মহালয়ার আগেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস। পুজোর মুখেও বৃষ্টির সম্ভাবনায় উৎসবের আনন্দে বাধা পড়বে কি?
শারদোৎসবের আনন্দে মেতে উঠতে প্রস্তুত গোটা বাংলা। শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে বড় রাস্তা—সর্বত্র দুর্গাপুজোর আগমনী আবহ। রাস্তায় রাস্তায় ঝুলছে বিজ্ঞাপনের ব্যানার, আলোকসজ্জার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে, বাজারে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। নতুন পোশাক, জুতো, প্রসাধন সামগ্রী থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর জিনিসপত্র—সবকিছুর কেনাকাটায় ব্যস্ত সাধারণ মানুষ। কিন্তু উৎসবের এই আনন্দঘন পরিবেশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে আবহাওয়া। শরতের পরিচিত নীল আকাশ ও সাদা মেঘের পরিবর্তে গত কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে ঘন মেঘের আনাগোনা। কখনও অল্প সময়ের বৃষ্টি, আবার কোথাও তুলনামূলক জোরে বর্ষণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
দুর্গাপুজোর আগে এই অনিশ্চিত আবহাওয়া স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং পুজো উদ্যোক্তাদের। অনেকেই জানতে চাইছেন, মহালয়ার দিন কি বৃষ্টি হবে? চতুর্থী থেকে কি আবার শুরু হবে ঝড়বৃষ্টি? ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর সময় কি পরিষ্কার থাকবে আকাশ? নাকি উৎসবের আনন্দে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াবে বর্ষার শেষবেলার বৃষ্টি?
আবহাওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়াও হতে পারে। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বৃষ্টির আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। ফলে পুজোর প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন আরও বেড়েছে।
Indian Express - Bangla
+1
২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর, শনিবার মহালয়া। বাঙালির কাছে এই দিনটির আবেগ এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। ভোরের আলো ফোটার আগেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার ঐতিহ্য, শঙ্খধ্বনি, তর্পণ এবং দেবীপক্ষের আগমনী আবহ এক বিশেষ অনুভূতির জন্ম দেয়। মহালয়া মানেই দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশিত পুজোর সূচি অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর চতুর্থী, ১৬ অক্টোবর পঞ্চমী, ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী। ফলে মহালয়ার পর থেকেই উৎসবের ব্যস্ততা আরও বৃদ্ধি পাবে।
sahaj.wb.gov.in
+1
তবে মহালয়ার দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রদত্ত আবহাওয়া প্রতিবেদনে শুক্রবারের পাশাপাশি শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ধরনের পূর্বাভাসের অর্থ অবশ্য সারাদিন একটানা বৃষ্টি হবে, এমন নয়। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বলতে সাধারণত বোঝায়, কোনও কোনও এলাকায় অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হলেও কাছাকাছি অন্য এলাকায় আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুকনো থাকতে পারে। ফলে কলকাতার এক প্রান্তে যখন বৃষ্টি হচ্ছে, তখন অন্য প্রান্তে রোদ কিংবা মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে।
মহালয়ার সকালে যাঁরা গঙ্গার ঘাটে তর্পণ করতে যাবেন, তাঁদের আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখে বেরোনো প্রয়োজন। একইভাবে যাঁরা পরিবার নিয়ে পুজোর কেনাকাটা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের সঙ্গেও ছাতা রাখা ভালো। বজ্রপাত শুরু হলে খোলা জায়গা, নদীর ঘাট কিংবা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ নয়।
দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার বাজারগুলিতে ভিড় নতুন কোনও ঘটনা নয়। নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, ধর্মতলা এবং বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে উৎসবের কেনাকাটার ব্যস্ততা সাধারণত কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অনেক পরিবার বছরের এই সময়টুকুর জন্যই অপেক্ষা করে থাকেন।
কিন্তু বৃষ্টি হলে কেনাকাটার পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে। রাস্তার অস্থায়ী দোকান, ফুটপাতের ব্যবসায়ী এবং ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে হঠাৎ বৃষ্টি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পোশাক, জুতো, ব্যাগ এবং প্রসাধন সামগ্রীর মতো পণ্য জল থেকে বাঁচিয়ে রাখতে বাড়তি ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়।
বৃষ্টির সঙ্গে যানজট যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অনেকেই অফিস শেষ করে সন্ধ্যায় কেনাকাটা করতে বেরোন। সেই সময় হঠাৎ বৃষ্টি হলে বাড়ি ফিরতে সমস্যা হতে পারে।
শুধু ক্রেতারাই নন, দোকানদারেরাও আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। উৎসবের আগে শেষ কয়েক দিনের বিক্রি অনেক ব্যবসায়ীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে খারাপ আবহাওয়া চললে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে বৃষ্টি মানেই বাজার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সাময়িক বৃষ্টি থামার পর আবার বাজারে ভিড় বেড়ে যায়। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে কেনাকাটার সময় নির্ধারণ করাই বেশি সুবিধাজনক।
পুজোর আগে যাঁরা পরিষ্কার আকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রদত্ত পূর্বাভাসে কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, মহালয়ার পর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রকোপ কমতে পারে।
বিশেষ করে ১১ অক্টোবর রবিবার থেকে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুকনো থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই সময় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকার পূর্বাভাস পুজোর প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে আবহাওয়া শুকনো থাকার অর্থ আকাশ সর্বক্ষণ ঝকঝকে রৌদ্রোজ্জ্বল থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নয়। বর্ষা বিদায়ের সময় আর্দ্রতা, মেঘের উপস্থিতি এবং স্থানীয় আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
এই কয়েকটি দিন পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মণ্ডপের শেষ পর্যায়ের কাজ, আলোকসজ্জা, প্রতিমা আনার প্রস্তুতি, সাজসজ্জা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করার জন্য অনুকূল আবহাওয়া প্রয়োজন।
যাঁরা এখনও কেনাকাটা শেষ করতে পারেননি, তাঁরাও এই সময়টিকে কাজে লাগাতে চাইবেন। যদিও স্থানীয় পূর্বাভাসের ভিত্তিতেই পরিকল্পনা করা উচিত। কারণ আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে বৃষ্টির সম্ভাবনাও বদলে যেতে পারে।
দুর্গাপুজোর আনন্দ শুরু হওয়ার আগেই আবহাওয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে চতুর্থী থেকে। প্রদত্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহালয়ার পর কয়েক দিন আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুকনো থাকলেও চতুর্থী ও পঞ্চমীতে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আবার বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই চার জেলায় কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ু এবং স্থানীয় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সময় মেঘ তৈরি হতে পারে। উপকূলের কাছাকাছি অঞ্চলে বাতাসের আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি থাকলে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
তবে চতুর্থী ও পঞ্চমীর বৃষ্টির সম্ভাবনা মানেই যে দুই দিন ধরে সর্বত্র প্রবল বর্ষণ হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনও একটি জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও জেলার সব এলাকায় একই সময়ে বৃষ্টি হবে, তার নিশ্চয়তা নেই।
উৎসবের দিনগুলিতে এই ধরনের স্থানীয় আবহাওয়া পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় তৈরি পুজোমণ্ডপ, অস্থায়ী স্টল, আলোকসজ্জা এবং বিদ্যুতের সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি রাখা জরুরি।
তবে উল্লেখ্য, চতুর্থী ও পঞ্চমীর নির্দিষ্ট পূর্বাভাসটি আপনার দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বর্ণিত। ৯ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া সাম্প্রতিক সংবাদে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঝুঁকির কথা থাকলেও প্রতিটি জেলার ওই দুই দিনের পূর্বাভাস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
কলকাতার পাশাপাশি দুই ২৪ পরগনা জেলার বহু এলাকায় দুর্গাপুজোর ব্যাপক আয়োজন হয়। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, মধ্যমগ্রাম, দমদম, ব্যারাকপুর, বনগাঁ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে।
এই দুই জেলার ভৌগোলিক অবস্থান এবং বঙ্গোপসাগরের প্রভাব আবহাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকায় মেঘ, বৃষ্টি ও বাতাসের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
উত্তর ২৪ পরগনায় কলকাতার সংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে হঠাৎ বৃষ্টি হলে যাতায়াতের সমস্যা বাড়তে পারে। বিপুল সংখ্যক মানুষ রোজ কাজের প্রয়োজনে কলকাতা ও শহরতলির মধ্যে যাতায়াত করেন। উৎসবের আগে সেই যাতায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয় কেনাকাটার অতিরিক্ত ভিড়।
অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় খোলা জায়গায় পুজোর আয়োজন করা হয়। সেখানে বৃষ্টির জল যাতে মণ্ডপে ঢুকতে না পারে, তার জন্য আগাম জলনিকাশি ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
তবে এই মুহূর্তে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতা বা বড় ধরনের ক্ষতির ঘটনা ঘটবে বলে পূর্বাভাস থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। স্থানীয় পরিস্থিতি, বৃষ্টির তীব্রতা এবং জলনিকাশি ব্যবস্থার উপর তার প্রভাব নির্ভর করবে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর। প্রদত্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, চতুর্থী ও পঞ্চমীতে এই দুই জেলার কোথাও কোথাও বৃষ্টি হতে পারে।
পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা, মন্দারমণি, কাঁথি, তমলুক ও হলদিয়ার মতো এলাকায় উৎসবের সময় মানুষের চলাচল বাড়ে। বিশেষ করে দিঘা ও মন্দারমণির মতো পর্যটনকেন্দ্রে পুজোর ছুটিতে অনেকেই বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে সমুদ্রসৈকতে ঘোরার পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তবে বৃষ্টি হবে বলেই সমুদ্র উত্তাল থাকবে বা পর্যটকদের জন্য বিপদ তৈরি হবে, এমন নয়। সমুদ্রের পরিস্থিতি বুঝতে পৃথক সামুদ্রিক আবহাওয়ার সতর্কতা দেখতে হয়।
প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সেই সময়ে নতুন কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় থাকার কথা জানানো হয়নি। তাই কেবল বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখে বড় দুর্যোগের আশঙ্কা করা উচিত নয়।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষেত্রেও পুজোর প্রস্তুতিতে আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মেদিনীপুর শহর, খড়্গপুর এবং আশপাশের অঞ্চলে অসংখ্য পুজোর আয়োজন হয়। স্থানীয় উদ্যোক্তারা বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিলে উৎসবের সময় অসুবিধা কমানো সম্ভব।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার দিকেও নজর রয়েছে। প্রদত্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় সেখানে বৃষ্টির প্রভাব সমতলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। পাহাড়ি রাস্তায় প্রবল বৃষ্টি হলে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া, রাস্তা পিচ্ছিল হওয়া কিংবা যাতায়াতে অসুবিধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় ভূমিধসের পূর্বাভাস রয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদার মতো জেলাগুলিতেও স্থানীয় আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
সম্প্রতি প্রকাশিত আবহাওয়া প্রতিবেদনে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
Indian Express - Bangla
+1
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, মহালয়ার দিনেও উত্তরবঙ্গের কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে রবিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্গাপুজোর সময় উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্সে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। অনেকেই উৎসবের ছুটিতে দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা ডুয়ার্সে বেড়ানোর পরিকল্পনা করেন। তাঁদের জন্য স্থানীয় আবহাওয়া এবং রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস যাচাই করা ভালো। কারণ একটি জেলার বিভিন্ন উচ্চতায় এবং ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানে আবহাওয়ার যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
দুর্গাপুজোর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির একটি হল, দক্ষিণবঙ্গ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কবে বিদায় নেবে?
সাধারণভাবে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ দক্ষিণবঙ্গ থেকে বর্ষার বিদায়পর্ব শুরু বা সম্পূর্ণ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে প্রতি বছর একই দিনে বর্ষা বিদায় নেয় না। বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি, বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহের উপর নির্ভর করে বর্ষা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারিত হয়।
আবহাওয়াবিদেরা মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাহার ঘোষণা করার আগে নির্দিষ্ট কিছু আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেন। তার মধ্যে রয়েছে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতার পরিবর্তন এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহ তৈরি হওয়া।
প্রদত্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্রের অবশিষ্ট অংশ, গোয়া, কর্নাটক, তেলঙ্গানা এবং পূর্ব ও মধ্য ভারতের কয়েকটি অঞ্চল থেকে বর্ষা ইতিমধ্যেই বিদায় নিয়েছে। পূর্ব ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও কিছু অঞ্চল থেকেও মৌসুমি বায়ু বিদায়ের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গও এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে বর্ষা বিদায় নিয়েছে বলে দাবি করা উচিত নয়।
বর্ষার বিদায়পর্বে কখনও কখনও আকাশে মেঘ এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির উপস্থিতি দেখা যায়। অর্থাৎ মৌসুমি বায়ু দুর্বল হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও কোনও অঞ্চলে সাময়িক বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়।
প্রদত্ত আবহাওয়া প্রতিবেদনে বিহার ও সংলগ্ন অঞ্চলে একটি উচ্চচাপযুক্ত ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তর-পূর্ব বিহার থেকে তেলঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বায়ুমণ্ডলের এই ধরনের পরিস্থিতি বিভিন্ন অঞ্চলে মেঘ তৈরি এবং বৃষ্টিপাতের পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনও অক্ষরেখা বা ঘূর্ণাবর্ত থাকলেই যে নির্দিষ্ট কোনও এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হবে, এমন নয়।
বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নির্ভর করে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ, বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী গতি, তাপমাত্রা, স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যের উপর।
বিশেষ করে বর্ষার শেষ পর্যায়ে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ফলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসও সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।
এ কারণেই পাঁচ থেকে সাত দিনের পূর্বাভাসকে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য আবহাওয়ার একটি নির্দেশিকা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
দুর্গাপুজোর মূল দিনগুলির আবহাওয়া নিয়েই সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। অনেকেই আগে থেকে প্যান্ডেল পরিক্রমা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং বাইরে খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনা করে রাখেন।
২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর মূল উৎসব ১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই সময় কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মানুষ মণ্ডপ পরিদর্শনে বেরোবেন।
sahaj.wb.gov.in
+1
তবে ৯ অক্টোবরের তথ্যের ভিত্তিতে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনের আবহাওয়া নিশ্চিতভাবে জানানো সম্ভব নয়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে সংশোধিত হতে পারে।
প্রদত্ত প্রতিবেদনে চতুর্থী ও পঞ্চমীর জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হলেও ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং দশমীর জন্য একইভাবে নিশ্চিত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।
সুতরাং মূল পুজোর দিনগুলিতে বৃষ্টি হবেই কিংবা একেবারেই হবে না—কোনও সিদ্ধান্তেই এখন পৌঁছনো ঠিক হবে না।
পুজোয় বেরোনোর আগে প্রতিদিন স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখা এবং প্রয়োজনে বিকল্প পরিকল্পনা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুধু প্রতিমা এবং আলোকসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি বড় পুজো আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য শ্রমিক, শিল্পী, আলোকসজ্জার কারিগর, ইলেকট্রিশিয়ান, ডেকোরেটর এবং বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী।
পুজোর আগে শেষ কয়েকটি দিন তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও মণ্ডপে কাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হচ্ছে, কোথাও শিল্পীরা রং ও সাজসজ্জার কাজ করছেন, আবার কোথাও চলছে বিদ্যুতের সংযোগ স্থাপন।
এই সময় বৃষ্টি হলে কাজের গতিতে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় নির্মাণাধীন মণ্ডপে জল ঢুকলে কাঠামোর আশপাশে কাদা জমতে পারে। ফলে শ্রমিকদের চলাচল এবং সরঞ্জাম স্থানান্তরে অসুবিধা হয়।
আবার আলোকসজ্জা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও বৃষ্টির জল থেকে সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি থাকে বলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ধরনের অবহেলা করা উচিত নয়।
পুজো উদ্যোক্তাদের উচিত প্রয়োজনীয় জলনিকাশি ব্যবস্থা রাখা, বৈদ্যুতিক সংযোগ যথাযথভাবে সুরক্ষিত করা এবং ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে মণ্ডপের অস্থায়ী কাঠামোর নিরাপত্তা পরীক্ষা করা।
তবে কোথাও বৃষ্টির কারণে মণ্ডপ নির্মাণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে—এমন নির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।