল, তা কার্যত নজিরবিহীন। শুক্রবার শেষ হল এই আইপিও-তে আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। আর সেই প্রক্রিয়া শেষ হতেই সামনে এল একের পর এক চমকপ্রদ পরিসংখ্যান। সংস্থার দাবি, মাত্র তিন দিনে জমা পড়েছে ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন। এই সংখ্যা বিশ্বে যে কোনও আইপিও-র ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হয়েছে।

জিও প্ল্যাটফর্মসের এই আইপিও-তে বাজার থেকে প্রায় ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকা তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অথচ শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আসা আবেদনের মোট মূল্য প্রায় ৭ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বিডিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সময় ইস্যুটি ২২ গুণেরও বেশি সাবস্ক্রাইবড হয়েছিল। অর্থাৎ, বিভিন্ন বিনিয়োগকারী শ্রেণির জন্য বরাদ্দ শেয়ারের তুলনায় বহুগুণ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছিল।

এই বিপুল সাড়া শুধু জিও প্ল্যাটফর্মসের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকেই তুলে ধরছে না, বরং ভারতের পুঁজিবাজারে বড় প্রযুক্তি সংস্থার শেয়ার কেনার প্রবণতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। খুচরো বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী—বিভিন্ন শ্রেণির অংশগ্রহণকারীরা এই আইপিও-তে আবেদন করেছেন।

তিন দিনে ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-র জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল বুধবার। শুক্রবার ছিল আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। মাত্র তিন দিনের এই সময়সীমার মধ্যেই আবেদনকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ছাড়িয়ে যায় বলে সংস্থার দাবি।

এই বিপুল সংখ্যক আবেদন আইপিও বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণত কোনও সংস্থার আইপিও-তে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নির্ভর করে সংস্থার ব্যবসার সম্ভাবনা, আর্থিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বাজারে তার অবস্থান এবং শেয়ারের মূল্যায়নের মতো একাধিক বিষয়ের উপর। জিও প্ল্যাটফর্মসের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলির পাশাপাশি সংস্থাটির পরিচিত ব্র্যান্ড, ডিজিটাল পরিষেবায় উপস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণ হতে পারে।

তবে শুধু আবেদনের সংখ্যা দিয়ে কোনও আইপিও-র ভবিষ্যৎ সাফল্য বিচার করা যায় না। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর শেয়ারের দাম কীভাবে ওঠানামা করে, সংস্থা কতটা ব্যবসায়িক বৃদ্ধি অর্জন করে এবং বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

৩০,২১৩ কোটি টাকার ইস্যু ঘিরে বিপুল চাহিদা

জিও প্ল্যাটফর্মসের এই আইপিও-র মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ইস্যুটির আকার এবং বিনিয়োগকারীদের বিপুল অংশগ্রহণের কারণে এটি দেশের বৃহত্তম পাবলিক ইস্যুগুলির মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আইপিও বা ইনিশিয়াল পাবলিক অফার হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনও সংস্থা প্রথমবার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির জন্য বাজারে আসে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সংস্থাটির শেয়ার কেনার সুযোগ পান এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর সেই শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের জন্য উপলব্ধ হতে পারে।

জিও প্ল্যাটফর্মসের ক্ষেত্রে ইস্যুর আকারের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় এটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৭ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার আবেদন জমা পড়েছে। এই পরিসংখ্যানটি বিনিয়োগকারীদের বিপুল আগ্রহের ইঙ্গিত দিলেও, আবেদনমূল্য, চূড়ান্ত বরাদ্দ এবং প্রকৃতপক্ষে সংগৃহীত অর্থ এক বিষয় নয়।

আইপিও-তে আবেদন জমা পড়লেই সেই পরিমাণ অর্থ সংস্থার হাতে চলে যায় না। বরাদ্দের নিয়ম, চূড়ান্ত সাবস্ক্রিপশন পরিসংখ্যান এবং ইস্যুর শর্ত অনুসারেই পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধ হল বিডিং

বুধবার শুরু হওয়া আবেদন প্রক্রিয়া শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হয়। শেষ দিনের আগে থেকেই ইস্যুটিকে ঘিরে আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিডিং বন্ধ হওয়ার সময় জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও ২২ গুণেরও বেশি সাবস্ক্রাইবড হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সাবস্ক্রিপশন বলতে বোঝায়, কোনও আইপিও-তে নির্দিষ্ট শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের জন্য যতগুলি শেয়ার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার তুলনায় কত গুণ শেয়ারের জন্য আবেদন জমা পড়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনও শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০০টি শেয়ার বরাদ্দ থাকলে এবং সেই শ্রেণি থেকে ২০০টি শেয়ারের জন্য আবেদন এলে সাবস্ক্রিপশন হবে দুই গুণ। একইভাবে, বরাদ্দের তুলনায় আবেদন যত বাড়বে, সাবস্ক্রিপশন অনুপাতও তত বাড়বে।

তবে একটি আইপিও-র মোট সাবস্ক্রিপশন এবং বিভিন্ন শ্রেণির সাবস্ক্রিপশন আলাদা হতে পারে। খুচরো বিনিয়োগকারী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকায় প্রতিটি শ্রেণির চাহিদা পৃথকভাবে বিচার করা হয়।

খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উৎসাহ

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে শুধু বড় বিনিয়োগকারীরাই নন, খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা গিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রায় ৮.৫ কোটি শেয়ার সংরক্ষিত ছিল। তার বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ২৩ কোটি শেয়ারের জন্য। ফলে এই বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের হার দাঁড়িয়েছে ২.৭২ গুণ।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার কেনার সুযোগ নিতে চেয়েছেন। পরিচিত ব্র্যান্ড, ডিজিটাল পরিষেবার প্রসার এবং সংস্থাটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা এই আগ্রহের পিছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে খুচরো বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা জরুরি, কোনও জনপ্রিয় সংস্থার আইপিও মানেই নিশ্চিত মুনাফা নয়। বাজারে তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের উপরে উঠতেও পারে, আবার নীচে নামতেও পারে। তাই শুধু অন্যদের আগ্রহ দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

বিনিয়োগের আগে আইপিও-র প্রসপেক্টাস, সংস্থার আর্থিক বিবরণ, ব্যবসার ঝুঁকি এবং শেয়ারের মূল্যায়ন সম্পর্কে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিপুল সাড়া

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চাহিদা দেখা গিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিভাগে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোয়ালিফায়েড ইনস্টিটিউশনাল বায়ার বা QIB-দের জন্য বরাদ্দ শেয়ারের তুলনায় আবেদন এসেছে ৭০.৫৫ গুণ।

QIB হল এমন এক শ্রেণির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, যাদের মধ্যে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বড় বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্ত থাকেন। তাঁরা সাধারণত নিজস্ব বিশ্লেষণ, আর্থিক তথ্য, বাজারের পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেন।

কোনও আইপিও-তে QIB বিভাগের চাহিদা বেশি হলে তা বাজারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকেও ভবিষ্যৎ লাভের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যায় না। বড় বিনিয়োগকারীরাও বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

এই আইপিও-তে QIB বিভাগের ৭০.৫৫ গুণ সাবস্ক্রিপশন ইস্যুটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার নিয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

নন-ইনস্টিটিউশনাল বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর বা NII বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছে। এই শ্রেণিতে বরাদ্দ শেয়ারের তুলনায় আবেদন এসেছে ১৪ গুণ।

NII বিভাগে সাধারণত এমন বিনিয়োগকারীরা থাকেন, যাঁরা খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত সীমার বাইরে আবেদন করেন এবং QIB শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নন। এই বিভাগে উচ্চ সাবস্ক্রিপশন হলে বোঝা যায়, বড় অঙ্কের আবেদনকারীদের মধ্যেও ইস্যুটিকে ঘিরে আগ্রহ রয়েছে।

তবে NII বিভাগের চাহিদা এবং খুচরো বিনিয়োগকারীদের চাহিদা একসঙ্গে মিশিয়ে দেখা উচিত নয়। প্রত্যেক শ্রেণির বরাদ্দ, আবেদন এবং শেয়ার পাওয়ার নিয়ম আলাদা হতে পারে।

news image
আরও খবর

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে NII বিভাগের ১৪ গুণ সাবস্ক্রিপশন সামগ্রিক চাহিদাকে আরও জোরালো করেছে।

শেয়ারহোল্ডার এবং কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত অংশেও চাহিদা

এই আইপিও-তে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সংরক্ষিত অংশেও উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা গিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিভাগের সাবস্ক্রিপশন হয়েছে ৭.৬০ গুণ।

অন্যদিকে, কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের হার ছিল ২.৯৩ গুণ।

কোনও আইপিও-তে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলে যোগ্য বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা নির্ধারিত শর্ত মেনে আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন। একইভাবে, কর্মীদের জন্য বরাদ্দ থাকলে সংশ্লিষ্ট যোগ্য কর্মীরা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন।

জিও প্ল্যাটফর্মসের ক্ষেত্রে এই দুই বিভাগেই বরাদ্দের তুলনায় বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আইপিও-তে অংশগ্রহণকারী বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে আগ্রহের বিস্তার স্পষ্ট হয়েছে।

আগের রেকর্ড ছিল ওয়াড়ি এনার্জিসের

জিও প্ল্যাটফর্মসের আগে আইপিও-তে আবেদনের সংখ্যার বিশ্বরেকর্ড ছিল ভারতীয় সংস্থা ওয়াড়ি এনার্জিসের দখলে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ওয়াড়ি এনার্জিসের আইপিও-তে ৯৭.৩ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। সেই সময় এই বিপুল আবেদনসংখ্যা বাজারে বিশেষ আলোচনার জন্ম দেয়।

এবার জিও প্ল্যাটফর্মসের ক্ষেত্রে তিন দিনের মধ্যে ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়ার দাবি করা হয়েছে। এই সংখ্যা আগের উল্লেখিত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

আইপিও-তে আবেদনকারীর সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক হলেও, সেটিই একমাত্র সাফল্যের মাপকাঠি নয়। একটি ইস্যুর প্রকৃত সাফল্য বুঝতে সাবস্ক্রিপশনের পাশাপাশি শেয়ারের মূল্যায়ন, তালিকাভুক্তির পর বাজারে তার পারফরম্যান্স এবং সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ফলাফলও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশ্বরেকর্ডের দাবিটি মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। বিভিন্ন দেশের আইপিও-র আবেদন গণনার পদ্ধতি, আবেদনকারীর সংজ্ঞা এবং তথ্য প্রকাশের নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক রেকর্ডের চূড়ান্ত তুলনার জন্য নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত তথ্য জরুরি।

কেন জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও ঘিরে এত আগ্রহ?

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে বিপুল আবেদন জমা পড়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, সংস্থাটি ভারতের ডিজিটাল পরিষেবার বাজারে পরিচিত নাম। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল যোগাযোগ, ইন্টারনেট পরিষেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।

তৃতীয়ত, বড় আকারের কোনও আইপিও বাজারে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই সংবাদমাধ্যম, আর্থিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ে। সংস্থার পরিচিতি এবং ইস্যুর আকারও আগ্রহ বাড়াতে পারে।

এ ছাড়া, বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ আইপিও-র চাহিদাকে প্রভাবিত করে। কোনও ইস্যুতে খুচরো বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাজারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

তবে এই কারণগুলির কোনটি কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে হলে বিনিয়োগকারীদের আচরণ এবং বাজারের তথ্যের বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

আইপিও-তে বিপুল আবেদন মানেই কি তালিকাভুক্তির দিন লাভ?

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে রেকর্ড চাহিদার খবর সামনে আসার পর অনেক বিনিয়োগকারীর মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, তালিকাভুক্তির দিন শেয়ারের দাম কতটা বাড়তে পারে। কিন্তু শুধু সাবস্ক্রিপশনের পরিসংখ্যান দেখে এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।

আইপিও-র শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তার দাম নির্ভর করে বাজারের চাহিদা ও জোগান, ইস্যু মূল্য, সংস্থার আর্থিক অবস্থা, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির উপর।

কোনও আইপিও বহুগুণ সাবস্ক্রাইবড হলেও তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের দাম প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকতে পারে। আবার কোনও সংস্থার শেয়ার ইস্যু মূল্যের উপরে তালিকাভুক্তও হতে পারে। তাই অতীতের রেকর্ড বা বিপুল আবেদন দেখে নিশ্চিত লাভের আশা করা ঠিক নয়।

বিনিয়োগকারীদের উচিত সংস্থার প্রসপেক্টাস পড়ে ব্যবসার মডেল, আয়, মুনাফা, ঋণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। প্রয়োজনে নিবন্ধিত আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

আকাশ আম্বানির জন্মদিনেই শেষ হল আবেদন প্রক্রিয়া

এই আইপিও-কে ঘিরে আর একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হল, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন শুক্রবার ছিল জিও প্ল্যাটফর্মসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকাশ আম্বানির জন্মদিন।

একদিকে সংস্থার আইপিও-তে বিপুল আবেদন এবং অন্যদিকে এই বিশেষ দিন—দুই বিষয়কে ঘিরেই সংবাদটি আরও আলোচনায় এসেছে। তবে জন্মদিনের সঙ্গে আইপিও-র আর্থিক ফলাফল বা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই।

নজর এখন পরবর্তী ধাপে

আইপিও-র আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের নজর থাকে পরবর্তী ধাপগুলির দিকে। এর মধ্যে রয়েছে চূড়ান্ত বরাদ্দের তথ্য, শেয়ার বরাদ্দের ফলাফল, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া যেখানে প্রযোজ্য এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সময়সূচি।

যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিজেদের বরাদ্দের অবস্থা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জের বিজ্ঞপ্তির উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে আবেদনকারীর সংখ্যা, বিভিন্ন শ্রেণিতে সাবস্ক্রিপশন এবং মোট চাহিদা ইতিমধ্যেই ইস্যুটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত বরাদ্দ এবং তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের বাজারমূল্যই পরবর্তী আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

উপসংহার

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে বিপুল আবেদন ভারতের পুঁজিবাজারে বড় প্রযুক্তি সংস্থাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রায় ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকার ইস্যুকে ঘিরে ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদনের দাবি এবং বিভিন্ন বিনিয়োগকারী শ্রেণিতে উচ্চ সাবস্ক্রিপশন এই আইপিও-কে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, QIB বিভাগে ৭০.৫৫ গুণ, NII বিভাগে ১৪ গুণ এবং খুচরো বিনিয়োগকারী বিভাগে ২.৭২ গুণ সাবস্ক্রিপশন হয়েছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারহোল্ডার ও কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত অংশেও বরাদ্দের তুলনায় বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

তবে এই বিপুল চাহিদাকে ভবিষ্যৎ মুনাফার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার আর্থিক ভিত্তি, শেয়ারের মূল্যায়ন, বাজারের পরিস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিচার করা জরুরি। আইপিও-র রেকর্ড যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তালিকাভুক্তির পর সংস্থার ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সও বিনিয়োগকারীদের কাছে সমান তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Preview image