Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘মায়ের পছন্দ না হলেই বদলে যায় আয়োজন!’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী চমক?

অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যর বাড়ির লক্ষ্মীপুজো মানেই পারিবারিক ঐতিহ্য, ভক্তি আর নানা রকম বিশেষ আয়োজন। প্রতি বছরই তাঁর বাড়ির পুজোকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল থাকে। এ বারও তার ব্যতিক্রম নয়। মায়ের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিয়েই সাজানো হয় পুজোর নানা আয়োজন। অপরাজিতার কথায়, মায়ের পছন্দ না হলে তাঁকে দিয়ে অন্য কিছু করানো হয়। এই ছোট্ট কথার মধ্যেই ধরা পড়ে বাড়ির পুজোয় মায়ের ইচ্ছেকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়। লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ভোগের আয়োজন, সবেতেই জড়িয়ে থাকে পরিবারের আবেগ ও আন্তরিকতা। তবে এ বছরের পুজোয় ঠিক কী কী বিশেষ আয়োজন থাকছে, কীভাবে সাজানো হচ্ছে পুজোর পরিসর এবং ভোগের তালিকায় কী কী থাকছে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে অনুরাগীদের। অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর সেই অন্দরমহলের গল্পই উঠে আসছে আলোচনায়।

 

বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো মানেই ভক্তি, বিশ্বাস, পারিবারিক ঐতিহ্য আর নানা রকম আয়োজন। দুর্গাপুজোর উৎসব শেষ হওয়ার পর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয় নতুন করে প্রস্তুতি। কোথাও মা লক্ষ্মীর আরাধনায় সাজিয়ে তোলা হয় বাড়ির ঠাকুরঘর, কোথাও আবার পুজোর ভোগ, নৈবেদ্য এবং অতিথি আপ্যায়নের জন্য চলে বিশেষ আয়োজন। আর এই উৎসবের আবহে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যর বাড়ির লক্ষ্মীপুজোও বরাবরই অনুরাগীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। তাঁর বাড়ির পুজো মানেই পারিবারিক আবেগ, মায়ের প্রতি ভালোবাসা এবং দীর্ঘদিনের রীতিনীতির এক সুন্দর মেলবন্ধন।

এ বারও অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মায়ের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার যে কথা তিনি বলেছেন, তা যেন এই পুজোর আয়োজনের পিছনে থাকা পারিবারিক সম্পর্কের ছবিটাই তুলে ধরে। ‘মায়ের পছন্দ না হলেই বদলে যায় আয়োজন’—এই কথার মধ্যে রয়েছে পরিবারের বড়দের ইচ্ছেকে সম্মান জানানোর সহজ অথচ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তবে এ বছরের পুজোয় ঠিক কী কী বিশেষ আয়োজন থাকছে, ভোগের তালিকায় কোন কোন পদ থাকছে কিংবা সাজসজ্জায় নতুন কোনও চমক রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে নির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজন। তাই অজানা আয়োজনকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে ধরে না নিয়ে অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর ঐতিহ্য, পারিবারিক আবহ এবং এই উৎসবের তাৎপর্য নিয়েই আগ্রহের জায়গাগুলি বোঝা যাক।

অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব, প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং পারিবারিক জীবন নিয়েও অনুরাগীদের আগ্রহ রয়েছে। পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও ব্যক্তিগত জীবনের উৎসব এবং পারিবারিক মুহূর্তগুলি তাঁকে দর্শকের আরও কাছের মানুষ করে তোলে। বাঙালি পরিবারে পুজো শুধু ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে সময় কাটানো, পুরনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া, প্রিয়জনদের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পারিবারিক রীতিনীতি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও তৈরি করে এই উৎসব। লক্ষ্মীপুজোর ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুজোর জাঁকজমকের তুলনায় অনেক বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো হয় ঘরোয়া পরিবেশে। পরিবারের সদস্যরাই পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ভোগ তৈরি, আলপনা দেওয়া এবং পুজোর পরের আয়োজনের দায়িত্ব ভাগ করে নেন। বাড়ির বড়দের অভিজ্ঞতা এবং ছোটদের উৎসাহ মিলিয়ে তৈরি হয় এক অন্য রকম পরিবেশ। অপরাজিতার বাড়ির পুজো নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রেও মায়ের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।পরিবারে পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে প্রত্যেকের পছন্দ সব সময় এক রকম হয় না। কেউ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পুজো করতে চান, কেউ আবার খাবারের পদ কিংবা সাজসজ্জার বিষয়ে বিশেষ পছন্দ-অপছন্দের কথা জানান। বিশেষ করে বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের কাছে বহু বছরের অভ্যাস এবং পারিবারিক রীতির আলাদা গুরুত্ব থাকে। তাঁদের পছন্দকে সম্মান জানানো মানে শুধু একটি আয়োজন বদলে দেওয়া নয়, বরং তাঁদের অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাকে মূল্য দেওয়া। অপরাজিতার বক্তব্যে মায়ের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার যে প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, তা এই পারিবারিক সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দেয়। মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের মধ্যে ছোট ছোট অভ্যাস, আবদার এবং সিদ্ধান্তের বিশেষ ভূমিকা থাকে। কোনও খাবার পছন্দ না হলে অন্য পদ তৈরি করা, কোনও আয়োজন মনমতো না হলে তা বদলে দেওয়া কিংবা কোনও কাজে বাড়ির বড়দের মতামত নেওয়া—এসবই পারিবারিক জীবনের পরিচিত ছবি।এ ধরনের ছোট ছোট ঘটনাই উৎসবকে আরও ব্যক্তিগত করে তোলে। পুজোর সাজসজ্জা কতটা সুন্দর হল, কত রকম পদ রান্না হল কিংবা কতজন অতিথি এলেন, তার বাইরেও পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটাও উৎসবের আনন্দের বড় অংশ। অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজো নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহের পিছনে এই মানবিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো বাঙালির অন্যতম পরিচিত উৎসব। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী হলেন ধন, সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য এবং সংসারের মঙ্গলের প্রতীক। তাই এই দিন বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আলপনা দেওয়া, পুজোর স্থান সাজানো এবং নিয়ম মেনে দেবীর আরাধনা করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অনেক পরিবারে লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় কয়েক দিন আগে থেকেই। পুজোর সামগ্রী কেনা, ফুল সংগ্রহ, নৈবেদ্য তৈরি, চাল-দুর্বা এবং অন্যান্য উপকরণ গুছিয়ে রাখা—সব মিলিয়ে বাড়ির সদস্যদের মধ্যে ব্যস্ততা তৈরি হয়। কেউ পুজোর জায়গা পরিষ্কার করেন, কেউ আলপনা আঁকেন, কেউ আবার ভোগের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকেন। এই কাজগুলির মধ্যে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়।

news image
আরও খবর

বাঙালি বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আলপনারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি সাদা আলপনা অনেক বাড়িতেই পুজোর স্থানকে ঐতিহ্যবাহী রূপ দেয়। কোথাও পদ্মফুলের নকশা, কোথাও ধানের ছড়া, আবার কোথাও লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকা হয়। এই নকশাগুলির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সমৃদ্ধি ও শুভ আগমনের প্রতীকী ভাবনা। তবে অপরাজিতার বাড়িতে এ বার ঠিক কী ধরনের আলপনা বা সাজসজ্জা করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া নির্দিষ্ট দাবি করা ঠিক হবে না। লক্ষ্মীপুজো বলতেই বাঙালির মনে ভেসে ওঠে নানা রকম মিষ্টি, ফল, নারকেল, নাড়ু এবং ঘরোয়া খাবারের ছবি। পরিবারভেদে ভোগের তালিকায় পার্থক্য থাকলেও পুজোর নৈবেদ্যে সাধারণত ফলমূল, মিষ্টি এবং অন্যান্য নিরামিষ উপকরণ রাখা হয়। অনেক বাড়িতে নারকেলের নাড়ু, মোয়া, মুড়কি, খই কিংবা বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরি করা হয়। আবার কোথাও পরিবারের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী বিশেষ কিছু পদ রান্না করা হয়। এই খাবারগুলির গুরুত্ব শুধু স্বাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বহু বাড়িতে ঠাকুরের ভোগ তৈরি করার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মায়ের হাতের রান্না, দিদা-ঠাকুমার শেখানো রেসিপি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা অভ্যাস। কোনও একটি বিশেষ পদ হয়তো পরিবারের কাছে স্মৃতির অংশ। আবার কোনও খাবার তৈরি না হলে পুজো যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায় বলে মনে করেন অনেকে। অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোতেও মায়ের পছন্দের প্রসঙ্গ সামনে আসায় খাবার এবং ভোগের আয়োজন নিয়ে কৌতূহল তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। পরিবারের কারও বিশেষ পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয় কি না, তা নিয়েও আগ্রহ থাকতে পারে। তবে এ বছরের ভোগে ঠিক কোন কোন পদ রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলে কোনও নির্দিষ্ট পদকে তাঁর বাড়ির আয়োজন বলে উল্লেখ করা উচিত নয়। তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বরাবরই বেশি। তাঁদের কাজ, পোশাক, ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা উৎসব পালনের ধরন নিয়ে অনুরাগীরা জানতে চান। কিন্তু তারকাদের বাড়ির পুজোর প্রতি আগ্রহের আর একটি কারণ রয়েছে। ক্যামেরার সামনে যাঁদের আমরা দেখি, তাঁদের বাড়ির পরিবেশ এবং পারিবারিক জীবন অনেকের কাছেই কৌতূহলের বিষয়। অপরাজিতা আঢ্যর ক্ষেত্রেও বিষয়টি আলাদা নয়। অভিনয়ের ব্যস্ততা, শুটিং এবং পেশাগত দায়িত্বের বাইরে পারিবারিক উৎসব কীভাবে কাটান তিনি, তা জানতে চান অনুরাগীরা। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুজোর মতো ঘরোয়া উৎসবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সময় কাটানোর মুহূর্ত দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বাড়ির পুজো আসলে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হওয়ার উপলক্ষ। কাজের ব্যস্ততায় যাঁরা নিয়মিত একসঙ্গে সময় কাটাতে পারেন না, তাঁরাও উৎসবের দিনে এক জায়গায় মিলিত হন। একসঙ্গে পুজোর প্রস্তুতি নেওয়া, খাবার তৈরি করা এবং পরিবারের পুরনো গল্প শোনার মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। এই কারণেই বাড়ির পুজোর আবেগ অনেক সময় বড় আয়োজনের চেয়েও বেশি গভীর হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎসব পালনের ধরন বদলাচ্ছে। আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে অনেক পরিবারে আগে যেভাবে পুজোর প্রস্তুতি নেওয়া হত, এখন আর ঠিক সেভাবে সব কিছু করা সম্ভব হয় না। কাজের চাপ, শহুরে জীবনের ব্যস্ততা এবং পরিবারের সদস্যদের আলাদা আলাদা দায়িত্বের কারণে আয়োজনের ধরনেও পরিবর্তন আসে। তবু অনেক পরিবার পুরনো রীতিনীতিগুলি ধরে রাখার চেষ্টা করে। এই ক্ষেত্রে বাড়ির বড়দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কাছেই থাকে পরিবারের পুরনো পুজোর গল্প, বিশেষ খাবারের রেসিপি, কোন নিয়ম কখন পালন করতে হয় সেই অভিজ্ঞতা এবং উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা স্মৃতি। ছোটরা তাঁদের কাছ থেকেই অনেক কিছু শেখে। ফলে মায়ের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া কেবল ব্যক্তিগত ভালোবাসার প্রকাশ নয়, পারিবারিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর একটি উপায়ও হতে পারে কোনও আয়োজন বদলানোর সিদ্ধান্ত কখনও কখনও খুব সাধারণ বিষয় মনে হলেও তার মধ্যে থাকে পরিবারের সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা। উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন পরিবারের প্রত্যেকে নিজেকে সেই আয়োজনের অংশ বলে মনে করেন।বাঙালির উৎসবে অতিথি আপ্যায়নের গুরুত্ব আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। লক্ষ্মীপুজোর দিন অনেক বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতরা আসেন। পুজো শেষে প্রসাদ বিতরণ, মিষ্টিমুখ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্পগুজবের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও আয়োজন থাকে খুব সাধারণ, কোথাও আবার পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং রীতি অনুযায়ী প্রস্তুতি কিছুটা বড় হয়।

এ ধরনের উৎসবের ক্ষেত্রে বাড়ির মহিলাদের ভূমিকা অনেক সময় বিশেষভাবে চোখে পড়ে। পুজোর সামগ্রী গুছিয়ে রাখা, রান্নার প্রস্তুতি নেওয়া, অতিথিদের আপ্যায়ন এবং অন্যান্য কাজের মধ্যে দিয়ে তাঁরা ব্যস্ত সময় কাটান। পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিজেদের মতো করে সাহায্য করেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বাড়ির পুজোকে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে পরিণত করে। অপরাজিতার বাড়ির পুজো নিয়েও অনুরাগীদের আগ্রহের জায়গা হল এই ঘরোয়া পরিবেশ। অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এমন মুহূর্তগুলি অনেকের কাছে পরিচিত বাঙালি পরিবারের ছবির সঙ্গে মিলে যায়। তবে এ বার তাঁর বাড়িতে কতজন অতিথি থাকবেন কিংবা কীভাবে আপ্যায়নের আয়োজন হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কিছু বলা সম্ভব নয়। উৎসবের কথা উঠলেই অনেক সময় সাজসজ্জা, কেনাকাটা, খাবারের বৈচিত্র্য এবং আয়োজনের আকার নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু বাড়ির পুজোর আসল আকর্ষণ সব সময় বাহ্যিক জাঁকজমক নয়। পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ, একে অপরের প্রতি যত্ন এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দই উৎসবকে অর্থবহ করে তোলে। মায়ের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি এই ভাবনার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়। পরিবারের কোনও সদস্যের ইচ্ছের কথা মনে রাখা, তাঁর পছন্দ অনুযায়ী কোনও কাজ করা কিংবা তাঁর অসুবিধার কথা ভেবে পরিকল্পনা বদলে নেওয়া—এসবের মধ্যেই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। পুজোর আয়োজন তখন শুধু ধর্মীয় কর্তব্য থাকে না, পরিবারের সম্পর্কেরও প্রতিফলন হয়ে ওঠে। অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজো নিয়ে আলোচনায় এই দিকটি তাই বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। একজন পরিচিত অভিনেত্রীর বাড়ির উৎসব সম্পর্কে জানতে গিয়ে অনুরাগীরা শুধু কী রান্না হল বা কীভাবে সাজানো হল, সেটাই জানতে চান না। সেই আয়োজনের পিছনে থাকা মানুষগুলির সম্পর্ক এবং অনুভূতির কথাও জানতে চান। অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজো ঘিরে এ বারও কৌতূহলের কেন্দ্রে রয়েছে মায়ের পছন্দ, পরিবারের রীতি এবং পুজোর প্রস্তুতির গল্প। শিরোনামে উঠে আসা তাঁর বক্তব্য উৎসবের আয়োজনের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের যোগসূত্রকে সামনে এনেছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট নতুন পদ, বিশেষ অতিথি, সাজসজ্জা কিংবা অন্য কোনও চমকের কথা নিশ্চিতভাবে জানাতে হলে সংশ্লিষ্ট বছরের পুজো সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বলা যাবে এ বার তাঁর বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় নতুন কী সংযোজন হয়েছে, ভোগের তালিকায় কোনও পরিবর্তন এসেছে কি না কিংবা পরিবারের পুরনো কোনও রীতি বিশেষভাবে পালন করা হচ্ছে কি না। অনুমানের ভিত্তিতে এমন কোনও বিষয়কে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাঙালির ঘরের লক্ষ্মীপুজোয় পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছা এবং আবেগের গুরুত্ব অপরিসীম। কারও কাছে পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মায়ের হাতের রান্না, কারও কাছে আলপনা, আবার কারও কাছে পরিবারের সকলে একসঙ্গে বসে প্রসাদ খাওয়ার মুহূর্ত। প্রত্যেক বাড়ির পুজোর নিজস্ব গল্প রয়েছে, আর সেই গল্পগুলিই উৎসবকে অন্য রকম করে তোলে। অপরাজিতা আঢ্যর বাড়ির লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মায়ের পছন্দকে সম্মান জানানোর বিষয়টি। তাঁর বক্তব্যের এই দিকটি মনে করিয়ে দেয়, উৎসবের আয়োজন যতই সুন্দর হোক না কেন, পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছা এবং অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। মা লক্ষ্মীর আরাধনার সঙ্গে যেমন জড়িয়ে রয়েছে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনা, তেমনই পরিবারের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্মানও একটি আনন্দময় সংসারের ভিত্তি।এ বার অপরাজিতার বাড়ির পুজোয় ঠিক কী কী নতুন আয়োজন থাকছে, তা নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ থাকবেই। তবে পুজোর বিশেষত্ব শুধু নতুন চমকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পুরনো রীতিকে ধরে রাখা, মায়ের পছন্দকে মর্যাদা দেওয়া এবং পরিবারের মানুষদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেও রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। সব মিলিয়ে, অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজো নিয়ে কৌতূহলের পাশাপাশি এই পারিবারিক বার্তাটিও গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণ হয়, যখন আয়োজনের প্রতিটি মুহূর্তে থাকে আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং আপনজনদের প্রতি যত্ন। আর সেই কারণেই বাড়ির লক্ষ্মীপুজো বাঙালির জীবনে শুধুই একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং পরিবারের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলার এক বিশেষ উপলক্ষ।

Preview image