Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আজ থেকে শুরু ইন্ডিয়ান সুপার লিগ, ফুটবল উন্মাদনায় মাতবে দেশ

ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) নতুন মরশুমের শুরু আজ। প্রথম দিনেই রয়েছে দু’টি জমজমাট ম্যাচ। বিকেল ৫টায় কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে বেঙ্গালুরু এফসি-র মুখোমুখি হবে এসসি দিল্লি। নতুন মরশুমের শুরুতে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে মরিয়া দুই দলই। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন উদ্বোধনী ম্যাচের দিকে।

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান। আজ থেকে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল)। নতুন মরশুমের শুরুতেই দর্শকদের জন্য থাকছে জোড়া ম্যাচ। প্রথম দিনেই মাঠে নামছে বেঙ্গালুরু এফসি, এসসি দিল্লি, এফসি গোয়া এবং চেন্নাইয়ান এফসি। অন্যদিকে, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন মোহন বাগান সুপার জায়ান্টের দিকে। সোমবার অ্যাওয়ে ম্যাচে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তবে মরশুমের প্রথম ম্যাচের আগে চোটের কারণে জেমি ম্যাকলারেন ও আশিস রাইকে না পাওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারে দল।

আইএসএল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় ফুটবলে নতুন মরশুমের উত্তাপ বাড়তে চলেছে। প্রতিটি দলই নতুন করে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে চাইবে। মরশুমের শুরুতে পয়েন্ট সংগ্রহ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দলের ছন্দ তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রথম দিন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবলের প্রত্যাশায় রয়েছেন সমর্থকরা।

আইএসএলের প্রথম দিনেই জোড়া ম্যাচ

নতুন মরশুমের প্রথম দিনে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে বিকেল ৫টায় কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বেঙ্গালুরু এফসি ও এসসি দিল্লি। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দ্বিতীয় ম্যাচে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে চেন্নাইয়ান এফসি।

দুটি ম্যাচই মরশুমের শুরুতে দলগুলির প্রস্তুতি, কৌশল এবং মাঠের পারফরম্যান্স বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। প্রথম ম্যাচ থেকেই দলগুলি নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দেওয়ার চেষ্টা করবে। নতুন মরশুমে ভালো শুরু করতে পারলে পরবর্তী ম্যাচগুলিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হয়। সেই কারণেই উদ্বোধনী ম্যাচগুলির গুরুত্ব যথেষ্ট।

বেঙ্গালুরু এফসি বনাম এসসি দিল্লি

আইএসএলের প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির প্রতিপক্ষ এসসি দিল্লি। বিকেল ৫টায় কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই লড়াই। মরশুমের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় দুই দলের কাছেই এটি নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বেঙ্গালুরু এফসি নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগাতে চাইবে। ঘরের মাঠে সমর্থকদের উপস্থিতি দলকে বাড়তি উৎসাহ দিতে পারে। তবে সেই সুবিধাকে কাজে লাগাতে হলে শুরু থেকেই আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা না দিয়ে নিজেদের সুযোগ তৈরি করাই হতে পারে বেঙ্গালুরুর অন্যতম লক্ষ্য।

অন্যদিকে, এসসি দিল্লিও ভালো ফল দিয়ে মরশুম শুরু করতে চাইবে। প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে নামলে ম্যাচের শুরুতে রক্ষণ সামলে নেওয়া এবং পাল্টা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বেঙ্গালুরু যদি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে, তা হলে দিল্লিকে রক্ষণে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

তবে ম্যাচের ফলাফল নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের উপর। প্রথম গোল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। উদ্বোধনী ম্যাচে কোন দল বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

এফসি গোয়া বনাম চেন্নাইয়ান এফসি

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে এফসি গোয়া ও চেন্নাইয়ান এফসি। ঘরের মাঠে খেলবে গোয়া। ফলে নিজেদের সমর্থকদের সামনে জয় দিয়ে মরশুম শুরু করার লক্ষ্য থাকবে তাদের।

এফসি গোয়ার কাছে এই ম্যাচ নিজেদের শক্তি তুলে ধরার সুযোগ। মরশুমের প্রথম ম্যাচে ভালো ফল পেলে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তবে প্রতিপক্ষ চেন্নাইয়ান এফসিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। চেন্নাইয়ানও নতুন মরশুমে পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

দুই দলের মধ্যে কৌশলগত লড়াইও আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারে। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রাখা, দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের ভুল কাজে লাগানো—এই বিষয়গুলি ম্যাচের ফল নির্ধারণে ভূমিকা নিতে পারে।

প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দর্শকদের আগ্রহ থাকবে যথেষ্ট। কারণ, আইএসএলের প্রথম দিনের ফলাফল থেকেই প্রাথমিকভাবে বোঝা যেতে পারে কোন দলগুলি নতুন মরশুমে কতটা প্রস্তুত হয়ে মাঠে নেমেছে।

সোমবার মাঠে নামছে মোহন বাগান

উদ্বোধনী দিনের ম্যাচগুলির পর কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে সোমবারের দিকে। ওই দিন নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের আইএসএল অভিযান শুরু করবে মোহন বাগান সুপার জায়ান্ট।

সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে মরশুমের প্রথম ম্যাচ বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নতুন মরশুমে দল কতটা প্রস্তুত, খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া কেমন এবং কোচের পরিকল্পনা মাঠে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা প্রথম ম্যাচ থেকেই কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে।

তবে অ্যাওয়ে ম্যাচ হওয়ায় মোহন বাগানের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে গেলে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, ম্যাচের শুরুতে চাপ সামলানো এবং নিজেদের পরিকল্পনায় স্থির থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড নিজেদের মাঠে বাড়তি উৎসাহ নিয়ে খেলতে পারে। তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে।

মোহন বাগানের লক্ষ্য থাকবে ইতিবাচক ফল দিয়ে মরশুম শুরু করা। তবে ফুটবলে প্রতিপক্ষের শক্তি, ম্যাচের পরিস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রথম ম্যাচে দলকে পরিকল্পনামাফিক ফুটবল খেলতে হবে।

যুবভারতীতে প্রস্তুতি শুরু সবুজ-মেরুনের

নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না মোহন বাগান। শনিবার যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে প্রস্তুতি শুরু করবে পানোস ব্রিগেড। এরপর রবিবার চূড়ান্ত মহড়া সেরে গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা দেবে দল।

মরশুমের প্রথম ম্যাচের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুশীলনে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করার পাশাপাশি দলের কৌশল চূড়ান্ত করার সুযোগ থাকে। প্রতিপক্ষের খেলার ধরন মাথায় রেখে কীভাবে আক্রমণ সাজানো হবে, কীভাবে রক্ষণ সামলানো হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাওয়া হবে, তা নিয়ে কাজ করতে পারে দল।

যুবভারতীর অনুশীলনে খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মরশুমে প্রথম ম্যাচে নামার আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হয়। বিশেষ করে মাঝমাঠ, আক্রমণভাগ এবং রক্ষণভাগের মধ্যে সমন্বয় ভালো হলে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নত হতে পারে।

রবিবারের চূড়ান্ত অনুশীলন শেষ করে গুয়াহাটিতে পৌঁছনোর পর নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য মানসিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দীর্ঘ মরশুমে প্রতিটি ম্যাচের আগে পরিকল্পনা এবং শারীরিক প্রস্তুতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। মোহন বাগানও সেই লক্ষ্যেই এগোতে চাইবে।

চোটের কারণে নেই জেমি ম্যাকলারেন ও আশিস রাই

মোহন বাগানের প্রস্তুতির মধ্যে বড় উদ্বেগের বিষয় চোট সমস্যা। নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে জেমি ম্যাকলারেন এবং আশিস রাইকে পাচ্ছে না সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। দুই খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

জেমি ম্যাকলারেনের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় না থাকলে গোলের সুযোগ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা প্রয়োজন হতে পারে। একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের ভূমিকা শুধু গোল করাতেই সীমাবদ্ধ নয়। সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করা, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখা এবং আক্রমণের গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাকলারেন না থাকায় অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সামনে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন সমন্বয় তৈরি করতে হলে সতীর্থদের মধ্যে বোঝাপড়া জরুরি। আক্রমণের সময় সঠিক জায়গায় পৌঁছনো এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

news image
আরও খবর

অন্যদিকে, আশিস রাইয়ের অনুপস্থিতিও দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। রক্ষণভাগের পাশাপাশি প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যোগ দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের গতিবিধি সামলানোর ক্ষেত্রে একজন ডিফেন্ডারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁর জায়গায় কে খেলবেন এবং দল কীভাবে রক্ষণ সামলাবে, সেদিকেও নজর থাকবে সমর্থকদের।

তবে চোটের কারণে দুই খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও মোহন বাগানের কাছে ভালো ফল করার সুযোগ থাকবে। ফুটবল দলগত খেলা। কোনও একজন খেলোয়াড় না থাকলে অন্যদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। সঠিক পরিকল্পনা, সংগঠিত রক্ষণ এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারলে দল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভালো ফল করতে পারে।

প্রথম ম্যাচেই কোচের কৌশলের পরীক্ষা

আইএসএলের মতো দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় মরশুমের শুরুতে কোচের পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অনেক সময় ফল নির্ধারণ করে দেয়। মোহন বাগানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড কীভাবে আক্রমণ সাজায়, মাঝমাঠে কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে এবং রক্ষণে কতটা সংগঠিত থাকে, তা দেখার বিষয়। বিশেষ করে চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে না পাওয়ায় বিকল্প পরিকল্পনার কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ম্যাচের শুরুতে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পাওয়া একটি কৌশল হতে পারে। আবার সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাও দলের পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে কোন কৌশল কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মাঠের পরিস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের খেলার ধরনের উপর।

মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্রুত পাস আদানপ্রদান এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠার সময় ভুল কমানো জরুরি। প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতেও সতর্ক থাকতে হবে। প্রথম ম্যাচে ছোট ভুলেরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

আইএসএলের শুরুতেই বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ

ভারতীয় ফুটবলে আইএসএল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন দলের সমর্থকরা নতুন মরশুমের শুরু থেকেই নিজেদের প্রিয় দলকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি করেন। কে ভালো শুরু করবে, কোন দল ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং কোন খেলোয়াড় নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়বেন—এসব প্রশ্নকে ঘিরেই ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনা চলতে থাকে।

এবারও প্রথম দিন থেকে সেই আগ্রহ দেখা যাবে। বেঙ্গালুরু এফসি ও এসসি দিল্লির ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে দিনের ফুটবল। এরপর এফসি গোয়া ও চেন্নাইয়ান এফসির লড়াই। দুটি ম্যাচের ফলাফলই সংশ্লিষ্ট দলগুলির মরশুমের শুরুতে আত্মবিশ্বাস তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।

তবে প্রতিযোগিতা দীর্ঘ হওয়ায় প্রথম ম্যাচের ফলাফলই চূড়ান্তভাবে কোনও দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। নিয়মিত পয়েন্ট সংগ্রহ, খেলোয়াড়দের ফিটনেস বজায় রাখা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই কারণে মরশুমের শুরু থেকেই ধারাবাহিকতার দিকে নজর রাখতে হবে প্রতিটি দলকে।

মোহন বাগানের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ?

মোহন বাগানের প্রথম ম্যাচের আগে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রথমত, চোটের কারণে জেমি ম্যাকলারেন ও আশিস রাইয়ের অনুপস্থিতি। দ্বিতীয়ত, অ্যাওয়ে ম্যাচে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। তৃতীয়ত, নতুন মরশুমের প্রথম ম্যাচেই দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা।

আক্রমণভাগে বিকল্প খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নিতে হবে। গোলের সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগানো জরুরি। অন্যদিকে, রক্ষণভাগকে সংগঠিত থাকতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষ সহজে গোলের সুযোগ না পায়। মাঝমাঠে ভারসাম্য বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাওয়ে ম্যাচে দর্শকদের সমর্থন প্রতিপক্ষের দিকে বেশি থাকতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখা এবং ম্যাচের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোনো প্রয়োজন। প্রথম গোল হয়ে গেলে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।

তবে এই চ্যালেঞ্জগুলিই দলের অন্য খেলোয়াড়দের সামনে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ এনে দিতে পারে। মরশুমের শুরুতে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে ভবিষ্যতের ম্যাচগুলির জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

নতুন মরশুমে প্রত্যাশা সবুজ-মেরুন সমর্থকদের

মোহন বাগানের সমর্থকদের প্রত্যাশা বরাবরই বেশি। দল যখন নতুন মরশুমে মাঠে নামে, তখন সমর্থকরা ভালো ফুটবল এবং ইতিবাচক ফলের আশা করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে মরশুমের শুরুতে চোটের সমস্যা থাকায় প্রথম ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সের দিকে বাড়তি নজর থাকবে।

শনিবার যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে প্রস্তুতি শুরু এবং রবিবার চূড়ান্ত মহড়ার পর গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। এই প্রস্তুতির মধ্যেই কোচ এবং খেলোয়াড়দের প্রথম ম্যাচের কৌশল চূড়ান্ত করতে হবে।

প্রথম ম্যাচে জয় পেলে প্রতিযোগিতার শুরুতেই আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তবে ফলাফল যাই হোক, দীর্ঘ মরশুমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে মূল লক্ষ্য। খেলোয়াড়দের ফিটনেস, কৌশলগত সমন্বয় এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

প্রথম দিনের ম্যাচসূচি এক নজরে

আইএসএলের প্রথম দিনের সূচিতে রয়েছে দুটি ম্যাচ।

প্রথম ম্যাচ: বেঙ্গালুরু এফসি বনাম এসসি দিল্লি। সময় বিকেল ৫টা। ভেন্যু কান্তিরাভা স্টেডিয়াম।

দ্বিতীয় ম্যাচ: এফসি গোয়া বনাম চেন্নাইয়ান এফসি। সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট।

অন্যদিকে, মোহন বাগান সুপার জায়ান্ট সোমবার নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে। ম্যাচের আগে শনিবার যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে প্রস্তুতি এবং রবিবার চূড়ান্ত অনুশীলনের পরিকল্পনা রয়েছে। চোটের কারণে জেমি ম্যাকলারেন ও আশিস রাইকে প্রথম ম্যাচে পাওয়া যাবে না।

শেষ কথা

আইএসএলের নতুন মরশুম শুরু হচ্ছে জোড়া ম্যাচ দিয়ে। বেঙ্গালুরু এফসি বনাম এসসি দিল্লি এবং এফসি গোয়া বনাম চেন্নাইয়ান এফসির লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রথম দিনেই জমে উঠতে পারে ভারতীয় ফুটবলের প্রতিযোগিতা। তবে কলকাতার সমর্থকদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সোমবারের মোহন বাগান ম্যাচ।

নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে চাইবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তার আগে শনিবার ও রবিবারের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোটের কারণে জেমি ম্যাকলারেন ও আশিস রাইয়ের অনুপস্থিতি দলকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে বাধ্য করতে পারে। এখন দেখার, বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়ে কীভাবে প্রথম ম্যাচের একাদশ সাজায় মোহন বাগান এবং মাঠে সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়।

আইএসএলের প্রথম দিনের ম্যাচ থেকে সোমবারের মোহন বাগান অভিযান—সব মিলিয়ে ভারতীয় ফুটবলের নতুন মরশুম ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে আগ্রহ। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন মাঠের লড়াই এবং দলগুলির প্রথম পারফরম্যান্সের দিকে।

Preview image