গত সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়ার ওই দেশে কয়েক জন আমেরিকান নিহত হওয়ার ঘটনায় দেহ দেশে ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশোধের কঠোর বার্তা দেন
পশ্চিম এশিয়ায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠল আমেরিকার সেনাবাহিনী
শুক্রবার রাতে সিরিয়ায় আকাশপথে বড়সড় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী
নিশানায় ছিল আইএস জঙ্গিদের ঘাঁটি অস্ত্র মজুতের এলাকা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এই অভিযান ছিল প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় কয়েক জন আমেরিকান নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
গত সপ্তাহের ঘটনার পর থেকেই আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল
নিহত আমেরিকানদের দেহ দেশে পৌঁছোনোর পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশোধের কঠোর বার্তা দেন
তিনি প্রকাশ্যে জানান যে সিরিয়ায় উপস্থিত যাদের তিনি খুনি জঙ্গি বলে উল্লেখ করেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল আমেরিকার নাগরিকের উপর হামলা হলে তার জবাব আরও কঠিন হবে
এই বার্তার কয়েক দিনের মধ্যেই শুক্রবার রাতের হামলা সেই অবস্থানেরই বাস্তব রূপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা
হামলার পদ্ধতি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সূত্রে জানা যায় আকাশপথে লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করে ধারাবাহিক গোলাবর্ষণ করা হয়েছে
আইএস ঘাঁটিগুলির অবস্থান আগে থেকেই নজরদারিতে ছিল বলে দাবি করা হয়
সেই তথ্য যাচাই করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একই রাতে আঘাত হানা হয়
মার্কিন পক্ষের দাবি বহু ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় জঙ্গি নিহত হয়েছে
একই সঙ্গে বলা হয়েছে এই অভিযান ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক
অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে
তবে এই ঘটনার পর বড় প্রশ্ন উঠছে আমেরিকা কি আবার সিরিয়ায় বড় সংঘর্ষের পথে হাঁটছে
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা কি নতুন করে বাড়ছে
এই উদ্বেগ দূর করতে প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বলেন এটি কোনও যুদ্ধের সূচনা নয়
তার বক্তব্য অনুযায়ী লক্ষ্য ছিল আইএস এবং তাদের পরিকাঠামো
তিনি জানান আইএসের অস্ত্রের ঘাঁটি এবং সংগঠনের কার্যক্ষমতাকে ভেঙে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক বার্তাও দেন যে শত্রুদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও আঘাত হানা হবে
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বলেন সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আইএসের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে প্রবল হামলা চালানো হচ্ছে
তিনি জানান সিরিয়া বহু সমস্যায় জর্জরিত এবং দীর্ঘদিন ধরে রক্তাক্ত সংঘাতের মধ্যে রয়েছে
তার দাবি আইএসকে দুর্বল করা গেলে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ আরও স্থিতিশীল হতে পারে
এখানেই একটি নতুন দিক সামনে আসে
ট্রাম্প বলেন সিরিয়া সরকারের পূর্ণ সমর্থন এই অভিযানে রয়েছে
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয় সিরিয়ার নেতৃত্ব দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আইএসবিরোধী অভিযানে তারা সহযোগিতা করছে
এই সমর্থনের দাবি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে
কারণ সিরিয়া প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি জটিল এবং বহু শক্তির স্বার্থ জড়িয়ে আছে
বিশ্ব কূটনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে যদি সত্যিই সিরিয়া সরকার প্রকাশ্যে সমর্থন জানায় তবে তা কৌশলগত বার্তা হতে পারে
একদিকে আইএসের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা
অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সমীকরণ সামলে চলা
সিরিয়া সরকারও জানায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই চলবে
তাদের বক্তব্য সিরিয়াকে জঙ্গিদের মুক্তাঞ্চল হতে দেওয়া হবে না
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই হামলায় এফ ফিফটিন এবং এ টেন যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়েছে
মধ্য সিরিয়ার বহু এলাকা চিহ্নিত করে আঘাত হানা হয়
বিমান থেকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর উপর গোলাবর্ষণ করা হয়েছে
মার্কিন সেনা কমান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী এটি ছিল পরিকল্পিত এবং সময় নির্ধারিত অভিযান
তাদের দাবি হামলার আগে গোয়েন্দা তথ্য এবং নজরদারি দিয়ে লক্ষ্যবস্তু যাচাই করা হয়েছিল
এদিকে প্রশ্ন উঠছে সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের অবস্থান নিয়ে
বর্তমানে সিরিয়ায় মার্কিন সেনা রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা এবং নজরদারির কাজ করে
ওয়াশিংটনের যুক্তি আইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে এই উপস্থিতি প্রয়োজন
কারণ অঞ্চলটি এখনও অস্থির এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা আছে
আইএস পরাজয়ের দাবি অনেকবার উঠলেও বাস্তবে তারা নানা এলাকায় ছোট ছোট দলে সক্রিয় থাকে
কখনও গোপন ঘাঁটি থেকে হামলা চালায়
কখনও অর্থ জোগাড় এবং অস্ত্র মজুত করে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখে
এই বাস্তবতায় মার্কিন প্রশাসনের একটি অংশ মনে করে চাপ বজায় রাখাই নিরাপত্তার জন্য জরুরি
তবে সমালোচকরাও কম নন
তাদের মতে হামলা বাড়লে প্রতিক্রিয়া হিসেবে সহিংসতা বাড়তে পারে
বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যায়
এ ছাড়া আঞ্চলিক শক্তিগুলির মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে
সিরিয়ায় বহু দেশের স্বার্থ রয়েছে এবং বহু গোষ্ঠী সক্রিয়
এই জটিল মঞ্চে কোনও একটি পক্ষের বড় সামরিক পদক্ষেপ অন্যদেরও পাল্টা অবস্থান নিতে বাধ্য করতে পারে
এ কারণেই যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা থামছে না
তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশোধ বলেই তুলে ধরছে
তাদের বক্তব্য আমেরিকার নাগরিকের উপর হামলা হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে
এটি শুধু সিরিয়ার জন্য নয় বরং বিশ্বের সব জায়গার জঙ্গি সংগঠনের উদ্দেশে সতর্কবার্তা
এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকও জড়িত
কারণ নিরাপত্তা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান অনেক সময়েই রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ায়
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য শত্রুকে খুঁজে বের করে আঘাত করা এবং ভবিষ্যতেও সেই নীতি বজায় রাখা
আগামী দিনের দিকে তাকালে কয়েকটি বিষয় খুব মন দিয়ে নজরে রাখা জরুরি
কারণ সামরিক অভিযানের তাৎক্ষণিক প্রভাবের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ধারা
শুক্রবার রাতের হামলা একটি নির্দিষ্ট ঘটনার জবাব হলেও এর রেশ অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে
এই পরিস্থিতিতে প্রথম যে প্রশ্ন সামনে আসে তা হলো আইএস আসলে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
শুধু কয়েকটি ঘাঁটি ধ্বংস হওয়া মানেই সংগঠন ভেঙে পড়বে এমন নয়
অনেক সময় তারা এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে যায়
কখনও তারা নতুন জায়গায় সরে গিয়ে আবার যোগাযোগ গড়ে তোলে
কখনও লোকজন বদল করে আবার আগের মতো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে
তাই ক্ষতির পরিমাণ বোঝার জন্য শুধু ধ্বংস হওয়া স্থাপনা নয় বরং তাদের নেতৃত্ব কাঠামো অস্ত্র মজুত অর্থের উৎস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা ভেঙেছে তা দেখা জরুরি
যদি তাদের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনাকারী বা সমন্বয়কারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তাদের সক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে
আর যদি ক্ষতি সীমিত হয় তবে তারা পাল্টা হামলার পথ খুঁজতে পারে
সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বহু সময়ে প্রতিশোধের যুক্তি দেখিয়ে নতুন সদস্য টানার চেষ্টা করে
এ কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় সম্ভাব্য পাল্টা হামলা রোখা
দ্বিতীয় বড় বিষয় হলো সিরিয়া সরকার বাস্তবে কতটা সমর্থন দিচ্ছে
সমর্থনের কথাটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তার মূল্য এক রকম
আর যদি সেই সমর্থন বাস্তব সহযোগিতায় পরিণত হয় তবে তার প্রভাব অন্য রকম
বাস্তব সহযোগিতা বলতে বোঝায় গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়া নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালাতে নিরাপদ পথ তৈরি করা অথবা আইএসের রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করতে যৌথ পদক্ষেপ
এই ধরনের সহযোগিতা হলে আইএসবিরোধী অভিযান বেশি কার্যকর হতে পারে
কিন্তু একই সঙ্গে একটি জটিল প্রশ্নও উঠে আসে
সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা গোষ্ঠী এবং নানা পক্ষের অবস্থান রয়েছে
একটি পক্ষের সমর্থন অন্য পক্ষের বিরোধিতাও তৈরি করতে পারে
এ ছাড়া আঞ্চলিক শক্তিগুলির স্বার্থও জড়িত থাকে
ফলে সিরিয়া সরকারের সমর্থন কতটা গভীর এবং কতটা টেকসই তা না বুঝলে পরিস্থিতির গতি বোঝা কঠিন
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ অভিযান কতটা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে
কোনও একটি আঘাতের পরে যদি নিয়মিত অভিযান চলতে থাকে তবে সেটি একটি দীর্ঘ পর্বের সূচনা হয়ে যায়
সেই ক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে কৌশলগত লক্ষ্য কী
শুধু আইএসকে দুর্বল করা নাকি সম্পূর্ণ নির্মূল করা
আর নির্মূল করার লক্ষ্য থাকলে সেটি কতটা বাস্তবসম্মত এবং কত সময় লাগতে পারে
ইতিহাস দেখায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সাময়িকভাবে দুর্বল হলেও সুযোগ পেলেই আবার মাথা তোলে
বিশেষ করে যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে প্রশাসনিক শূন্যতা থাকে
অর্থনৈতিক দুরবস্থা থাকে
এবং তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ জমে থাকে
এই পরিস্থিতিতে আইএসের মতো গোষ্ঠী নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চায়
তাই শুধু বিমান হামলা নয় বরং নিরাপত্তা স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে
মার্কিন সেনা উপস্থিতি দীর্ঘ হলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে
সমর্থনও আসতে পারে আবার ক্ষোভও জন্মাতে পারে
ফলে সামরিক পরিকল্পনার পাশাপাশি রাজনৈতিক কৌশলও বড় হয়ে ওঠে
আরও একটি বড় প্রশ্ন হলো আন্তর্জাতিক মহল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়
অনেক দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনের উদ্যোগকে সমর্থন করে
কারণ তারা চায় এমন সংগঠন দুর্বল হোক যারা সীমান্ত পেরিয়ে সহিংসতা ছড়ায়
কিন্তু একই সঙ্গে সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন ওঠে
কোন দেশের আকাশসীমা এবং ভূমিতে কাদের সম্মতি নিয়ে অভিযান হচ্ছে
কতটা স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে
বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হলে দায় কার
এই প্রশ্নগুলি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উত্তাপ বাড়াতে পারে
কোনও দেশ হয়তো নীতিগত সমর্থন দেবে
কিন্তু পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলবে
আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও ভিতরে ভিতরে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে
কারণ পশ্চিম এশিয়ায় একটি পদক্ষেপ অন্য জায়গায় আরেকটি প্রতিক্রিয়া ডেকে আনে
এই প্রতিক্রিয়াগুলি একসঙ্গে জমতে জমতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে
সব মিলিয়ে শুক্রবার রাতের হামলা পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা আবারও সামনে এনে দিয়েছে
আইএস ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি একদিকে শক্ত বার্তা দিয়েছে যে আঘাতের জবাব দ্রুত এবং কড়া হবে
অন্যদিকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে
কারণ আইএস শুধু একটি স্থির ঘাঁটিতে থাকা বাহিনী নয়
তারা বহু সময় ছায়ার মতো ছড়িয়ে থাকে
সুযোগ খোঁজে
দুর্বল জায়গায় আঘাত করে
এবং তারপর সরে যায়
তাই হামলার পরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয় পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা
নজরদারি বাড়ানো
স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রাখা
এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
এখন দেখার বিষয় এই অভিযান প্রতিশোধের সীমার মধ্যে থাকে কি না
যদি পরবর্তী সময়ে আরও ধারাবাহিক অভিযান হয়
যদি আঞ্চলিক শক্তিগুলি নিজেদের অবস্থান বদলায়
যদি আইএস পাল্টা হামলার চেষ্টা করে
তবে পরিস্থিতি দ্রুত অন্যদিকে মোড় নিতে পারে
একই সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরেও চাপ বাড়তে পারে
কারণ যেকোনও সামরিক পদক্ষেপের স্থায়ী সমাধান কেবল গোলাবর্ষণে আসে না
তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
সুশাসন
আইনশৃঙ্খলা
এবং এমন এক পরিবেশ যেখানে উগ্রপন্থা জন্মাতে না পারে
যুদ্ধের আশঙ্কা শব্দটি বড় এবং ভয় ধরানো
কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় ধীরে ধীরে সংঘর্ষের মাত্রা বাড়তে থাকে
প্রথমে সীমিত অভিযান
তারপর পাল্টা আঘাত
তারপর আরও বড় প্রতিক্রিয়া
এই ধারা থামাতে হলে শুরুতেই স্পষ্ট লক্ষ্য এবং সীমা নির্ধারণ জরুরি
কার বিরুদ্ধে অভিযান
কতদিন চলবে
কোন অবস্থায় থামবে
এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনা কী
এই প্রশ্নগুলির উত্তর যত স্পষ্ট হবে অনিশ্চয়তা তত কমবে
আর অনিশ্চয়তা কমলে উত্তেজনাও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে
শেষ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার এই নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার দ্বন্দ্ব
একদিকে সন্ত্রাসবাদ দমন করার প্রয়োজন
অন্যদিকে আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার বাস্তবতা
এই ভারসাম্যের উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে সংঘর্ষ কমবে না কি আরও ছড়িয়ে পড়বে