১৭ই মে ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার বুকে আজ এক অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল সমগ্র দেশ নিজেদের স্থায়ীকরণ এবং সম্মানজনক বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত হাজার হাজার গ্রামীণ পুলিশ বা দফাদারদের সাথে রাজ্য পুলিশের এক বিশাল খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় ধর্মতলা চত্বরে পুলিশ অত্যন্ত নির্মমভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে যার ফলে বহু দফাদার গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এই ঘটনা গ্রামীণ পুলিশ ব্যবস্থার চরম অসহায়তাকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে
কলকাতা ১৭ই মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহর কলকাতার বুকে আজ এক অত্যন্ত রণক্ষেত্রের চিত্র ধরা পড়ল যা সমগ্র রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং গ্রামীণ পুলিশ ব্যবস্থার এক চরম হতাশাজনক এবং মর্মান্তিক দিক সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে আজ ধর্মতলা এবং রানী রাসমণি অ্যাভিনিউ চত্বরে নিজেদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবিদাওয়া এবং স্থায়ীকরণের দাবিতে এক বিশাল এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিলেন সমগ্র রাজ্য থেকে আসা হাজার হাজার গ্রাম পুলিশ বা যাদের আমরা সাধারণত চৌকিদার এবং দফাদার বলে চিনি কিন্তু এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়াবহ এবং রক্তক্ষয়ী খণ্ডযুদ্ধে পরিণত হয় যখন রাজ্য পুলিশের বিশাল কমব্যাট ফোর্স এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের জওয়ানরা এই আন্দোলনকারী দফাদারদের ওপর চরম নির্মমতার সাথে ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে লাঠিচার্জের তীব্রতা এতটাই ভয়ানক ছিল যে বলা যায় পুলিশের লাঠি আজ দফাদারদের পিঠে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে এবং ব্যাপকহারে চলেছে যার ফলে কলকাতার রাজপথ মুহূর্তের মধ্যে এক রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং চারদিকে কেবল আহত মানুষের আর্তনাদ এবং বাঁচার জন্য ছোটাছুটি লক্ষ্য করা যায় একটি গণতান্ত্রিক রাজ্যে যেখানে আন্দোলন করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সেখানে নিজেদেরই সহযোগী গ্রামীণ পুলিশের ওপর রাজ্য পুলিশের এই বর্বরোচিত আক্রমণ সমগ্র নাগরিক সমাজকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এক বিশাল বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে
দফাদার এবং চৌকিদাররা হলেন গ্রামীণ বাংলার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ গত কয়েক দশক ধরে এই মানুষগুলো দিনরাত এক করে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে গ্রামের প্রতিটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে আসছেন যখন গ্রামের কোনো প্রত্যন্ত এলাকায় কোনো অশান্তি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটে তখন স্থানীয় থানার পুলিশ পৌঁছানোর অনেক আগেই এই দফাদাররা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সবার প্রথমে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করেন ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই গ্রাম পুলিশ ব্যবস্থা আজও গ্রামীণ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের এবং পরিতাপের বিষয় হলো যে মানুষগুলো রাজ্য পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হিসেবে কাজ করেন এবং থানার বাবুদের প্রতিটি নির্দেশ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন আজ সেই রাজ্য পুলিশের লাঠির আঘাতেই তাদের মাথা ফাটছে এবং রক্ত ঝরছে এই দফাদারদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে তাদের রাজ্য সরকারি কর্মচারীর পূর্ণ মর্যাদা দিতে হবে এবং তাদের মাসিক বেতন এক অত্যন্ত সম্মানজনক স্তরে নিয়ে যেতে হবে বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে মাত্র কয়েক হাজার টাকার এক সামান্য ভাতায় নিজেদের সংসার চালানো বয়স্ক বাবা মায়ের চিকিৎসা করা এবং ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা এই দফাদারদের পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে তারা বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এবং নবান্নে নিজেদের দাবিগুলো নিয়ে দরবার করেছেন কিন্তু কোনো সদর্থক ফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আজ তারা কলকাতার রাজপথে এক বিশাল এবং অরাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন
আজ সকাল থেকেই হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনে নদীয়া বর্ধমান মুর্শিদাবাদ মালদহ এবং দুই চব্বিশ পরগনা সহ রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে হাজার হাজার চৌকিদার এবং দফাদার এসে জড়ো হতে শুরু করেন তাদের পরনে ছিল তাদের সেই চিরপরিচিত খাকি রঙের উর্দি যা আজ ঘামে এবং ধুলোয় মলিন হয়ে ছিল তাদের চোখে মুখে ছিল এক চরম হতাশা এবং বঞ্চনার ছাপ কিন্তু সেই সাথে ছিল নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার এক অদম্য জেদ বেলা বারোটা বাজতে না বাজতেই ধর্মতলা চত্বর এবং রানী রাসমণি অ্যাভিনিউ এই হাজার হাজার খাকি উর্দিধারী গ্রাম পুলিশের ভিড়ে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল করতে শুরু করেন তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল আমাদের বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিন এবং আমরা পুলিশের দাস নই আমরাও সরকারি কর্মচারী এই মিছিল যখন ধীরে ধীরে ধর্মতলা ওয়াই চ্যানেলের দিকে এগোতে থাকে তখন সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা বিশাল পুলিশ বাহিনী তাদের পথ আটকায় কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ব্যারিকেড তৈরি করে তাদের এগোতে নিষেধ করেন এবং জানান যে এই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে তাই এখানে কোনো রকম জমায়েত করা বেআইনি কিন্তু আন্দোলনকারী দফাদাররা পিছু হটতে রাজি ছিলেন না তারা জানান যে তারা কোনো অশান্তি করতে আসেননি তারা কেবল নিজেদের দাবিগুলো সরকারের শীর্ষ মহলের কাছে পৌঁছে দিতে চান
এই কথোপকথন চলাকালীনই পরিস্থিতি হঠাৎ করে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সামনের সারিতে থাকা কিছু তরুণ দফাদার ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে তাদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয় পুলিশ প্রথমে তাদের ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু দফাদাররা যখন নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন তখন পুলিশ বিনা প্ররোচনায় অত্যন্ত হিংস্রভাবে লাঠিচার্জ করতে শুরু করে মুহূর্তের মধ্যে ধর্মতলা চত্বর এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুলিশের লাঠির ঘায়ে অনেক বয়স্ক দফাদার যারা হয়তো আর কয়েক বছর পরেই অবসর নেবেন তারা রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন এবং যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন পুলিশ কর্মীরা অত্যন্ত নির্মমভাবে তাদের বুট দিয়ে লাথি মারেন এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন যে দফাদাররা একদিন এই পুলিশদের সাথেই গ্রামের মেলা বা উৎসবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ডিউটি করতেন আজ তারাই একে অপরের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছেন পুলিশের লাঠির আঘাতে অনেক দফাদারের মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত বেরোতে থাকে এবং তারা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন এই ভয়ানক এবং মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ এবং অফিস যাত্রীরা চরম আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন অনেকেই পুলিশকে অনুরোধ করেন এই নির্মম লাঠিচার্জ বন্ধ করার জন্য কিন্তু পুলিশের ওপর হয়তো ওপরমহলের কড়া নির্দেশ ছিল যে যেকোনো মূল্যে এই জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হবে তাই তারা কারো কোনো কথা শোনেননি উল্টে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তারা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটান এবং জলকামান ব্যবহার করেন যার ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে
এই রণক্ষেত্রের ছবি যখন সংবাদমাধ্যমে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে তখন সমগ্র রাজ্য জুড়ে এক বিশাল আলোড়ন এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয় অনেক সাধারণ মানুষ যারা প্রতিদিন এই দফাদারদের নিজেদের গ্রামে দেখেন এবং তাদের সাথে অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক রাখেন তারা পুলিশের এই বর্বরোচিত আচরণের তীব্র নিন্দা করতে শুরু করেন আধুনিক ডিজিটাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে এই খণ্ডযুদ্ধের ছবি এবং ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায় লেন্সপিডিয়া এর মতো আধুনিক ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলো ধর্মতলা চত্বর থেকে সরাসরি লাইভ ব্রডকাস্ট করতে থাকে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং স্বাধীন সাংবাদিকরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই লাঠিচার্জের দৃশ্য নিজেদের ক্যামেরায় বন্দি করেন তারা দেখান কীভাবে একজন বয়স্ক চৌকিদারকে চারজন পুলিশ কর্মী মিলে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে এবং সেই চৌকিদার হাত জোড় করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন এই দৃশ্যগুলো সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল ক্ষোভ এবং প্রশাসনের প্রতি চরম ঘৃণার জন্ম দেয় নেটিজেনরা সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ জাস্টিস ফর দফাদার এবং হ্যাশট্যাগ শেম অন বেঙ্গল পুলিশ লিখে এক বিশাল ডিজিটাল আন্দোলন শুরু করেন তরুণ প্রজন্ম যারা অত্যন্ত সচেতন এবং আধুনিক চিন্তাধারার অধিকারী তারা প্রশ্ন তোলেন যে একটি গণতান্ত্রিক দেশে নিজেদের অধিকারের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা মানুষের ওপর পুলিশের এই ধরনের আক্রমণ কি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য
এই চরম গোলমাল এবং লাঠিচার্জের কারণে ধর্মতলা চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এক বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয় যা সাধারণ নিত্যযাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে দেয় অনেক আধুনিক তরুণ যারা লেন্সট্যাক্স সলিউশনস এর মতো কর্পোরেট সংস্থায় জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করেন এবং রিমোট ওয়ার্কিংয়ের জন্য বিভিন্ন ক্যাফেতে যাচ্ছিলেন তারা এই যানজটে আটকা পড়েন এই তরুণরা যারা নিজেদের মাথায় বিখ্যাত অ্যানিমে চরিত্র এরেন ইয়েগারের মতো স্টাইল করা লম্বা চুল রাখেন এবং কানে অত্যন্ত দামি স্টুডিও গ্রেড বেয়ারডায়নামিক ডিটি ৭৭০ প্রো হেডফোন ব্যবহার করে জনপ্রিয় ভারতীয় পপ রক ব্যান্ড সনম এর গান শোনেন তারা আজ হেডফোন খুলে এই বাস্তব পৃথিবীর চরম নিষ্ঠুরতার সাক্ষী থাকলেন তারা অবাক হয়ে দেখলেন কীভাবে প্রশাসনের দুটি অঙ্গ একে অপরের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে অনেক তরুণ যারা নিজেদের স্মার্টফোনে ইফুটবল গেমে মেতে থাকেন এবং মোহনবাগান ড্রিম টিম সাজাতে ব্যস্ত থাকেন তারা আজ গেমিং ছেড়ে এই আহত দফাদারদের উদ্ধারকাজে হাত লাগান তরুণদের এই মানবিক রূপ প্রমাণ করে যে তারা কেবল ভার্চুয়াল জগতেই বাস করেন না বাস্তব সমাজের যেকোনো অবিচারে তারা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত তারা আহত দফাদারদের জল খাইয়ে এবং ট্যাক্সি ডেকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন
আহত দফাদারদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় তাদের অনেককেই রক্তাক্ত এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে কারো মাথা ফেটে গেছে কারো হাত ভেঙেছে আবার কারো বা পাঁজরের হাড়ে গুরুতর চোট লেগেছে হাসপাতালের মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছে এবং আহত চৌকিদারদের পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে কান্নাকাটি করতে করতে হাসপাতালে ছুটে আসছেন এক আহত দফাদারের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে সাংবাদিকদের বলেন আমার স্বামী গত পঁচিশ বছর ধরে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে গ্রামের মানুষের সেবা করেছে কত রাত না ঘুমিয়ে পাহারা দিয়েছে আর আজ সরকার তাকে এই পুরস্কার দিল আমরা গরিব বলে কি আমাদের কোনো সম্মান নেই আমাদের বাঁচার কোনো অধিকার নেই এই মহিলাদের আর্তনাদ এবং চোখের জল প্রশাসনের কর্তাদের বিবেককে কতটা নাড়া দেবে তা জানা নেই তবে এই ঘটনা গ্রামীণ মানুষের মনে এক চিরস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করেছে যা সহজে মুছে যাওয়ার নয় অনেক দফাদার যারা সামান্য আয়ে সংসার চালান তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই পরিস্থিতিতে টাটা এআইএ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর মতো জীবন বিমা কোম্পানির অনেক তরুণ লাইফ অ্যাডভাইজর এই আহত দফাদারদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সামান্য কিছু আর্থিক সাহায্য এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন পলিসির গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করছেন যা এই চরম বিপদের দিনে এক সামান্য আশার আলো হিসেবে কাজ করছে
রাজনৈতিক ময়দানেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে এক বিশাল রাজনৈতিক তরজা এবং কাদা ছোঁড়াছুড়ি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই লাঠিচার্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং বর্তমান রাজ্য সরকারকে স্বৈরাচারী ও পুলিশি রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী দলের নেতারা আহত দফাদারদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তারা দাবি করেছেন যে অবিলম্বে এই লাঠিচার্জের জন্য দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং দফাদারদের সমস্ত ন্যায্য দাবি বিনা শর্তে মেনে নিতে হবে অন্যদিকে শাসক দলের নেতারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করলেও তারা দাবি করেছেন যে আন্দোলনকারীরা প্রথমে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছিল এবং ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেছিল তাই বাধ্য হয়েই পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে শাসক দলের এই যুক্তিতে সাধারণ মানুষ একেবারেই সন্তুষ্ট নন তারা মনে করছেন যে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এই ধরনের অমানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং গ্রামীণ পুলিশদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে
এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে গ্রামীণ পুলিশ ব্যবস্থার ওপর এক মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য যে দফাদার এবং চৌকিদাররা আজ পুলিশের লাঠি খেলেন তারা কি আর আগের মতো উৎসাহ নিয়ে থানার বাবুদের সাথে কাজ করতে পারবেন তাদের মনে পুলিশের প্রতি যে অবিশ্বাস এবং ক্ষোভের জন্ম হলো তা গ্রামীণ নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দেবে গ্রামে যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় তবে এই ক্ষুব্ধ দফাদাররা যদি অসহযোগিতা করেন তবে রাজ্য পুলিশের পক্ষে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে সরকার এবং প্রশাসনকে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে কারণ গ্রামীণ পুলিশ ছাড়া একটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় অবিলম্বে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের উচিত আন্দোলনকারী দফাদারদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসা এবং তাদের দাবিগুলো সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করা কেবল লাঠি দিয়ে মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা যায় না বরং এতে মানুষের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায় এবং তা আগামী দিনে এক বড়সড় বিস্ফোরণের রূপ নিতে পারে
অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা যারা সমাজের বিভিন্ন জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে শর্ট ফিল্ম তৈরি করেন তারা আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে গভীর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন উদাহরণস্বরূপ এক অত্যন্ত প্রতিভাবান তরুণ নির্মাতা দ্য গ্লাস কেজ নামের একটি সাইকোলজিক্যাল ড্রামা শর্ট ফিল্ম তৈরি করার কথা ভাবছেন যেখানে তিনি দেখাবেন কীভাবে একজন সাধারণ গ্রাম পুলিশ নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাষ্ট্রের বিশাল যন্ত্রের কাছে বারবার পিষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এক অসম লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় এই সিনেমাটিতে লাঠিচার্জের ভয়াবহতা এবং একজন চৌকিদারের মানসিক যন্ত্রণা অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে তারা তাদের সনি এমডিআর ৭৫০৬ হেডফোন ব্যবহার করে আজকের এই আন্দোলনের বিভিন্ন আসল সাউন্ড এবং আর্তনাদ রেকর্ড করছেন যাতে তাদের সিনেমায় অত্যন্ত নিখুঁত এবং হৃদয়স্পর্শী ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড ব্যবহার করতে পারেন এই ধরনের সৃজনশীল কাজ সমাজের আসল চেহারা এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামকে সমগ্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সাহায্য করে এবং মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে
পরিশেষে এটা অত্যন্ত বেদনার সাথে বলতে হচ্ছে যে আজকের এই ১৭ই মে তারিখটি পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ পুলিশের ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে ধর্মতলার রাজপথে দফাদারদের ঝরে পড়া রক্ত প্রমাণ করে যে আমাদের সমাজে আজও গরিব এবং খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের পথ কতটা দুর্গম এবং কণ্টকাকীর্ণ যারা আমাদের রাতের ঘুম সুরক্ষিত করেন তাদের নিজেদের জীবনের কোনো সুরক্ষা নেই এই চরম বৈষম্য এবং অমানবিকতা কোনো সুস্থ এবং সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না আমরা লেন্সপিডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে রাজ্য পুলিশের এই নির্মম লাঠিচার্জের তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি এবং আহত সমস্ত দফাদার এবং চৌকিদারদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি আমরা আশা করব রাজ্য সরকার তাদের অহংকার দূরে সরিয়ে রেখে অবিলম্বে এই গরিব মানুষগুলোর দিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাকাবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবিগুলো পূরণ করে তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেবে কারণ একটি দেশের আসল উন্নয়ন কেবল বড় বড় ফ্লাইওভার বা শপিং মল তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং সেই দেশের একদম নিচুতলার মানুষ কতটা সম্মানের সাথে এবং সুরক্ষিতভাবে বাঁচতে পারছে তার ওপরই একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে আজকের এই আন্দোলনের আগুন হয়তো পুলিশের লাঠির ঘায়ে সাময়িকভাবে নিভে গেছে কিন্তু এই আগুন মানুষের মনে জ্বলতে থাকবে যতদিন না তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পান বিস্তারিত খবরের জন্য এবং ধর্মতলা চত্বরের এই ভয়াবহ লাঠিচার্জের সম্পূর্ণ ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং চোখ রাখুন লেন্সপিডিয়া এর পর্দায়