Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচিতে জনসচেতনতার বার্তা, কঙ্কাবতীতে বৃক্ষরোপণে নেতৃত্ব দিলেন ড. শঙ্কর গুচ্ছাইত ও SP ম্যাডাম

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মেদিনীপুর সদর ব্লকের কঙ্কাবতী অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হল ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বৃক্ষরোপণে অংশ নেন জেলা পুলিশ সুপার (SP) ম্যাডাম এবং বিজেপি বিধায়ক ড. শঙ্কর কুমার গুচ্ছাইত। তাঁদের উপস্থিতিতে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়। গাছ লাগানোর মাধ্যমে প্রকৃতি রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার বার্তাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

রাজনীতি সমাজ সেবা

‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচিতে পরিবেশ রক্ষার বার্তা, কঙ্কাবতীতে বৃক্ষরোপণে শামিল SP ম্যাডাম ও ড. শঙ্কর কুমার গুচ্ছাইত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মেদিনীপুর সদর ব্লকের কঙ্কাবতী অঞ্চলে এক অনন্য উদ্যোগের সাক্ষী থাকলেন এলাকার মানুষ। পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সমাজে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত হল ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচি। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার (SP) ম্যাডাম এবং বিজেপি বিধায়ক ড. শঙ্কর কুমার গুচ্ছাইত। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ, বিশ্ব উষ্ণায়ন, বনভূমি ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলি মানবসভ্যতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের ফলে প্রতিনিয়ত কমছে সবুজের পরিমাণ। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, জলসংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বৃদ্ধি—সবকিছুই পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফল। এই পরিস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ রক্ষার মতো উদ্যোগের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে আবেগের এক সুন্দর বন্ধন তৈরি করা। একজন মানুষের জীবনে মায়ের স্থান যেমন অনন্য, তেমনি প্রকৃতিও আমাদের জীবনকে রক্ষা করে, লালন-পালন করে। তাই মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে একটি গাছ রোপণের ভাবনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। কর্মসূচির উদ্যোক্তাদের মতে, একটি গাছ শুধু পরিবেশকে রক্ষা করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি সুস্থ পৃথিবী গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. শঙ্কর কুমার গুচ্ছাইত বলেন, বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে পরিবেশ রক্ষার কোনও বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “একটি গাছ মানে শুধু একটি চারা নয়, এটি একটি জীবনের প্রতীক। আমরা যদি প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই এবং তার যত্ন নিই, তাহলে পরিবেশের উন্নতিতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারব।” তিনি আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া।

জেলা পুলিশ সুপারও তাঁর বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব নয়, এর জন্য সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যেক নাগরিক যদি নিজের দায়িত্ব বুঝে পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হন, তাহলে একটি সবুজ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি উপস্থিত সকলকে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে এলাকার বহু মানুষ, যুবক-যুবতী, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই নিজেদের মায়ের নামে গাছ রোপণ করে এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর, তবে তার মধ্যেও ছিল পরিবেশ রক্ষার এক গভীর বার্তা। উপস্থিতদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয় এবং সেগুলি কীভাবে পরিচর্যা করতে হবে সে সম্পর্কেও সচেতন করা হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস প্রতি বছর ৫ জুন পালন করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হয়। বিভিন্ন দেশ, সংস্থা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষকে পরিবেশ রক্ষার বার্তা পৌঁছে দেয়। কঙ্কাবতীর এই উদ্যোগও সেই বৃহত্তর প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় স্তরে এ ধরনের কর্মসূচি মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে। এছাড়া গাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে, জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেই গাছকে বড় করে তোলার দায়িত্বও নিতে হবে। এই বার্তাই তুলে ধরা হয় কর্মসূচিতে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই জানান, ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ উদ্যোগটি তাঁদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। কারণ এটি শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি নয়, বরং মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের এক অভিনব উপায়। একজন মানুষ যখন নিজের মায়ের নামে একটি গাছ লাগান, তখন সেই গাছের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধও বেড়ে যায়। ফলে গাছটি বাঁচিয়ে রাখার সম্ভাবনাও অনেক বেশি হয়।

news image
আরও খবর

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হলে এলাকার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। অনেক ছাত্রছাত্রী জানান, তাঁরা ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী এবং নিজেদের বাড়ি ও বিদ্যালয়ে আরও গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছেন।

পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অন্যতম কার্যকর উপায়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বনভূমি ধ্বংস এবং দূষণের ফলে যে পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতে হলে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ এবং বন সংরক্ষণ অপরিহার্য। তবে শুধুমাত্র সরকারের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে। কঙ্কাবতীর এই উদ্যোগ সেই বার্তাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।

অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত অতিথিরা সকলকে পরিবেশ রক্ষার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, একটি গাছ লাগানোর পাশাপাশি প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, জল অপচয় রোধ করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার মতো বিষয়গুলিতেও সচেতন হতে হবে। পরিবেশ রক্ষা একটি দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব এবং এর জন্য প্রত্যেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান নয়, বরং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ববোধের এক সুন্দর প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই বিশেষ দিনে কঙ্কাবতীর মাটিতে রোপিত প্রতিটি চারা আগামী দিনে বড় হয়ে পরিবেশকে সমৃদ্ধ করবে, মানুষের জীবনে শীতল ছায়া দেবে এবং সবুজ পৃথিবী গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করবে।

এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে ছোট ছোট প্রচেষ্টাও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। যদি সমাজের প্রতিটি মানুষ একটি করে গাছ লাগানোর এবং তার যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব নেন, তাহলে আগামী দিনের পৃথিবী আরও সবুজ, সুন্দর এবং বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কঙ্কাবতীর এই কর্মসূচি সেই আশার বার্তাই বহন করল।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মেদিনীপুর সদর ব্লকের কঙ্কাবতী অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরতে এই বিশেষ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন বিজেপি বিধায়ক ড. শঙ্কর কুমার গুচ্ছাইত এবং জেলা পুলিশ সুপার (SP) ম্যাডাম। তাঁদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ রোপণ করা হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণ বিশ্বজুড়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি মানুষের উচিত অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া। ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ নয়, বরং মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

স্থানীয় বাসিন্দা, যুবক-যুবতী, মহিলা ও ছাত্রছাত্রীরাও উৎসাহের সঙ্গে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনেকেই নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নামে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলকে গাছের পরিচর্যা ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতন করা হয়। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বেশি মানুষকে সবুজ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

Preview image