Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চোখে জল, পায়ে গোল—আর্জেন্তিনার জার্সিতে শেষবার মেসি, বিদায়ের আবেগে ভাসল ফুটবল বিশ্ব

আর্জেন্তিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ ঘিরে আবেগে ভাসল বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল। প্রিয় তারকা লিওনেল মেসিকে বিদায় জানাতে হাজির হলেন অসংখ্য সমর্থক।

আর্জেন্তিনার আকাশি-সাদা জার্সি, গ্যালারিজুড়ে হাজার হাজার সমর্থকের উচ্ছ্বাস, চোখে জল আর মাঠে শেষবারের মতো গোল করার আনন্দ—সব মিলিয়ে এক আবেগঘন রাতের সাক্ষী থাকল বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল। আর্জেন্তিনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরে এই ম্যাচ যে শুধুই একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ হয়ে থাকবে না, তা স্পষ্ট ছিল আগে থেকেই। সমর্থকদের আবেগ, সতীর্থদের ভালোবাসা এবং দীর্ঘ ফুটবলজীবনের অসংখ্য স্মৃতির মধ্য দিয়ে বিশেষ হয়ে উঠল এই রাত। বেনিনের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলি ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষবার মাঠে নামার আবেগঘন মুহূর্ত ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয় বিশেষ উন্মাদনা।

দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্তিনার ফুটবলকে বিশ্বের দরবারে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মেসি। তাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। কখনও অসাধারণ ড্রিবলিং, কখনও নিখুঁত পাস, আবার কখনও দুরন্ত ফিনিশিং—প্রতিবারই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তাই জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর বিদায়ের মুহূর্ত ঘিরে আবেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। আর সেই আবেগেরই প্রতিফলন দেখা গেল বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে।

মেসিকে বিদায় জানাতে বিশেষ আয়োজন মনুমেন্টালে

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল এস্তাদিও মনুমেন্টালে। গ্যালারিতে আকাশি ও সাদা রঙের আধিপত্য, সমর্থকদের হাতে পতাকা এবং প্রিয় ফুটবলারের নাম ধরে চিৎকার—সব মিলিয়ে স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয়েছিল আবেগের এক বিশাল মঞ্চে। মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মাঠে তুলে ধরা হয় বিশাল ১০ নম্বরের জার্সি। সেই জার্সিতে লেখা ছিল ‘গ্রাসিয়াস’, অর্থাৎ ধন্যবাদ।

আর্জেন্তিনার ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সির গুরুত্ব বরাবরই আলাদা। সেই জার্সি পরে মেসি যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্যের পাশাপাশি দেশের জার্সিতেও নিজের দক্ষতা ও নেতৃত্বের ছাপ রেখেছেন তিনি। ফলে তাঁর বিদায়কে ঘিরে বিশেষ আয়োজনের কেন্দ্রে যে ১০ নম্বর জার্সি থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

মেসিকে সম্মান জানাতে উপস্থিত ছিলেন ফুটবলের একাধিক পরিচিত মুখ। আর্জেন্তিনার প্রাক্তন তারকা অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া এবং ফ্রান্সের প্রাক্তন তারকা ডেভিড ত্রেজেগেকের উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। গ্যালারি থেকে মাঠ—সব জায়গাতেই যেন একটাই বার্তা, মেসির অবদানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চান সকলে।

তিন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ, আবেগ সামলাতে পারলেন না মেসি

এই বিশেষ রাতের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় মেসির মাঠে প্রবেশের সময়। তাঁর তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরোকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে আসেন আর্জেন্তিনার অধিনায়ক। প্রিয় ফুটবলারের এই দৃশ্য দেখে গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যেন আরও বেড়ে যায়। মেসির দীর্ঘ ফুটবলজীবনের ব্যক্তিগত ও পেশাদার মুহূর্তগুলি যেন একসঙ্গে ফিরে আসে এই দৃশ্যে।

জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির যাত্রা শুধু গোল, ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত রেকর্ডের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যর্থতা, সমালোচনা, প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্যের শিখরে পৌঁছনোর কাহিনি। তাই এই বিদায়ের মুহূর্তে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়।

জাতীয় সংগীত চলাকালীন চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। তাঁর মুখে ফুটে ওঠা আবেগ বুঝিয়ে দেয়, দেশের জার্সি তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও। পাশে ছিলেন আর এক বিদায়ী তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি। ফলে ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্টালের পরিবেশ হয়ে ওঠে স্মৃতিমেদুর।

সমর্থকদের কাছে এই দৃশ্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ফুটবলের মাঠে মেসিকে সাধারণত দেখা যায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার পরিকল্পনা করতে, সতীর্থদের পাস দিতে কিংবা গোলের পর উদ্‌যাপন করতে। কিন্তু এদিন সেই চেনা দৃশ্যের পাশাপাশি সামনে আসে তাঁর আবেগপ্রবণ দিকটিও।

ম্যাচ শুরু হতেই মেসিকে ঘিরে উন্মাদনা

ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই আর্জেন্তিনা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। তবে সমর্থকদের নজর ছিল মূলত মেসির দিকে। তাঁর পায়ে বল এলেই গর্জে উঠছিল গোটা স্টেডিয়াম। প্রতিটি পাস, প্রতিটি মুভমেন্ট এবং প্রতিটি আক্রমণের সঙ্গে যেন জড়িয়ে ছিল আলাদা আবেগ।

ম্যাচের সপ্তম মিনিটে সতীর্থের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সের বাইরে থেকে গোলের উদ্দেশ্যে শট নেন মেসি। তাঁর শট আটকাতে সক্ষম হন বেনিনের গোলরক্ষক। যদিও সেই প্রচেষ্টা থেকে গোল আসেনি, তবু মেসির আক্রমণাত্মক মনোভাব বুঝিয়ে দেয়, বিশেষ রাতেও তিনি মাঠে নেমেছেন একজন প্রকৃত প্রতিযোগীর মতো।

এরপর দশম মিনিটে ফের মেসিকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। আতশবাজির আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে মেসির দীর্ঘ সম্পর্ক এবং আর্জেন্তিনার ফুটবলে তাঁর অবদানকে সামনে রেখেই এই আয়োজন বিশেষ মাত্রা পায়।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্তিনা একাধিকবার আক্রমণে উঠলেও গোলের দেখা পায়নি। বেনিনের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা চলতে থাকে। আক্রমণের গতি বাড়ানো, বলের দখল ধরে রাখা এবং সুযোগ তৈরি করার দিকে মনোযোগী ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। তবে প্রথমার্ধে গোল না হওয়ায় বিরতির সময় স্কোরবোর্ডে অপেক্ষা থেকেই যায়।

ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে আর্জেন্তিনা

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে আরও সংগঠিত ফুটবল খেলার চেষ্টা করে আর্জেন্তিনা। বলের দখল এবং আক্রমণের ধার বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে দল। অবশেষে মেসির বাড়ানো ক্রস থেকেই গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এই গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্তিনা।

গোলটির গুরুত্ব শুধু স্কোরবোর্ডে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের জার্সিতে ওতামেন্দিরও ছিল বিদায়ের বিশেষ আবহ। ফলে তাঁর গোল আর্জেন্তিনার সমর্থকদের কাছে আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে। একদিকে মেসিকে ঘিরে বিদায়ের আবেগ, অন্যদিকে ওতামেন্দির শেষ ম্যাচের স্মৃতি—দুটি বিষয় যেন একই রাতে মিলেমিশে যায়।

মেসির বাড়ানো ক্রস থেকে গোল হওয়া আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, মাঠে তাঁর ভূমিকা শুধু গোল করা নয়। সতীর্থকে সঠিক সময়ে বল পৌঁছে দেওয়া, আক্রমণের গতিপথ নির্ধারণ করা এবং গোলের সুযোগ তৈরি করাও তাঁর খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজের শেষ ম্যাচের আবহেও সতীর্থের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেন আর্জেন্তিনার অধিনায়ক।

নিকো পাজের দুরন্ত শটে দ্বিতীয় গোল

ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্তিনার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে। এরপর দলের দ্বিতীয় গোলটি আসে নিকো পাজের পা থেকে। ডান দিক দিয়ে ভিতরে ঢুকে বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তাঁর এই ফিনিশিং আর্জেন্তিনার স্কোরলাইনকে আরও শক্তিশালী করে।

দ্বিতীয় গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে নিজেদের হাতে রাখার সুযোগ পায় আর্জেন্তিনা। দলের আক্রমণভাগের গতিশীলতা এবং বলের দখল ধরে রাখার ক্ষমতা চোখে পড়ে। তবে ম্যাচের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত তখনও বাকি ছিল।

news image
আরও খবর

গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকরা অপেক্ষা করছিলেন মেসির গোলের জন্য। কারণ এই রাতের গল্পে একটি গোল যেন বিশেষ অর্থ বহন করত। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতিতে আরও একটি গোল যোগ হলে সেই মুহূর্ত যে সমর্থকদের কাছে অমূল্য হয়ে উঠবে, তা সহজেই অনুমেয় ছিল।

৬৯ মিনিটে পেনাল্টি, নিখুঁত শটে গোল মেসির

অবশেষে আসে সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্তিনা। বলের সামনে এগিয়ে যান লিওনেল মেসি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন উত্তেজনা তুঙ্গে। হাজার হাজার সমর্থকের চোখ ছিল তাঁর দিকে। এই পেনাল্টি যেন শুধু একটি গোল করার সুযোগ নয়, বরং আবেগঘন রাতকে আরও স্মরণীয় করে তোলার মুহূর্ত।

মেসি বল বসিয়ে নিজের পরিচিত ভঙ্গিতে প্রস্তুতি নেন। এরপর নিখুঁত শটে ডান দিকের উপরের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। গোলরক্ষকের পক্ষে সেই শট আটকানো সম্ভব হয়নি। বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম যেন আনন্দে ফেটে পড়ে।

গোলের পর আর্জেন্তিনার সতীর্থরা ছুটে এসে ঘিরে ধরেন অধিনায়ককে। তাঁদের উচ্ছ্বাসে ফুটে ওঠে মেসির প্রতি ভালোবাসা এবং সম্মান। মাঠের এই দৃশ্য আরও একবার বুঝিয়ে দেয়, জাতীয় দলের সাফল্যের পিছনে মেসির অবদান শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়। সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, নেতৃত্ব এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই গোলের মাধ্যমে বিদায়ের ম্যাচে নিজের নামের পাশে আরও একটি স্মরণীয় মুহূর্ত যোগ করেন মেসি। তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফুটবলজীবনে গোলের সংখ্যা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি গোলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ ও স্মৃতি। আর এই গোলটি সেই কারণেই বিশেষ হয়ে উঠল।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোলের খোঁজে মেসি

পেনাল্টি থেকে গোল করার পরও মেসির আক্রমণাত্মক মনোভাব কমেনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আরও একটি গোলের সন্ধানে ছিলেন। তাঁর একটি শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে পোস্টে আছড়ে পড়ে। অল্পের জন্য আরও একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়।

শেষদিকে প্রায় ২১ মিটার দূর থেকে ফ্রি-কিক নেওয়ার সুযোগও পান মেসি। গ্যালারিতে তখন অসংখ্য মোবাইলের আলো। সমর্থকরা যেন এই মুহূর্তটিকে নিজেদের স্মৃতিতে ধরে রাখতে চাইছিলেন। মেসির পায়ে বল, সামনে প্রতিপক্ষের রক্ষণ এবং গোলের দিকে তাকিয়ে থাকা হাজার হাজার চোখ—সব মিলিয়ে দৃশ্যটি হয়ে ওঠে বিশেষ আবেগঘন।

তবে সেই ফ্রি-কিক আর জালে জড়ায়নি। গোল না এলেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে কোনও ঘাটতি ছিল না। কারণ তাঁদের কাছে এই রাতের গুরুত্ব কেবল গোলের সংখ্যায় মাপা সম্ভব নয়। প্রিয় ফুটবলারের খেলা, তাঁর উপস্থিতি এবং আকাশি-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতিই ছিল এই ম্যাচের আসল আকর্ষণ।

শেষ বাঁশিতে আবেগে ভাসল মনুমেন্টাল

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আবেগের ঢেউ। আতশবাজি, গান, সমর্থকদের উল্লাস এবং ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মনুমেন্টাল। যে স্টেডিয়াম ম্যাচের আগে প্রিয় ফুটবলারকে স্বাগত জানিয়েছিল, সেই স্টেডিয়ামই ম্যাচ শেষে তাঁকে ঘিরে আবেগ প্রকাশ করে।

মেসির বিদায়ের এই রাত ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দেয়, একজন কিংবদন্তির পরিচয় শুধু তাঁর অর্জন দিয়ে তৈরি হয় না। তাঁর সঙ্গে মানুষের আবেগ, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং অসংখ্য স্মৃতিও জড়িয়ে থাকে। মেসির ক্ষেত্রে সেই সম্পর্ক আরও গভীর, কারণ তাঁকে ঘিরে রয়েছে আর্জেন্তিনার ফুটবলের উত্থান, সাফল্য এবং প্রত্যাবর্তনের নানা অধ্যায়।

দেশের জার্সিতে মেসির যাত্রা ছিল নানা অভিজ্ঞতায় ভরা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে প্রত্যাশার চাপ, সমালোচনা এবং সাফল্যের আনন্দ—সবকিছুর মধ্য দিয়েই তিনি এগিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্তিনার সাফল্য সমর্থকদের কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে রয়েছে। তাই বিদায়ের মুহূর্তে আবেগের প্রকাশও ছিল স্বাভাবিক।

এদিনের ম্যাচে ওতামেন্দি ও নিকো পাজের গোল আর্জেন্তিনার জয়কে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর মেসির পেনাল্টি গোল ম্যাচটিকে দেয় আলাদা আবেগঘন মাত্রা। স্কোরলাইনের বাইরে এই রাতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল সমর্থকদের ভালোবাসা এবং সতীর্থদের সম্মান।

আর্জেন্তিনার ১০ নম্বর জার্সিতে থেকে যাবে মেসির স্মৃতি

ফুটবলে অনেক খেলোয়াড় আসেন, অনেকেই অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন। কিন্তু খুব কম খেলোয়াড়ই সমর্থকদের সঙ্গে এমন আবেগের সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে থেকে যায়। লিওনেল মেসি তাঁদেরই একজন। তাঁর খেলা উপভোগ করেছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ, বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁর ড্রিবলিং, পাসিং, গোল এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে বিশেষ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

আর্জেন্তিনার জার্সিতে তাঁর প্রতিটি উপস্থিতি সমর্থকদের কাছে ছিল প্রত্যাশার মুহূর্ত। সেই জার্সি পরে মাঠে নামা, সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন এবং দেশের হয়ে সাফল্যের জন্য লড়াই করার স্মৃতি সহজে মুছে যাওয়ার নয়। তাই বিদায়ের ম্যাচকে ঘিরে আবেগের গভীরতাও ছিল অন্য রকম।

মনুমেন্টালের গ্যালারি যেন এদিন কোনও দাবি নিয়ে দাঁড়ায়নি। সমর্থকদের বার্তা ছিল সহজ—তাঁদের প্রিয় ফুটবলারকে ধন্যবাদ জানানো। মাঠে গোল, গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস এবং চোখের জলে ভরা মুহূর্তের মধ্য দিয়ে সেই কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ পেয়েছে।

মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও, কোনও সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যাচাই না করে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়। তবে এই প্রতিবেদনে বর্ণিত বিদায়ী আবহের তাৎপর্য স্পষ্ট। আর্জেন্তিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে তাঁর দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতি সমর্থকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

দিনের শেষে থেকে যায় একটি গোল, সতীর্থদের আলিঙ্গন, চোখের জল এবং হাজার হাজার সমর্থকের কণ্ঠে উচ্চারিত একটি শব্দ—‘গ্রাসিয়াস’। লিওনেল মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য হয়তো এর চেয়ে সহজ অথচ গভীর বার্তা আর কিছু হতে পারে না। মনুমেন্টালের সেই রাত তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের স্মৃতি নয়; এটি হয়ে থাকল এক কিংবদন্তিকে ভালোবাসা জানানোর আবেগঘন মুহূর্ত।

গ্রাসিয়াস, লিও। আর্জেন্তিনার ১০ নম্বর জার্সিতে লেখা থাকবে অসংখ্য স্মৃতি, আর ফুটবলপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে তাঁর পায়ের জাদু।

Preview image