Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চম্পাসারিতে ৭৫০ দেবদেবীর মূর্তিতে সেজে উঠল তামিলনাড়ুর মীনাক্ষী মন্দির, পুজোর মণ্ডপে নজরকাড়া শিল্পকীর্তি

শারদোৎসবে দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে চম্পাসারিতে তৈরি হয়েছে তামিলনাড়ুর বিখ্যাত মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে এক অসাধারণ পুজোমণ্ডপ। ৭৫০টি দেবদেবীর মূর্তি দিয়ে সাজানো হয়েছে এই মণ্ডপ, যা দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে। অভিনব শিল্পকর্ম, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং ধর্মীয় আবহে এই মণ্ডপ পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

চম্পাসারিতে ৭৫০ দেবদেবীর মূর্তিতে সেজে উঠল মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে পুজোমণ্ডপ

শারদোৎসব মানেই নতুন সাজ, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা, শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবং থিমের বৈচিত্র্য। প্রতি বছর দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হয় একের পর এক অভিনব মণ্ডপ। কোথাও উঠে আসে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য, কোথাও দেখা যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিখ্যাত স্থাপত্যের প্রতিরূপ, আবার কোথাও শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় সামাজিক বার্তা। সেই ধারাতেই এবার চম্পাসারিতে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে তামিলনাড়ুর বিখ্যাত মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে তৈরি পুজোমণ্ডপ। ৭৫০টি দেবদেবীর মূর্তি দিয়ে সাজানো এই মণ্ডপ দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

দক্ষিণ ভারতের মন্দির স্থাপত্যের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সুউচ্চ গোপুরম, অসংখ্য দেবদেবীর ভাস্কর্য, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং ধর্মীয় প্রতীক—সব মিলিয়ে এই স্থাপত্যশৈলী ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে অবস্থিত মীনাক্ষী আম্মান মন্দিরও সেই ঐতিহ্যের অন্যতম পরিচিত নিদর্শন। সেই বিখ্যাত মন্দিরের আদলে পুজোমণ্ডপ তৈরির ভাবনা দর্শনার্থীদের সামনে দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্য ও ভাস্কর্যশিল্পের একটি পরিচিত রূপ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।

৭৫০ দেবদেবীর মূর্তি, নজরকাড়া মণ্ডপসজ্জা

এই পুজোমণ্ডপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ৭৫০টি দেবদেবীর মূর্তি। এত বিপুল সংখ্যক মূর্তির উপস্থিতি মণ্ডপের শিল্পভাবনাকে বিশেষ মাত্রা দিতে পারে। প্রতিটি মূর্তি, তার অবস্থান, সাজসজ্জা এবং সামগ্রিক স্থাপত্যের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য—সবকিছু মিলিয়েই এমন একটি থিমের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

দুর্গাপুজোর মণ্ডপ তৈরির ক্ষেত্রে শুধু বড় আকারের কাঠামো নির্মাণ করলেই হয় না। দর্শনার্থীদের সামনে একটি নির্দিষ্ট ভাবনা তুলে ধরতে হয়। মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভিতরের সাজসজ্জা পর্যন্ত প্রতিটি অংশে সেই ভাবনার প্রতিফলন থাকা জরুরি। মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপের ক্ষেত্রেও দেবদেবীর মূর্তি এবং দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যের অনুকরণ বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

৭৫০টি মূর্তি দিয়ে সাজানো মণ্ডপ দর্শনার্থীদের কাছে একদিকে যেমন ধর্মীয় আবহ তৈরি করবে, অন্যদিকে তেমনই ভারতীয় ভাস্কর্যশিল্পের বৈচিত্র্য সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা দক্ষিণ ভারতের মন্দির দেখেননি, তাঁদের কাছে এই ধরনের থিম নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে।

তামিলনাড়ুর মীনাক্ষী মন্দির কেন এত বিখ্যাত?

তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরে অবস্থিত মীনাক্ষী আম্মান মন্দির দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। দেবী মীনাক্ষী এবং সুন্দরেশ্বরের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ধর্মীয় ঐতিহ্য, স্থাপত্যশিল্প এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাস।

মন্দিরটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর গোপুরম বা অলংকৃত প্রবেশদ্বার। গোপুরমের গায়ে অসংখ্য দেবদেবী, পৌরাণিক চরিত্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় দৃশ্যের ভাস্কর্য দেখা যায়। রং, আকার এবং সূক্ষ্ম কারুকাজের সমন্বয়ে এই স্থাপত্য এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে। দক্ষিণ ভারতীয় দ্রাবিড় স্থাপত্যের পরিচিত বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে গোপুরমের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী মন্দির শুধু উপাসনার স্থান নয়, এটি পর্যটন, শিল্প ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতি বছর বহু মানুষ এই মন্দির দেখতে যান। মন্দিরের স্থাপত্য, ধর্মীয় আচার এবং উৎসব দক্ষিণ ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

চম্পাসারির পুজোমণ্ডপে সেই মন্দিরের আদল তুলে ধরার উদ্যোগ দর্শনার্থীদের কাছে অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে। বাস্তব মন্দিরের বিশালত্ব এবং সূক্ষ্ম স্থাপত্যকে পুজোমণ্ডপের পরিসরে কতটা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা দেখতে উৎসবপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

দুর্গাপুজোয় থিমের বৈচিত্র্য

বাংলার দুর্গাপুজো এখন শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি শিল্প, সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগ এবং পর্যটনেরও একটি বড় অংশ। কলকাতা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুজো উদ্যোক্তারা প্রতি বছর নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে হাজির হন।

কোনও মণ্ডপে দেখা যায় ঐতিহাসিক স্থাপত্যের প্রতিরূপ, কোনও মণ্ডপে তুলে ধরা হয় পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা, আবার কোথাও স্থানীয় লোকশিল্প এবং হারিয়ে যেতে বসা কারুশিল্পকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই বৈচিত্র্যই দুর্গাপুজোকে ক্রমশ আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

চম্পাসারিতে মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরির ভাবনাও এই বৈচিত্র্যের সঙ্গে যুক্ত। বাংলার পুজোয় দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যকে তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প-ঐতিহ্যকে এক জায়গায় নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়। দর্শনার্থীরা মণ্ডপ ঘুরে দেখতে দেখতে অন্য অঞ্চলের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

থিমের সাফল্য নির্ভর করে শুধু তার অভিনবত্বের উপর নয়, বরং সেই ভাবনাকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়েছে, তার উপরও। মণ্ডপের নকশা, মূর্তির বিন্যাস, আলো এবং রঙের ব্যবহার—সবকিছু একসঙ্গে মিলেই দর্শনীয় পরিবেশ তৈরি করে।

উত্তরবঙ্গের পুজোয় নতুন আকর্ষণ

উত্তরবঙ্গের দুর্গাপুজোও প্রতি বছর নানা থিম, শিল্পকর্ম এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় পুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়। পুজোর দিনগুলিতে পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং আত্মীয়দের সঙ্গে মণ্ডপ পরিদর্শন অনেকের কাছে উৎসবের অন্যতম আনন্দের অংশ।

চম্পাসারির এই মণ্ডপের বিশেষত্ব হল দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরের স্থাপত্যশৈলীকে পুজোর পরিবেশে তুলে ধরার ভাবনা। ৭৫০টি দেবদেবীর মূর্তি দিয়ে সাজানো মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে থিমভিত্তিক পুজো দেখতে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে এমন উদ্যোগ আগ্রহের বিষয়।

তবে মণ্ডপের সঠিক অবস্থান, উদ্বোধনের সময়, দর্শনার্থীদের প্রবেশের নিয়ম এবং অন্যান্য আয়োজন সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য থাকলে পুজো দেখতে যাওয়ার আগে তা জেনে নেওয়া ভালো। উৎসবের সময় ভিড় এড়াতে সম্ভব হলে যাতায়াতের পরিকল্পনাও আগে থেকে করে রাখা যেতে পারে।

news image
আরও খবর

মণ্ডপ নির্মাণে শিল্পীদের ভূমিকা

একটি বড় থিমের পুজোমণ্ডপ তৈরি করতে পরিকল্পনা, নকশা, উপকরণ নির্বাচন এবং নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে দক্ষতার প্রয়োজন হয়। মন্দিরের আদলে কোনও কাঠামো তৈরি করতে গেলে স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি বুঝতে হয়। পাশাপাশি পুজোমণ্ডপের নির্দিষ্ট জায়গা, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হয়।

দেবদেবীর অসংখ্য মূর্তি ব্যবহার করা হলে কাজটি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মূর্তিগুলির আকার, অবস্থান এবং সাজসজ্জার মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। কোনও অংশে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হলে সামগ্রিক সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। আবার সঠিক বিন্যাস থাকলে প্রতিটি অংশ আলাদা করে নজর কাড়তে পারে।

মণ্ডপের আলোকসজ্জাও গুরুত্বপূর্ণ। আলো এমনভাবে ব্যবহার করতে হয়, যাতে স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য এবং মূর্তির সূক্ষ্ম কাজ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। দিনের আলো এবং রাতের আলোয় একই মণ্ডপের চেহারা আলাদা হতে পারে। তাই আলোক পরিকল্পনা একটি থিমের সামগ্রিক উপস্থাপনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

তবে চম্পাসারির এই মণ্ডপ নির্মাণে কোন শিল্পী বা সংস্থা যুক্ত রয়েছেন, কত দিন ধরে কাজ হয়েছে কিংবা কী কী উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া নির্দিষ্ট দাবি করা ঠিক নয়।

ধর্মীয় ঐতিহ্য ও শিল্পের মেলবন্ধন

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দেবদেবীর মূর্তি, মন্দির এবং ধর্মীয় স্থাপত্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের মন্দিরে ভাস্কর্য অনেক সময় ধর্মীয় কাহিনি, পৌরাণিক চরিত্র এবং ঐতিহ্যকে দৃশ্যমান করে তোলে। এই শিল্পরীতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিকশিত হয়েছে।

দুর্গাপুজোর মণ্ডপে সেই ধরনের শিল্পভাবনা তুলে ধরলে দর্শনার্থীরা ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি নান্দনিক অভিজ্ঞতাও পেতে পারেন। বিশেষ করে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি একসঙ্গে সাজানো থাকলে দর্শকদের চোখে পড়ে মূর্তির বৈচিত্র্য, ভঙ্গি এবং নকশার পার্থক্য।

চম্পাসারির মণ্ডপের ক্ষেত্রে ৭৫০টি দেবদেবীর মূর্তির উল্লেখই এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এই সংখ্যার কারণে মণ্ডপটি কতটা বিস্তৃত এবং মূর্তিগুলি কীভাবে সাজানো হয়েছে, তা নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের উদ্যোগ ভারতীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারাকে কাছাকাছি আনার একটি সুযোগও তৈরি করে। বাংলার দুর্গাপুজো এবং তামিলনাড়ুর মীনাক্ষী মন্দির—দুটির ধর্মীয় প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও উভয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ভক্তি, শিল্প এবং মানুষের সাংস্কৃতিক আবেগ।

পুজো দেখতে যাওয়ার আগে যা মাথায় রাখবেন

থিমের মণ্ডপ দেখতে গেলে শুধু ছবি তোলা নয়, শিল্পকর্মের বিস্তারিত অংশগুলি পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। মণ্ডপের প্রবেশদ্বার, মূর্তির বিন্যাস, স্থাপত্যের অনুকরণ এবং আলোকসজ্জার দিকে নজর দিলে শিল্পীদের কাজ আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।

পুজোর সময় ভিড় বেশি হতে পারে। তাই শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেরোলে যাতায়াতের পরিকল্পনা আগে করে নেওয়া সুবিধাজনক। মণ্ডপে প্রবেশের সময় স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশ মেনে চলা, নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করা এবং ভিড়ের মধ্যে ধৈর্য বজায় রাখা উচিত।

মণ্ডপে ছবি তোলার অনুমতি রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া ভালো। কোথাও ছবি তোলার ক্ষেত্রে নিয়ম থাকতে পারে। শিল্পকর্মের কোনও অংশে হাত না দেওয়া এবং সাজসজ্জার ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা দর্শনার্থীদের দায়িত্ব।

চম্পাসারির মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে স্থানীয় পুজো কমিটির কাছ থেকে সঠিক ঠিকানা, সময়সূচি এবং যাতায়াত সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া যেতে পারে।

পুজোর আনন্দে নতুন সংযোজন

দুর্গাপুজোর আনন্দের একটি বড় অংশ হল পরিচিত পরিবেশের বাইরে নতুন কিছু দেখা। প্রতি বছর নতুন থিমের মণ্ডপ সেই সুযোগ তৈরি করে। কোনও মণ্ডপ ইতিহাসের কথা বলে, কোনওটি লোকশিল্পের পরিচয় দেয়, আবার কোনওটি ভারতের অন্য অঞ্চলের ঐতিহ্যকে সামনে আনে।

চম্পাসারিতে ৭৫০টি দেবদেবীর মূর্তি দিয়ে সাজানো মীনাক্ষী মন্দিরের আদলের মণ্ডপ সেই ধরনেরই একটি আকর্ষণীয় উদ্যোগ হিসেবে উঠে এসেছে। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী এবং দেবদেবীর মূর্তির সমন্বয়ে মণ্ডপটি পুজোর দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে পারে।

উৎসবের সময় এমন মণ্ডপ শুধু দর্শনীয় স্থান হিসেবেই নয়, শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, চম্পাসারির এই মণ্ডপের প্রধান আকর্ষণ ৭৫০টি দেবদেবীর মূর্তি এবং তামিলনাড়ুর মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে সাজানোর পরিকল্পনা। পুজোর মরশুমে নতুন থিমের মণ্ডপ দেখতে যাঁরা আগ্রহী, তাঁদের নজরে থাকতে পারে এই আয়োজন। তবে দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য স্থানীয় সূত্র থেকে যাচাই করে নেওয়াই শ্রেয়।

Preview image