শেখর সুমনের অনুষ্ঠানে দেশে শান্তি নেই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন সঞ্জয় দত্ত অভিনেতার বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা শুরু হতেই পরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন তিনি তবে তাঁর এই সাফাই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন সমালোচনার চাপে কি পিছু হটলেন সঞ্জয় মন্তব্য ও পরবর্তী ব্যাখ্যা ঘিরে নতুন করে চর্চায় অভিনেতা
শেখর সুমনের অনুষ্ঠানে দেশের শান্তির পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। তাঁর বক্তব্য এবং মুন্নাভাই চরিত্রের আদলে রাজনৈতিক রসিকতা ঘিরে সমাজমাধ্যমের একাংশে সমালোচনা শুরু হয়। এরপর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন অভিনেতা। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানের আলোচিত অংশটি ছিল পূর্বনির্ধারিত স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী করা একটি পরিবেশনা। কাউকে অসম্মান করা কিংবা কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে শেখর সুমনের Shekhar Tonite অনুষ্ঠানে অতিথি হয়েছিলেন সঞ্জয়। সেখানে ভারতীয়দের উদারতা ও অতিথিপরায়ণতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান দেশের শান্তির পরিবেশ আগের মতো অনুভব করতে পারছেন না। মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকার প্রত্যাশাও প্রকাশ করেন অভিনেতা। দেশের মানুষ সম্পর্কে ইতিবাচক বক্তব্যের পাশাপাশি শান্তি নিয়ে তাঁর এই মন্তব্যই আলোচনার কেন্দ্রে আসে। অনুষ্ঠানের আরেকটি অংশে তাঁকে কল্পনা করতে বলা হয়, পাঁচ মিনিটের জন্য প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি কী করতেন। উত্তর দিতে গিয়ে নিজের জনপ্রিয় মুন্নাভাই চরিত্রের কথাবার্তা ও হাস্যরসের ভঙ্গি ব্যবহার করেন সঞ্জয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নেতাদের ছবি ব্যবহারের প্রসঙ্গ উঠে আসে তাঁর পরিবেশনায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফরকে ঘিরেও ব্যঙ্গ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েও রসিকতা করেন অভিনেতা। সংঘাত ও হুমকির পরিবর্তে ভালোবাসা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলেন তিনি। এই অংশে মুন্নাভাই এর পরিচিত গান্ধীগিরির ভাবনাকে সামনে আনেন সঞ্জয়। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে ব্যঙ্গ ও দেশের শান্তি সম্পর্কে মন্তব্য ঘিরে দর্শকদের একাংশ আপত্তি জানান।
বিতর্কের পরে এক্সে নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন অভিনেতা। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের হাস্যরস ও ব্যঙ্গ ছিল মুন্নাভাই ছবির ভাবধারা অনুসরণ করে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা। ভালোবাসা, ঐক্য ও সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ সেই প্রেক্ষাপট থেকে বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা হয়েছে। পরবর্তী ভিডিও বার্তাতেও বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন সঞ্জয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানান যে তাঁর কথায় কেউ বিস্মিত হয়েছেন, আবার কেউ তীব্র দ্বিমত জানিয়েছেন। তাঁদের অনুভূতি বুঝতে পারছেন বলেও উল্লেখ করেন অভিনেতা। এরপর স্পষ্ট করেন, অনুষ্ঠানের বক্তব্য ছিল স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী অভিনয়ের অংশ সেটিকে তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা বা অনুভূতির সরাসরি প্রকাশ হিসেবে দেখা উচিত নয়। সমালোচনার পরে ব্যাখ্যা দেওয়ায় এই প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে শুধু ঘটনাক্রমের ভিত্তিতে তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। অভিনেতার প্রকাশ্য বক্তব্য হচ্ছে একটি অভিনীত অংশকে তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই ‘চাপে মত বদলেছেন’ বলার পরিবর্তে মন্তব্য অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী ব্যাখ্যা তিনটিই পাঠকের সামনে রাখা প্রয়োজন। এই ঘটনায় আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী পরিবেশনা ও অভিনেতার ব্যক্তিগত মতামতের পার্থক্য। সঞ্জয়ের ভিডিও বার্তায় সেই পার্থক্য স্পষ্ট করার চেষ্টাই দেখা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য থেকে ব্যক্তিগত বিশ্বাস সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হোক, তা চান না বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। শেখর সুমনের অনুষ্ঠানে করা মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের পরে নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন সঞ্জয় দত্ত। অভিনেতার দাবি, অনুষ্ঠানে তাঁর হাস্যরস ও ব্যঙ্গের উদ্দেশ্য ছিল দর্শকদের বিনোদন দেওয়া এবং ভালোবাসা, ঐক্য ও সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে তিনি ওই পরিবেশনায় অংশ নেননি। তাঁর বক্তব্য, অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট থেকে কথাগুলিকে আলাদা করে দেখায় তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। বিতর্কের পরে এক্সে দেওয়া ব্যাখ্যায় সঞ্জয় নিজের জনপ্রিয় ‘মুন্নাভাই’ চরিত্রের প্রসঙ্গ সামনে আনেন। তিনি জানান, ওই চরিত্রের পরিচিত হাস্যরস ও ব্যঙ্গের ধরন অনুসরণ করেই অনুষ্ঠানের অংশটি সাজানো হয়েছিল। দর্শকদের কাছে একটি বক্তব্য পৌঁছে দিতে বিনোদনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তবে সেই পরিবেশনাকে ব্যক্তিগত মতামতের সরাসরি প্রকাশ হিসেবে গ্রহণ করাতেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অভিনেতা।
সঞ্জয়ের এই ব্যাখ্যার কেন্দ্রে রয়েছে অভিনয় এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য। কোনও অনুষ্ঠানে একজন অভিনেতা স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী যে কথা বলেন, তা সব সময়ে তাঁর নিজের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন নাও হতে পারে। অভিনেতা এখানে সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আলোচিত বক্তব্যকে বুঝতে হলে অনুষ্ঠানের ধরন, চরিত্রের ভঙ্গি এবং পরিবেশনার উদ্দেশ্য সব কিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় মুন্নাভাই ছবির ভাবধারা উল্লেখ করেছেন সঞ্জয়। তাঁর কথায়, অনুষ্ঠানের হাস্যরসের মাধ্যমে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ ব্যঙ্গের আড়ালে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে দর্শকদের একাংশের ব্যাখ্যার পার্থক্য তৈরি হয়েছে বলেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে অভিনেতার বক্তব্য থেকে এমন অবস্থানই উঠে আসে। তবে কোনও পরিবেশনার উদ্দেশ্য এবং দর্শকের কাছে তার অর্থ এক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। শিল্পী যে ভাবনা থেকে একটি সংলাপ বলেন, দর্শক নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সেটিকে গ্রহণ করেন। ফলে হাস্যরসের জন্য বলা কথাও কারও কাছে গুরুতর মন্তব্য মনে হতে পারে। সঞ্জয়ের ব্যাখ্যা এই ঘটনায় তাঁর নিজের উদ্দেশ্যটি তুলে ধরে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেন তৈরি হয়েছে, সেই প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর হিসেবে এটিকে ধরে নেওয়া যায় না এক্সে ব্যাখ্যা দেওয়ার পর পরবর্তী ভিডিও বার্তাতেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সঞ্জয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিনেতা জানান যে তাঁর বক্তব্য শুনে কেউ বিস্মিত হয়েছেন, আবার কেউ তীব্র দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অনুভূতি তিনি বুঝতে পারছেন বলেও উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে নিজের ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার কথাও স্বীকার করেন অভিনেতা। এরপর সঞ্জয় স্পষ্ট করেন অনুষ্ঠানের আলোচিত কথাগুলি ছিল স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী অভিনয়ের অংশ। তাঁর দাবি, পরিবেশনার মধ্যে বলা সংলাপকে তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা বা অনুভূতির সরাসরি প্রকাশ হিসেবে দেখা উচিত নয়। অভিনীত অংশ থেকে তাঁর বাস্তব বিশ্বাস সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হোক, তা চান না বলে জানান তিনি। ভিডিও বার্তার এই বক্তব্য আগের ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক্সে তিনি পরিবেশনার উদ্দেশ্য ও হাস্যরসের ধরন ব্যাখ্যা করেছিলেন। ভিডিওতে আরও সরাসরি বলেছেন, স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী বলা কথা এবং ব্যক্তিগত মতামতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে তাঁর দুটি ব্যাখ্যাতেই একই বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে আলোচিত বক্তব্যকে তার পরিবেশনার প্রেক্ষাপটের মধ্যে দেখা প্রয়োজন।
সমালোচনার পরে অভিনেতা নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করায় প্রশ্ন উঠতে পারে জনসমালোচনার কারণেই কি তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন কিন্তু কেবল কোন ঘটনার পরে কোন ঘটনা ঘটেছে, সেই ক্রম দেখে কারও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ব্যাখ্যা দেওয়া, ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা এবং ব্যক্তিগত মত পরিবর্তন এই বিষয়গুলি আলাদা। সঞ্জয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী তিনি নিজের ব্যক্তিগত মত বদলানোর ঘোষণা করেননি। বরং দাবি করেছেন, একটি অভিনীত অংশকে তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেই ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে তাঁর বক্তব্যকে সরাসরি চাপে পিছু হটা হিসেবে উপস্থাপন করলে তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে যায়। একইভাবে অভিনেতা স্ক্রিপ্টের কথা বললেই দর্শকদের আপত্তির বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় না। একটি পরিবেশনা স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী তৈরি হলেও তার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এখানে দুটি বিষয় পাশাপাশি রয়েছে দর্শকদের একাংশের আপত্তি এবং অভিনেতার দাবি যে সংলাপগুলি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সরাসরি পরিচয় নয়। সঞ্জয় দত্তের পরবর্তী বক্তব্যে তাই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করার চেষ্টা। তিনি জানিয়েছেন বিনোদনের মাধ্যমে সৌহার্দ্যের বার্তা দিতে চেয়েছিলেন এবং অভিনীত সংলাপকে তাঁর ব্যক্তিগত মত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। এই ঘটনায় তাঁর মন্তব্যের পাশাপাশি সেই ব্যাখ্যাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।