মিশরের সঙ্গে ড্র করলেও নকআউটে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখল ইরান। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে পরের রাউন্ডের পথে বড় পদক্ষেপ করল বেলজিয়াম।
মিশরের সঙ্গে ড্র করলেও নকআউট পর্বে পৌঁছনোর দৌড়ে নিজেদের আশা এখনও বাঁচিয়ে রাখল ইরান। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পুরো তিন পয়েন্ট না পেলেও এই ড্র তাদের জন্য একেবারে হতাশার নয়। কারণ গ্রুপ পর্বের কঠিন সমীকরণে অনেক সময় এক পয়েন্টও বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে যখন প্রতিটি দল পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য লড়াই করছে, তখন হার এড়ানোই অনেক সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই দিক থেকে মিশরের বিরুদ্ধে ইরানের এই ফলাফল তাদের লড়াইয়ে টিকে থাকার সুযোগ দিল। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে সতর্কতা স্পষ্ট ছিল। মিশর যেমন দ্রুত আক্রমণে উঠে ইরানের রক্ষণকে চাপে রাখতে চেয়েছিল, তেমনই ইরান মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে ধীরে ধীরে ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। দুই দলই জানত, এই ম্যাচে হার মানে নকআউটের রাস্তা অনেক কঠিন হয়ে যাওয়া। তাই আক্রমণ থাকলেও রক্ষণে বাড়তি সতর্কতা দেখা যায়। ইরানের ফুটবলাররা বল পজেশন ধরে রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও মিশরের রক্ষণ সহজে ভাঙেনি। অন্যদিকে মিশরও পাল্টা আক্রমণে একাধিকবার বিপদ তৈরি করে।
ইরানের জন্য এই ড্রের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হল, তারা এখনও গ্রুপের হিসাব থেকে ছিটকে যায়নি। নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনও তাদের হাতে রয়েছে। পরের ম্যাচে ভাল ফল করলেই ইরান পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াইয়ে আরও শক্ত অবস্থানে চলে যেতে পারে। তবে তার জন্য শুধু ড্র নয়, জয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে হবে তাদের। কারণ বড় টুর্নামেন্টে শুধু বেঁচে থাকা যথেষ্ট নয়, সঠিক সময়ে ম্যাচ জেতার ক্ষমতাই দলকে এগিয়ে দেয়। ইরানের খেলায় লড়াই করার মানসিকতা চোখে পড়ার মতো ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা ম্যাচ ছাড়েনি। একাধিক সময় চাপের মুখেও দল সংগঠিত থেকেছে। রক্ষণভাগ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে বাঁচিয়েছে। মাঝমাঠেও তারা মিশরের গতিকে থামানোর চেষ্টা করেছে। তবে আক্রমণভাগে আরও ধার প্রয়োজন। সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ে আরও নিখুঁত হতে হবে। নকআউটে উঠতে হলে সামনের ম্যাচে এই জায়গাগুলিতে উন্নতি করতেই হবে।
অন্যদিকে বেলজিয়াম প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে পরের রাউন্ডের পথে বড় পদক্ষেপ করল। টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন জয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়। বেলজিয়াম নিজেদের শক্তি, অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরিচয় দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া শুধু পয়েন্ট টেবিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, মানসিক দিক থেকেও বড় বিষয়। এতে দলের উপর চাপ কমে যায় এবং পরের ম্যাচগুলিতে আরও স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ তৈরি হয়। বেলজিয়ামের খেলায় শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাস ছিল। তারা বল দখলে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। আক্রমণভাগে দ্রুত পাস, উইং ব্যবহার এবং বক্সের কাছে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করার মধ্যে পরিকল্পনার ছাপ ছিল। রক্ষণেও তারা বেশ সংগঠিত ছিল। প্রতিপক্ষকে সহজে জায়গা না দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখাই ছিল বেলজিয়ামের মূল শক্তি। বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে এমন পরিণত ফুটবল দলকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।
এই জয়ের ফলে বেলজিয়াম এখন গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থানে। পরের রাউন্ডে ওঠার জন্য তারা শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। একটি জয়ের পর আত্মতুষ্টি এলে বিপদ হতে পারে। তাই বেলজিয়ামের লক্ষ্য হবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। প্রথম ম্যাচের সাফল্যকে ভিত্তি করে পরের ম্যাচেও একই মনোভাব নিয়ে নামতে হবে তাদের। ইরান ও বেলজিয়ামের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে ভিন্ন হলেও দুই দলের সামনে লক্ষ্য একটাই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া। ইরানের জন্য পথ কিছুটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তাদের সামনে এখন হিসাব পরিষ্কার, পরের ম্যাচে বড় পারফরম্যান্স দরকার। অন্যদিকে বেলজিয়াম এগিয়ে থাকলেও নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে যে কোনও ম্যাচেই সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
মিশরের বিরুদ্ধে ইরানের ড্র গ্রুপের লড়াইকে আরও জমিয়ে দিল। এই ফলের পর শেষ ম্যাচ বা পরের ফলাফলের উপর অনেক কিছু নির্ভর করতে পারে। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন ইরানের পরবর্তী ম্যাচে। তারা কি চাপ সামলে নকআউটে উঠতে পারবে, নাকি এই ড্র শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হবে না সেই উত্তর মিলবে আগামী ম্যাচেই। অন্যদিকে বেলজিয়ামের জয় তাদের সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে। দলের পারফরম্যান্স যদি একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে তারা নকআউটে শুধু উঠবেই না, আরও বড় লক্ষ্য নিয়েও এগোতে পারে। সব মিলিয়ে গ্রুপ পর্বের লড়াই এখন রোমাঞ্চকর জায়গায় পৌঁছে গেছে। একদিকে ইরানের বাঁচা-মরার লড়াই, অন্যদিকে বেলজিয়ামের আত্মবিশ্বাসী শুরু দুই মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নকআউটের টিকিট কার হাতে যাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু ইরান এবং বেলজিয়াম দু’দলই নিজেদের মতো করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই লড়াইই বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য, যেখানে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনও হিসাবই চূড়ান্ত নয়। মিশরের বিরুদ্ধে ড্র করেও নকআউটের দৌড়ে নিজেদের আশা জিইয়ে রাখল ইরান। ম্যাচের ফলাফল ইরানের জন্য পুরোপুরি স্বস্তির না হলেও হতাশারও নয়। কারণ বড় টুর্নামেন্টে অনেক সময় একটি পয়েন্টই শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের শেষ দিকের ম্যাচে যখন প্রতিটি দল পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন হার এড়ানোও বড় সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। সেই দিক থেকে মিশরের বিরুদ্ধে ইরানের এই ড্র গ্রুপের সমীকরণকে আরও জটিল এবং রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের খেলায় সতর্কতার ছাপ ছিল। মিশর যেমন দ্রুত আক্রমণে উঠে ইরানের রক্ষণকে চাপে ফেলতে চাইছিল, তেমনই ইরানও মাঝমাঠ দখলে রেখে ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছিল। দুই দলই জানত, এই ম্যাচে হেরে গেলে নকআউটের রাস্তা অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে। তাই আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছিল দু’পক্ষই। মিশরের গতিময় ফুটবল এবং ইরানের সংগঠিত রক্ষণ মিলিয়ে ম্যাচটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইরানের জন্য এই ড্রের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হল, তারা এখনও প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যায়নি। নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা তাদের সামনে এখনও খোলা রয়েছে। তবে সেই রাস্তা সহজ নয়। পরের ম্যাচে তাদের আরও আক্রমণাত্মক, আত্মবিশ্বাসী এবং পরিকল্পিত ফুটবল খেলতে হবে। শুধু রক্ষণ সামলে ম্যাচ বাঁচানো নয়, এবার জয়ের জন্য মাঠে নামতে হবে ইরানকে। কারণ গ্রুপের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে শুধু ড্র দিয়ে সব সময় কাজ হয় না। গোল করা, ম্যাচ জেতা এবং পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
মিশরের বিরুদ্ধে ইরানের খেলায় লড়াই করার মানসিকতা স্পষ্ট দেখা গেছে। চাপের মুহূর্তেও তারা ভেঙে পড়েনি। রক্ষণভাগ বেশ কয়েকবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। মাঝমাঠেও তারা প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর চেষ্টা করেছে। তবে আক্রমণভাগে আরও ধার দরকার। সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ইরানকে আরও নিখুঁত হতে হবে। বড় মঞ্চে ছোট ভুলও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই পরের ম্যাচের আগে ফিনিশিং, বল কন্ট্রোল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। অন্যদিকে বেলজিয়ামের জয় তাদের সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রথম ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, এই টুর্নামেন্টে তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি, বরং বড় কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে। বেলজিয়ামের ফুটবলারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব স্পষ্ট ছিল। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া যে কোনও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শুধু পয়েন্ট টেবিলে সুবিধা পাওয়া যায় না, দলের মনোবলও অনেক বেড়ে যায়।
বেলজিয়াম যদি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তাহলে নকআউট পর্বে তাদের পৌঁছনো খুব কঠিন হবে না। বরং তারা গ্রুপে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েই পরের রাউন্ডে যেতে পারে। তবে ফুটবলে কোনও কিছুই আগে থেকে নিশ্চিত নয়। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর অনেক দল আত্মতুষ্টির ফাঁদে পড়ে যায়। বেলজিয়ামকে সেই ভুল এড়াতে হবে। তাদের এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। প্রতিটি ম্যাচে একই আগ্রাসন, একই শৃঙ্খলা এবং একই মনোযোগ ধরে রাখতে পারলেই তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবে। গ্রুপের লড়াই এখন এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি গোল, প্রতিটি পয়েন্ট এবং প্রতিটি ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের ড্র যেমন গ্রুপের হিসাবকে আরও খোলা রেখেছে, তেমনই বেলজিয়ামের জয় তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন পরবর্তী ম্যাচগুলির দিকে। ইরান কি চাপ সামলে নকআউটে ওঠার মতো ফল করতে পারবে বেলজিয়াম কি তাদের জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারবে এই প্রশ্নগুলির উত্তরই গ্রুপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
ইরান ও বেলজিয়ামের পরিস্থিতি আলাদা হলেও দুই দলের লক্ষ্য একই নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করা। ইরানের সামনে এখন বাঁচা-মরার লড়াই। তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি আক্রমণ এবং প্রতিটি রক্ষণাত্মক মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বেলজিয়ামের সামনে সুযোগ রয়েছে নিজেদের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রমাণ করার। প্রথম জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা যদি পরের ম্যাচেও ভাল ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে পারে।
সব মিলিয়ে এই গ্রুপের লড়াই এখন দারুণ রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে। মিশরের বিরুদ্ধে ইরানের ড্র এবং বেলজিয়ামের জয় দুই ফলাফলই গ্রুপের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে ইরানের লড়াই টিকে থাকার, অন্যদিকে বেলজিয়ামের লক্ষ্য এগিয়ে যাওয়ার। এই দুই ভিন্ন পরিস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য এখানেই শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনও দলকে বাদ দেওয়া যায় না, আবার কোনও দলকে নিশ্চিত বিজয়ীও বলা যায় না। মাঠের নব্বই মিনিটই শেষ কথা বলে, আর সেই কারণেই ফুটবল এত অনিশ্চিত, এত আবেগময় এবং এত জনপ্রিয়।