Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার ঝড়! দ্বাদশ দিনে তীরন্দাজদের হ্যাটট্রিক সোনা ???

এশিয়াডে ভারতের সোনার দাপট! ?? মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারি টিম ইভেন্টের ফাইনালে চীনকে ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতল জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, পৃথিকা প্রদীপ ও চিকিথা তানিপার্থির ত্রয়ী। ??

এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার হ্যাটট্রিক, কম্পাউন্ড আর্চারিতে ইতিহাস গড়ল তীরন্দাজরা

এশিয়ান গেমসে বুধবারটা যেন হয়ে উঠল ভারতের জন্য একেবারে সোনালি দিন। সকাল থেকেই একের পর এক সাফল্য আসতে শুরু করে ভারতীয় শিবিরে। কম্পাউন্ড আর্চারিতে তিনটি বিভাগেই সোনা জিতে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করলেন ভারতের তীরন্দাজরা। প্রথমে মহিলাদের দলগত বিভাগ, এরপর মিক্সড টিম ইভেন্ট এবং সবশেষে পুরুষদের দলগত বিভাগ—তিনটি ফাইনালেই সাফল্যের পতাকা উড়ল ভারতের। শুধু আর্চারিতেই নয়, শ্যুটিংয়ের মিক্সড ট্র্যাপ ইভেন্ট থেকেও এদিন ভারতের ঝুলিতে এসেছে সোনা।

দিনের শুরুতেই মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারি টিম ইভেন্টে ভারতের সাফল্য আসে। ফাইনালে শক্তিশালী চিনকে ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতে নেন জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, পৃথিকা প্রদীপ এবং চিকিথা তানিপার্থির ত্রয়ী। তাঁদের নিখুঁত পারফরম্যান্স ভারতকে এনে দেয় চলতি এশিয়ান গেমসের সপ্তম সোনা।

মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারিতে ভারতের সোনার শুরু

বুধবারের সোনালি অভিযানের শুরুটা হয় মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারি দলগত ইভেন্ট দিয়ে। ফাইনালে ভারতের সামনে ছিল চিনের শক্তিশালী দল। শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র লড়াই। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে দুর্দান্ত স্কোর করেন ভারতের তিন তীরন্দাজ।

জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, পৃথিকা প্রদীপ এবং চিকিথা তানিপার্থির সমন্বিত পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত ভারতকে ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। চার পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারতীয় দল। এই সাফল্যের সঙ্গে চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার সংখ্যা পৌঁছে যায় সাত-এ।

এই জয় শুধু একটি সোনার পদক জয় নয়, বরং এশিয়ান গেমসে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারিতে ভারতের ধারাবাহিক সাফল্যেরও প্রতিফলন।

২০১৪ থেকে ধারাবাহিক পদক, ইতিহাসের অংশ জ্যোতি

মহিলাদের কম্পাউন্ড টিম ইভেন্টে ভারতের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে একটি উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকতা চোখে পড়ে। ২০১৪ সালে এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্ট চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি আসরেই ভারত পদক জিতেছে।

২০১৪ সালে ভারত পেয়েছিল ব্রোঞ্জ পদক। এরপর ২০১৮ সালে আসে রুপো। ২০২৩ সালে ভারতীয় দল জিতে নেয় সোনা। আর এবার ২০২৬ সালেও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। অর্থাৎ ইভেন্টটি চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি এশিয়ান গেমসেই ভারত অন্তত একটি পদক জিতেছে।

এই ধারাবাহিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলির মধ্যে রয়েছেন জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম। ২০১৪ সালের ব্রোঞ্জজয়ী দল থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের রুপোজয়ী দল এবং ২০২৩ ও ২০২৬ সালের সোনাজয়ী দল—চারটি পদকজয়ী দলেরই সদস্য ছিলেন জ্যোতি।

ফলে এশিয়ান গেমসে ভারতীয় কম্পাউন্ড আর্চারির দীর্ঘ যাত্রায় জ্যোতি সুরেখার অবদান আরও একবার সামনে এসেছে। বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় তীরন্দাজির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

সপ্তম সোনার পর পদক তালিকায় ভারতের উত্থান

মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারিতে সোনা জয়ের পর ভারতের মোট সোনার সংখ্যা দাঁড়ায় সাত। এই সাফল্য সামগ্রিক পদক তালিকাতেও ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। সপ্তম সোনা জয়ের পর ভারত চলতি এশিয়ান গেমসের পদক তালিকায় নবম স্থানে উঠে আসে।

তবে দিনের সোনালি অভিযান তখনও শেষ হয়নি। মহিলাদের দলগত ইভেন্টে সাফল্যের পর ভারতীয় তীরন্দাজরা একের পর এক ইভেন্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখেন।

মিক্সড টিম ইভেন্টে রুদ্ধশ্বাস জয়

কম্পাউন্ড আর্চারির মিক্সড টিম ইভেন্টেও ভারতীয় জুটির সামনে ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করেন চিকিথা তানিপার্থি এবং সাহিল যাদব। ফাইনালে তাঁদের প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার জুটি।

শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের শেষে দুই দলের স্কোর দাঁড়ায় ১৫৭-১৫৭। অর্থাৎ ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও দলই একে অপরকে পিছনে ফেলতে পারেনি।

ফলে ম্যাচের নিষ্পত্তির জন্য যেতে হয় শ্যুটঅফে। এখানেই বাড়ে উত্তেজনা। কয়েকটি তীরের ফলাফলই ঠিক করে দিতে পারত সোনার ভাগ্য। শেষ পর্যন্ত চাপের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরেন চিকিথা এবং সাহিল।

শ্যুটঅফে ভারতীয় জুটি ২০-১৯ ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়ার জুটিকে পরাজিত করে সোনা নিশ্চিত করে। নির্ধারিত সময়ের সমতায় ম্যাচ গড়ানোর পর শ্যুটঅফে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে জয় ভারতীয় তীরন্দাজদের মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ হয়ে ওঠে।

এই সোনার ফলে কম্পাউন্ড আর্চারিতে ভারতের সোনার সংখ্যা দাঁড়ায় দুই।

পুরুষদের দলগত ইভেন্টেও সোনা

মিক্সড টিম ইভেন্টের রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর ভারতীয় তীরন্দাজদের সামনে ছিল আরও একটি বড় পরীক্ষা—পুরুষদের কম্পাউন্ড টিম ইভেন্টের ফাইনাল।

এবার ভারতের হয়ে লড়াই করেন সাহিল যাদব, কুশল দালাল এবং গণেশ মণিরত্নম। ফাইনালে তাঁদের প্রতিপক্ষ ছিল চিন। ফলে দিনের প্রথম এবং তৃতীয় ফাইনালেই ভারতীয় দলকে চিনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।

news image
আরও খবর

পুরুষদের ফাইনালও ছিল অত্যন্ত কাছাকাছি লড়াইয়ের। একেবারে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে উত্তেজনা বজায় ছিল। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ত্রয়ী ২৩৮-২৩৭ স্কোরে চিনকে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করে।

মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে জয় দেখিয়ে দেয় দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা তীব্র ছিল। চাপের মুহূর্তে নিজেদের শটের নিখুঁততা ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় দলই বাজিমাত করে।

কম্পাউন্ড আর্চারিতে একদিনে তিন সোনা

পুরুষদের দলগত ইভেন্টে জয়ের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ হয় ভারতের সোনার হ্যাটট্রিক। একই দিনে কম্পাউন্ড আর্চারির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সোনা জিতে নেয় ভারত।

দিনের প্রথম সোনা আসে মহিলাদের দলগত বিভাগ থেকে। এরপর মিক্সড টিম ইভেন্টে সোনা জেতে চিকিথা তানিপার্থি ও সাহিল যাদবের জুটি। সবশেষে পুরুষদের দলগত বিভাগেও সাফল্য আসে সাহিল যাদব, কুশল দালাল এবং গণেশ মণিরত্নমের হাত ধরে।

অর্থাৎ একই দিনে মহিলাদের দলগত, মিক্সড টিম এবং পুরুষদের দলগত—তিন বিভাগেই ভারতের হাতে আসে সোনা। ভারতীয় তীরন্দাজির জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকল।

শ্যুটিংয়েও সোনার সাফল্য

আর্চারির পাশাপাশি শ্যুটিং থেকেও এদিন ভারত সোনা পেয়েছে। মিক্সড ট্র্যাপ ইভেন্টে সাফল্য ভারতের সোনালি দিনের তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

ফলে বুধবার ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে একাধিক ইভেন্ট থেকে সাফল্য আসে। তবে কম্পাউন্ড আর্চারিতে একই দিনে তিনটি সোনা জয়ই দিনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

জ্যোতি সুরেখার ধারাবাহিকতা

ভারতের এই সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক জ্যোতি সুরেখা ভেন্নামের ধারাবাহিকতা। ২০১৪ থেকে ২০২৬—এশিয়ান গেমসে মহিলাদের কম্পাউন্ড টিম ইভেন্টের চারটি পদকজয়ী ভারতীয় দলের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন তিনি।

চারটি ভিন্ন এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ, রুপো এবং পরপর সোনা জয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি তুলে ধরে। ২০২৬ সালের সোনার সাফল্য সেই তালিকায় আরও একটি অধ্যায় যোগ করল।

তবে এই সাফল্য শুধু একজন তীরন্দাজের নয়। জ্যোতির সঙ্গে পৃথিকা প্রদীপ এবং চিকিথা তানিপার্থির সমন্বয়ও মহিলাদের দলগত সাফল্যের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে মিক্সড টিমে চিকিথা ও সাহিলের জুটি এবং পুরুষদের দলে সাহিল, কুশল ও গণেশের সম্মিলিত পারফরম্যান্স ভারতীয় দলের শক্তি আরও একবার সামনে নিয়ে আসে।

ভারতের পদক অভিযানে বড় বার্তা

এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একটি দিনের পারফরম্যান্স কখনও শুধু পদকের হিসাব দিয়ে বিচার করা যায় না। বিভিন্ন ইভেন্টে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পাওয়ার অর্থ হল একাধিক বিভাগে ভারতীয় খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছেন।

কম্পাউন্ড আর্চারিতে একদিনে তিনটি সোনা সেই ধারাবাহিকতারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে তিনটি আলাদা ফরম্যাটে সাফল্য দেখিয়ে ভারতীয় তীরন্দাজরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

মহিলাদের দলগত ইভেন্টে চিনের বিরুদ্ধে চার পয়েন্টের জয়, মিক্সড টিমে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে শ্যুটঅফে এক পয়েন্টের জয় এবং পুরুষদের দলগত ফাইনালে চিনের বিরুদ্ধে এক পয়েন্টের জয়—তিনটি ম্যাচের ফলাফলের মধ্যেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

এই তিনটি জয় তাই ভারতীয় তীরন্দাজদের দক্ষতার পাশাপাশি চাপের মুহূর্ত সামলে নেওয়ার ক্ষমতাকেও সামনে এনেছে।

সোনার দিনে ভারতের নতুন অধ্যায়

বুধবার সকাল থেকে যে সোনালি যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা দিনের সঙ্গে সঙ্গে আরও উজ্জ্বল হয়েছে। মহিলাদের কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টে জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, পৃথিকা প্রদীপ ও চিকিথা তানিপার্থির সোনা দিয়ে শুরু হয় অভিযান। এরপর চিকিথা তানিপার্থি ও সাহিল যাদব মিক্সড টিম ইভেন্টে শ্যুটঅফে সোনা জেতেন। দিনের শেষে সাহিল যাদব, কুশল দালাল ও গণেশ মণিরত্নম পুরুষদের দলগত ইভেন্টে চিনকে হারিয়ে তৃতীয় সোনা এনে দেন।

এর সঙ্গে শ্যুটিংয়ের মিক্সড ট্র্যাপ ইভেন্ট থেকেও আসে সোনা। ফলে ভারতের জন্য বুধবার হয়ে ওঠে একেবারে সোনায় মোড়া একটি দিন।

এশিয়ান গেমসে ভারতের পদক অভিযানে কম্পাউন্ড আর্চারির এই সাফল্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একই দিনে তিনটি সোনা জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় তীরন্দাজরা নিজেদের ধারাবাহিকতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

সামনের ইভেন্টগুলিতে ভারতের পদক অভিযান আরও এগিয়ে যাবে। তবে বুধবারের এই দিনটি ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে মনে রাখার মতো হয়ে থাকবে—কারণ কম্পাউন্ড আর্চারিতে একদিনেই এসেছিল সোনার হ্যাটট্রিক।

Preview image