Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মেসির সতীর্থ থেকে বদলে যাওয়া চেহারা কলকাতায় খেলা সেই হিগুয়েনকে এখন চিনতেই পারছেন না ভক্তরা

প্রাক্তন গঞ্জালো হিগুয়েইনের ভাইরাল ছবিতে চমকে গেছেন ভক্তরা বদলে যাওয়া চেহারা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর আলোচনা চলছে

ফুটবল দুনিয়ায় এমন অনেক তারকা আছেন যাদের একসময় ছাড়া খেলার মাঠ কল্পনাই করা যেত না কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যান আর ভক্তদের স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন ঠিক তেমনই এক নাম গঞ্জালো হিগুয়েইন যিনি একসময় ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন আজ হঠাৎই একটি ভাইরাল ছবির কারণে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন

একসময় লিওনেল মেসির সতীর্থ হিসেবে আর্জেন্টিনা দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হিগুয়েন ছিলেন গোল মেশিন তাঁর পায়ে বল মানেই গোলের গন্ধ কিন্তু আজ সেই একই মানুষকে দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যাচ্ছেন কারণ তাঁর বর্তমান চেহারা আগের সঙ্গে একেবারেই মেলে না সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে ঘন দাড়ি এবং মাথায় টাক যা তাঁর আগের পরিচিত লুকের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত

এক ভক্ত এই ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন এটি কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ছবি নয় বাস্তবেই এটি হিগুয়েনের বর্তমান চেহারা এই পোস্টের পর থেকেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না এটি সত্যি আবার কেউ কেউ বলছেন সময় এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন মানুষের চেহারাকে এভাবেই বদলে দেয় অনেকেই আবার মজা করে মন্তব্য করেছেন তাঁকে নাকি গৃহহীন মানুষ বলে মনে হচ্ছে যদিও এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে

হিগুয়েনের ফুটবল কেরিয়ার ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল তিনি রিয়াল মাদ্রিদ এ খেলার সময় নিজেকে বিশ্বমানের স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন এরপর নাপোলিতে গিয়ে নিজের সেরা সময় কাটান এবং সিরি আ তে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়েন তাঁর পারফরম্যান্স এতটাই নজরকাড়া ছিল যে জুভেন্টাস তাঁকে দলে নিতে বিপুল অর্থ খরচ করে যা সেই সময়ের অন্যতম বড় ট্রান্সফার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল

ক্লাব ফুটবলে তাঁর পরিসংখ্যান সত্যিই চমকপ্রদ সাতশোর বেশি ম্যাচ খেলে তিনশোর বেশি গোল করা কোনও সাধারণ বিষয় নয় বরং এটি প্রমাণ করে তিনি কতটা ধারাবাহিক পারফরমার ছিলেন তাঁর গোল করার ক্ষমতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকার দক্ষতা তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন যদিও বড় মঞ্চে কিছু মিসের কারণে তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তবুও তাঁর অবদান অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা শেষ আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে লেখা রয়েছে

২০২২ সালে ইন্টার মায়ামি সিএফ তে খেলে তিনি অবসর নেন অবসরের পর অনেকটাই ফুটবল দুনিয়া থেকে দূরে সরে যান ফলে ভক্তদের চোখে পড়েননি খুব একটা তাই হঠাৎ এই ছবির মাধ্যমে তাঁকে দেখে অনেকেই যেন অতীতে ফিরে গেছেন

এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয় সময়ের সঙ্গে সবকিছু বদলে যায় খ্যাতি জনপ্রিয়তা চেহারা সবকিছুই পরিবর্তনশীল একসময় যাঁরা মাঠ কাঁপিয়েছেন আজ তাঁরা সাধারণ মানুষের মতোই জীবন কাটাচ্ছেন তবে তাঁদের কীর্তি এবং অবদান কখনও মুছে যায় না

হিগুয়েন হয়তো এখন আর মাঠে নেই কিন্তু তাঁর গোল তাঁর ম্যাচ জেতানো মুহূর্ত এবং তাঁর উপস্থিতি ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে আর এই ভাইরাল ছবিটি শুধু তাঁর পরিবর্তিত চেহারা নয় বরং সময়ের গল্প বলছে যেখানে এক মহান ফুটবলারের জীবন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে

গঞ্জালো হিগুয়েইনের ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকালে বোঝা যায় তিনি কেবল একজন স্ট্রাইকার ছিলেন না তিনি ছিলেন একটি যুগের প্রতীক তাঁর খেলার ধরন ছিল নিখুঁত পজিশনিং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং গোলের সামনে ঠান্ডা মাথা রাখার অসাধারণ ক্ষমতা তিনি যেভাবে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে জায়গা তৈরি করতেন  তা ছিল একেবারেই আলাদা আর সেই কারণেই ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলো তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিল

যখন তিনি রিয়াল মাদ্রিদএ খেলতেন তখন তাঁর গোল করার ধারাবাহিকতা দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছিল এরপর Napoli তে গিয়ে তিনি যেন নিজের আরেক রূপ দেখান সেখানে তাঁর গোলের বন্যা তাঁকে ইতালিয়ান লিগের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকারে পরিণত করে পরে জুভেন্টাস এ যোগ দিয়ে তিনি আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন এবং দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন

জাতীয় দলে লিওনেল মেসি সহ একাধিক তারকার সঙ্গে খেলেও হিগুয়েন সবসময় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে পেরেছিলেন যদিও বড় ম্যাচে কিছু মিস তাঁর ক্যারিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে তবুও সেই মুহূর্তগুলো তাঁর সামগ্রিক অবদানকে কখনও ছোট করতে পারে না বরং তিনি যে সাহস নিয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন সেটাই তাঁকে আরও বড় করে তোলে

news image
আরও খবর

ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর একজন খেলোয়াড়ের জীবন যে কতটা বদলে যায় হিগুয়েন তার এক বাস্তব উদাহরণ আগে যিনি প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শকের সামনে খেলতেন আজ তিনি অনেকটাই ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ এই পরিবর্তন শুধু তাঁর নয় বরং প্রতিটি পেশাদার ক্রীড়াবিদের জীবনেই একসময় আসে মাঠের আলো থেকে সরে গিয়ে তারা খুঁজে নেয় নিজের নতুন পরিচয় নতুন ছন্দ

এই ভাইরাল ছবিটি তাই কেবল একটি চেহারার পরিবর্তন নয় এটি একটি দীর্ঘ যাত্রার প্রতিফলন যেখানে একজন মানুষ তার জীবনের এক অধ্যায় শেষ করে আরেকটি অধ্যায় শুরু করেছেন অনেক সময় আমরা তারকাদের শুধু তাদের সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখি কিন্তু তারা আসলে আমাদের মতোই মানুষ যাদের জীবনেও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসে বয়স বাড়ে অভ্যাস বদলায় এবং জীবনের অগ্রাধিকারও পাল্টে যায়

হিগুয়েনের বর্তমান চেহারা হয়তো অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে কিন্তু এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাস্তবতা যে মাঠের নায়করা একসময় সাধারণ জীবনে ফিরে আসেন এবং সেখানেই তারা খুঁজে পান অন্যরকম শান্তি এবং স্বাধীনতা তিনি এখন হয়তো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই কিন্তু তাঁর কৃতিত্ব তাঁর পরিশ্রম এবং তাঁর অর্জন ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরকাল জায়গা করে নেবে

এই কারণেই হিগুয়েনের গল্প শুধুমাত্র একজন ফুটবলারের গল্প নয় এটি সময় পরিবর্তন এবং জীবনের স্বাভাবিক গতির গল্প যেখানে সাফল্য এবং খ্যাতির পরেও একজন মানুষ নিজের মতো করে বাঁচার নতুন পথ খুঁজে নেয় আর সেই পথেই তৈরি হয় জীবনের নতুন সংজ্ঞা

মানুষ সাধারণত একজন খেলোয়াড়কে তাঁর সেরা সময় দিয়েই বিচার করে কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের জীবন কেবল সেই সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং অবসরের পরের জীবনটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ সেখানে থাকে নতুন চ্যালেঞ্জ নতুন সিদ্ধান্ত এবং নিজের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হিগুয়েনের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে তিনি মাঠের আলো থেকে সরে গিয়ে এমন এক জীবনে প্রবেশ করেছেন যেখানে প্রতিদিনের রুটিন আর আগের মতো নয়

এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয় কারণ দীর্ঘদিন ধরে যে পরিচয় নিয়ে একজন মানুষ বেঁচে থাকে সেটি হঠাৎ করেই বদলে যায় তখন তাকে খুঁজে নিতে হয় নিজের নতুন পরিচয় অনেকেই এই সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আবার কেউ কেউ এই সময়টাকে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ হিসেবে নেন হিগুয়েন যেন দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিয়েছেন যেখানে তিনি নিজের মতো করে জীবনকে উপভোগ করছেন

সময়ের সঙ্গে মানুষের চেহারা বদলানো খুব স্বাভাবিক বিষয় কিন্তু যখন সেই মানুষটি একজন বিশ্বখ্যাত তারকা হন তখন সেই পরিবর্তন সবার নজরে পড়ে যায় এবং সেটাই এখন হয়েছে হিগুয়েনের ক্ষেত্রে তাঁর ভাইরাল ছবি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে খ্যাতি কখনও স্থায়ী নয় এবং মানুষের আসল পরিচয় তাঁর জীবনযাপন আর মানসিকতায় লুকিয়ে থাকে

একসময় যিনি হাজার হাজার দর্শকের সামনে খেলতেন আজ তিনি হয়তো অনেক শান্ত নিরিবিলি জীবন কাটাচ্ছেন কিন্তু সেই জীবনেও রয়েছে এক অন্যরকম তৃপ্তি যেখানে নেই প্রতিনিয়ত প্রমাণ করার চাপ নেই প্রতিটি মুহূর্তে বিচার হওয়ার ভয় বরং আছে নিজের মতো করে সময় কাটানোর স্বাধীনতা

এই কারণেই হিগুয়েনের গল্প আমাদের জন্য একটি শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায় এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি পরিবর্তনই একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয় আমরা যদি সেই পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে পারি তাহলে জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে

হিগুয়েন হয়তো আজ আর গোল করছেন না কিন্তু তিনি এখনও অনুপ্রেরণা কারণ তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে সাফল্যের শিখর থেকে নেমে এসেও একজন মানুষ নিজের জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে নিতে পারে এবং সেই খোঁজটাই আসলে জীবনের সবচেয়ে বড় জয়

 

Preview image