Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দিল্লি হাইকোর্টে গম্ভীরের মামলা আড়াই কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি AI ডিপফেক ও পরিচয় অপব্যবহার নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ ভারতের কোচ

দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করলেন গৌতম গম্ভীর। আড়াই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ভারতের কোচ। কী কারণে মামলা করেছেন তিনি? অভিযোগে কী কী লিখেছেন?

ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন তারকা এবং বর্তমানে জাতীয় দলের প্রধান কোচ Gautam Gambhir-কে ঘিরে এক গুরুতর বিতর্ক সামনে এসেছে, যা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সম্মানহানির প্রশ্ন নয়, বরং গোটা ডিজিটাল যুগে পরিচয় সুরক্ষার এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তাঁর ছবি, কণ্ঠস্বর এবং পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও বা ‘ডিপফেক’ তৈরি করা হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হচ্ছে যে প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, তার অপব্যবহারও তত দ্রুত এবং বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে Delhi High Court-এ, যেখানে গম্ভীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এই ডিপফেক ভিডিওগুলির মাধ্যমে এমন কিছু বার্তা প্রচার করা হচ্ছে যা তিনি কখনও বলেননি বা সমর্থন করেননি। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গম্ভীরের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু বেনামী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তাঁর মুখ এবং কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে এমন ভিডিও তৈরি করছে যেখানে তাঁকে কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিতে দেখা যাচ্ছে অথবা সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে। বাস্তবে এই ঘটনাগুলির কোনও সত্যতা নেই। কিন্তু এই ভুয়ো ভিডিওগুলি ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে—একটি ভিডিও প্রায় ২৯ লক্ষ এবং অন্যটি প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষ দেখেছে। এই পরিসংখ্যানই বোঝাচ্ছে কত দ্রুত ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তার প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে গম্ভীর শুধু ভিডিও সরানোর দাবি করেননি, তিনি এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যা একদিকে যেমন আইনি প্রতিকার, অন্যদিকে তেমনই একটি বার্তা—ডিজিটাল প্রতারণা এবং পরিচয় চুরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।

এই মামলায় তিনি মোট ১৬টি পক্ষের নাম উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কিছু অজ্ঞাত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ছাড়াও বড় বড় ই-কমার্স সংস্থা যেমন Amazon এবং Flipkart। অভিযোগ অনুযায়ী, এই সংস্থাগুলির প্ল্যাটফর্মে তাঁর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে, যা তাঁর অনুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ইমেজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে যে তিনি হয়তো ওই পণ্যের সঙ্গে যুক্ত।

এই ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির ভয়াবহতা। ডিপফেক এমন এক প্রযুক্তি যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কোনও ব্যক্তির মুখ, কণ্ঠস্বর এবং অভিব্যক্তিকে নিখুঁতভাবে নকল করতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না যে ভিডিওটি আসল না নকল। এই প্রযুক্তি বিনোদন বা গবেষণার ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু যখন এটি মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

গম্ভীর তাঁর অভিযোগে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, “আমার নাম, আমার মুখ এবং আমার কণ্ঠস্বর—এই তিনটি বিষয়ই আমার পরিচয়ের মূল অংশ। এগুলি ব্যবহার করে যদি কেউ মিথ্যা তথ্য ছড়ায় এবং অর্থ উপার্জন করে, তাহলে তা শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং সমাজের জন্যও একটি বড় বিপদ।” তাঁর এই বক্তব্য বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকে তুলে ধরে—ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত পরিচয় আর শুধু ব্যক্তিগত থাকে না, তা সহজেই চুরি হয়ে যেতে পারে।

এই মামলার মাধ্যমে একটি বড় আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে—এআই দ্বারা তৈরি কনটেন্টের দায়ভার কার উপর বর্তাবে? যিনি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, নাকি যে প্ল্যাটফর্মে তা ছড়িয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আদালতকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হতে পারে। কারণ প্রচলিত আইনি কাঠামো অনেক সময় এই ধরনের আধুনিক প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট নয়।

এছাড়াও এই ঘটনা আমাদের সামনে একটি সামাজিক বার্তাও তুলে ধরে। আমরা প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য ভিডিও এবং ছবি দেখি, কিন্তু সেগুলির সত্যতা যাচাই করি না। ফলে ভুয়ো তথ্য সহজেই আমাদের বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও তথ্য বিশ্বাস করার আগে তার উৎস যাচাই করা জরুরি।

গম্ভীরের এই পদক্ষেপ অন্য অনেক সেলিব্রিটি এবং সাধারণ মানুষের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে। কারণ শুধু তিনি নন, বহু মানুষই আজ এআই-এর মাধ্যমে পরিচয় চুরির শিকার হচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই আইনের দ্বারস্থ হন না বা জানেন না কীভাবে নিজেদের সুরক্ষা করবেন। এই মামলার মাধ্যমে হয়তো ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইন এবং নির্দেশিকা তৈরি হবে, যা এআই-এর অপব্যবহার রোধে সহায়ক হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি একটি মানবাধিকার ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার রয়েছে তাঁর পরিচয়, সম্মান এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার। এআই-এর যুগে এই অধিকার আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সবশেষে বলা যায়, গৌতম গম্ভীরের এই আইনি পদক্ষেপ শুধু একটি ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। এই মামলা ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে, যা দেখাবে যে প্রযুক্তির অপব্যবহার করলে তার আইনি পরিণতি কতটা কঠোর হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আমাদের সকলকে সতর্ক করে দেয়—ডিজিটাল জগতে যা কিছু দেখা যায়, তা সব সময় সত্যি নয়, আর সেই সত্যিটা যাচাই করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। 

ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন তারকা ও বর্তমান জাতীয় দলের কোচ Gautam Gambhir সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই–এর অপব্যবহার নিয়ে এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর মুখ, কণ্ঠস্বর এবং পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক ভুয়ো বা ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এই মামলা শুধু একজন ব্যক্তির সম্মান রক্ষার বিষয় নয়, বরং বর্তমান ডিজিটাল যুগে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

news image
আরও খবর

গম্ভীরের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু বেনামী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তাঁর ছবি এবং কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে এমন ভিডিও তৈরি করছে যা বাস্তব নয়। এই ধরনের ভিডিওকে ‘ডিপফেক’ বলা হয়, যেখানে অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির মুখ ও স্বর নকল করে ভুয়ো কনটেন্ট তৈরি করা হয়। এই ভিডিওগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় যে সাধারণ মানুষ তা সহজেই সত্যি বলে বিশ্বাস করে ফেলেন। ফলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যেখানে দাবি করা হয় যে গম্ভীর জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই ভিডিওটি প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষ দেখেছেন। অথচ বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। আবার অন্য একটি ভিডিওতে তাঁকে সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা যায়, যা সম্পূর্ণ মনগড়া। সেই ভিডিওটিও প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষ দেখেছেন। এই ধরনের ভুয়ো ভিডিও শুধু একজন ব্যক্তির ভাবমূর্তিকেই নষ্ট করে না, বরং গোটা সমাজে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়।

গম্ভীর তাঁর অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর পরিচয়—তাঁর নাম, মুখ এবং কণ্ঠস্বর—অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কাজের মাধ্যমে কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থ উপার্জন করছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অনৈতিক। তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন অবিলম্বে এই ধরনের সব ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলা 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Preview image