গণেশচতুর্থীর শুভ দিনে পুত্রসন্তানের বাবা হলেন জুবিন নৌটিয়াল। স্ত্রী ও সদ্যোজাত দু’জনেই সুস্থ, আপাতত ছেলেকে নিয়েই আনন্দে কাটছে গায়কের দিনরাত।
গণেশচতুর্থীর শুভ আবহেই জীবনের সবচেয়ে বড় সুখবর পেলেন গায়ক জুবিন নৌটিয়াল। বাবা হলেন জনপ্রিয় এই গায়ক। ১৪ সেপ্টেম্বর পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। সন্তানের জন্মের খবর নিজেই জানিয়েছেন জুবিন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, মা এবং সদ্যোজাত দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন। আপাতত হাসপাতাল থেকে বাড়িও ফিরে এসেছেন তাঁরা। ফলে জুবিন নৌটিয়াল এবং তাঁর পরিবারের জীবনে শুরু হয়েছে একেবারে নতুন অধ্যায়।
গায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যস্ত জুবিন। মঞ্চে গান, রেকর্ডিং, দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠান এবং সফর—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন বরাবরই ব্যস্ততায় ভরা। কিন্তু বাবা হওয়ার পর সেই ব্যস্ত জীবনের কেন্দ্রবিন্দু যেন বদলে গিয়েছে। এখন তাঁর সমস্ত মনোযোগ সদ্যোজাত ছেলেকে ঘিরে। এক সাক্ষাৎকারে জুবিন জানিয়েছেন, এক মুহূর্তের জন্যও ছেলেকে চোখের আড়াল করতে ইচ্ছে করছে না তাঁর। নতুন বাবা হিসেবে এই অনুভূতি যে তাঁকে গভীর ভাবে ছুঁয়ে গিয়েছে, তাঁর কথাতেই তা স্পষ্ট।
১৪ সেপ্টেম্বর, গণেশচতুর্থীর শুভ দিনে পুত্রসন্তানের জন্ম হওয়ায় আনন্দটা যেন আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে জুবিনের কাছে। উৎসবের আবহেই পরিবারে এসেছে নতুন সদস্য। ফলে এই দিনটি এখন থেকে জুবিন এবং তাঁর পরিবারের কাছে আরও একটি বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। সদ্যোজাতকে ঘিরে পরিবারের আনন্দের পাশাপাশি গায়কের মধ্যেও যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তা তাঁর বক্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে।
সন্তানের জন্মের খবর নিজেই প্রকাশ্যে আনেন জুবিন। মা ও সন্তান দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন বলেও জানান তিনি। তাঁদের বাড়ি ফেরার খবরও অনুরাগীদের জন্য স্বস্তির। দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হিসেবে জুবিনের ব্যক্তিগত জীবনের খবর নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ থাকলেও নিজের ব্যক্তিগত পরিসর বরাবরই বেশ গোপন রেখেছেন গায়ক। ফলে তাঁর বাবা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস।
তবে ছেলের নাম কী রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। আপাতত নাম নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না জুবিন এবং তাঁর স্ত্রী। গায়কের কথায়, এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সদ্যোজাতকে ঘিরে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা। সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো, তার ছোট ছোট মুহূর্তকে অনুভব করা এবং নতুন এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়াই এখন তাঁদের প্রধান ব্যস্ততা।
বাবা হওয়ার অনুভূতি যে জুবিনের কাছে একেবারেই আলাদা, তা তাঁর কথাবার্তায় স্পষ্ট। এতদিন তাঁর জীবনের বড় অংশ জুড়ে ছিল গান এবং কাজ। পেশাগত দায়িত্বের কারণে নিয়মিতই তাঁকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয়েছে। দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠান, শুটিং, রেকর্ডিং কিংবা সফর—সবই তাঁর কর্মজীবনের অংশ। কিন্তু সন্তানের জন্মের পর সেই পরিচিত রুটিনে নতুন আবেগ যুক্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মনখারাপ হচ্ছে আসন্ন বিদেশ সফরের কথা ভেবে। ডিসেম্বর মাসে জুবিনের আমেরিকা সফর রয়েছে। কাজের প্রয়োজনে তাঁকে সেই সফরে যেতে হবে। কিন্তু সদ্যোজাত ছেলেকে রেখে এতটা দূরে যাওয়ার কথা ভাবতেই তাঁর মন খারাপ হচ্ছে। কারণ, এই মুহূর্তে এক মুহূর্তের জন্যও সন্তানকে চোখের আড়াল করতে ইচ্ছে করছে না তাঁর। নতুন বাবা হিসেবে সন্তানের প্রতি এই টান তাঁর বর্তমান মানসিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
জুবিনের জীবন এতদিন যে ছন্দে চলেছে, বাবা হওয়ার পর সেই ছন্দে যে পরিবর্তন এসেছে, তাঁর কথাতেই তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একজন শিল্পীর কাছে মঞ্চ এবং দর্শকের ভালোবাসা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জীবনের নতুন পর্যায়ে এসে পরিবারের খুদে সদস্য যে তাঁর কাছে নতুন অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট। এখন গান ও কাজের পাশাপাশি ছেলের সঙ্গে কাটানো সময়ও তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জুবিন নৌটিয়ালের ব্যক্তিগত জীবন অবশ্য বরাবরই সংবাদমাধ্যমের নজর থেকে অনেকটাই দূরে থেকেছে। নিজের কাজ নিয়ে তিনি যতটা প্রকাশ্যে থাকেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ততটা কথা বলতে দেখা যায় না তাঁকে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উত্তরাখণ্ডে ছোটবেলার প্রেমিকাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের অনুষ্ঠানও ছিল একেবারেই ঘরোয়া। বড়সড় কোনও তারকা-সমাগম বা জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের বদলে কাছের মানুষদের উপস্থিতিতেই নতুন জীবন শুরু করেছিলেন তাঁরা।
জুবিনের বিয়ের খবরও অনুরাগীরা জানতে পারেন পরে। বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখার যে প্রবণতা জুবিনের রয়েছে, বিয়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্ত্রীর নাম বা পেশা নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্যও তিনি দেননি। একই ভাবে বিয়ের পরও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় খুব বেশি প্রকাশ্যে আনেননি গায়ক।
বলিউডের পরিচিত মুখদের নিয়ে বড়সড় কোনও নৈশভোজ বা তারকাখচিত বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানও করেননি তাঁরা। সব মিলিয়ে জুবিনের বিয়েটিও ছিল অনেকটাই ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যে। তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলি সাধারণত ঘনিষ্ঠ মানুষদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতাই বেশি দেখা যায়।
এই গোপনীয়তার মধ্যেই এবার জুবিনের জীবনে এসেছে আরও বড় পরিবর্তন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক এবার বাবা-মায়ের সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। পরিবারের নতুন সদস্যের আগমন তাঁদের জীবনে যে নতুন আনন্দ এনেছে, তা নিঃসন্দেহে এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আর সেই নতুন অধ্যায়ের শুরুটাও হয়েছে বিশেষ এক দিনে—গণেশচতুর্থীতে।
গণেশচতুর্থী ভারতের অন্যতম পরিচিত উৎসব। এই শুভ দিনে পরিবারের নতুন সদস্যের আগমনকে ঘিরে জুবিনের আনন্দ তাই আরও বেশি। যদিও তিনি এখনও ছেলের নাম চূড়ান্ত করেননি, আপাতত নামের চেয়ে সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বাবা-মা হিসেবে এই সময়টা তাঁরা নিজেদের মতো করে উপভোগ করতে চাইছেন।
জুবিনের অনুরাগীদের কাছেও এই খবর বিশেষ আনন্দের। গানের জগতে তাঁর জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। তাঁর কণ্ঠে একাধিক গান শ্রোতাদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি এবার তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। তাই বাবা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিক ভাবেই অনুরাগীদের শুভেচ্ছার ঢল নেমেছে।
তবে বাবা হওয়ার পরেও কাজ থেকে পুরোপুরি বিরতি নেওয়ার সুযোগ নেই জুবিনের। শিল্পীর জীবন অনেকটাই নির্ভর করে নির্ধারিত কাজ, অনুষ্ঠান এবং সফরের উপর। ডিসেম্বরের আমেরিকা সফর সেই ব্যস্ততারই অংশ। কিন্তু এবার সেই সফরের অর্থ তাঁর কাছে আগের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। কারণ সফরে যাওয়ার সময় বাড়িতে অপেক্ষা করবে তাঁর সদ্যোজাত সন্তান। তাই কাজের দায়িত্ব এবং পরিবারের নতুন সদস্যকে ঘিরে আবেগ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ।
একজন শিল্পীর জীবনে জনপ্রিয়তা এবং পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুখও গুরুত্বপূর্ণ। জুবিনের ক্ষেত্রেও বাবা হওয়ার ঘটনা তাঁর জীবনে নতুন অনুভূতি নিয়ে এসেছে। এতদিন যেসব বিষয় তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পেত, তার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে সন্তানের দায়িত্ব এবং তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অসংখ্য নতুন অনুভূতি।
ছেলের নাম এখনও ঠিক না হলেও, তাকে ঘিরে স্বপ্নের অভাব নেই নিশ্চয়ই। তবে সেই স্বপ্নের কথা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না জুবিন। আপাতত সন্তানকে কাছে রেখে সময় কাটানোই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েকটি দিন বাবা-মায়ের জন্য যেমন আবেগের, তেমনই ব্যস্ততারও। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই নতুন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন জুবিন এবং তাঁর স্ত্রী।
গণেশচতুর্থীর দিন পুত্রসন্তানের আগমন তাই জুবিন নৌটিয়ালের জীবনে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল। গানের মঞ্চে বহুবার দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন তিনি। এবার নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্তটি ভাগ করে নিলেন অনুরাগীদের সঙ্গেও। মা ও সন্তান সুস্থ রয়েছেন, পরিবারে এসেছে নতুন সদস্য—এই মুহূর্তে সেটিই জুবিনের কাছে সবচেয়ে বড় সুখবর।
আগামী দিনে ছেলের নাম কী রাখা হয়, জুবিন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কতটা অংশ অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন, এবং বাবা হওয়ার পর তাঁর কাজের জীবন কী ভাবে বদলায়—সেদিকেও নজর থাকবে তাঁর অনুরাগীদের। তবে আপাতত মঞ্চের আলো থেকে অনেক দূরে, বাড়ির ছোট্ট সদস্যকে ঘিরেই জুবিন নৌটিয়ালের দিন কাটছে। আর তাঁর নিজের কথাতেই স্পষ্ট—এই মুহূর্তে জীবনের সবচেয়ে বড় গানটি যেন তাঁর ঘরেই বাজছে।