Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দেড়-দু’লাখেই ফায়ার সেফটি ও লাইসেন্স! নিউ মার্কেটে বেআইনি ৭০ হোটেলে সিলের কোপ

নিউ মার্কেটের বেআইনি হোটেলগুলিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে বিশেষজ্ঞ দল ও পুলিশের সিটের নজরে দমকলের সদর দপ্তরের গত ১০-১২ বছরের ফায়ার সেফটি ও ফায়ার লাইসেন্সের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা। লাইসেন্স প্রদান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দেড়-দু’লাখেই ফায়ার সেফটি ও লাইসেন্স! নিউ মার্কেটে বেআইনি ৭০ হোটেলে সিলের কোপ
Animal Welfare & Public Safety News

নিউ মার্কেটের বেআইনি হোটেলে ফায়ার সেফটি নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের নজরে দমকল ও পুরসভার ভূমিকা

কলকাতার নিউ মার্কেট ও মার্কুইজ স্ট্রিট এলাকার হোটেলগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে এসেছে। শিখা-ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে একাধিক হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ, নগদ টাকার বিনিময়ে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট এবং ফায়ার লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই একাধিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরে চলছিল কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্প্রতি নিউ মার্কেট এলাকার বেশ কয়েকটি হোটেল সিল করে দেওয়ার ঘটনায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদের একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, দমকলের কাছ থেকে তিন বছরের ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট পেতে দেড় থেকে দু’লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ফায়ার লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা বা তার কিছু বেশি দেওয়ার কথাও সামনে এসেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যায় না।

নগদ টাকার বিনিময়ে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট?

হোটেলের মতো জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোটেলে থাকা অতিথি, কর্মী এবং আশপাশের মানুষের জীবন সুরক্ষিত রাখতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকাঠামো থাকা জরুরি। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরিদর্শন ও অনুমোদনের পরেই সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র বা লাইসেন্স দেওয়া উচিত।

কিন্তু নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলগুলিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু হোটেলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলি প্রয়োজনীয় শংসাপত্র পেয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কোনও হোটেল পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বেআইনিভাবে শংসাপত্র পেয়েছে, তা হলে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাচাই করতে হবে, পরিদর্শনের সময় কী কী বিষয় পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় নথি তৈরি হয়েছিল কি না।

মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেলগুলিকে ঘিরে প্রশ্ন

নিউ মার্কেট সংলগ্ন মার্কুইজ স্ট্রিট কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পর্যটন এলাকা। এই অঞ্চলে হোটেল, অতিথিশালা, দোকান এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ এই এলাকায় যাতায়াত করেন। ফলে এখানকার হোটেলগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনও ঘাটতি থাকলে তা বড়সড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রাথমিকভাবে সামনে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু হোটেল চালু করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার জন্য অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এমনও অভিযোগ উঠেছে, দমকলের এক প্রাক্তন স্টেশন অফিসারের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে কয়েকটি হোটেলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনও বেআইনি লেনদেন হয়েছিল কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু কয়েকটি হোটেলের অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি অনুমোদন, পরিদর্শন এবং নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠবে।

পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েও প্রশ্ন

কোনও হোটেল চালানোর ক্ষেত্রে একাধিক প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। ব্যবসার ধরন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি অনুমোদন পাওয়া মানেই অন্য সব নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম পূরণ হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।

নিউ মার্কেটের কয়েকটি হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে, প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে যাচাই না করেই কীভাবে সেগুলি ব্যবসা চালানোর সুযোগ পেয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু হোটেলের লিজ হোল্ডার প্রয়োজনীয় সংযোগ ও ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও ভূমিকা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া, দমকলের পরিদর্শন, ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট প্রদান এবং বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে কী কী নথি যাচাই করা হয়েছিল, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে ট্রেড লাইসেন্স বা বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনও অনিয়মে জড়িত ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। প্রতিটি দপ্তরের দায়িত্ব, প্রযোজ্য নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করেই প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা সম্ভব।

শিখা-ইন হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্তে নতুন দিক

শিখা-ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে বলে খবর। এই ধরনের দুর্ঘটনা শুধু একটি ভবনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় নয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে থাকা অতিথি, কর্মী এবং আশপাশের মানুষের জীবনও বিপন্ন হতে পারে।

হোটেলের ঘিঞ্জি ঘর, অপর্যাপ্ত নির্গমন পথ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ত্রুটি কিংবা অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের অভাব—এই ধরনের সমস্যা থাকলে বিপদের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই কোনও দুর্ঘটনার পর শুধু আগুন লাগার তাৎক্ষণিক কারণ খুঁজে দেখা যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং নিয়মিত পরিদর্শন হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

news image
আরও খবর

এই প্রেক্ষাপটে নিউ মার্কেটের হোটেলগুলির নথি যাচাই এবং বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ তদন্তের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যে সমস্ত হোটেলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই বা অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মানা হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেগুলির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তদন্তের নজরে দমকলের আধিকারিকরা?

এই ঘটনার পর গত ১০ থেকে ১২ বছরে দমকলের সদর দপ্তরে ফায়ার সেফটি এবং ফায়ার লাইসেন্স সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। তদন্তকারী বিশেষজ্ঞ দল এবং পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের নজরে সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলির জন্য কবে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ও ফায়ার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, সেই অনুমোদনের আগে নির্ধারিত নিয়মে পরিদর্শন হয়েছিল কি না। তৃতীয়ত, পরিদর্শনের রিপোর্টে কী তথ্য ছিল এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সেই রিপোর্টের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না।

এ ছাড়া অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া নথি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব বণ্টন এবং কোনও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তার প্রমাণও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে, কোথাও নিয়মভঙ্গ বা দুর্নীতি হয়েছিল কি না।

৬০ থেকে ৭০টি হোটেল বন্ধের আশঙ্কা

প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউ মার্কেট জোনে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০টি হোটেলকে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘাটতির কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এই সংখ্যাটি এবং সম্ভাব্য বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশ বা হালনাগাদ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

যদি এতগুলি হোটেল বন্ধ করার প্রয়োজন হয়, তা হলে বিষয়টি এলাকার হোটেল ব্যবসা এবং পর্যটন পরিষেবার উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ব্যবসায়িক ক্ষতির চেয়ে অতিথিদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। যে হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার গুরুতর ঘাটতি রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে অতিথিদের রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

একই সঙ্গে হোটেল মালিকদের উচিত প্রয়োজনীয় অনুমোদন, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি নির্গমন পথ এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলি নিয়মিত পরীক্ষা করা। কোনও ঘাটতি চিহ্নিত হলে দ্রুত তা সংশোধন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা প্রয়োজন।

হোটেল মালিকদের পাশাপাশি আধিকারিকদেরও কি জবাবদিহি করতে হবে?

এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বেআইনি হোটেল পরিচালনার অভিযোগে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনও আধিকারিকের গাফিলতি বা বেআইনি ভূমিকা প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

আইন অনুযায়ী, কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা দুটি পৃথক বিষয়। হোটেল মালিকদের দায়িত্ব যেমন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, তেমনই সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তবে কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

দুর্নীতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের অনিয়ম না ঘটে, তার জন্য অনুমোদন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানো প্রয়োজন। নিয়মিত পরিদর্শন, ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ, অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা এই ধরনের সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

নিউ মার্কেটের হোটেলগুলিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে—কাগজে-কলমে অনুমোদন থাকলেই কোনও ভবন নিরাপদ হয়ে যায় না। বাস্তবে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, জরুরি পরিস্থিতিতে অতিথিরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারবেন কি না এবং আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

হোটেল মালিক, ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ—প্রত্যেকেরই নিজ নিজ দায়িত্ব রয়েছে। অনুমোদন দেওয়ার আগে যথাযথ পরীক্ষা এবং অনুমোদন দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় নজরদারি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও হোটেলে ওঠার সময় জরুরি নির্গমন পথ এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রাথমিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত।

শিখা-ইন হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের পর নিউ মার্কেটের একাধিক হোটেলকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর নির্ভর করবে তদন্তের ফলাফল, সরকারি নথি এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণের উপর। ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ও ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা কী ছিল এবং কতগুলি হোটেল বাস্তবে নিরাপত্তার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে—এই সমস্ত বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সবশেষে, এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল, অগ্নিনিরাপত্তাকে কখনও শুধুমাত্র লাইসেন্স পাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। হোটেলে থাকা প্রতিটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সকলের প্রধান দায়িত্ব। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি—দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Preview image