কেন্দ্রে NDA সরকারের টানা ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুস্থতা, দেশবাসীর মঙ্গল এবং দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর প্রতি সম্মান জানিয়ে নদীয়ার শান্তিপুরে একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন বিধায়ক স্বপন কুমার দাস। মন্দিরে পূজা, হোম যজ্ঞ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র উদ্বোধন এবং রক্তদান শিবিরসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কেন্দ্রে টানা ১২ বছর ধরে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (NDA) সরকারের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র নেতৃত্বে এই সময়কালে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভর ভারতের মতো একাধিক উদ্যোগকে সামনে রেখে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের দাবি করেছে। এই ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন উদযাপন চলছে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও দলীয় কর্মসূচি ও সামাজিক উদ্যোগের আয়োজন করা হয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় নদীয়া জেলার শান্তিপুরে দিনভর একাধিক ধর্মীয়, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় বিধায়ক Swapan Kumar Das। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুস্বাস্থ্য, দেশের অগ্রগতি, দেশবাসীর মঙ্গল এবং সীমান্তে দেশের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কল্যাণ কামনায় বিশেষ পূজা ও হোম-যজ্ঞের আয়োজন করা হয়।
দিনের শুরুতে শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী Jaleswar Temple-এ গিয়ে পূজা অর্চনা করেন বিধায়ক। সেখানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বহু সাধারণ মানুষ, ভক্ত এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। পূজার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তি কামনা করা হয়।
এরপর তিনি সর্বনন্দীপাড়ার Loknath Temple-এ গিয়ে ভগবান লোকনাথের পূজা দেন। সেখানে দেশ ও রাজ্যের কল্যাণের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানুষের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে তিনি গোবিন্দপুর এলাকায় অবস্থিত Krittika Kali Temple-এ মা কালীকে পুজো অর্পণ করেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। পূজার শেষে উপস্থিত মানুষদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন তিনি।
ধর্মীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক ক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শান্তিপুরের এক নম্বর রেলগেট সংলগ্ন ব্যবসায়ী সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে উপস্থিত হয়ে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন বিধায়ক। তিনি বলেন, রক্তদান হল মানবসেবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। একজন মানুষের স্বেচ্ছায় দেওয়া রক্ত অন্য একজনের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই সমাজের প্রতিটি সুস্থ নাগরিকের এই ধরনের মানবিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া উচিত।
এদিন রক্তদান শিবিরে বহু যুবক-যুবতী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদেরও বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান বিধায়ক।
এরপর হরিপুর পঞ্চায়েতের নীলকুঠি এলাকায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এলাকায় একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র স্থাপন করা। সেই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবিষ্যতে এলাকার বহু মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিধায়ক বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। গ্রামীণ এলাকার মানুষ যাতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে বাধ্য না হন, সেই উদ্দেশ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এছাড়াও দিনভর বিভিন্ন সাংগঠনিক বৈঠক, দলীয় কর্মসূচি এবং জনসংযোগমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। স্থানীয় স্তরে দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে জানা যায়।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক স্বপন কুমার দাস বলেন, কেন্দ্রের NDA সরকারের গত ১২ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান এতটাই বিস্তৃত যে একদিনে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, দেশের সড়ক, রেল, বিমান পরিবহণ, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের সেনাবাহিনী, নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী এবং বিভিন্ন জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অবদানও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এদিনের কর্মসূচিতে দলীয় নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং বহু সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে রক্তদান শিবির ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র উদ্বোধনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের একাংশের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সামাজিক সংহতি ও জনসেবার মানসিকতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, NDA সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শান্তিপুরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিগুলি ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের এক সমন্বিত চিত্র তুলে ধরেছে। পূজা, যজ্ঞ, রক্তদান, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দিনটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। আয়োজকদের আশা, দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য এই ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছরের এই যাত্রাপথে ভারতের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিস্তর আলোচনা রয়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণ, পানীয় জল সরবরাহ, আবাসন প্রকল্প এবং ডিজিটাল পরিষেবার বিস্তারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বিধায়ক স্বপন কুমার দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, উন্নয়ন কেবলমাত্র বড় শহর বা শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে হলে চলবে না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন গ্রামের সাধারণ মানুষও সেই উন্নয়নের সুফল ভোগ করবেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা অনেকাংশে কমেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কূটনৈতিক বৈঠক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত এবং কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শান্তিপুরের বিভিন্ন মন্দিরে আয়োজিত পূজা এবং যজ্ঞ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিল উৎসাহের আবহ। অনেকেই মনে করেন, দেশের অগ্রগতি এবং শান্তি কামনায় এই ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণ কামনা করেন।
এদিনের হোম-যজ্ঞে বৈদিক নিয়ম মেনে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ এবং ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত ভবিষ্যতের প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি সীমান্তে কর্মরত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্যও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তাদের একাংশ বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা সর্বদাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল পরিবেশে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের সুরক্ষায় তাঁদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠা দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে গর্বের বিষয়। সেই কারণেই এই বিশেষ দিনে সেনাবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
রক্তদান শিবির ঘিরেও ছিল বিশেষ উৎসাহ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে বহু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়। হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে রক্তের চাহিদা মেটাতে এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে রক্তদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সচেতনতা প্রচারও চালানো হয়।
এছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র উদ্বোধনের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু মানুষ মনে করেন, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হলে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা দ্রুত পাবেন। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং মহিলাদের জন্য এই পরিষেবা অত্যন্ত উপকারী হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচিও ভবিষ্যতে চালু করার দাবি জানান স্থানীয়রা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখা বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে। উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জনসংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এই ধরনের কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শান্তিপুরের এদিনের কর্মসূচিও সেই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিধায়ক স্বপন কুমার দাস আরও বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গঠনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজই আগামী দিনের ভারতের মূল শক্তি। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে যুবকদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নারী ক্ষমতায়ন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বিকাশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ছিল উৎসবের আবহ। বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পতাকা, ব্যানার এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়।
স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, দেশের উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করতে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের স্বার্থে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের উপরও জোর দেওয়া হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের সার্বিক অগ্রগতির পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তাও দেন।
সব মিলিয়ে, NDA সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শান্তিপুরে আয়োজিত পূজা, যজ্ঞ, রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্যকেন্দ্র উদ্বোধন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি এক বহুমাত্রিক আয়োজনের রূপ নেয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং উন্নয়নের বার্তাকে একসূত্রে গেঁথে এই কর্মসূচিগুলি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে আয়োজকদের দাবি। দেশের অগ্রগতি, জনগণের কল্যাণ এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তাঁরা জানান।